Home ইসলাম সূরা বাকারা ও সূরায়ে আলে-ইমরানের ফযীলত

সূরা বাকারা ও সূরায়ে আলে-ইমরানের ফযীলত

by Jafor Salah
০ comment

ক) হযরত আবু উমামা বাহেলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন আমি রাবূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আল কুরআন পাঠ করো, এটা এর পাঠকারীর জন্য কিয়ামতের দিন সুপারিশকারীরূপে আসবে। বিশেষত এর দু’টি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও নূরানী সূরা ‘বাকারা’ ও সূরা আল ইমরান পাঠ করবে কিয়ামতের দিন এ দু’টি সূরাও এর পাঠকারীদের নিজের ছায়াতলে নিয়ে এমনভাবে হাজির হবে, যেমন দু’টি মেঘমালা অথবা দু’টি চাঁদোয়া বা সারিবদ্ধ পাখিদের পক্ষে ওকালতি করবে। বাতিলপন্থী লোকেরা সে শক্তি রাখে না, তারা এর থেকে কোনো রবকত পাবে না। (সহীহ মুসলিম)

খ) হযরত নাওয়াস ইবনে সাময়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি হযরত রাসূল করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি ‘কিয়ামতের দিন আল-কুরআন এবং যেসব কুরআন ওয়ালাদের হাজির করা হবে যারা এর ওপর আমল করতো। প্রথম দিকে সূরা বাকারা ও সূরা আল ইমরান (এর আমল) অগ্ররূপে থাকবে। মনে হবে যেন সূরা দু’টি মেঘমালা অথবা দু’টি কালো রঙের চাঁদায়ো, এতে নূরের চমক বা প্রবা রয়েছে অথবা এ দু’টি যেন সারিবদ্ধভাবে উড়ন্ত পাখির দু’টি ডানা। আর তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকদের জন্য ওকালতি করবে। (সহীহ মুসলিম)

গ) হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত যে, হযরত সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক জিনিসের একটি চূড়া বা শিখর থাকে। আর আল-কুরআনের শিখর হচ্ছে সূরা বাকারা। এর একটি আয়াত আল-কুরআনের সমস্ত আয়াতের সর্দার, আর তা হচ্ছে আয়াতুল কুরসী। (জামে আত তিরমিযি)

ঘ) হযরত মা’কেল ইবনে ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছে, রাসূল করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সূরা বাকারা আল কুরআনের সর্বেচ্চ চূড়। এর প্রত্যেক আয়াতে সাথে আশিজন করে ফেরেশতা নেমে এসেছিলো। এর ২৫৫ নম্বর আয়াকে (আয়তুল কুরসী) যার প্রথমাংশ ‘আল্লাহ তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিন চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী, আরশের নিচ থেকে বের করে এনে এটিকে সূরা বাকারতে যুক্ত করা হয়েছে। আর সূরা ইয়াসীন আল-কুরআনের হৃদয়। আল্লাহর সন্তষ্টি ও আখিরাতের মুক্তি কামনা করে কেউ এ সূরা পাঠ করলে তার গুনাহ অবশ্যই ক্ষমা করা হবে। (মুসনাদে আহমাদ. সুনানে আবুদ দাউদ, আন নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ)

ঙ) হযরত নো’মান ইবনে বশির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহতায়ালা আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করার দু’হাজার বছর আগে একটি কিতাব লেখেন। সেই কিতাবটি থেকে দু’টি আয়াত নাযিল করেছেন। আর সেই আয়াত দু’টি হলো সূরা বাকারার শে দু’টি আয়াত। কোনো বাড়িতে তা তিনদিন পড়া হলেই সেখান থেকে শয়তান পালিয়ে যায়। (জামে আত তিরমিযি)

