Home ইসলাম নামায গুনাহ মাফের উসিলা

নামায গুনাহ মাফের উসিলা

by admin
০ comment

নামায গুনাহ মাফের উসিলা

মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

 

১.উবাদা ইবনে সামেত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অযু করে সময়মত সালাত আদায় করেছেন এবং রুকু সেজদায় খেয়াল রেখে মনোনিবেশের সাথে সালাত আদায় করে, অবশ্যই আল্লাহ তাকে মাফ করে দিবেন। আর যে তা করবে না, তার অপরাধ মাফ করে দেয়া সম্পর্কে আল্লাহর কোনো দায়িত্ব নেই। ইচ্ছা করলে তিনি মাফ করতে পারেন এবং ইচ্ছা করলে আযাবও দিতে পারেন। (আবু দাউদ)

২.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও এক জু’মআ থেকে আরেক জু’মআ পর্যন্ত পঠিত নামাযের মধ্যকার (সব গুনাহ) জন্য কাফফারাহ, যে পর্যন্ত কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।

৩.হযরত উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি : যদি কোনো মুসলমান ফরয নামাযের সময় হলেই ভাল করে অযু করে তারপর খুশু ও খুশু সহকারে নামায পড়ে তার এ নামায তার আগের সমস্ত গুনাহের কাফফারাহ হয়ে যায়। যে পর্যন্ত সে কবীরা গুনাহ থেকে দূরে থাকে। আর এ অবস্থা চলতে থাকে সমগ্র কালব্যাপী।

৪.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাল্লাম বলেছেন: পাঁচ ওয়াক্তের সালাত, এক জুম’আর নামায থেকে আর এক জু’মআ পর্যন্ত পঠিত নামায ও এক রমযানের রোযা থেকে অপর রমযানের রোযার কাফফারা হয় সে সব গুনাহের জন্য যা এদের মধ্যবর্তী সময় হয় যখন কবীরাগুনাহ থেকে বেঁেচ থাকা হয়। অর্থাৎ নামায ও রোযা মানুষের সকল সগীরা গুনাহ মাফ করে দেয়। কিন্তু কবিরা গুনাহ মাফ হয় না।

৫.রাসূলে করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সর্বদা গুনাহর আগুনে জ্বলছো। তোমরা যখন ফজরের নামায আদায় করো, তখন তা নিভে যায়। ফজর হতে জোহর পর্যন্ত আবার পাপের আগুনে জ্বলতে থাকে। যখন জোহরের নামায শেষ করো তখন তা নিভে যায়। পুনরায় জোহর হতে আসর পর্যন্ত আগুন জ্বালিয়ে তার মধ্যে পোড়ার যাবতীয় ব্যবস্থা করতে থাকে; কিন্তু আসরের নামায সমাপ্ত করার সঙ্গে সঙ্গে তা নিভে শীতল হয়ে যায়। আবার আসর হতে মাগরিব পর্যন্ত সময় তা এমনভাবে জ্বলে উঠে যে, তার শিখা তোমাদেরকে ছাই করে ফেলতে চায়। কিন্তু মাগরিবের নামায আদায় করা মাত্রই তা নিভে যায়। তারপর এশা পর্যন্ত তোমাদের পাপের আগুন আবার তীব্রভাবে জ্বলতে থাকে এবং যখন তোমরা এশার নামায সম্পন্ন করো তখন তা সম্পূর্ণরূপেই নিভে যায়। তখন তোমরা সম্পূর্ণ নিষ্পাপ হয়ে ঘুমিয়ে থাকো। ঘুম ভাঙ্গা পর্যন্ত তোমাদের আমল নামায় আর কোনো প্রকার গুনাহ লিখা হয় না। (তারগীব ওয়াত তারহীব)

৬.হযরত আবুযার গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: একবার শীতের সময় যখন গাছের পাতা ঝরে পড়ছিল, তখন নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বাইরে তাশরীফ আনলেন এবং গাছের দু’টি ডাল ধরে ঝাঁকি দেয়া শুরু করলেন এবং ঝর ঝর করে (শুকনো) পাতা পড়তে লাগল। তখন নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বললেন, হে আবুযর! যখন কোনো মুসলমান একনিষ্ঠ হয়ে আন্তরিকতার সাথে নামায পড়ে, তার গুনাহসমূহ ঠিক এভাবে ঝরে পড়ে যেমন এ গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়ছে। (মুসনাদে আহমদ)

 

You may also like