Home ইসলাম নামায কিভাবে পড়বো পর্ব-৮ (নামাযে কি কি পড়তে হয়)

নামায কিভাবে পড়বো পর্ব-৮ (নামাযে কি কি পড়তে হয়)

by admin
০ comment

নামায

নামায কিভাবে পড়বো পর্ব-৮

(নামাযে কি কি পড়তে হয়)

মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

বিভিন্ন নামায

. বিভিন্ন নামায         

১. ফজরের নামায

২. যোহরের নামায

৩. আছরের নামায

৪. মাগরিবের নামায

৫. এশার নামায

৬. বিতরের নামায

৭. জুম’আর নামায

৮. তাহাজ্জুদের নামায

৯. সালাতুল ইশরাকের নামায

১০. চাশতের নামায

১১. আউয়াবীনের নামায

১২. তাহিয়্যাতুল অযুর নামায

১৩. দুখুলিল মসজিদের নামায

১৪. সালাতুত তাসবীহর নামায

১৫. শবে বারাতের নামায

১৬. শবে ক্বদরের নামায

১৭. সালাতুত তারাবীহ নামায

১৮. সফরের নামায

১৯. জমা বাইনাস সালাতাইন

২০. সালাতুত তাওবা

২১. জানাযার নামায

২২. ঈদুল ফিতরের নামায

২৩. ঈদুল আযহার নামায

পাঁচ ওয়াক্ত ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাত এবং নফল নামাযের রাকা’আত সংখ্যা এবং ধারাবাহিকভাবে পড়ার বিস্তারিত নিয়ম-কানুন :

. ফজরের নামায

রাকা’আত সংখ্যা : ফযরের নামায ৪ (চার) রাকা’আত। যথা : দুই রাকা’আত সুন্নাত ও দুই রাকা’আত ফরয।

পড়ার নিয়ম : প্রথমে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে জায়নামাযের দোয়া পড়বে। এরপর নিয়ত করে দুই রাকা’আত ফযরের সুন্নাত নামায পড়বে। এরপর দুই রাকা’আত সুন্নাত নামায পড়ার পর দাঁড়িয়ে একামত দিয়ে দুই রাকা’আত ফরজ নামায পড়বে।

ফজরের দু’রাকা’আত সুন্নাতের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْفَجْرِ سُنَّةُ رَسُوْل ِاللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লি¬য়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতি সালাতিল ফাজরি সুন্নাতু রাসূলুল্লাহি তা’য়ালা মোতাওয়াজ জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি-আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আমি ফজরের দু’রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করার জন্য নিয়ত করলাম – আল্লাহু আকবার।

ফযরের দু’রাকা’আত ফরযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ ا لْفَجْرِ فَرْضُ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লি¬য়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতি সালাতিল ফাজরি ফারদুল্ল¬াহি তা’আলা মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি-আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আমি আল্ল¬াহর উদ্দেশ্যে কেবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে ফজরের দু‘রাকা’আত ফরয নামায পড়ছি। আল্ল¬াহু আকবার।

বি. দ্র : ইমামের পেছনে জামায়াতের সাথে নামায পড়তে হলে বলতে হবে “ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমাম” অর্থাৎ এই ইমামের পিছনে ইক্তেদা করলাম।

. যোহরের নামায

রাকা’আত সংখ্যা : যোহরের নামায ১২ (বার) রাকা’আত। ৪ (চার) রাকা’আত সুন্নাত, ৪ (চার) রাকা’আত ফরয, ২ (দুই) রাকা’আত সুন্নাত ও ২ (দুই) রাকা’আত নফল ।

পড়ার নিয়ম : প্রথমে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে জায়নামাযের দোয়া পড়বে। এরপর নিয়ত করে ৪ (চার) রাকা’আত সুন্নাত পড়বে। সুন্নাত নামায পড়ার পর দাঁড়িয়ে একামত দিয়ে ৪ (চার) রাকা’আত ফরয পড়বে। এরপর ২ (দুই) রাকা’আত সুন্নাত পড়বে। তারপর ২ (দুই) রাকা’আত নফল পড়বে।

যোহরের ৪ (চার) রাকা’আত সুন্নাতের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَع َرَكْعَاتِ صَلَوةِ الظُّهْرِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবা’য়া রাকাআ’তি সালাতিজ্জোহরে সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জি হান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে জোহরের চার রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করছি – আল্লাহু আকবার।

যোহরের ৪ (চার) রাকা’আত ফরযের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ رَكْعَاتِ صَلَوةِ الظُّهْر ِفَرْضُ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবা’য়া রাকা’আতি সালাতিজ্জোহরে ফারদুল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জি হান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে জোহরের চার রাকা’আত ফরয নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

যোহরের ২ (দুই) রাকা’আত সুন্নাতের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الظُّهْرِ سُنَّةُ رَسُوْل ِاللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লি¬য়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই সালাতিজ যোহরি সুন্নাতু রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা’য়ালা মুতাওয়াজ্জি হান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি-আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে জোহরের দু’রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

যোহরের ২ (দুই) রাকা’আত নফল নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ النَّفْلِ مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ –

উচ্চারণ :         নাওয়াইতু আন উসাল্লি¬য়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই সালাতিল নফলি মুতাওয়াজ্জি হান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি-আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে কেবলামুখী হয়ে দু’রাকা’আত নফল নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

. আছরের নামায

রাকা’আত সংখ্যা : আছরের নামায ৮ (আট) রাকা’আত। ৪ (চার) রাকা’আত সুন্নাত (ইচ্ছে হলে পড়তে পারে আবার না পড়লে গুনাহ নেই) ও ৪ (চার) রাকা’আত ফরয।