চ) রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :“তোমরা দু’টি যাহরাবীন তথা পুষ্প পাঠ কর, যথা সূরা আল-বাকারা ও সূরা আলে ইমরান। কারণ এ দু’টি সূরা কেয়ামতের দিন মেঘমালার মত অথবা দু’দয়াপাখির ঝাঁকের ন্যায় সারিবদ্ধভাবে উড়বে। এরা উভয়ে পাঠকের পক্ষ গ্রহণ করবে। তোমরা সূরা বাকারা পাঠ কর। কারণ তার পাঠ করা বরকতের কারণ, তার পাঠ ত্যাগ করা হতাশা। অলসরা তা করতে পারবে না। হযরত মুআবিয়া বলেন, আমার শ্রুত হয়েছে যে, বাতালার অর্থ জাদু।”(সহীহ মুসলিম)

ছ) হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : “ঘরে সূরা আল-বাকারা তিলাওয়াত করা হয়, সে ঘরে শয়তান প্রবেশ করে না।” শয়তান ঘরে প্রবেশ না করার কারণ হচ্ছে তাতে আয়াতুল কুরসী রয়েছে। (সহীহ মুসলিম)

জ) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বললেন, একদা জিব্রাইল আলাইহিস সালাম রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসে ছিলেন। এমন সময় উপর থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি (জিব্রাইল) মাথা তুলে বললেন, ‘এটি আসমানের একটি দরজা, যা আজ খোলা হল। ইতোপূর্বে এটা কখনও খোলা হয় নাই। ওদিক দিয়ে একজন ফেরেশতা অবতির্ণ হল। এই ফেরেশতা যে দুনিয়াতে অবতরণ করেছে, ইতোপূর্বে কখনও অবতরণ করেনি। সুতরাং তিনি এসে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম জানিয়ে বললেন, ‘‘আপনি দুটি জ্যোতির সুসংবাদ নিন। যা আপনার আগে কোন রাসূলকে দেওয়া হই নাই। (সে দুটি হচ্ছে) সূরা ফাতেহা ও সূরা বাক্কারার শেষ আয়াতসমূহ। আপনি এ দুটো তিলাওয়াত করে যে কোন হরফ দ্বারা যা চাইবেন, তা আপনাকে দেয়া হবে।” (সহীহ মুসলিম)

ঝ) হযরত আবু মাসাঊদ বদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাক্বারার শেষ আয়াত দু’টি পাঠ করবে, তার জন্য সেই দু’টি যথেষ্ট হবে’। (সহীহ আল বুখারী) বলা হয়েছে যে, সে রাতে অপ্রীতিকর জিনিসের মোকাবেলায় যথেষ্ট হবে। অথবা তাহাজ্জুদের নামায থেকে যথেষ্ট হবে।

ঞ) হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদের ঘর-বাড়িগুলোকে কবরে পরিণত করো না। কেননা, যে বাড়িতে সূরা বাক্কারা পাঠ করা হয়, সে বাড়ি থেকে শয়তান পলায়ন করে’। (সহীহ মুসলিম) (অর্থাৎ সুন্নত ও নফল নামায তথা পবিত্র কুরআন পড়া ত্যাগ করে ঘরকে কবর বানিয়ে দিয়ো না। যেহেতু কবরে এ সব বৈধ নয়)।

ট) হযরত আবু মাসাঊদ বদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাক্বারার শেষ আয়াত দু’টি পাঠ করবে, তার জন্য সেই দু’টি যথেষ্ট হবে’। (সহীহ আল বুখারী) বলা হয়েছে যে, সে রাতে অপ্রীতিকর জিনিসের মোকাবেলায় যথেষ্ট হবে। অথবা তাহাজ্জুদের নামায থেকে যথেষ্ট হবে। (অর্থাৎ সুন্নত ও নফল নামায তথা পবিত্র কুরআন পড়া ত্যাগ ক’রে ঘরকে কবর বানিয়ে দিয়ো না। যেহেতু কবরে এ সব বৈধ নয়)।

