Home ইতিহাস মুমিন বান্দা ও কাফিরের মধ্যে বাহ্যিক পার্থক্য নামায

মুমিন বান্দা ও কাফিরের মধ্যে বাহ্যিক পার্থক্য নামায

by admin
০ comment

মুমিন বান্দা ও কাফিরের মধ্যে বাহ্যিক পার্থক্য নামায

 মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

নামায ত্যাগ করলে কুফরিতে নিপতিত হওয়ার আশংকা থাকে। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায়, আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মুমিন বান্দা ও কাফিরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত পরিত্যাগ করা। (সহীহ মুসলিম)
অর্থাৎ মুমিনরা নামায পড়ে আর কাফিররা নামায পড়েনা। যেহেতু একজন মুমিন আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে সে নামায ছাড়তে পারেনা। তাই আমি বলবো, যে ব্যক্তি মুসলমান হয়েও নামায পড়েনা, সে সত্যিই দুর্ভাগা।
নামায সম্পর্কিত মুমিন ও কাফিরের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশক কতিপয় হাদীসে রাসূল :
১.হযরত বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমাদের ও তাদের (মুনাফিকদের) মধ্যে যে অঙ্গীকার (পার্থক্য) আছে, তা হচ্ছে সালাত। সুতরাং যে সালাত পরিত্যাগ করল, সে প্রকাশ্যে কুফরি করল। (মুসনাদে আহ্মাদ, জামে আত-তিরমিযী, আন-নাসায়ী, আবু দাঊদ ও ইবনে মাজাহ)
২.তাই যে কুফরী করছে, সে কি করে বেহেশতে যাওয়ার আশা করবে? প্রখ্যাত তাবেয়ী শাকীক ইবনে আব্দুল্লাহ আল উকাইলী (রহ.) বলেন, সাহাবায়ে কিরাম নামায ব্যতীত অন্য কোনো আমল ছেড়ে দেয়াকে কুফরি মনে করতেন না। (জামে আত-তিরমিযী)
৩.হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জনৈকা বেনামাযি নারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যে নামায পড়ে না সে কাফির। (জামে আত-তিরমিযী)
৪.হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি নামায ছেড়ে দিল ইসলামে তার কোনো অংশ নেই। ইমাম আহমাদ (রহ.) মত প্রকাশ করেন, একজন লোক নামায অস্বীকার না করলেও কেবল নামায পরিত্যাগ করলেই কুফরির অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি নিম্নোক্ত হাদীসটিকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেন। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : সর্বপ্রথম তোমরা দ্বীনের যা হারাবে তা হলো আমানত এবং সর্বশেষ দ্বীনের যা হারাবে তা হলো নামায। (শু‘য়াবুল ঈমান, সুনানে বায়হাকী)
৫.তাই এ হাদীসের উপর ভিত্তি করে ইমাম আহমাদ (রহ.) বলেন, সুতরাং ইসলাম থেকে চলে যাওয়া সর্বশেষ বস্তু যখন নামায, অতএব যে বস্তুর শেষ চলে যায় সে বস্তু সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায়। এ জন্য আপনারা দ্বীনের সর্বশেষ অংশ (নামায)কে যথাযথভাবে আঁকড়ে ধরুন। (কিতাবুস্ সালাত)
৬.রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন : যার ভিতর কুরআন নেই সে একটা উজাড় বা বিরান গৃহ। (আত-তিরমিযী ও দারিমী)
তাই আমি বলছি, যার ভিতর নামায নেই তার ভিতর কিছুই নেই। তার সাথে কোনো সম্পর্ক রাখা ঠিক নয়। বেনামাযির কাছে নিজের নামাযি ছেলে-মেয়ে বিয়ে দেয়াও উচিত নয়। এটা ঠিক যে, অনেক তথাকথিত নামাযি দোযখে যেতে পারে, যারা লোক দেখানো নামায পড়ে। কিন্তু কোনো বেনামাযি ব্যক্তি বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবেনা। কারণ তার কাছে বেহেশতের দরজা খোলার কোনো চাবি নেই। অথচ জান্নাতের দরজায় বড় একটা তালা ঝুলে আছে। জাহান্নামের প্রহরীগণও নিকটে অবস্থান করবেন। তাই কেউই তাকে বেহেশতে নিতে পারবে না। তবে আমাদের সমাজে কেউ নামায না পড়লেই তাকে কাফির ধরা হয় না, যদি সে নামাযকে অস্বীকার না করে। অন্যথায় কাফির ধরা যাবে। যেসব হাদীস শরীফে স্পষ্টভাবে কাফির শব্দ এসেছে সেখানে উদ্দেশ্য হলো, সে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো। উল্লেখ্য ঈমান হলো রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত বিধি-বিধানকে অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করা আর তা কর্মে পরিণত করা তাই যদি কেউ ঈমান আনে কিন্তু কাজে পরিণত না করে, সে পূর্ণ মুমিন হবে না। যথাযোগ্য শাস্তি ভোগ করার পর নাযাত পাবে। যেমন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাই কোনো ব্যক্তি নামায না পড়লে সে সত্যিকার অর্থে পূর্ণ মুমিন হবে না।

You may also like