Home ইতিহাস নামায কিভাবে পড়বো পর্ব-৯ (নামাযে কি কি পড়তে হয়)

নামায কিভাবে পড়বো পর্ব-৯ (নামাযে কি কি পড়তে হয়)

by admin
০ comment

নামায

নামায কিভাবে পড়বো পর্ব-৯

(নামাযে কি কি পড়তে হয়)

মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

নামাযে বহুল পঠিত কুরআনের শেষ ১০টি সূরা

. নামাযে বহুল পঠিত কুরআনের শেষ ১০টি সূরা       

১. সূরা আল ফীল

২. সূরা আল কুরাইশ

৩. সূরা আল মা’ঊন

৪. সূরা আল কাউছার

৫. সূরা আল কাফিরূন

৬. সূরা আন নাসর

৭. সূরা আল লাহাব বা মাসাদ

৮. সূরা আল ইখলাস

৯. সূরা আল ফালাক

১০. সূরা আন নাস

. সূরা আল ফীল

১০৫ সূরা ফীল                 আয়াত ৫             মক্কায় অবতীর্ণ

بِسْمِ الله ِالرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ۝

পরম দয়ালু দাতা আল্লাহর নামে শুরু করছি।

اَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيْلِ ﴿١﴾ أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِيْ تَضْلِيْلٍ ﴿٢﴾ وَاَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أ َبَابِيْلَ ﴿٣﴾ تَرْمِيْهِم بِحِجَارَةٍ مِّن سِجِّيْلٍ ﴿٤﴾ فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَّأْكُولٍ ﴿٥﴾

উচ্চারণ : আলাম তারা কাইফা ফা’লা রাব্বুকা বিআসহাবিল ফীল। আলাম ইয়াজ’আল কাইদাহুম ফী তাদ্বলীলি ওয়া আরসালা ‘আলাইহিম ত্বাইরান আবাবীল। তারমীহিম বিহিজারামিতম মিন সিজ্জীলিন। ফাজ’আলাহুম কা’আসফিম মা’কুল।

অর্থ : আপনি কি দেখেননি আপনার রব হাতিওয়ালাদের সাথে কি ব্যবহার করেছেন? তিনি কি তাদের চেষ্টা-কৌশল সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দেননি? আর তিনি তাদের উপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়ে দিলেন যা তাদের উপর পাকা মাটির পাথর নিক্ষেপ করেছিল। ফলে তাদের অবস্থা এমন করে দিল, যেমন (প্রাণীদের) ভক্ষণ করা ভূষি।

. সূরা আল কুরাইশ

১০৬ সূরা কুরাইশ             আয়াত ৪         মক্কায় অবতীর্ণ

بِسْمِ الله ِالرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ۝

পরম দয়ালু দাতা আল্লাহর নামে শুরু করছি।

لِإِيْلَافِ قُرَيْشٍ ﴿١﴾ إِيْلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَآءِ وَالصَّيْفِ ﴿٢﴾ فَلْيَعْبُدُوْا رَبَّ هَـٰذَا الْبَيْتِ ﴿٣﴾ الَّذِيْ أَطْعَمَهُم مِّنْ جُوْعٍ وَآمَنَهُمْ مِّنْ خَوْفٍ ﴿٤﴾

উচ্চারণ : লি’ঈলাফি কুরাইশিন। ’ঈলাফিহিম রিহলাতাশ শিতা’ই ওয়াছছাইফ। ফালইয়া’বুদু রাব্বা হাযাল বাইতিল লাযী আত আমাহুম মিন জুঈও ওয়া আমানাহুম মিন খাওফ।

অর্থ : যেহেতু কুরাইশরা অভ্যস্ত হয়েছে-শীত ও গ্রীষ্মকালের বিদেশ গমনে। কাজেই তাদের কর্তব্য হল এই ঘরের রবের ইবাদাত করা। যিনি তাদের ক্ষুধা থেকে রক্ষা করে খেতে দিয়েছেন এবং ভয়-ভীতি থেকে মুক্ত করে নিরাপত্তা দিয়েছেন।

. সূরা আল মাঊন

১০৭ সূরা মাউন             আয়াত ৭           মক্কায় অবতীর্ণ

بِسْمِ الله ِالرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ۝

পরম দয়ালু দাতা আল্লাহর নামে শুরু করছি।

أَرَأَيْتَ الَّذِيْ يْكَذِّبُ بِالدِّيْنِ ﴿١﴾ فَذَ‌ٰلِكَ الَّذِيْ يَدُعُّ الْيْتِيْمَ ﴿٢﴾ وَلَايَحُضُّ عَلٰىٰ طَعَامِ الْمِسْكِيْنِ ﴿٣﴾ فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّيْنَ ﴿٤﴾ الَّذِيْنَ هُمْ عَن صَلَاتِهِم ْسَاهُونَ ﴿٥﴾ الَّذِيْنَ هُمْ يُرَاءُونَ ﴿٦﴾ وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ ﴿٧﴾

