Home ইসলাম নামায মানুষকে পবিত্র করে

নামায মানুষকে পবিত্র করে

by admin
০ comment

নামায মানুষকে পবিত্র করে

 মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

اِنَّ الصَّلوٰةَ تَنْهٰى عَنِ الْفَحْشَاَءِ وَالْمُنْكَرِ
উচ্চারণ : ইন্নাস সলাতা তানহা আনিল ফাহ্শাই ওয়াল মুনকার।
অর্থ : অবশ্যি নামায অশ্লীল ও অসৎ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখে। (সূরা ২৯ আনকাবুত : আয়াত ৪৫)
حَافِظُواْ عَلَى الصَّلَوٰتِ وَا الصَّلوٰةِ الْوُسْطٰى وَقُوْمُوْا لِلّٰهِ
উচ্চারণ : হাফিজু আ’লাস সলাওয়াতিল উসত্বা ওয়া ক্কুমুলিল্লাহ।
অর্থ : তোমাদের নামাযগুলো সংরক্ষণ করো, বিশেষ করে এমন নামায যাতে নামাযের সমস্ত গুণের সমন্বয় ঘটেছে। (বাকারাহ : আয়াত ২৩৮)
فَاِنْ تَابُوْا وَاَقَامُوْا الصَّلوٰةَ وَءَاتَوُ اْاُلزّٰكَوةَ فَخَلُّوْا سَبِيْلَهُ اِنَّ اللَّهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
উচ্চারণ:ফাইন তাবু ওয়া আকামুস সালাতা ওয়াআতাউয যাকাতা ফাখালুু সাবিলাহ ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহীম।
অর্থ : আর যদি তারা তাওবা করে, নামায কায়েম করে এবং যাকাত আদায় করে তাহলে তাদের পথ ছেড়েদাও নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা ৯ তাওবা : আয়াত
ইসলামের সবচেয়ে বড় আনুষ্ঠানিক ইবাদত নামায
নামাজই হচ্ছে ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ আনুষ্ঠানিক ইবাদত এবং ইসলামের প্রতীক। মহান আল্লাহ্ বলেন,
اَ لَّذِيْنَ يُؤْمِنُوْنَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيْمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُوْنَ
আল্লাযিনা ইউঁমিনুনা বিলগাইবি ওইউক্বিমুনাস সালাতা ওমিম্মা রাযাকনা হুম ইউনফিকুন।
অর্থ : মুত্তাকী তারা যারা গায়েবে ঈমান রাখে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। (সূরা- ২ আল বাকারাহ : আয়াত ৩)
এভাবে কালামে পাকের ৮২ জায়গায় নামায কায়েম করতে বলা হয়েছে। নামায কায়েমের ব্যাপক অর্থ হলো নামাযে যে কালামে পাক তেলাওয়াত করা হয় সেই কালামে পাকের বিধি-বিধান অনুযায়ী ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। হাদীসে নামাযকে দ্বীনের খুঁটিও বলা হয়েছে। খুঁটি ছাড়া যেমন ঘর নির্মাণ করা যায়না, তেমনি নামায ছাড়া সমাজ বিনির্মাণ করা যায়না; দ্বীন পরিপূর্ণ হয়না। কালেমার সাক্ষ্য দেয়ার পর নামাযই হচ্ছে ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ বা রুকন। এমনকি আল্লাহ পাক নামাযকে ঈমান নামেও অভিহিত করেছেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন :
وَمَا كَانَ اَللهُ لِيُضِيْعَ إِيْمَانَكُمْ ۚ إِنَّ اللهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوْفٌ رَّحِيْمٌ
ওমা কানাল্লাহু লিইউদিয়া ঈমানাকুম। ইন্নাল্লাহা বিন নাসি লা রাঊফুর রহিম।
অর্থ : আল্লাহ্ এরূপ নন যে, তিনি তোমাদের ঈমান (নামায) নষ্ট করে দিবেন। (সূরা-২ আল বাকারাহ : আয়াত ১৪৩)
