Home ইসলাম যথাযথভাবে নামায পড়ার পদ্ধতি

যথাযথভাবে নামায পড়ার পদ্ধতি

by admin
০ comment

যথাযথভাবে নামায পড়ার পদ্ধতি

মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

১.আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। একদিন রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথীদের নিয়ে নামায আদায়ের পরে বসলেন। এ সময়ে এক ব্যক্তি এসে তাড়াতাড়ি রুকু সিজদা করে নামায পড়লো। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরা ওই ব্যক্তিকে দেখতে পাচ্ছো? সে যদি এই অবস্থায় মারা যায় তবে মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মাতের বহির্ভূত অবস্থায় মারা যাবে। কাক যেমন তার চঞ্চু দিয়ে রক্তে ঠোকর মারে, সে সেই রকম ঠোকর মেরে নামায সারলো। (সহীহে আবু বকর বিন খুযাইমা)
২.একদিন এক ব্যক্তি মসজিদে নববীতে প্রবেশ করলো। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মসজিদেই বসেছিলেন। লোকটি নামায পড়লো। অতঃপর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে সালাম করলো। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন : তুমি ফিরে যাও এবং নামায পড়। কারণ তুমি নামায পড়নি। সে চলে গেল এবং আগের মতো আবার নামায পড়ে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে সালাম করলো। তিনি সালামের জবাব দিয়ে আবার বললেন : তুমি ফিরে যাও এবং নামায পড়। কেননা তুমি নামায পড়নি। এরূপ তিনবার নামায পড়ার পর লোকটি বললো : হে আল্লাহর রাসূল। আমি এর চেয়ে ভালোভাবে নামায পড়তে পারি না। আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন : প্রথমে নামাযে দাঁড়িয়ে তাকবির বলো। অতঃপর যতোটুকু পারো কুরআন পাঠ করো। অতঃপর রুকু করো এবং রুকুতে গিয়ে স্থির হও। অতঃপর উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াও। তারপর সিজদা দাও এবং সিজদায় গিয়ে স্থির হও। তারপর স্থির হয়ে বসো অতঃপর আবার সিজদা দাও এবং সিজদায় স্থির হও। এভাবে নামায শেষ করো। (সহীহ আল বোখারী, ১ম খ-, পৃষ্ঠা- ৮৮ ও ২য় খ-, পৃষ্ঠা-৮৮৮, হাদীস নং- ৬৩১ ও ৭২৪৬ ও সহীহ মুসলিম)
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
৩.যে ব্যক্তি রুকু ও সিজদার মধ্যবর্তী স্থানে পিঠটান করে দাঁড়ায়না, আল্লাহ তাঁর দিকে দৃষ্টি দেবেন না। (মুসনাদে আহমাদ)
৪. সেই ব্যক্তির নামায মুনাফিকের নামায, যে বসে বসে সূর্যকে প্রত্যক্ষ করতে থাকে, আর যেই সূর্য শয়তানের দুই শিং এর মাঝে পৌঁছে যায় (অর্থাৎ অস্ত যাওয়ার অব্যবহিত পূর্বে) অমনি উঠে দাঁড়ায় এবং চারবার মাথা ঠুকে। ঐ সময়ে আল্লাহকে সে খুব কমই স্মরণ করতে পারে। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)
৫.যখনই কেউ নামায পড়ে তখন একজন ফিরিশতা তার ডানে এবং একজন ফিরিশতা তার বামে থাকে। সে যদি সুষ্ঠুভাবে নামায শেষ করে তবে তারা উভয়ে সেই নামাযকে নিয়ে আল্লাহর কাছে পৌছায়। নচেত তারা তা তার মুখের ওপর ছুঁড়ে মারে। (দারকুতনী)
৬.যে ব্যক্তি সুষ্ঠুভাবে ওযু করে, অতঃপর নামাযে দাঁড়ায়, সুষ্ঠুভাবে-রুকূু সিজদা ও কুরআন পাঠ দ্বারা নামায সম্পন্ন করে, তার নামায তাকে বলে : তুমি যেমন আমাকে সংরক্ষণ করেছ, তেমনি আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করুন। অতঃপর তার জন্য আকাশের দুয়ার খুলে যায় এবং আল্লাহর নিকট পৌছে গিয়ে উক্ত নামাযির পক্ষে সুপারিশ করে। আর যখন কেউ রুকু-সিজদা ও কুরআন পাঠ সুষ্ঠুভাবে করেনা তখন নামায তাকে বলে : তুমি যেমন আমাকে নষ্ট করলে, আল্লাহও তেমনি তোমাকে নষ্ট করুক। অতঃপর তা অন্ধকারে আচ্ছন্ন অবস্থায় আকাশে উঠে যায়। তার জন্য আকাশের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। অতঃপর তাকে পুরানো কাপড়ের মতো গুটিয়ে নামাযির মুখের ওপর ছুঁড়ে মারা হয়।
৭.নামায একটি দাঁড়িপাল্লাস্বরূপ। যে ব্যক্তি এই দাঁড়িপাল্লা পুরোপুরিভাবে মেপে দেয়, তাকে তার পুরস্কারও পুরোপুরিভাবে দেয়া হবে। আর যে কম মেপে দেবে তার সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে যে, যারা মাপে কম দেয় তাদের জন্য ‘ওয়েল’ নির্দিষ্ট রয়েছে। মাপে কম দেয়া যেমন অন্যান্য জিনিসে হতে পারে, তেমনি নামাযেও হতে পারে। আর ‘ওয়েল’ হচ্ছে জাহান্নামের এমন উত্তপ্ত জায়গা, যার উত্তাপ থেকে জাহান্নাম নিজেও আল্লাহর কাছে পানাহ চায়। (মুসনাদে আহমাদ)
৮.সিজদার সময় তোমরা মুখম-ল, নাক ও দুই হাত মাটিতে রাখবে। কেননা আল্লাহতায়ালা আমাকে সাতটি অঙ্গ দিয়ে সিজদা করতে আদেশ দিয়েছেন : কপাল, নাক, দুইহাতের তালু, দুই হাটু ও দুই পায়ের পিঠ। সিজদার সময়ে কাপড় ও চুল সামলাতে নিষেধ করেছেন। যে ব্যক্তি প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে তার অধিকার না দিয়ে নামায পড়ে, তাকে সংশ্লিষ্ট অঙ্গ পুরো নামাযের সময়টা ধরে অভিশাপ দিতে থাকে। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)
৯.হযরত হুযায়ফা এক ব্যক্তিকে দেখলেন ভালোভাবে রুকু সিজদা না করে নামায পড়ছে। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এভাবে কতদিন যাবত নামায পড়ছ? সে বললো : চল্লিশ বছর। তিনি বললেন : তুমি চল্লিশ বছর যাবত কোন নামাযই পড়নি। এ অবস্থায় মারা গেলে তুমি অমুসলিম অবস্থায় মারা যাবে।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা! নামায যদি আমাদের কাছে গুরুত্বহীন কাজ হয়, তাহলে ইসলামের আর কোন কাজটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হবে? কিয়ামতের দিন বান্দাকে সর্বপ্রথম নামাযের হিসাব দিতে হবে। সুতরাং নামাযের প্রতি সর্বাগ্রে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে, যতœশীল হতে হবে, কোনো মতে নামায বাদ দেয়া যাবে না, সময়মত নামায পড়তে হবে, যথাসময়ে নামায আদায় করতে হবে।

You may also like