উচ্চারণ: আরা’আই তাল্লাযী ইউকাযযিবু বিদ্দীন। ফাযালিকাল্লাযী ই্য়াদু উল ইয়াতীম। ওয়ালা ইয়াহুদ্দু আলা ত্বা’আ’মিল মিসকিন। ফাওয়াইলুল লিল মুছাল্লীনাল লাযীনা হুম ‘আন ছালাতিহিম সাহুন। আল্লাযীনা হুম ইউরাউনা ওয়া ইয়ামনাঊনাল মা’উন।

অর্থ : আপনি কি সেই ব্যক্তি দেখেছেন যে পরকালের প্রতিফল ও শাস্তিকে অবিশ্বাস করে? সে তো এতিমকে ধাক্কা দেয়, আর মিসকিনকে আহার দিতে উৎসাহিত করে না। আর ধ্বংস সেই নামাযীদের জন্য যারা নিজেদের নামাযের প্রতি অবজ্ঞা দেখায়-যারা লোক দেখানো কাজ করে এবং সাধারণ প্রয়োজনের জিনিস (মানুষকে) দেয়া থেকে বিরত থাকে।

. সূরা আল কাউছার

১০৮ সূরা কাউছার           আয়াত ৩           মক্কায় অবতীর্ণ

بِسْمِ الله ِالرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ۝

পরম দয়ালু দাতা আল্লাহর নামে শুরু করছি।

إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ ﴿١﴾ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ﴿٢﴾ إِنَّ شَانِيَك َهُوَ الْأَبْتَرُ ﴿٣﴾

উচ্চারণ : ইন্না আ’ত্বাইনা কাল কাওছার। ফাছাল্লি লিরাব্বিকা ওয়ানহার। ইন্না শানি’আকা হুওয়াল আবতার।

অর্থ : (হে নবী!) আমি আপনাকে কাওছার দান করেছি। অতএব আপনি আপনার রবের জন্যই নামায আদায় করুন এবং কুরবানী করুন। আপনার শত্রু-ই প্রকৃতপক্ষে লেজকাটা নির্মূল নির্বংশ।

. সূরা আল কাফিরূন

১০৯ সূরা আল কাফিরূন         আয়াত ৩            মক্কায় অবতীর্ণ

بِسْمِ الله ِالرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ۝

পরম দয়ালু দাতা আল্লাহর নামে শুরু করছি।

قُلْ يَا أَيْهَا الْكَافِرُونَ ﴿١﴾ لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ ﴿٢﴾ وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ ﴿٣﴾ وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدتُّمْ ﴿٤﴾ وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ ﴿٥﴾ لَكُمْ دِيْنُكُمْ وَلِيَ دِيْنِ ﴿٦﴾

উচ্চারণ : ক্বুল ইয়া আইয়্যূহাল কাফেরূন। লা আ’বুদু মা তা’বুদুন ওয়ালা আনতুম আবিদুনা মা আ’বুদ। ওয়ালা আনা আবিদুম মা আবাদতুম। ওয়ালা আনতুম আবিদুনা মা আ’বুদ। লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন।

অর্থ : বলে দিন : হে কাফেররা! আমি সেই রবের ইবাদাত করি না যাদের ইবাদাত তোমরা করছ। আর না তোমরা তাঁর ইবাদাত কর যার ইবাদাত আমি করি। আমি তাদের ইবাদাত করতে প্রস্তুত নই যাদের ইবাদাত তোমরা করছো। আর না তোমরা তাঁর ইবাদাত করতে প্রস্তুত যার ইবাদাত আমি করছি। তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন, আর আমার জন্য আমার দ্বীন।

. সূরা আন নাসর

১১০ সূরা আল কাফিরূন         আয়াত ৩         মক্কায় অবতীর্ণ

بِسْمِ الله ِالرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ۝

পরম দয়ালু দাতা আল্লাহর নামে শুরু করছি।

إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ ﴿١﴾ وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِيْ دِيْنِ اللهِ أَفْوَاجًا ﴿٢﴾ فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ ۚ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا ﴿٣﴾

উচ্চারণ : ইযা জা’আ নাসরুল্লাহি ওয়ালফাতহু। ওয়ারা’আইতান্নাসা ইয়াদখুলুনা ফি দীনিল্লাহি আফওয়াজা। ফাসাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা ওয়াসতাগফিরহু। ইন্নাহু কানা তাওয়াবা।

অর্থ : যখন আল্লাহর সাহায্য আসবে ও বিজয় লাভ হবে আর (হে রাসূল!) আপনি দেখতে পাবেন যে, লোকেরা দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করছে। তখন আপনি আপনার রবের হামদ সহকারে তার পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয়ই তিনি বড় তাওয়াবা গ্রহণকারী।

