Home ইসলাম নামায কি ও কেন?

নামায কি ও কেন?

by admin
০ comment

নামায কি ও কেন?

 মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

নামায ফারসী শব্দ। এর আরবী প্রতিশব্দ হলো সালাত। আমাদের দেশে নামায শব্দটি বেশি প্রচলিত। সালাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে নত হওয়া, অবনত হওয়া, বাঁকানো কাঠ সোজা করা, বিস্তৃত করা। ইসলামী পরিভাষায়, রুকূ-সিজদাসহ শরীয়তের বিধি-বিধান মুতাবিক ইবাদত করাকে নামায বলে। নামায হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হিজরতের এক বছর পূর্বে মি‘রাজের রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হয়। ইসলামের ৫টি স্তম্ভের মধ্যে কালেমা, নামায ও রোযা ছাড়া আরো দুটি ফরয আছে যেগুলো সবার জন্য সবক্ষেত্রে সমভাবে অবশ্য পালনীয় নয়।
আল্লাহপাক মানুষ সৃষ্টি করেছেন শুধু তাঁর ইবাদাত এবং খিলাফতের দায়িত্ব পালনের জন্য। ইবাদতের শিরোমনি বা শীর্ষ ইবাদতই হচ্ছে নামায। তাই ইবাদাতের হক পুরোপুরি আদায়ের জন্য তাঁর খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার। আল্লাহর বিধানাবলী জেনে নেয়া নামাযিদের জন্য অপরিহার্য। কারণ আল্লাহর হুকুম-আহকাম না জানলে আমরা অনুশীলন করবো কি?
ঈমানের পরেই নামাযের স্থান। যারা আল্লাহ ও রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান এনে মুসলমান হয়েছেন তাদের সর্বপ্রথম এবং সর্বপ্রধান আমল হচ্ছে নামায। নামায তাই ‘اَفْضَلُ الْعِبَادَةِ’- সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদাত। পবিত্র কুরআনে ৮২-এর অধিক জায়গায় আল্লাহতায়ালা ‘اَقِيْمُوْالصَلٰوةَ’ বলে নামায কায়েমের তাগিদ দিয়েছেন। আল্লাহতায়ালা নামাযের আদেশ করেছেন মানুষের জীবনের সুন্দর্য বা সুন্দর চরিত্র গঠনের জন্য। এ সম্পর্কে সূরা আল আনকাবুতের ৪৫ নং আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে اِنَّ الصَّلوٰةَ تَنْهٰى عَنِ الْفَحْشَاَءِ وَالْمُنْكَرِ “ইন্নাছ্ছালাতা তানহা আনিল ফাহশায়ে ওয়াল মুনকারি” নিশ্চয় নামায মানুষকে পাপ, অন্যায় ও অশ্লীলতা এবং লজ্জাশীল কাজ হতে বিরত রাখে।
ইমাম গাজজালী (রহ.) বলেছেন, মানুষ নামাযে আল্লাহর সাথে যে ওয়াদা করলো তা যদি সে জানতে না পারে তাহলে পূরণ করবে কি করে? কাজেই সেই লোকটি মদখোরের চেয়েও বেশি অপরাধী।
পৃথিবীর সকল মাখলূকই সেজদা আদায় করে (আল্লাহর দাসত্বের স্বীকৃতি প্রদানে সেজদা করে)
সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, বৃক্ষ-লতা, জীব-জন্তু ও পশু-পাখিসহ পৃথিবীতে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা যতো মাখলূক সৃষ্টি করেছেন, তারা সবাই নিজস্ব নিয়মে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের উদ্দেশ্যে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও সম্মান প্রদর্শন করে আসছে। সবাই তাঁর ইবাদত-বন্দেগী ও আনুগত্যে নিয়োজিত। কোথাও কোনো অবাধ্যতা ও বিশৃঙ্খলা নেই। কোথাও নেই সামান্যতম বিরক্তি ও অনীহার বহিঃপ্রকাশ। সবাই সৃষ্টিকর্তার আদেশ পালন করে তাঁকে সিজদাহ্ করে ধন্য হচ্ছে। পবিত্র কালামেপাকে ইরশাদ হয়েছে :
وَلِلّٰهِ يَسْجُدُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مِنْ دَابَّةٍ وَالْمَلَائِكَةُ وَهُمْ لَايَسْتَكْبِرُونَ-يَخَافُوْنَ رَبَّهُم مِّنْ فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُوْنَ مَايُؤْمَرُونَ
উচ্চারণ : ওয়লিল্লাহি ইয়াসজুদু মাফিস সামাওয়াতি ওয়ামাফিল আরদি মিন দাব্বাতিন ওয়াল মালাইকাতু ওয়াহুম লা-ইয়াসতাকবিরুন। ইয়াখাফুনা রব্বাহুম মিন ফাওকিহিম ওয়াইয়াফআলুনা মা-ইউমারুন।
অর্থ : পৃথিবী ও আকাশে যতো সৃষ্টি আছে প্রাণসত্তাসম্পন্ন এবং যতো ফিরেশতা আছে, তারা সবাই রয়েছে আল্লাহ্র সামনে সেজদাবনত। তারা কখনো অবাধ্যতা প্রকাশ করেনা। ভয় করে নিজেদের রবকে, যিনি তাদের ওপরে আছেন এবং যা কিছু হুকুম দেয়া হয় সেই অনুযায়ী কাজ করে। (সূরা ১৬ আন নাহল : আয়াত ৪৯-৫০)
