Home ইসলাম শত্রু ভীতিকালীন নামায

শত্রু ভীতিকালীন নামায

by admin
০ comment

একই সংগে সফর ও শত্রু আক্রমণ-ভীতি যোগ হলে সেই অবস্থায় আল্লাহতায়ালা নামাযের আরকান এবং রাকা’আত সংখ্যা উভয়টাই সংক্ষেপ করার অনুমতি দিয়েছেন। নির্বিঘে (শত্রু আক্রমণের ভয়হীন) সফরকালে শুধু রাকা’আত সংখ্যা সংক্ষেপ করার অনুমতি দিয়েছেন। আর সফরবিহীন ভীতিকর পরিস্থিতিতে শুধু নামাযের আরকান সংক্ষেপ করার অনুমতি দিয়েছেন।
-এটাই ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রবর্তিত নামায কসর (সংক্ষেপ) করার নিয়ম। কুরআনের কসর সংক্রান্ত আয়াতের ভিত্তিতেই তিনি এই কৌশল অবলম্বন করেন।
শত্রুভীতি কালীন পরিস্থিতিতে রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামাযের পদ্ধতি ছিলো এই যে, শক্র যদি তাঁর কিবলার মাঝে অবস্থান করতো, তাহলে তাঁর সঙ্গি সাথি সকল মুসলমানকে তাঁর পিছে নামাযে দাঁড় করাতেন। তিনি তাকবীর বলতেন, তাঁরাও সবাই তাকবীর বলতো। তিনি রুকুতে যেতেন, তারাও সবাই রুকূতে যেতো। তিনি রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে দাঁড়াতেন, তারাও সবাই মাথা তুলে দাঁড়াতো। তারপর তিন যখন সেজদায় যেতেন, তখন তাঁর নিকটবর্তী (অর্থাৎ সামনের) সফ তাঁর সাথে সেজদায় যেতো আর পেছনের সফ শত্রুমুখী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো।

এভাবে যখন তিনি পয়লা রাকা’আত শেষ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকা’আতের জন্যে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন, তখন পিছের কাতারে লোকেরা সামনে চলে যেতো আর সামনের লোকেরা পিছের কাতারে চলে আসতো। পিছের কাতারের লোকেরা যাতে ঈমামের সাথে দ্বিতীয় রাকাতে দুটি সেজদা করতে পারে, সেজন্যেই তারা সামনে আসতো, যেমনটি পয়লা রাকা’আতের সামনের কাতারের লোকেরা করেছিল। এভাবে ঈমামের সাথে উভয় নামায সমান হতো।
অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দ্বিতীয় রাকা’আতের রুকূতে যেতেন, তখন পয়লা রাকা’আতের মতো সামনে-পিছের সকলেই তাঁর সাথে রুকূতে যেতো। কিন্তু তিনি যখন দ্বিতীয় রাকা’আতের সেজদায় যেতেন, তখন সামনের কাতারে লোকেরা তাঁর সাথে সেজদায় যেতো, আর পিছনের কাতারের লোকেরা শত্রু মোকাবিলায় দাঁড়িয়ে থাকতো। অতপর তিনি যখন তাশাহুদের জন্যে বসতেন, তখন পিছের কাতারে লোকেরা দুটি সেজদা সেরে নিতো এবং তাঁর সাথে তাশাহুদের শরীক হতো। অতপর সবাই একত্রে তাঁর সাথে সালাম ফিরাতো।

শত্রু যদি কিবলার দিকে না হয়ে অন্য কোনো দিকে হতো, তাহলে তিনি সাথীদের দুই গ্রুপে ভাগ করে নিতেন। একটি গ্রুপ শত্রু মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতো । অপর গ্রুপটি তাঁর সাথে এক রাকা’আত নামায পড়ে শত্রু মোকাবেলায় দাঁড়িয়ে থাকা গ্রুপের স্থলে গিয়ে দাঁড়াতো এবং দাঁড়িয়ে থাকা গ্রুপটি এসে তাঁর সাথে দ্বিতীয় রাকাতে শামিল হয়ে এক রাকা’আত নামায পড়তো। অতপর তিনি সালাম ফিরাতেন আর তারা উভয় গ্রুপ পালাক্রমে নিজস্বভাবে এক রাকা’আত করে পড়ে নিতো।