ঠ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাউস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি সূরা বাকারা দশটি আয়াত অতি ভোরবেলায় পাঠ করে, তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান তার নিকটবর্তী হতে পারে না। সন্ধ্যায় সময় পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত তার নিকট শয়তান যেতে পারে না। তার জান মাল ও ইজ্জত-সম্মান নিরাপদে থাকবে, কোন প্রকার ক্ষতি তার হবে না। (সুনানে আদ-দারেমী)

ড) তাবরানী কিতাবে বর্ণিত আছে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সূরা বাকারার দশটি আয়াত অর্থাৎ সুরার প্রথম চার আয়াত, আয়তুল কুরসী ও পরের দুই আয়াত আর সূরার সর্বশেষ তিনটি আয়াত তেলাওয়াত করবে, সকাল পর্যন্ত তার ঘরে শয়তান প্রবেশ করতে পারবে না।

ঢ) হযরত আবু মাসউদ আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সূরা বাকারার শেস দুই আয়াত, যে তা রাতে পড়বে, তার জন্য তা যথেষ্ট হবে। (সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম)

ন) হাবেয়ী হযরত আয়ফা বিন আবদিল কালায়ী রহ. বলেন, এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল-কুরআনের কোন সূরা অধিক মর্যাদাবান? তিনি বলেন, ‘কুহুওয়াল্লাহু আহাদ’। সে পুনারয় জিজ্ঞেস করলো, আল কুরআনের কোন আয়াত অধিকতর মর্যাদাবান? তিনি বললেন, ‘আয়াতুল কুরসী’। আল্লাহ লা-ইলাহা ইল্লাহুয়াল হাইউল কাইউম। সে আবার জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ আল-কুরআনের কোন আয়াত এমন যার বরকতে আপনার এবং আপনার উম্মতের প্রতি পৌঁছতে ভালোবাসেন। তিনি বললেন, সূরা বাকারার শেষ আয়াত। আল্লাহতায়ালা তাঁর আরশের নিচের ভান্ডার হতে তা এই ইম্মতকে দান করেছেন। দুনিয়া ও আখিরাতের এমন কোনো কল্যাণ নেই যা এতে নেই। (সুনানে আদ-দারমী)

ত) হযরত উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন যে, ব্যক্তি রাতে সূরা আল ইমরানের শেষের দিকের আয়াতগুলো পড়বে তার জন্য পুরো রাত নামাযে কাটানোর সওয়াব লেখা হবে। (সুনানে আদ-দারমী, মিশকাত)

তাবেয়ী হযরত মাকহুল রহ. বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুয়ার দিন সূরা আল ইমরান পড়বে, ফেরেশতারা তার জন্য রাত পর্যন্ত দোয়া করতে থাকবেন। (আদ-দারমী)

থ) তাবেয়ী হযরত যোবায়ের ইবনে নোফায়ের রহ. বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহতায়ালা সূরা বাকারাকে এমন দু’টি আয়াত দ্বারা সমাপ্ত করেছেন যা আমাকে আল্লাহর আরশের নিচে ভান্ডার থেকে দান করা হয়েছে। সূতরাং তা শিক্ষা করবে এবং তোমাদের নারীদেরকে শিক্ষা দিবে। কেননা, এতে রয়েছে ক্ষমা প্রার্থনা, আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় ও দোয়া। ( সুনানে আদ-দারেমী)

দ) হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে সূরা মু’মিনের হা-মীম হতে ইলাইহিন মাছির পর্যন্ত (আয়াত : ১-৩) এবং আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে বিকাল পর্যন্ত এর কারণে তাকে নিরাপদ রাখা হবে। আর যে ব্যক্তি বিকালে তা পাঠ করে সকাল পর্যন্ত এর কারণে তাকে হিফাযত করা হবে। ( জামে আত তিরমিযি ও আদ-দারেমী)

ধ) হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন রাসূল করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এসব আয়াত সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করবে আল্লাহতায়ালা তার ইহকাল-পরকালের সমুদয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে জামিনদার হবেন। (সুনানে আবু দাউদ)

Read Surah : Al baqarah  and  Al Imran

You may also like