Home ইতিহাস মেসওয়াক : পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মেসওয়াকের ভূমিকা মেসওয়াক

মেসওয়াক : পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মেসওয়াকের ভূমিকা মেসওয়াক

by admin
০ comment

 পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মেসওয়াকের ভূমিকা মেসওয়াক

মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

মেসওয়াক

যদিও মেসওয়াক বা মেসওয়াকের বর্ণনা পবিত্র কুরআনে নেই, তথাপিও তাহারাত বা পবিত্রতার সাথে মেসওয়াকের সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আমরা জানতে পারি, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় বক্তব্যের মাধ্যমে মেসওয়াক সম্পর্কে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।মেসওয়াকের গুণাগুণ বা উপকারিতা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাণী বিষয় ভিত্তিকভাবে সম্মানিত পাঠকদের উদ্দেশ্যে নিম্নে বণির্ত হলো :

. মেসওয়াক : বিষয়ভিত্তিক কিছু হাদীসে রাসূল

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় মেসওয়াকের ভূমিকা :

১. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যদি আমার উম্মতের কষ্ট হবার আশংকা না হতো অথবা লোকদের কষ্টের ভয় না হতো, তাহলে আমি তাদেরকে প্রত্যেক নামাযের জন্য মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। (সহীহ মুসলিম)

২. উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মেসওয়াক দিয়ে মুখ পরিষ্কার হয় এবং আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। (আন-নাসায়ী)

৩. হযরত হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর মেসওয়াক দিয়ে মুখ ঘষতেন।

৪. হযরত হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য তাঁর মেসওয়াক ও ওযুর পানি তৈরি রাখতাম। আল্লাহ রাতে যখন তাঁকে জাগাতে চাইতেন তখন উঠে তিনি মেসওয়াক করতেন, ওযু করতেন এবং নামায পড়তেন।

৫. হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মেসওয়াক না করে নামাযের তুলনায় মেসওয়াক করে নামাযের সওয়াব সত্তর গুণ বেশি। (বায়হাকী)

৬.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : ‘আমি তোমাদেরকে বেশি বেশি মেসওয়াক করার নির্দেশ দিচ্ছি।’ অর্থাৎ আমি মেসওয়াক করার ব্যাপারে তোমাদেরকে অত্যধিক উৎসাহিত করছি। (সহীহ আল বোখারী ও আন-নাসায়ী)

শয়নে-জাগরণে মেসওয়াক :

১.হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুম থেকে জাগতেন মধ্য রাতে নামায পড়ার জন্য, তখন তিনি মেসওয়াক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতেন।” (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

২.সুরাইহ ইবনে হানী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “আমি হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম কি কাজ করতেন? তিনি জবাব দিলেন, সর্বপ্রথম তিনি মেসওয়াক করতেন।” (সহীহ মুসলিম, ইবনে মাজাহ ও আন-নাসায়ী)

৩.হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহা আনহা আরো বর্ণনা করেন, “ইন্তেকালের পূর্বেও আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেসওয়াক ব্যবহার করেছেন।” (সহীহ আল বোখারী)

৪.ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “একদা তিনি আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট রাত যাপন করেছিলেন। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ রাতে জেগে বাইরে গিয়ে আসমানের দিকে তাকিয়ে সূরা আলে ইমরানের এ আয়াতটি (ইন্না ফি খালকিস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ ……… ওয়াক্বিনা আযাবান্নার) পাঠ করলেন। এরপর ঘরে ফিরে এসে মেসওয়াক করলেন ও অযু করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে নামায পড়লেন।” (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মেসওয়াক :

১.হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মেসওয়াক মুখকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করে এবং মহান আল্লাহ্ সুব্হানাহু ওয়াতা‘য়ালার সন্তুষ্টি বিধান করে।” (সহীহ আল বোখারী, মুসনাদে আহমাদ ও আন-নাসায়ী)

২.আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায় যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা মেসওয়াক করো। কেননা মুখ পবিত্র ও পরিস্কার করে ইবাদত করা মহান প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের উপায়।” (ইবনে মাজাহ)

৩.নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, “তোমরা কুরআন তিলওয়াতের জন্য মুখ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখো।” (আল বাযযার)

৪.হযরত আলী ইবনে তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “তোমাদের মুখ হলো কুরআনের রাস্তা। অতএব তোমরা দাঁতন (মেসওয়াক) করে তা পবিত্র ও সুগন্ধিযুক্ত করো।” (ইবনে মাজাহ)