এ আয়াতে নামাযকে রূপক অর্থে ঈমান বলা হয়েছে। যেহেতু ঈমানের বহি:প্রকাশ ও দাবি হলো নামায আদায় করা, যদিও নামায না পড়ে অস্বীকার না করলে ঈমান চলে যায় না। অবশ্য এতে ঈমান দুর্বল হয়ে যায়। সুতরাং ঈমানের ওপর নামাযের প্রভাব অনস্বীকার্য। ইসলামের যাবতীয় অবশ্য পালনীয় বা ফরয বিধানগুলো জিবরাঈল আলাইহিস সালাম মারফত নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর নাযিল করা হয়েছে। কিন্তু নামায এর ব্যতিক্রম। নামাযের জন্য তাঁকে মহান আল্লাহ্র দরবারে আমন্ত্রণ জানিয়ে স্বসম্মানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে মহিমান্বিত আল্লাহ্ তাঁর সাথে কথোপকথন করেন। এবং তাঁর উম্মতের প্রতি ৫০ ওয়াক্ত নামায ফরয করেন। অত:পর মূসা আলাইহিস সালামের পরামর্শে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বার বার সুপারিশে তা কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্তে সীমাবদ্ধ করা হয়, যার নেকি ৫০ ওয়াক্ত নামাযের সমান।
হযরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন : মি‘রাজ রজনীতে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরয হয়েছিল। পরে তা কমিয়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত করা হয়। এরপর বলা হয়, হে মুহাম্মদ! আমার কথায় কোনো রদবদল হয় না। আপনার জন্য এ পাঁচ ওয়াক্তের সওয়াব পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমান। (জামে আত-তিরমিযী)
রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদিও ফরয ইবাদত। আপনি সার্বিকভাবে সুস্থ থাকলে বছরে একমাস রোযা আপনাকে রাখতেই হবে। আর যদি অসুস্থ থাকেন বা মুসাফির হন, তাহলে পরবর্তীতে তা কাযা করা যাবে বা অন্য কোনো উপায়ে রোযার ফিদিয়া কাফ্ফারা আদায় করা যাবে। যেমন মিসকীনদের পেটভরে আহার করানো, খাবার দান করা ইত্যাদি। অপরদিকে সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য হজ্জ ফরয। যারা বাইতুল্লাহ শরীফ পর্যন্ত যাওয়ার আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য রাখেন। যিনি সামর্থ্য রাখেননা, তার জন্য হজ্জ ফরয নয়। এ ব্যাপারে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
وَ لِلّٰهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيْلًا ۚ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِيْنَ
উচ্চারণ : ওয়ালিল্লাহি আলান নাসি হিজ্জুল বাইতি মানিস তাত্বাআ ইলাইহি সাবিলান। ওয়ামান কাফারা ফাইন্নাল লাহা গানিইউন আনিল আলামিনা।
অর্থ : যারা বাইতুল্লাহ পর্যন্ত যাওয়ার সামর্থ্য রাখে, তাদের উপর হজ্জ সম্পন্ন করা আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আরোপিত হক (অধিকার)। আর যে ব্যক্তি এ নির্দেশ মেনে চলতে অস্বীকার করে, তার জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ্ সমগ্র সৃষ্টি জাহানের মুখাপেক্ষী নন। (সূরা ৩ আল ইমরান : আয়াত ৯৭)
অপরদিকে হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : হজ্জ জীবনে একবারই করতে হবে। কেউ যদি অতিরিক্ত করে, তাহলে তার জন্য তা নফল হবে। (মুসনাদে আহ্মাদ ও আন-নাসায়ী)
তৃতীয় ফরয হচ্ছে যাকাত প্রদান বা আদায় করা। কুরআন মাজীদের বহু জায়গায় নামায কায়েম করার সাথে সাথে যাকাত আদায়ের কথা বলা হয়েছে। এই নামায ও যাকাত প্রতি যুগেই দ্বীন ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃত হয়ে আসছে।