পড়ার নিয়ম : প্রথমে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে জায়নামাযের দোয়া পড়বে। এরপর নিয়ত করে ৪ (চার) রাকা’আত সুন্নাত পড়বে। সুন্নাত নামায পড়ার পর দাঁড়িয়ে একামত দিয়ে ৪(চার) রাকা’আত ফরয পড়বে।

আছরের চার রাকা’আত সুন্নাতের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ رَكْعَاتِ صَلَوةِ الْعَصْر ِسُنَّةُ رَسُوْل ِاللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِالشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবা’য়া রাকা’আতিসালাতিল আসরে সুন্নাতু রাসূলিল্লাহিতা’লা মুতাওয়াজ্জি হান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে আছরের চার রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

আছরের চার রাকা’আত ফরযের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ رَكْعَاتِ صَلَوةِ الْعَصْرِ فَرْضُ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اكْبَرُ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবা’য়া রাকা’আতিসালালিআসরে ফারদুল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে আছরের চার রাকা’আত ফরয নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

. মাগরিবের নামায

রাকা’আত সংখ্যা : মাগরিবের নামায ৫ (পাঁচ) রাকা’আত। তিন রাকা’আত ফরয ও দুই রাকা’আত সুন্নাত।

পড়ার নিয়ম : প্রথমে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে জায়নামাযের দোয়া পড়বে। এরপর একামত দিয়ে নিয়ত করে ৩ (তিন) রাকা’আত ফরয পড়বে। ফরয নামায পড়ার পর ২ (দুই) রাকা’আত সুন্নাত পড়বে।

মাগরিবের তিন রাকা’আত ফরয নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى ثَلاَثَ رَكْعَات ِصَلَوةِ الْمَغْرِبِ فَرْضُ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اكْبَرُ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা ছালাছা রাকা’আতি সালাতিল মাগরিবে ফারদুল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে মাগরিবের তিন রাকা’আত ফরয নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

মাগরিবের দুই রাকা’আত সুন্নাত নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْمَغْرِبِ سُنَّةُ رَسُوْل ِاللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اكْبَرُ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লি¬য়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই সালাতিল মাগরিবে সুন্নাতু রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা’লা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি-আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে মাগরিবের দু’রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

. এশার নামায

রাকা’আত সংখ্যা : এশার নামায ১০ (দশ) রাকা’আত। ৪ (চার) রাকা’আত সুন্নাত (ইচ্ছে করলে পড়তে পারে, না পড়লে গুনাহ নেই), ৪ (চার) রাকা’আত ফরয ও ২ (দুই) রাকা’আত সুন্নাত।

পড়ার নিয়ম : প্রথমে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে জায়নামাযের দোয়া পড়বে। এরপর নিয়ত করে ৪ (চার) রাকা’আত সুন্নাত পড়বে। সুন্নাত নামায পড়ার পর দাঁড়িয়ে একামত দিয়ে ৪(চার) রাকা’আত ফরয পড়বে। এরপর ২ (দুই) রাকা’আত সুন্নাত পড়বে।

এশার চার রাকা’আত সুন্নাতের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ رَكْعَاتِ صَلَوةِ ا لْعِشَاءِ سُنَّةُ رَسُوْل ِاللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা‘আলা আরবা’য়া রাকা’আতি সালাতিল এশায়ি সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তা‘আলা মুতাওয়াজ্জি হান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে এশার ৪ (চার) রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

এশার চার রাকা’আত ফরযের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ رَكْعَاتِ صَلَوةِ الْعِشَاء ِفَرْضُ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবা’য়া রাকা’আতি সালাতিল আসরে ফারদুল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে আছরের চার রাকা’আত ফরয নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

এশার দুই রাকা’আত সুন্নাতের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْعِشَاءِ سُنَّةُ رَسُوْل ِاللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اكْبَرُ

অর্থ : নাওয়াইতু আন উসাল্লি¬য়া লিল্লাহি তা‘আলা রাকা’আতাই সালাতিল এশায়ি সুন্নাতু রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়ালা মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি-আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে এশারের দু’রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

. বিতর নামায

বিতর নামায সংক্রান্ত কতিপয় হাদীস :

১.হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : বিতর ঠিক ফরয নামাযের ন্যায় অপরিহার্য নয় তবে রাসূলুল্লাহু সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর পড়েছেন এবং তিনি বলতেন : আল্লাহ বিতর (অর্থাৎ বেজোড়) এবং তিনি বিতরকে পছন্দ করেন। কাজেই হে কুরআন ওয়ালারা বিতর পড়তে থাকো।

২.হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহু সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি আশংকা করে যে, সে শেষ রাতে উঠতে পারবেনা, সে যেন রাতের প্রথমাংশে বিতর পড়ে নেয়। আর যারা শেষ রাতে ওঠার ইচ্ছা আছে, সে যেন শেষ রাতেই বিতর পড়ে নেয়। কারণ শেষ রাতের নামাযে ফিরিশতারা হাযির থাকে এবং এটি হচ্ছে শ্রেষ্ঠতম মর্যাদার কথা।

৩.হযরত বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি বিতরের নামায সত্য, যে ব্যক্তি বিতরের নামায পড়বেনা, সে আমার উম্মতের মধ্যে সামিল নয়। (আবু দাউদ)