দাঁতের রোগ-ব্যাধি নিরাময়ে মেসওয়াক

মুখ পরিষ্কার রাখার বড় মাধ্যম বা উপায় হচ্ছে দাঁত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। যদি দাঁত পরিষ্কার না থাকে বা দাঁতে কোনো রোগ-ব্যাধি থাকে তাহলে তা বিশ্রী দেখায় এবং মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। আশপাশের লোকেরা এতে ক্ষুব্ধ হয় ও তিরস্কার করে।

১.  নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি খানা খাবে, সে যেনো খিলাল করে।” (মুসনাদে আহমাদ ও দারিমী)

২. হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, “মেসওয়াক ব্যবহার করলে ১০ ধরনের উপকার পাওয়া যায়।” (আবু নূ’য়াইম ও আস-সুয়ূতী)

এ উপকারগুলো হচ্ছে মুখে সুঘ্রাণ আসা, মুখের অভ্যন্তরে মাড়ি শক্তিশালী করা, পেটকে খাদ্য গ্রহণের জন্য উপযোগী করে তোলা, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, মানুষের প্রতিভা বৃদ্ধি পাওয়া, ফেরেশতাদের খুশি করতে পারা ইত্যাদি। মেসওয়াক নিঃশ্বাসকে সুগন্ধযুক্ত করে, যারা নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহার করেন তারা দাঁতের ক্ষয়রোগ থেকে রক্ষা পান। এছাড়া মেসওয়াক দাঁতের উপরিভাগে যে ংপধষব পড়ে, তা থেকে রক্ষা করে এবং জীবাণুযুক্ত প্লেগ দূর করে।

খিলাল করার মাধ্যমে দাঁতের গোড়ায় আটকে থাকা খাদ্যাংশ বের হয়ে যাবেÑ তা বের না হয়ে মুখ দুর্গন্ধযুক্ত ও দাঁতকে নষ্ট করে ফেলে। উপরোক্ত হাদীসগুলো থেকে আমরা জানতে পারি যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখ ও দাঁতের যতেœ মেসওয়াক-এর প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করতেন। তিনি নিজে নিয়মিত মেসওয়াক করতেন এবং সাহাবাদেরও মেসওয়াক করতে নির্দেশ দিতেন। বস্তুত মেসওয়াক করার মাধ্যমে দাঁতের মাড়ি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়না এবং দাঁত সম্পূর্ণ পরিষ্কার, সুন্দর ও ঝক্ঝকে থাকে। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সারা জীবনের অন্যতম একটি নিয়মিত আমল হলো মেসওয়াক করা।

আমরা অনেকে এমন আছি যারা নিদেনপক্ষে দৈনিক তিনবার মূল খাবারের পরেও নিয়মিত মেসওয়াক বা দাঁত ব্রাশ করি না। এই না করার কারণে আমাদের মুখের দুর্গন্ধে অন্যেরা কষ্ট পায়। মুখগহ্বর অপরিচ্ছন্নতার কারণে দাঁতের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে দাঁত হারিয়ে অনেক সময় আমরা মুখে রূমাল দিয়ে রাখি। উৎসুক্য হয়ে কেউ জিজ্ঞেস করলে উত্তরে বলি “আল্লাহর দাঁত আল্লায় নিয়ে গেছে আমি কী করবো।” রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখনে বলেছেন : “আত্তুহুরু শাতরুল ঈমান।”-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধাংশ, সেখানে মুমিন হয়েও আমরা নিয়মিত দাঁতের যতœ না করে অকালে দাঁত হারিয়ে দোষ দেই আল্লাহর।

যেসব গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক তৈরি করা যায়

১.আবি জাহিদ আল-গাফিকী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তিন ধরনের মেসওয়াক রয়েছে। তুমি যদি ‘আরক’ পাও তাহলে তা ব্যবহার করো। যদি না পাও তবে ধহধস বা নধঃস ব্যবহার করো।” (আবু নু‘য়াইম)

আরবি ‘আনাম’ বা ‘খা’রুর’ গাছের নড়ঃধহরপধষ নাম হচ্ছে ঈবৎধফড়হরধ ংরষরয়ঁধ. ইংরেজী নাম হচ্ছে ঈধৎড়ন ঃৎবব.এটি উর্দ মাসটাকি নামেও পরিচিত। আল্লামা আস্-সুয়ূতী (রহ.) বর্ণিত রিওয়ায়াত থেকে জানা যায় যে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের হাতের লাঠিটি ছিল এই ঈধৎড়ন ঃৎবব থেকে তৈরি। আল্লামা আস্-সুয়ূতী (রহ.) বর্ণনা করেন যে, “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডালিম বা বাবুই তুলসী (ঢ়ড়সবমৎধহধঃব বা নধংরষ) গাছের ডাল দ্বারা মেসওয়াক করতে নিষেধ করতেন।” (আস্-সুয়ূতী)

