Home ইসলাম সফরে মাগরিব ও এশা একত্রে পড়া

সফরে মাগরিব ও এশা একত্রে পড়া

by admin
০ comment

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রীতি ছিলো, তিনি যদি সূর্যাস্তের আগে সফরে বের হতেন তাহলে মাগরিবের নামাযকে এশার ওয়াক্ত পর্যন্ত বিলম্বিত করতেন। অতপর এশার সময় মাগরিব ও এশা একত্রে পড়তেন। যদি সূর্যাস্তের পর সফরে রওয়ানা করতেন, তাহলে মগারিবের সময় মাগরিব ও এশা একত্রে পড়ে রওয়ানা করতেন। যদি মাগরিবের সময় তাড়াহুড়া করে যাত্রা শুরু করতেন, তাহলেও মাগরিবের নামাযকে বিলম্বিত করে এশার সময় মাগরিব ও এশা একত্রে পড়তেন।

১.ইয়াহিয়া ইবনে ইয়াহিয়া (র) ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যখন সফরে তাড়াহুড়ো থাকত তখন মাগরিব ও এশার সালাত একত্রে আদায় করতেন।(সহীহ মুসলিম)

২.রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কসরের নামায একসাথে পড়তেন। এমনিভাবে যদি সফর শুরু করার পুর্বে সুর্য ডুবে যেত তখন মাগরিবের সময় মাগরিব-এশা একত্রে পড়ে নিতেন। আর যদি সূর্য ডুবে যাওয়ার পূর্বে সফর শুরু করতেন তখন মাগরিবের নামায বিলম্ব করতেন এবং এশার সময় উভয় নামায পড়ে নিতেন। (আবু দাউদ ও জামে আত তিরমিজি) ।

৩.মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (র) নাফি’ (র) থেকে বর্ণিত। ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর যখন তাড়াহুড়া থাকত তখন পশ্চিমাকাশের লালিমা অস্তমিত হওয়ার পর মাগরিব ও এশার সালাত একত্রে আদায় করতেন এবং বলতেন, তাড়াহুড়ার সফরের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করতেন। (সহীহ মুসলিম)

৪.ইয়াহিয়া ইবনে ইয়াহিয়া (র) কুতায়বা ইবনে সাঈদ (র) আবু বকর ইবনে আবু শায়বা (র) ও আমর ইবনে নাকীদ (র) সালিমের পিতা (ইবনে ওমর) থেকে বর্ণিত যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, যখন তাঁর সফরে তাড়াহুড়া থাকত, তখন তিনি মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করতেন। (সহীহ মুসলিম)

৫.হারমালা ইবনে ইয়াহিয়া (র) আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, যখন তাঁর সফরে হাড়াহুড়ো থাকত তখন মাগরিবের সালাত দেরীতে আদায় করতেন। পরে মাগরিবের সময় মাগরিব ও এশা একত্রে পড়তেন।

৬.আবু তাহের ও আমর ইবনে নাওয়াদ (র) আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যখন সফরে তাড়াহুড়ো থাকত, তখন তিনি যোহরের সালাত আসরের প্রথম ওয়াক্ত আসা পর্যন্ত-বিলম্ব করতেন। তারপর উভয় সালাত একত্রে আদায় করতেন। মাগরিবের সালাতে বিলম্ব করতেন এমনকি লালিমা অস্তমিত হওয়ার সময় হলে মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করতেন। (সহীহ মুসলিম)

৭.ইয়াহিয়া ইবনে হাবীব হারীসি (র) সাঈদ ইবনে যুবায়ের (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকের যুদ্ধে সফরকালে যোহর ও আসর এবং মাগরিব এশা একত্রে আদায় করেন । সাঈদ বলেন, আমি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তাঁকে তা করতে কিসে উদ্বুদ্ধ করেছিল? তিনি বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য তার উম্মাত যেন কষ্টে না পড়ে। (সহীহ মুসলিম)
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা গেল সফরে দুই ওয়াক্ত নামায পড়ার ২টি নিয়ম রয়েছে।
একটি হলো-সূর্য হেলার আগে সফরে বের হলে যোহরকে বিলম্বিত করে আছরের সময় যোহর ও আসর একত্রে পড়া যায়।
দ্বিতীয়টি হলো-সূর্য হেলার পরে সফরে বের হলে আসরকে এগিয়ে নিয়ে এসে যোহরের সময় যোহর ও আসর একত্রে পড়া যায়।
অনুরূপ ভাবে-
১.সূর্যাস্তের আগে সফরে বের হলে মাগরিবকে বিলম্বিত করে এশার সময় মাগরিব ও এশা একত্রে পড়া যায়।
২. সূর্যাস্তের পরে সফরে বের হলে এশাকে এগিয়ে নিয়ে এসে মাগরিবের সময় মাগরিব ও এশা একত্রে পড়া যায়।
সফরে থাকা অবস্থায় একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

You may also like