অন্যান্য নবীগণের মতো বনী ইসরাঈলের নবীরাও এর প্রতি কঠোর তাগিদ দিয়েছেন। কারো নিকট নিসাব পরিমাণ স্বর্ণ (সাড়ে সাত ভরি বা ৮৭.৪৫ গ্রাম), রূপা (সাড়ে ৫২ ভরি বা ৬১২.১৫ গ্রাম) বা টাকা-পয়সা কিংবা ব্যবসায়িক মাল আছে যা এক বছরকাল স্থায়ী থাকে, এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর এর যাকাত আদায় করা ফরয হয়। এ ফরয আদায় করতেই হবে। নাহলে বড় গুনাহগার হতে হবে, ভয়ানক শাস্তি পেতে হবে। যাকাত ধনীদের ধনে গরীবের হক। যাকাত না দিলে গরীবের সম্পদ নিজের কাছে রাখা হয়। অন্যের টাকা নিজের কাছে না রাখাই ভালো। কিন্তু নামাযের বেলায় আক্রমনের ভয় আছে সেখানেও নামায আদায়ের হুকুম আছে কৌশলগতভাবে। এমনকি অসুস্থ থাকলেও নামায পড়ার বিধান আছে। দাঁড়িয়ে নামায পড়তে অক্ষম হলে বসে নামায পড়বেন, বসে পড়তে অক্ষম হলে শুয়ে পড়বেন অথবা ইশারা ইঙ্গিতে পড়বেন। তবুও মাফ নেই।
ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাঁড়িয়ে নামায পড়। যদি অক্ষম হও, বসে নামায পড়। আর তাও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে ইশারা করে নামায পড়। (সহীহ আল বোখারী)
শুধু অপবিত্র অবস্থায় নামায পড়া যাবে না। কারণ শারীরিক বা দৈহিক পবিত্রতা নামায আদায়ের অন্যতম শর্ত। আল্লাহ্র রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনÑসালাতের চাবি হলো তাহারাত বা পবিত্রতা। (জামে আত-তিরমিযী)
তবে যদি কোনো অবস্থায় এমন হয়, নামাযের ওয়াক্ত শেষ হবার পূর্বে তাহারাত বা পবিত্রতা অর্জনের জন্য পানি পাওয়া না যায় কিংবা তায়্যাম্মুম করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রেও নামায আদায় করতে হবে তবে কিরাতের সময় চুপ থাকবে, আর পরবর্তীতে ঐ নামায পুনরায় পড়ে নিবেন।
নামাযের সময়
فَسُبْحَانَ اللهِ حِيْنَ تُمْسُوْنَ وَحِيْنَ تُصْبِحُونَ ﴿١٧﴾ وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَات ِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّاوَحِيْنَ تُظْهِرُوْنَ ﴿١٨﴾
উচ্চারণ : ফাসুব্হানাল্লাহি হীনা তুম্সূনা ওয়াহিনা তুছ্বিহুন। ওয়ালাহুল হামদু ফিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি ওয়া আশিইয়ান ওয়াহিইনা তুজ্হিরুন।
অর্থ : অতএব তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর। নামায পড় সন্ধ্যায় (মাগরিব ও এশায়) ও সকালে (ফজর) এবং বৈকালে (আছর) ও দ্বিপ্রহরে (জোহর)। আসমান ও জমীনে সকল প্রশংসা তারই। সূরা ৩০ রুম : আয়াত ১৭ ও ১৮)
فَاصْبِرْ عَلٰى مَا يَقُوْلُوْنَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوْبِهَا ۖ وَمِنْ آنَاءِ اللَّيْلِ فَسَبِّحْ وَأَطْرَافَ النَّهَارِ لَعَلَّكَ تَرْضَىٰ ﴿١٣٠﴾
উচ্চারণ : ফাসবির আলা মা ইয়াক্বুলুনা ওয়াসাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা ক্বাবলা ত্বুলু’ইশ শামসি ওয়াক্বাবলা গুরুবিহা ওয়ামিন আন্নাইলাইলি কাসাব্বিহ ওয়াআত্বরাফান নাহারি লা’আল্লাকা তারদ্বা।
অর্থ : সুতরাং এরা যা বলে সে বিষয় আপনি ধৈর্য-ধারণ এবং আপনার পালন কর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন, রাত্রের কিছু অংশে (মাগরিব ও এশায়) ও দিবা ভাগে (যোহর) সম্ভবতঃ আপনি তাতে সন্তুষ্ট হবেন। (সূরা ২০ তোয়াহা : আয়াত ১৩০)

You may also like