Home ইতিহাস মিশরের প্রাচীন নদ

মিশরের প্রাচীন নদ

by Jafor Salah
০ comment

মিশরের প্রাচীন নদ সম্পর্কে আল-কুরআনের তথ্য:
সম্প্রতি বিজ্ঞানীররা প্রমাণ করেছেন যে, মিশরের ঐতিহাসিক স্থান পিরামিড, তা এক সময় নদী ও বাগিচা দ্বারা সুসমৃদ্ধ ছিল। এ তথ্যটি ২০১২ সালের পূর্ব প্রমাণিত হয়নি। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দাবি করা হয় যে, মিশরের পিরামিড সন্নিহিত ভৌগলিক পরিবেশেরর এ বৈশিষ্ট্য বহু বছর অক্ষণ্ন ছিল। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে ১৫০০ বছর আগেই এ তথ্যটি পবিত্র কোরআনে আলোচনা করা হয়েছে।

মিশর সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস:
পাঁচ হাজার বছর আগে ফিরাউন তাদের সভ্যতার গোড়াপত্তন করেন এবং তারা প্রচুর ক্ষমতাশীল, সমসাময়িক উন্নত প্রযুক্তি, রসায়নশাসস্ত্র, মমী তৈরিকরণের বিদ্যা, স্থাপত্য এবং জ্যোতির্বিদ্যা অর্জন করেছিলেন। মিশরীয় জনগন বিলাসসবহুল, উচ্চ, উজ্জল এবং কল্যাণময় জীবন উপভোগ করতেন। তাদের সভ্যতা ছিল খুবই উন্নত ।

ঐতিহাসিক এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার সাম্প্রতিক ফলাফল:
বিজ্ঞানীরা প্রথমে দাবি করেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পাঁচ হাজার বছর আগে প্রাচীন মিশরে ফিরাউনদের গড়া সভ্যতার পতন হয়। অধ্যাপক লিভিও জিওসান ( professor Liviu Giosan ) এবং তাঁর দল দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে গবেষণা করেছেন। উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তারা প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিনির্মাণে প্রবহমান নদীর অবদান আবিষ্কার করেন। তারা বলেন নদীর মৃত্যুর কারণেই মিশরীয় সভ্যতার পতন ঘটে এবং সহস্র বছরের ব্যবধানে নদীগুলো লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায়।

প্রত্নতান্ত্বিকদের গবেষণায় কোনো একটি বিশেষ অঞ্চলে নদীর প্রাপ্যতা এবং সভ্যতার অগ্রগতির সাথে নদীর সম্পর্ক নির্ণয় করেন। আরব মরুভূমি যেটি মিশর হয়ে লিবিয়া এবং আলজেরিয়া পর্যন্ত কয়েক হাজার কিমি বিস্তৃত, যেখানেও এক সময় সুসমৃদ্ধ এলাকা ছিল এবং সেখানে নদীও ছিল। গবেষকররা ৭০০০ বছর আগের ফুলের পরাগ এবং কয়লার নমুনা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং খরাতে নদীর পানি নিঃশেষ হওয়ায় প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা ধ্বংস হয়। ( US Geological survey) মার্কিন যুক্তররাষ্ট্রেররর ভূ-তাত্ত্বিক জরিপকারী প্রতিষ্ঠান জরিপ করে দেখেছেন প্রাচীন পিরামিডের শক্তপোক্ত গঠন এবং তাদের সভ্যতা পরিবর্তনশীল জলবায়ুর সাথে সাড়া দিতে পারেনি। আগুনের কারণে খরার সময় চার্কলের কাঠ-কয়ললা স্তর বৃদ্ধি পায়। এবং চারাগাছের পরাগ হ্রাস পায় বলেও জানান। পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বেনজামিন ( Professor Benjamin ) এ বিষয়ে একমত হয়েছেন।

পবিত্র কোরআনের নির্দেশ:
২০১২ সালে বৈজ্ঞানিক গবেষনা সাথে ১৫০০ বছর আগে পবিত্র কোরআনে উক্ত বিষয় গুলো সুন্দর ভাবে উল্লখ করেছেন এবং বিজ্ঞানীরা বিস্মিত হয়েছেন। আল কুরআনের সাথে বিজ্ঞানের কোনো যোগসুত্র আছে কি তা জেনে নিই:

মিশরের ফেরাউন তাদের বিলাসবহুল জীবন এবং একাত্ববাদ খোদাকে বাদ দিয়ে তারা ফেরাউনকে খোদা হিসেবে মেনে নিতে বলে । ফেরাউন নিজকে সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা হিসেবে সবার নিকট প্রকাশ করে। মুসা আ: ফেরাউনকে একাত্ববাদ খোদার দিকে আহবান করেন কিন্তু ফেরাউন উল্ট মুসা আঃ কে হত্যার আদেশ দেন। যখন মুসা আঃ উক্ত জনপদ থেকে চলে যাচ্ছেন ঠিক তখনই ফেরাউন মুসা আঃ কে পেছনে দাওয়া করেন। মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে নীল নদে নিমজ্জিত করেন। পরবর্তী মানুষের নিদর্শনের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা তার লাশ দুনিয়াতে রেখে দেন। যা পবিত্র কোরআনের সুরা যুখরুফের ৫১ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছেন।

( ফেরাউন তার সম্প্রদায়কে ডেকে বলল, হে আমার কাওম আমি কি মিশরের অধিপতি নই? এ নদীগুলো আমার নিম্নদেশে প্রবাহিত হয়, তোমরা কি দেখ না? )
এটি প্রাচীন মিশররে নদীর (Nile river ancient Egypt) অস্তিত্ব থাকার ইঙ্গিত বহন করে। এ তথ্যটি আল-কুরআন অবর্তীণ হবার সময় কারও জানা ছিল না, কারণ এখন যেখানে পিরামিড তার পাশে যে ধু ধু বালুকাময়, তাতে পিরামিডের পাশ দিয়ে যে নদী প্রবাহিত হতো, তা কোনভাবেই কল্পনায় আসে না। প্রত্নতান্ত্বিকররা নিশ্চিত হয়েছেন যে, প্রাচীন মিশরে ফেরাউনের রাজত্বকালে খেত-খামার, বাগ-বাগিচা, বৃক্ষরাজি ছিল। তারা মরুভুমির বালির মধ্যে সাত হাজার বছর ধরে থাকা মিশ্রিত বিপুল পরিমাণ পরাগরেণু বিশ্লেষণ করেই এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে : ( অতঃপর আমি ফেরাউনের দলকে তাদের বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণাসমূহ থেকে বহিস্কার করলাম এবং ধন-ভাণ্ডাররর ও মনোরম স্থানসমূহ থেকে)- সুরা আশ-শোয়ারা:৫৭-৫৮। উক্ত আয়াতের বিশ্লেষণে বুঝা যায় প্রাচীন মিশরে বাগিচা এবং বহমান নদীর অস্তিত্ব অথবা পানিরাশি থাকার কথা বলা হচ্ছে যার সত্যতা ২০১২ সালে প্রত্নতান্ত্বিকরা প্রমাণ করেছেন।

মিশরের পিরামিডের পাশ দিয়ে নদীর ধারা থাকার বিষয়টি কোনো মানুষের দৃষ্টিে আসেনি বিগত কয়েক হাজার বছর। ১৯ শতকে প্রযুক্তি দিয়ে ভূমির উপর স্ক্যান করে এমন হারিয়ে যাওয়া নদীর ধারা দেখা গেলেও ১৫০০ শত বছর আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য আল্লাহ প্রমাণ করেছেন পবিত্র কোরআনে।

You may also like