Home ইসলাম সফর কি ও কত প্রকার ?

সফর কি ও কত প্রকার ?

by admin
০ comment

সফর

মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

সফর কি ও কত প্রকার ?

সফর : উদ্দেশ্যে দূরবর্তী কোন স্থানে গমনের জন্য নিজ বাসভবন বা আবাসস্থল থেকে যাত্রা শুরু করাকে সফর বলে। রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরের দূরত্বের কোনো সীমা রেখা নির্ধারণ করে দেননি। সাহাবিগণও কোনো সীমা রেখার কথা বলেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ সাধারণভাবে সফর শব্দ ব্যবহার করেছেন। কেউ কেউ মক্কা ও জিদ্দার ব্যবধান এবং মক্কা ও তায়েফের ব্যবধানকে সফরে ন্যূনতম স্ট্যান্ডার্ড ধরেছেন। নিজ এলাকা থেকে বের হওয়ার পর থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত সময়টি সফর বলে গণ্য হবে।
নিজের দেশে নিজের ঘর কখনো অন্য দেশ বা অন্যের ঘরের সমান হয় না। নিজের বাসস্থানে মানুষ যে আরাম-আয়েশে থাকে সফরে গেলে তা আর থাকে না এবং মানুষ এক ধরণের অস্থিরতার মধ্যে থাকে। কাজেই দেখা যাচ্ছে, এই আধুনিক যুগেও সফরের সমস্যাবলী আগের মতোই বিদ্যমান। এ ছাড়া, এখনো বহু শহর ও গ্রাম আছে যেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা খুবই কম এবং সেখানে সফরে গেলে মানুষকে অনেক কষ্টে সময় কাটাতে হয়। তাই কসরের নামাজ এখনো অনেকের জন্য বড় ধরণের ছাড় বলেই গণ্য হয়। কাজেই কসরের নামাজ ও রোজা ভাঙার মতো ইসলামের নির্দেশাবলী সার্বিকভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ দূরত্বে সফরে গেলে কসরের নামায পড়তেই হবে এবং রোজা রাখা যাবে না। মহান আল্লাহ ইসলামের আহকাম বা ধর্মীয় বিধিবিধান ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনের প্রয়োজনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছেন। সফরের সময় মানুষের পরিশ্রম ও কষ্টের কথা বিবেচনা করে নামাজ কসর পড়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সফরের ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাপনে বিঘ্ন ঘটে এবং এ বিপত্তির বিষয়টি মানুষ মেনে নিয়েছে। অর্থাৎ মানুষ জানে, সফরে গেলে তার প্রতিদিনের খাওয়া-দাওয়া ও ঘুম ইত্যাদির রুটিনে বিঘœ ঘটবে। অবশ্য এখন সফরের কষ্ট অনেকটা লাঘব হয়েছে। তারপরও ঘরের পরিবেশ আর সফরের পরিবেশ এক হয় না।
হযরত য়ালা ইবনে উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কাছে আরজ করলাম, আল্লাহপাকতো বলেছেন, যদি তোমরা কাফেরদের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য কোন রকম ফেতনার আশংকা কর তাহলে নামায কসর করাতে কোন দোষ নেই। এখনতো নিরাপত্তার যুগ (সুতরাং কসর না করা দরকার)। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তুমি যে কথায় আশ্চার্যান্বিত হয়েছো আমিও সে ব্যাপারে আশ্চর্য বোধ করেছিলাম এবং রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম উত্তরে তিনি বললেন, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য একটি ছদকা। তোমরা আল্লাহর ছদকা গ্রহণ কর। (সহীহ মুসলিম)

সফর কত প্রকার কি কি?

সফরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফরয) দুই রাকা’আত পড়তেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রিসালাতকালে মোটামুটি চার প্রকার সফর করেছেন। সেগুলো হলো-
১.হিজরতের সফর।
২.আল্লাহর পথে জিহাদের সফর।
৩.ওমরার সফর।
৪.হজ্জের সফর।
রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য সবচেয়ে বেশি সফর করেছেন।

সফর কখন শুরু হয়

ভ্রমনের উদ্দেশ্যে আবাসস্থল থেকে যখন যাত্রা শুরু করা হয় তখন সফর শুরু হয়।
নাময কসর ও একত্র করার জন্যে সফরের দূরত্ব
রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরের দূরত্বের কোনো সীমা রেখা নির্ধারণ করে দেননি। সাহাবিগণও কোনো সীমা রেখার কথা বলেননি। কতোটা দূরের সফর হলে নামায কসর করা যাবে, একত্র করা যাবে, (ফরয) রোজা স্থগিত করা যাবে-এসবের কিছুই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ করেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ সাধারণভাবে সফর শব্দ ব্যবহার করেছেন । কেউ কেউ মক্কা ও জিদ্দার ব্যবধান ও মক্কা ও তায়েফের ব্যবধানকে সফরে ন্যূনতম স্ট্যান্ডার্ড ধরেছেন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবীগণ এমন কিছু নির্ধারণ করে দেননি। তাঁরা সফর কথাটি বলেছেন। সুতরাং যে দূরত্বকে সাধারণভাবে সফর বলা হয়, সেটাই সফর। মাইল নির্ধারণ করা আমাদের দায়িত্ব নয়। ‘সফর’ ছোট ও বড় হোক সফরই। ছোট বড় সব সফরেই কসর, দুই ওয়াক্ত নামায একত্র, রোযা স্থগিত করণ, তাইয়াম্মুম ইত্যাদি বৈধ।
মাসয়ালা :- কেউ যদি নিজ এলাকা থেকে আটচল্লিশ মাইল দূরে যাওয়ার এবং সেখানে পৌঁছে পনেরো দিনের কম থাকার নিয়ত করে তাহলে সে কসর পড়বে। নিজ এলাকা থেকে বের হওয়ার পর থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত সফরের মধ্যে গণ্য।

সফরের মেয়াদ/সময়

সফরের মেয়াদ হবে কমপক্ষে ৩ (তিন) দিন সবোর্চ ১৫ দিন।
১.হযরত ইমরান ইবনে হুছাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সফরে ঘরে ফিরে আসা পর্যন্ত নামাযকে কসর করতেন। মক্কা বিজয়ের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঠার দিন মক্কা শরীফে ছিলেন। সেখানে মাগরিব ব্যতিত সব নামায দুই-দুই রাকা’আত পড়াতেন। সালাম ফিরার পর বলতেন, হে মক্কাবাসী! তোমরা নিজ নিজ নামায পুরা কর,আমরা মুসাফির। (মুসনাদে আহমদ)
২.হযরত নাফে (রঃ) থেকে বর্নিত, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মক্কা শরীফে দশ রাত অবস্থান করেছিলেন তখন নামায কসর করতেন। কিন্তু যখন ঈমামের পিছনে পড়তেন তখন পূর্ণ পড়তেন।(মুয়াত্তা মালেক)।
মাসয়ালা:- কেউ পনের দিনের নিয়তে বের হলো কিন্তু কোন বিশেষ কারনে আজ যাচ্ছি কাল যাচ্ছি করে পনের দিনের বেশী থাকা হয়ে যেতো তাহলেও তাকে কসর নামায পড়তে হবে।

দুই বা তিন রাকা’আত বিশিষ্ট নামাযে কসর নেই

দুই বা তিন রাকা’আত বিশিষ্ট নামাযে কসর নেই। যেমন- ফজর ও মাগরিবের নামায এবং বিতর নামায।
রাসূলল্লাহু সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সকল সফরের নামায দুই রাকা’আত করে পড়েছেন। সুতরাং আমাদেরও শুধু উচিৎ নয় বরং আবশ্যিকভাবে সফরে চার রাকা’আত নামায দুই রাকা’আত করে পড়া।

 

You may also like