৪.নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা তোমাদেরকে এমন এক নামায দ্বারা শক্তিশালী করেছেন, যা তোমাদের জন্য বহু মূল্যবান লাল বর্ণের উষ্ট্র অপেক্ষাও উত্তম। আর হা হচ্ছে বিতরের নামায। (জামে আত তিরিমিযী, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)

৫.হযরত আবদুল্লাহ মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন : নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের নামায রুকু দেয়ার পূর্বে দোয়া কুনুত পড়তেন। (ইবনে আবু শায়রাহ কুতনী)

৬.রাসূলে করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের নামাযের শেষ রাকা’আতে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে দোয়া কুনুত পাঠ করেছেন। (দারকুতনী নায়লুল আত্ততার)

রাকা’আত সংখ্যা : বিতের নামায তিন রাকা’আত।

পড়ার নিয়ম : প্রথমে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে জায়নামাযের দোয়া পড়বে। এরপর নিয়ত করে ৩ (তিন) রাকা’আত বিতরের ওয়াজিব পড়বে। দু’রাকা’আত শেষ করে তৃতীয় রাকা’আতে সূরা ফাতিহা পড়ে অন্য সূরা মিলিয়ে তাকবির বলে দু’হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠায়ে হাত বাধঁতে হবে এরপর দোয়া কুনুত পড়ে রুকু ও সেজদা করে বসে প্রথম তাশাহুদ এরপর দুরূদ এরপর দু’আয়ে মাসূরা পড়ে সালাম ফিরাতে হবে।

বিতর নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى ثَلاَثَ رَكْعَاتِ صَلَوةِ الْبِتْرِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা ছালাছা রাকা’আতি সালাতিল বিতরি ওয়াজিবুল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে বেতেরের তিন রাকা’আত ওয়াজিব নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

দোয়া কুনুতে (বিতরের নামাজে) বলা হয় :

ا َللّٰهُمَّ اِنَّا نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِى عَلَيْكَ الْخَيْرَ –وَنَشْكُرُكَ وَلاَنَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَفْجُرُكَ

اَللّٰهُمَّ اِيْاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَالَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ   بِالْكُفَّارِمُلْحِقْ

উচ্চারণ : আল্ল¬াহুম্মা ইন্না নাসতা’ঈনুকা ওয়া নাসতগফিরুকা ওয়া নু’মিনু বিকা ওয়ানাতওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুসনী আলাইকাল খাইর। ওয়া নাশকুরুকা ওয়ালা নাকফুরুকা ওয়া নাখলাউ ওয়া নাতরুকু মাইঁইয়াফজুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না’বুদু ওয়লাকা নুসাল্লী ওয়া নাসজুদু ওয়া ইলাইকা নাস’আ ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা ওয়া নাখশা আযাবাকা, ইন্না আযাবাকা বিল কুফফারি মুলহিক।

অর্থ : হে আল্ল¬াহ! আমি আমার আত্মার উপর বড়ই অত্যাচার করেছি এবং তুমি ভিন্ন কেউই পাপসমূহ ক্ষমা করতে পারে না। অতএব তুমি নিজ হাতে আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার উপর রহমত (করুণা) বর্ষণ করো। নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

. জুমআর নামায

জুম’আর নামায ও জুম’আর দিনের ফযীলত সম্পর্কে সূরা আল জুম’আর ৯-১০নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন :

إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْم ِالْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إ ِلَىٰ ذِكْرِ اللَّه ِوَذَرُو االْبَيْعَ ۚ ذَ‌ٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

উচ্চারণ : ইযা নুদিইয়ালিস সালাতি মিন ইয়াওমিল জুম’আতে ফাসয়াও ইলা যিকরিল্লাহি ওয়া-জারুল বাইয়া যালিকুম খাইরুল্ লাকুম ইন-কুনতুম তা’লামুন।

অর্থ : জুময়ার দিনে যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহ্র স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর, ইহাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা উপলব্ধি কর।

فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِيْ الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْل ِ اللهِ وَاذْكُرُو اللهَ كَثِيْرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

উচ্চারণ : ফা-ইযা কুদ্বিইয়াতিস সালাতু ফানতাশিরু ফিল আরদ্বি ওয়াব্তাগু মিন ফাদ্ব-লিল্লাহি ওয়াজকুরুল্লাহা কাছিরাল লাআল্লাকুম তুফলিহুন।

অর্থ : তারপর যখন (জুম’আর) নামায শেষ হয়ে যাবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর যিকর কর, তোমরা সফল হবে।

জুম’আর নামাযের গুরুত্ব ও ফযীলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :

১.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: উদিত সূর্যের প্রভাদীপ্ত দিনগুলোর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট দিনটি হচ্ছে জু’মআর দিন। এ দিনে সৃষ্টি করা হয়েছিল আদমকে এবং এ দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল আর এ দিনেই তাকে বের করা হয়েছিল সে খান থেকে। আর জুম’আর দিনই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে।

২.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুম’আর কথা প্রসংগে বললেন : যে ব্যক্তি ওযু করে, ভাল করে ওযু করে তারপর জুম’আর নামাযে আসে, খুতবা শুনে ও নীরবে বসে থাকে, তার সেই জুম’আ থেকে পরবর্তী জুম’আ পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত আরো তিন দিনের (সগীরা) গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি কাঁকরে হাত লাগালো সে অনর্থক সময় নষ্ট করলো।