শত্রু কিবলার দিকে না হয়ে অন্য দিকে হলে আবার কখনো তিনি সাথিদের দুই গ্রুপ করে নিয়ে প্রথম গ্রুপকে নিয়ে পয়লা রাকা’আত পড়ে দ্বিতীয় রাকা’আতে দাঁড়াতেন। তাঁর এই দাঁড়ানো থাকা অবস্থাতেই প্রথম গ্রুপ নিজেরা আরেক রাকা’আত পড়ে নিতো এবং সালাম ফিরিয়ে চলে যেতো। এ সময় দ্বিতীয় গ্রুপ এসে তাঁর সাথে দ্বিতীয় রাকাতে শরীক হতো। এদের নিয়ে দ্বিতীয় রাকা’আত পড়ে যখন তিনি তাশাহুদের জন্যে বসতেন তখন তরা উঠে দাঁড়াত এবং রয়ে যাওয়া এক রাকা’আত নিজেরা পুরা করে নিতো। এসময় তিনি তাঁদের এক রাকা’আত শেষ করার জন্যে তাশাহহুদের বৈঠকে অপেক্ষা করতে থাকতেন। অতপর তাদেরও তাশাহুদ শেষ হলে তিনি তাদের নিয়ে একত্রে সালাম ফিরাতেন।

আবার কখনো এমনটি করতেন যে, একটি গ্রুপকে নিয়ে দুই রাকা’আত পড়ে তাশাহহুদের জন্যে বসতেন। এসময় সে গ্রুপটি নিজেরা সালাম ফিরিয়ে চলে যেতো এবং তাদের স্থলে অপর গ্রুপটি আসতো। তখন তিনি তাশাহহুদের বৈঠক থেকে দাঁড়িয়ে এদেরকে সাথে নিয়েও দুই রাকা’আত পড়াতেন অতপর সালাম ফিরাতেন।
-এ পদ্ধতিতে তাঁর হতো চার রাকা’আত আর সাহাবাগণের হতো দুই রাকা’আত করে।
আবার কখনো তিনি একটি গ্রুপকে সাথে নিয়ে দুই রাকা’আত পড়ে সালাম ফিরিয়ে ফেলতেন। পুণরায় আরেকটি গ্রুপকে সাথে নিয়ে দুই রাকা’আত পড়ে সালাম ফিরাতেন।
-এ পদ্ধতিতে তাঁর নামায হতো দু’বার।
কখনো তিনি একটি গ্রুপকে নিয়ে এক রাকা’আত পড়তেন। এ গ্রুপটি এক রাকা’আত পড়েই চলে যেতো। দ্বিতীয় রাকা’আত এরা পড়তোনা। অতপর আরেকটি গ্রুপ এসে তাঁর সাথে দ্বিতীয় রাকা’আত পড়তো।
-এ পদ্ধতিতে তাঁর হতো দুই রাকা’আত এবং সাহাবাগণ মাত্র এক রাকা’আত এক রাকা’আত পড়তেন।
শত্রুু কর্তৃক আক্রমণের আশংকা কালে এসবগুলো পদ্ধতিতেই নামায পড়া বৈধ। ঈমাম আহমদ ইবনে হাম্বল বলেছেন, এইসব পদ্ধতিই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত, তাই অনুরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এই সব পদ্ধতিতেই নামায পড়া জায়েয।
এছাড়াও আরো কিছু পদ্ধতির কথা বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে উল্লেখিত পদ্ধতিগুলোই সঠিক।
ইবনে আব্বাস, জাবের ইবনে আবদুল্লাহ,তাউস, মুজাহিদ, হাসান বসরি, কাতাদা, হাকাম ও ইসহাক ইবনে রাহুইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুমের মাযহাব হলো, প্রত্যেক গ্রুপ এক রাকা’আত এক রাকা’আত করে পড়বে।

You may also like