বাবুই তুলসী গাছটির আরবি নাম রায়হান, ইউনানী নাম ফারাজন মুশক্, ইংরেজি নাম- ঙপরহঁস নধংরষরপধস. এটা সুগন্ধি গাছ। অনেকেই ধপধপরধ ঃরিম কে প্রকৃত আনাম বলে অভিহিত করেন। এই ‘আনাম’ ছাড়া আর যে গাছটির ডাল মেসওয়াক হিসেবে ব্যবহারের জন্য রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তা হলো ‘ইধঃস’, বুটুম বা উর্দ মাসটাকি। এটির হিন্দি, উর্দু ও ফারসি নাম হচ্ছে, ‘মুসটাগী কাবুলী’।

আধুনিক Tooth Brash  বনাম মেসওয়াক

আধুনিক টুথব্রাশ হচ্ছে মেসওয়াকের উন্নততর এক বিকল্প সংস্করণ। এটি একটি নতুন উদ্ভাবন। শহরাঞ্চলে গ্রামের মতো বিভিন্ন গাছের তাজা ডাল-পালা সহজলভ্য না হওয়ায় আনুমানিক ২০০ বছর যাবত এই ঢ়ৎধপঃরপবটি চালু হয়েছে। ঞধংঃু ঃরিম-এর সাহায্যে দাঁত মাজা-ই পরবর্তী সময়ে আধুনিক টুথব্রাশ আবিষ্কারের প্রথম ংঃবঢ়। আমরা যদি মেসওয়াকের সাথে ঃড়ড়ঃয ঢ়ধংঃব ব্যবহার করে দাঁত পরিষ্কার করি, তাহলে দাঁতের যতেœ নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসও মানা হবে, আর টুথপেস্টের মাধ্যমে দাঁত-মুখ পরিষ্কার করার ফলে মুখের দুর্গন্ধও দূর হবে এবং সতেজতার অনুভূতি সৃষ্টি হবে এবং এতে আল্লাহ্ ও তাঁর ফেরেশতাগণ সন্তুষ্ট হবেন। আলোচ্য হাদীসে-রাসূল থেকে আমরা মেসওয়াকের গুণাবলী জানতে পারলাম। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাঁর দেহ এবং মুখ-গহ্বর থেকে বের হতো স্বর্গীয় খোশবু তিনি যদি শয়নের পূর্বে জাগরণের পরেসহ বিভিন্ন সময়ে দৈনিক এতোবার মেসওয়াক করতে পারেন তাহলে আমাদের মতো গুনাহগারদের কতোবার মেসওয়াক করা উচিত তা সহজেই অনুমেয়। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো রহমাতুল্লিল আলামীন যদি তাঁর হাদীসে মেসওয়াকের এতো গুরুত্ব দেন তাহলে আমরা রাসূলের অনুসারীরা কি নিদেনপক্ষে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পূর্বে এবং তিনবার খাবারের পূর্বে মেসওয়াক করতে পারি না?

রমযান ও মেসওয়াক

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে ‘রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশ্ক জাফরানের ঘ্রাণের চেয়েও উত্তম।’ উক্ত হাদীসটির দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে আমরা অনেকে রমযান আসলে দাঁত ব্রাশ করাই প্রায় ছেড়ে দেই। অথচ আমরা ভোর রাতে সেহেরীর পরে নিয়মিত পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে পারি। ইফতারের পরে দাঁত ব্রাশ করতে পারি এবং রাতে খাওয়ার পরেও অনায়াসে দাঁত ব্রাশ করতে পারি। আর রমযানে সতর্কতা অবলম্বন করে মেসওয়াক অথবা খালি ব্রাশ (টুথপেস্ট ছাড়া) দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করতে পারি।

এবার আসুন রমযানে মেসওয়াকের ব্যাপারে রাসূলেপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বলেছেন তা নিম্নোক্ত হাদীসের দ্বারা জেনে নেই :

১.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা অবস্থায় মেসওয়াক করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু রোযা রেখে সকালে ও বিকালে মেসওয়াক করতেন। ইবনে শিরিন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রোযা অবস্থায় কাঁচা রসযুক্ত মেসওয়াক ব্যবহারেও কোনো ক্ষতি নেই।” (সহীহ আল বোখারী)

২. হযরত আমির ইবনে রাবিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন : আমি অসংখ্যবার রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রোযা অবস্থায় মেসওয়াক করতে দেখেছি। (জামে আত-তিরমিযী)

৩.হযরত আমির ইবনে রাবিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে যখন রোযা রাখতেন তখন সে মাসে আমি বিভিন্ন সময়ে তাঁকে মেসওয়াক করতে দেখেছি।” (সহীহ আল বোখারী)

You may also like