৩.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। একবার জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি রাসূল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুময়া থেকে আর এক জুময়া এক রমযান থেকে আর এক রমযান, এই সমস্ত অন্তর্বতীকালে যে সব সগীরা গুনাহ হয় তার জন্য কাফফারাহ স্বরূপ যখন (সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি) কবীরা গুণাহ থেকে দূরে থাকে।

৪.হযরত সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ্ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি জুম’আর দিন গোসল করে নিজের সামর্থ্য মোতাবিক পবিত্রতা অর্জন করে ও তেল লাগায় অথবা ঘরে রাখা খুশবু মাখে, তার পর (ঘর থেকে) বের হয় এবং (মসজিদে গিয়ে) দুজন লোককে ফাঁক করে তাদের মাঝখানে বসে না, তারপর তার জন্য যে পরিমান (নফল ও সুন্নাত) নামায নির্ধারিত আছে তা পড়ে, এরপর ইমাম যখন খুতবা দেন তখন সে চুপটি করে বসে শোনে, তার সম্স্ত গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেবেন, যা সে সেই জুম’আ থেকে পরবর্তী জুম’আ পর্যন্ত করে। (ইমাম বোখারী এ হাদিসটি উদ্বৃত করেছেন)

৫.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি জুম’আর দিন নাপাক থেকে পাক হবার জন্য যেমন গোসল করা হয় তেমনি ভালভাবে গোসল করে তারপর প্রথম সময়ে জুম’আর নামাযের জন্য মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কুরবাণী করলো। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় সময়ে মসজিদে যায় সে যেন একটি গরু কুরবাণী করলো। যে ব্যক্তি তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন একটি শিংওয়ালা মেষ কুরবানী করলো। যে ব্যক্তি চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন একটি মুরগী আল্লাহর পথে দান করলো। আর যে ব্যক্তি পঞ্চম সময়ে যায় সে যেন আল্লাহর পথে একটি ডিম দান করলো। যখন ইমাম বের হন (তার হুজরা থেকে) তখন ফিরিশতারা খুতবা শুনার জন্য (মসজিদের দরজা থেকে) হাযির হয়ে যান এবং রেজিষ্টারে নাম উঠানো বন্ধ হয়ে যায়। (ইমাম বোখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদিসটি উদ্বৃত করেছেন)

৬.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। একবার জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুম’আর কথা প্রসংগে বললেন : এর মধ্যে এমন একটি সময় আছে, যদি মুসলিম বান্দা সেটি পেয়ে যায় এবং সে নামায পড়তে থাকে, আল্লাহর কাছে সে কিছু চায়, তাহলে আল্লাহ অবশ্যি তাকে তা দেন। তিনি হাতের ইশারায় তার স্বল্পতা ব্যক্ত করেছেন।

৭. যে ব্যক্তি জুম’আর নামাযের উদ্দেশ্যে বের হয়, সে প্রতি পদক্ষেপে এক বছরের নফল রোজা এবং এক বছরের নফল নামাযের সওয়াব লাভ করে। (ইমাম আহমদ তার মুসনাদে এ সম্পর্কে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস উল্লেখ করেছেন)।

৮.হযরত আওস ইবনে আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিনটি হচ্ছে জুম’আর দিন। কাজেই সেদিন আমার ওপর বেশী করে দরূদ পড়। কারণ তোমাদের দরূদ আমার ওপর পেশ করা হয়।

৯.তোমাদের সব দিনের মধ্যে জুম’আর দিনই হলো শ্রেষ্ঠ দিন। এ জুম’আর দিনেই হযরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দিনেই তাঁর ওফাত হয়েছে। এ দিনেই দুনিয়া ধ্বংসের জন্য শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে এবং এ দিনেই পুন : জীবিত করার লক্ষ্যে দ্বিতীয়বার শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে। সুতরাং জুম’আর দিনেই আমার প্রতি বেশী বেশী করে দরূদ পাঠ করবে। (আবু দাউদ ও আন-নাসায়ী)

১০.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনাহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয় জুম’আর দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোন মুসলমান বান্দাহ ঐ মুহূর্ত বা সময়ে আল্লাহ তায়ার নিকট কোন কল্যাণ প্রার্থনা করে, আল্লাহ নিশ্চয় তাকে ওটা দান করেন। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

১১.যে কোন মুসলমান জুম’আর দিন কিংবা জুম’আর রাতে মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহতায়ালা তাকে কবরের ফেৎনা হতে নিরাপদে রাখেন। (মুসনাদে আহমাদ, জামে আত-তিরমিযী)

১২.জুম’আর রাতটি হলো সবচেয়ে উজ্জ্বল রাত্রি, আর জুম’আর দিনটি হলো সবচেয়ে জ্যোতির্ময় দিন। (সুনানে বায়হাকী)

রাকা’আত সংখ্যা : জুম’আর নামায ১২ রাকা’আত।

পড়ার নিয়ম : প্রথমে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে জায়নামাযের দোয়া পড়বে। এরপর নিয়ত করে ৪ (চার) রাকা’আত কাবলাল জুম’আ নামায পড়বে এরপর আযান, খুৎবার ও এক্বামত দিয়ে জুম’আর দুই রাকা’আত ফরয নামায পড়বে এরপর বা’দাল জুম’আ অর্থাৎ জুম’আর পরবর্তী ৪ রাকা’আত সুন্নাত পড়বে এবং এরপর ২ (দুই) রাকা’আত সুন্নাত নামায পড়বে।