. সূরা আল লাহাব বা মাসাদ

১১১ সূরা লাহাব বা মাসাদ         আয়াত ৩       মক্কায় অবতীর্ণ

بِسْمِ الله ِالرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ۝

পরম দয়ালু দাতা আল্লাহর নামে শুরু করছি।

تَبَّتْ يَدَا أَبِيْ لَهَبٍ وَتَبَّ ﴿١﴾ مَا أَغْنَىٰ عَنْهُ مَالُه ُوَ مَا كَسَبَ ﴿٢﴾ سَيَصْلٰى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ ﴿٣﴾ وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ ﴿٤﴾

فِيْ جِيْدِهَا حَبْلٌ مِّن مَّسَدٍ ﴿٥﴾

উচ্চারণ : তাব্বাত ইয়াদা আবী লাহাবিও ওয়া তাব্বা। মা আগনা আনহু মালুহু ওয়ামা কাসাব। সাইয়াছলা নারান যাতা লাহাবিও ওয়ামরা আতুহু হাম্মালাতাল হাত্বাব। ফী জীদিহা হাবলুম মিম্মাসাদ।

অর্থ : চূর্ণ হল আবু লাহাবের হাত এবং সে ব্যর্থকাম হয়ে গেল। তার ধন-সম্পদ, তার যা কিছু সে উপার্জন করেছে তা তার কোন কাজেই এল না। অবশ্যই সে লেলিহান শিখাপূর্ণ আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে, আর তার স্ত্রীও (কূটনী বুড়ি) কাষ্ঠ বহনকারী তার গলায় শক্ত পাকানো রশি বাঁধা থাকবে।

. সূরা আল ইখলাছ

১১২ সূরা আল ইখলাছ           আয়াত ৩           মক্কায় অবতীর্ণ

بِسْمِ الله ِالرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ۝

পরম দয়ালু দাতা আল্লাহর নামে শুরু করছি।

قُلْ هُوَاَللهُ أَحَدٌ ﴿١﴾ اَللهُ الصَّمَدُ ﴿٢﴾ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ ﴿٣﴾ وَلَمْ يَكُنْ لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ﴿٤﴾

উচ্চারণ : ক্বুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ। ওয়ালাম ইয়াক্বুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।”

অর্থ : বলুন, তিনি আল্লাহ এক, অদ্বিতীয় আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তার মুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেন নাই এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয় নাই। এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নাই।

. সূরা আল ফালাক

১১৩ সূরা আল ফাকাক         আয়াত ৩           মক্কায় অবতীর্ণ

بِسْمِ الله ِالرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ۝

পরম দয়ালু দাতা আল্লাহর নামে শুরু করছি।

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ﴿١﴾ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ﴿٢﴾ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ﴿٣﴾ وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِيْ الْعُقَدِ ﴿٤﴾ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ﴿٥﴾

উচ্চারণ : ক্বুল আ’উযু বিরাব্বিল ফালাক্ব। মিন শাররি মা খালাক্ব। ওয়ামিন শাররি গাসিকিন ইযা ওয়াক্বাব। ওয়া মিন শাররিন নাফফাছাতি ফিল উক্বাদ। ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ।

অর্থ : বলুন আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি সকালের রবের নিকট। তার সৃষ্টি করা সব কিছুর অনিষ্ট হতে, আর রাত্রির অন্ধকারের অনিষ্ট হতে যখন তা আচ্ছন্ন হয়ে যায়, আর গিরায় ফুঁকদানকারীনীর অনিষ্ট হতে এবং হিংসুকদের অনিষ্ট হতে যখন সে হিংসা করে।

১০. সূরা আন নাস

১১৪ সূরা আন নাস           আয়াত ৩           মক্কায় অবতীর্ণ

بِسْمِ الله ِالرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ۝

পরম দয়ালু দাতা আল্লাহর নামে শুরু করছি।

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ﴿١﴾ مَلِكِ النَّاسِ ﴿٢﴾ إِلَـٰهِ النَّاسِ ﴿٣﴾ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ﴿٤﴾ الَّذِيْ يُوَسْوِسُ فِيْ صُدُورِ النَّاسِ ﴿٥﴾ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ﴿٦﴾

উচ্চারণ : ক্বুল আ’উযু বিরাব্বিন নাস। মলিকিন নাস। ইলাহিন নাস। মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খাননাস। আল্লাযী ইউওয়াসবিসু ফি সুদুরিন নাস। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস।

অর্থ : বলুন আমি মানুষের রব, মানুষের বাদশা, মানুষের মা’বুদের নিকট সেই বার বার ফিরে আসা কুপ্ররোচনাদাতার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি, যে কুপ্ররোচনা দেয় মানুষের মনে- সে জ্বিন বা মানবজাতির মধ্য থেকে হোক।

You may also like