এ আয়াত থেকে জানা যায়, আকাশম-লী ও পৃথিবীতে যতকিছু আছে সবকিছুই আল্লাহর দরবারে সেজদাবনত হয়। তবে তাদের সেজদার ধরণ ও নিয়ম-পদ্ধতি আমাদের মতো নয়। তারা কিভাবে তাসবীহ্-তাহ্লীল করে ও সালাত আদায় করে, তার ইঙ্গিতও কুরআন মজীদে রয়েছে। এ ব্যাপারে আল্লাহতায়ালা বলেন :
أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللهَ يُسَبِّحُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالطَّيْرُ صَافَّاتٍ ۖ كُلٌّ قَدْعَلِمَ صَلَاتَه ُ وَتَسْبِيحَهُ ۗ وَاَللهُ عَلِيمٌ بِمَا يَفْعَلُوْنَ-وَ لِلّٰهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأ َرْضِ ۖ وَإِلَى اللهِ الْمَصِيْرُ
উচ্চারণ : আলাম তারা আন্নাল্লাহা ইসাব্বিহু লাহু মান ফিস সামাওয়াতি ওয়ালআরদি ওয়াত্বইরু ছাফ্ফাতিন। কুল্লুন ক্বাদ আলিমা সালাতাহু ওয়াতাসবিয়াহু। ওয়াল্লাহু আলিমুন বিমা ইয়াফআলুন। ওয়ালিল্লাহি মুলকুস সামাওয়াতি ওয়ালআরদি ওয়াইলাল্লাহিল মাসির।
অর্থ : আপনি কি দেখেন না যে, আকশম-লী ও পৃথিবীতে যারা আছে, তারা এবং যে পাখিরা ডানা বিস্তার করে আকাশে ওড়ে, সবাই আল্লাহ্র পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই জানে তার নামায আদায়ের এবং পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করার পদ্ধতি। আর এরা যা কিছু করে, আল্লাহ তা জানেন। আকাশম-লী ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহ্রই এবং তাঁরই কাছে সবাইকে ফিরে যেতে হবে। (সূরা ১৪ নূর : আয়াত ৪১-৪২)
প্রতেকেই জানে তার সালাত (নামায) আদায়ের পদ্ধতি। মহান আল্লাহ্র এ ঘোষণা থেকে স্পষ্ট হয়, পৃথিবীতে যতো মাখলূক রয়েছে, সকলেই নিজ নিজ পদ্ধতিতে নামায আদায় করছে। তদ্রƒপ পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণ এবং তাঁদের উম্মতগণও নামায আদায় করেছেন।
নামায অতীতের সকল শরীয়তের বিধান
নামাজের বিধান বিগত শরীয়তসমূহের মধ্যেও বিদ্যমান ছিলো। কোনো শরীয়তই নামায বিহীন ছিলো না। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বলেছেন :
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيْمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِيْ ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ
উচ্চারণ : রাব্বিয আলনি মুকিমাস সালাতি ওয়া মিনযুররিইয়াতি রাব্বানা ওয়াতাক্বাব্বাল দুয়াই।
অর্থ : হে আমার প্রতিপালক! আমাকে নামায প্রতিষ্ঠাকারী করুন এবং আমার বংশধরদের মধ্যে হতেও। (সূরা ১৪ ইবরাহীম : আয়াত ৪০)
ইসমাঈল আলাইহিস সালামের নামায সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেছেন :
وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِندَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا
উচ্চারণ : ওয়াকানা ইয়ামুরু আহলাহু বিস্সালাতি ওয়াজ্জাকাতি ওয়াকানা ইন্দা রাব্বিহী মারদ্বিইয়া।
অর্থ : সে তার পরিবারবর্গকে নামায ও যাকাতের নির্দেশ দিতো এবং সে ছিলো তার প্রতিপালকের নিকট সন্তোষভাজন (পছন্দনীয় ব্যক্তি)। (সূরা ১৯ মরিয়ম : আয়াত ৫৫)
ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ইরশাদ করেছে :
وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَمَا كُنْتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَادُمْتُ حَيًّا
উচ্চারণ:ওয়াজাআলানি মুবারাকান আইনা মাকুনতু ওয়াও সানি বিসসালাতি ওয্যাকাতি মাদুমতু হাইয়ান।
অর্থ : (ঈসা আলাইহিস সালাম বলেন) এবং তিনি (আল্লাহ্) আমাকে বরকত দান করেছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন, যতোদিন জীবিত থাকি ততোদিন নামায ও যাকাত আদায় করতে। (সূরা ১৯ মারিয়ম : আয়াত ৩১)
নামায মানুষকে পবিত্র করে

You may also like