কাবলাল জুম’আ ৪ রাকা’আত সুন্নাত নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ ا ُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ رَكْعَاتِ صَلَوةِ قَبْلَ الْجُمُعَةِ سُنَّةُ رَسُوْلِ لِلّٰهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবায়া রাকা’আতি সালাতি ক্বাবলাল জুম’আতি সুন্নাতু রাসূলুলিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে কাবলাল জুম’আর চার রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

জুম’আর ২ রাকা’আত ফরয নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ ا ُسْقِطً عَنْ ذِمَّتِىْ فَرْضُ الظُّهْرِ بِاَدَاءِ رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْجُمُعَةِ فَرضُ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر

 

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসকিতা য়ান যিম্মাতি ফারদোজ্জোহরি বিআদায়ি রাকা’আতাই সালাতি জুম’আতি ফারদিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে আমার উপর থেকে জোহরের ফরয উত্তীর্ণ করার জন্য দুই রাকা’আত জুম’আর ফরয নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

বা’দাল জুম’আর ৪ রাকা’আত সুন্নাত নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ ا ُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ رَكْعَاتِ صَلَوةِ بَعْدَ الْجُمُعَةِ سُنَّةُ رَسُوْلِ لِلّٰهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলাআরবায়ারাকা’আতি সালাতি বাদাল জুম’আতি সুন্নাতু রাসূলুলিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে বা’দাল জুম’আ চার রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

সুন্নাতুল ওয়াক্ত ২ রাকা’আত নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ سُنَّةِالْوَقْتِ سُنَّةُ رَسُوْلِ لِلّٰهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই সালাতি সুন্নাতুল! ওয়াকতি সুন্নাতু রাসূলুলিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

৮. তাহাজ্জুদের নামায

মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন রাতের শেষ প্রহরে নিম্মআকাশে অবতরণ করে বান্দাকে ডেকে বলেন : ‘আমার নিকট তোমাদের কার কি চাওয়া-পাওয়ার আছে তা চেয়ে নাও। কুরআনের অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে : ‘اُدْعُوْنِى اَسْتَجِبْ لَكُمْ’ অর্থাৎ আমার কাছে চাও, আমি তোমাদের দেয়ার জন্য প্রস্তুত। এ ব্যাপারে ফার্সি কবি বলেছেন : ‘হারগরি তু দেনেকো তইয়ার হ্যায়, জু না মাঙ্গে উছছে তু বেজার হায়।’ অর্থাৎ সকলকে তিনি দেয়ার জন্য প্রস্তুত। যে আল্লাহর কাছে চায় না বা দোয়া করে না তার প্রতি তিনি অসন্তুষ্ট। দুনিয়ার মন্ত্রি-মিনিস্টার, বস, মনিব অথবা যে কোনো উচ্চপদস্থ ব্যক্তির নিকট আমরা চাকরি, সুপারিশ, পদোন্নতি অথবা জাগতিক যে কোনো চাওয়া পাওয়ার ব্যাপারে একাধিকবার গমন করলে বা ধর্ণা দিলে তারা বিরক্ত হন। দুনিয়ার দাতা আর আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মধ্যে কতো আকাশ-পাতাল পার্থক্য! দুনিয়ার ক্ষমতাসীনদের থেকে কিছু পাওয়ার মধ্যে কোনো না কোনো বিনিময় বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকে। কিন্তু আল্লাহ্র রহমাত বান্দার জন্য একেবারেই শর্তহীন এবং নির্ভেজাল।

তবে হ্যাঁ, সে চাওয়ার উপযুক্ত সময়টি হলো ভোর রাতে সালাতুল ফযরের আযানের পূর্বে সালাতুত তাহাজ্জুদের নামাযান্তে। আমরা অনেকেই আছি সালাতুত তাহাজ্জুদ নামায আদায় না করার মাধ্যমে আসল মালিককে বাদ দিয়ে নকল মালিকদের নিকট ধর্ণা দিতে অভ্যস্ত। তাই আসুন না, আজ থেকেই শুরু করি! এছাড়া রাত্রি জাগরণ প্রবৃত্তিকে বশে আনার অত্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা এবং কুরআনকে হৃদয়ঙ্গমের উপযুক্ত সময়।

তাহাজ্জুদের নামায সম্পর্কে কালামেপাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :

وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ عَسَىٰ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا

১. আর হে নবী তুমি রাতের বেলায় তাহাজ্জুদ আদায় কর। এ দায়িত্ব তোমার জন্য অতিরিক্ত। তোমার পরওয়ারদিগার অবশ্যই তোমাকে মাকামে মাহমুদে (এক প্রশংসিত স্থানে) প্রেরণ করবেন। (সূরা ১৭ বনি ইসরাইল : আয়াত ৭৯)

يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ ﴿١﴾ قُمِ اللَّيْل َإِلَّا قَلِيلًا ﴿٢﴾ نِّصْفَه ُأَوِ انقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا ﴿٣﴾ أَوْزِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّل ِالْقُرْآنَ تَرْتِيلًا ﴿٤﴾

২.(হে চাদর আচ্ছাদিত নবী!) রাত্রিবেলা কিছু সময় নামাযে দাঁড়িয়ে থেকো। এটি অধিক রাত অর্থাৎ তারও কিছু কম সময় অথবা এর চাইতেও কিছু সময় বাড়িয়ে নাও। আর কুরআনকে থেমে থেমে স্পষ্ট করে পড়। আমি তোমাদের প্রতি একটি গুরুত্বভার বাণী নাযিল করতে যাচ্ছি। প্রকৃতপক্ষে রাত্রি জাগরণ প্রবৃত্তিকে বশে আনার জন্য অত্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা এবং কুরআনকে সঠিকভাবে পড়ে উপলব্ধি করার উপযুক্ত সময়। (সূরা ৭৩ মুযযাম্মিল : আতায়ত ১ থেকে ৪)

إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَىٰ مِن ثُلُثَيِ اللَّيْلِ وَنِصْفَهُ وَثُلُثَهُ وَطَائِفَةٌ مِّنَ الَّذِينَ مَعَكَ ۚ وَاَللهُ يُقَدِّرُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ

৩.নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক, জানেন যে, তুমি কখনো রাতের প্রায় দু-তৃতীয়াংশে, কখনো, মধ্যাংশে এবং কখনো এক-তৃতীয়াংশ জাগরণ করো, তোমার সাথে যারা আছে তাদের একটি দলও এবং আল্লাহই নির্ধারণ করেন দিন ও রাতের পরিমাণ। (সূরা ৭৩ মুযাম্মিল : আয়াত ২০)

كَانُوا قَلِيلًا مِّنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ ﴿١٧﴾ وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ ﴿١٨

৪.তারা রাতের সামান্য অংশই ঘুমিয়ে কাটাত্ রাতের শেষ ভাগে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতো। (সূরা ৫১ আয যারিয়াত : আয়াত ১৭-১৮)

তাহাজ্জুদের নামায সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহ্ ুআলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় বাণী :

১.(তাহাজ্জুদ নামাযে) রাত্র জাগরণ তোমাদের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য কিনা তা তোমাদের পূর্ববর্তী নেককার বান্দাদের অনুসৃত তরীকা। তোমাদের পরোয়ারদেগারের নৈকট্য লাভের মাধ্যম। গোনাহ মাফের উপায় এবং গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার পথ। (জামে আত-তিরমিযী)

২.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, ফরজের পর সর্বাপেক্ষা উত্তম নামায হল রাত্রির নামায। অর্থাৎ তাহাজ্জুদের নামায। (মুসনাদে আহমেদ)

৩.হযরত মাসরুক বলেন : আমি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাতের নামায সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন : ফযরের দু’রাকা’আত ব্যতীত তা সাত, নয় ও এগার রাকা’আত ছিল। (বিতরে পড়তে তাই বেজোড় হত)। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

৪.হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে এমন এক ব্যক্তির প্রসংগ উঙ্খাপিত হলো যে এক রাতে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়েছিলো। তিনি বললেন : সে এমন এক ব্যক্তি যার দুই কানে – অথবা বলেছিল এক কানে শয়তান পেশাব করে দিয়েছে।

৫.হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও ফাতিমার কাছে রাতে আসেন এবং বলেন : তোমরা কি রাতের নামায (অর্থাৎ তাহাজ্জুদ) পড়না?

৬.হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ লোক তারা যারা কুরআনের বাহক এবং রাত্রি জাগরণকারী। (সুনানে বায়হাকী)

৭.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : হে লোক সকল? বেশি করে সালাম দাও, ক্ষুধার্তকে খেতে দাও, আত্মীয়তা রক্ষা কর, রাতে নামায পড় লোক যখন ঘুমায়, এবং নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ কর।

৮.আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ ঘুমিয়ে পড়লে শয়তান তার ঘাড়ে তিনটি গিরা দেয় এবং প্রতিটি গিরা দেয়ার সময় একটি ফু’দিয়ে বলে এখনো দীর্ঘ রাত অবশিষ্ট। সুতরাং ঘুমাতে থাক। সে যদি সেই সময় নিদ্রা ত্যাগ করে উঠে পড়ে এবং আল্লাহকে স্মরণ করে, তাহলে একটি (শেষ) গিরা খুলে যায়। তখন অযু করলে আরেকটি গিরা খুলে যায় এবং নামায পড়লে আরো একটি গিরা খুলে যায়। তখন প্রফুল্ল ও চটফটে মন নিয়ে তার ভোর হয় হয় অন্যথায় অলস ও অপবিত্র মন নিয়ে তার ভোর হয়। (সহীহ আল বোখারী -১০৭১)

৯.আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান ও কল্যাণময় আমাদের রব প্রতি রাত্রের তৃতীয়াংশে দুনিয়ার (নিকটবর্তী) আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেন, কে এমন আছে যে আমাকে ডাকতে চাও? (ডাকো) আমি তার ডাকে সাড়া দিব, কে এমন আছে যে আমাকে নিজের অভাব জানিয়ে তা দূর করার জন্য প্রার্থনা করতে চাও? (প্রার্থনা কর) আমি তাকে প্রদান করবো এবং কে এমন আছ যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে চাও? (ক্ষমা প্রার্থনা কর) আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। (সহীহ আল বোখারী -১০৭৪)

১০.যিয়াদ (ইবনে এলাকাতুস সালাবী) রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলে, আমি মুগীরাকে বলতে শুনেছি। রাতের বেলা নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতক্ষণ নামাযে দাঁড়িয়ে থাকতেন যে, তার দুটি পা অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) পায়ের দুটি নলা ফুলে যেত। এ ব্যাপারে বলা হত (আপনি এত কষ্ট করেন কেন, আল্লাহ তো আপনার অতীতের ও ভবিষ্যতের সকল গোনাহ মাফ করে দিয়েছেন। জবাবে তিনি বলতেন আমি কি (আল্লাহর) শোকর গোজার (কৃতজ্ঞ) বান্দাদের একজন হবো না? (সহীহ আল বোখারী -১০৫৯)

১১.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন, আল্লাহর নিকট সব চাইতে পছন্দনীয় ও প্রিয় নামায হলো দাউদের নামায। (অর্থাৎ আল্লাহর নবী হযরত দাউদ আলাহিস সালাম এর নামায আর আল্লাহর নিকট সব চাইতে পছন্দনীয় রোযা হল দাউদের রোযা। তিনি অধিক রাতে ঘুমাতেন, রাতের এক-তৃতীয়াংশ নামায পড়েন এবং পুনরায় একটা অংশ ঘুমাতেন। আর একদিন পর পর রোযা রাখতেন। (সহীহ আল বোখারী -১০৬০)

১২.হযরত উবাদা ইবনে সামেত নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে উঠে বলেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর, আল হামদুলিল্লাহি ওয়া সুবহানাল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

একক ও লা-শারীক আল্লাহ। মালিকানা ও রাজত্ব একমাত্র তারই, সকল প্রশংসা ও তারই। তিনি সবকিছুর ওপরই শক্তিমান। আল্লাহরই জন্য সকল প্রশংসা, তিনি মহান ও পবিত্র্ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে অপর কারুর শক্তি বা এখতিয়ার নেই। অত:পর সে যদি বলে, হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দাও। অথবা সে যদি কোনো দোয়া করে তবে তা গৃহীত হয়। আর যদি সে অযু করে নামায আদায় করে তাহলে তার নামায কবুল করা হয়। (সহীহ আল বোখারী -১০৮২)

১৩.রাসূলুল্লাহু সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম আবাসে কিংবা প্রবাসে কখনো তাহাজ্জুদ ত্যাগ করতেন না। যদি কখনো নিদ্রা অথবা অসুস্থতার কারণে রাতে বাদ পড়তো, দিনের বেলা পড়ে নিতেন। আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, হয়েছে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম বলেছেন, তোমাদের উচিত রাতে উঠে নামায পড়া। কারন এটা – (১) তোমাদের পূর্ববর্তী সালেহ লোকদের রাত্রি। (২) তোমাদের প্রভুর সান্নিধ্য লাভের উপায়। (৩) গুনাহসমূহ মুছে ফেলার হাতিয়ার এবং (৪) পাপের প্রতিবন্ধক। (জামে আত-তিরমিযী)

১৪.আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হলো রাতের নামায। (মুসনাদে আহমদ)

১৫.আবু হরায়রা রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির প্রতি রহম করেন, যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে উঠলো, নামায পড়ল, স্ত্রীকেও উঠালো এবং সেও নামায পড়লো, আর স্ত্রী উঠতে না চাইলে তার চোখে পানি ছিটিয়ে দিলো। আল্লাহ পাক ঐ নারীর প্রতিও রহম করেন, যে রাতে জেগে উঠলো, নামায পড়লো ও উঠালো এবং সেও নামায পড়লো, আর স্বামী উঠতে না চাইরে তার মুখমন্ডলে পানি ছিটিয়ে দিলো।

১৬.জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, গোটা রাত্রের মধ্যে এমন একটি সময় আছে, কোনো মুসলিম যদি তা লাভ করে এবং সে সময়টিতে আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের যে কোনো বিষয়ে প্রার্থনা করে, তবে অবশ্যি আল্লাহ তাকে তা দান করেন। আর সেই বিশেষ সময়টির প্রতি রাত্রেই আসে। (সহীহ মুসলিম)

১৭.আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মাতের শ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম লোক হলো কুরআনের বাহক ও রাত জাগরণকারী লোকেরা। (সুনানে বায়হাকি)

রাকা’আত সংখ্যা ও পড়ার নিয়ম : তাহাজ্জুদ নামায ৪ থেকে ১২ রাকা’আত পর্যন্ত পড়া যায়। দুই রাকা’আত করে পড়া উত্তম। হযরত নবীয়ে করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লা ইহা কখনো ৪, কখনো ৮ এবং কখনো ১২ রাকা’আত পড়ছেন।

পড়ার সময় : তাহাজ্জুদ নামায রাতের শেষ প্রহরে পড়তে হয়।

তাহাজ্জুদ নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ التَّهَجُّدِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ –

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই সালাতিত তাহাজ্জুদি সুন্নাতু রাসূলুলিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকা’আত তাহাজ্জুদের সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

. সালাতুল ইশরাক

সূর্য উদয় হতে সূর্য স্থির হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে জোহা বলে। সকালে বেলা উঠার পর নামায পড়লে এশরাক বলে। আর বেলা স্থির হওয়ার পূর্বে পড়লে চাশত বলে।

সালাতুল ইশরাক সম্পর্কে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহ্ ুআলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী :

১.একদিন রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের সাথে বসে কথাবার্তা বলছিলেন। কথাবার্তা বলার সময় তিনি বললেন : সূর্য কিছুটা উপরে উঠলে কেউ তখন ওযু করে দুই রাকা’আত নামায পড়বে তার সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে এবং সে এমন নিষ্পাপ হয়ে যাবে যেনো সবেমাত্র মায়ের পেট থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছে।

২.ফজরের নামায আদায় করে ধ্যানে বসে থেকে সূর্য উদয়ের পর ৪ (চার) রাকা’আত ইশরাকের নামায পড়লে একটি হজ্জ ও একটি ওমরার সওয়াব পাওয়া যাবে। আল্লাহ পাক তার ঐ দিনের যাবতীয় নেক মকসুদ পূর্ণ করে দেন এবং তার জন্য জান্নাতে ৭০ টি বালাখানা নির্মাণ করার আদেশ দিয়ে থাকেন।

৩.যে ব্যক্তি ইশরাকের ১২ রাকা’আত নামায পড়বে আল্লাহপাক তার জন্য জান্নাতে সোনার মহল তৈরী করে দিবেন। (জামে আত-তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ)

৪.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি জোহারের দু’রাকা’আত নামায সংরক্ষণ করবে, তার পাপরাশী মাফ করে দেয়া হয় যদিও উহা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়। (মুসনাদে আহমদ ও জামে আত-তিরমিযী)

৫.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন : তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির জোড়াগুলোর ওপর সাদকা ওয়াজিব। কাজেই প্রত্যেক বার ‘সুবহানাল্লাহ’বলা সাদকা হিসেবে বিবেচিত, প্রত্যেক বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা সাদকা হিসেবে বিবেচিত, প্রত্যেক বার ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’বলা সাদকা হিসেবে বিবেচিত এবং প্রত্যেকবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলা সাদকা হিসেবে বিবেচিত। আর ‘সৎকাজের আদেশ করা” সদকা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ‘অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখা’ সাদকা হিসেবে বিবেচিত হবে। আর এসবের মুকাবিলায় চাশতের যে দু’রাকা’আত নামায পড়া হবে তা যথেষ্ট বিবেচিত হবে।

রাকা’আত সংখ্যা ও পড়ার নিয়ম : সালাতুল ইশরাকের নামায নি¤েœ ২ রাকা’আত এবং ঊর্ধ্বে ৬ রাকা’আত পড়া যায়। আবার ইচ্ছা করলে অধিকও পড়া যায়।

পড়ারসময় : সূর্য উদয়ের পর থেকে দু’ঘন্টা পর্যন্ত এই নামাযের সময়।

ইশরাকের নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْاِشْرَاَقِ سُنَّةُرَسُوْل ِالله ِتَعَالٰى مُتَوَجِّهًااِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই সালাতিল ইশরাকি সুন্নাতি রাসূলুলিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকা’আত ইশরাকের নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

১০. চাশতের নামায

সূর্য উদয় হতে সূর্য স্থির হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে জোহা বলে। সকালে বেলা উঠার পর নামায পড়লে এশরাক বলে। আর বেলা স্থির হওয়ার পূর্বে পড়লে চাশত বলে।

চাশতের নামায সম্পর্কে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহ্ ুআলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় বাণী :

১.হাদীস শরীফে আছে, “যারা চাশতের নামায পড়বে তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ হতে থাকবে।” কোন কোন অলীয়ে কামেল বলেছেন : “দু’টি জিনিস কখনো একত্র হতে পারে না; একটি চাশতের নামায এবং অন্যটি দরিদ্রতা।” অর্থাৎ যথারীতি চাশতের নামায আদায় করলে দরিদ্রতা থেকে মুক্তি পাবে। আল্লাহ তার অবস্থা দিন দিনই সচ্ছল করতে থাকবেন।

২. বিশ্বনবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন : “আল্লাহ পাক বলেন : হে আদম সন্তান! তোমারা দিনের প্রথম ভাগে চার রাকা’আত নামায কেবল আমার উদ্দেশ্যেই পড়। আমি তোমাদের জন্য ঐ দিনের সন্ধ্যা পর্যন্ত সার্বিক কল্যাণের ব্যবস্থা করব।” (জামে আত-তিরমিযী)

রাকা’আত সংখ্যা ও পড়ার নিয়ম : চাশতের নামায ৪ রাকা’আত। দু’রাকা’আত করে পড়তে হয়।

চাশতের নামায পড়ার সময় : দিনের প্রথম ভাগে বেলা স্থির হওয়ার পূর্বে অর্থাৎ সূর্য মাথার উপর আসা পর্যন্ত। অর্থাৎ ইশরাকের নামাযের পর থেকে দ্বিপ্রহরের পূর্ব পর্যন্ত এই নামাযের সময়।

চাশতের নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْصَشْتِ مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اكْبَرُ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাক্’আতাই সালাতিল সাশতি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকা’আত চাশতের নামায আদায় করছি-আল্লাহু আকবার।

১১. আউয়াবীনের নামায

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি মাগরিবের নামায পড়ার পর ৬ রাকা’আত নফল নামায পড়ে সে ব্যক্তি ১২ (বার) বছর ইবাদত করার সওয়াব পায়। অবশ্যই যদি সে উক্ত নামাযের মাঝে কোন বাজে করা না বলে থাকে। (ইবনে মাজাহ)

রাকা’আত সংখ্যা ও পড়ার নিয়ম :

আউয়াবীনের নামায নফল। তা মোট ৬ রাকা’আত। দু’দু’ রাকা’আত করে আদায় করতে হয়। মাগরিবের সুন্নাতের পর এশার পূর্ব পর্যন্ত এই নামাযের সময়। তা উর্ধ্বে ২০ রাকা’আত পর্যন্ত পড়া যায়।

আউয়াবীন নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْاَوَّبِيْنِ مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাক্’আতাই সালাতিল আউয়াবীন মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জেহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

উচ্চারণ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকা’আত আউয়াবীনের নামায আদায় করছি-আল্লাহু আকবার।

আউয়াবীন নামায শেষে দোয়া :اَللّٰهُمَّ يَامُقَلِّبَ الْقُلْوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِىْ عَلٰى دِيْنِكَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্কুলুবি ছাব্বিত ক্কালবী আলা দ্বীনিকা।

অর্থ : হে আল্লাহ, হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! তুমি আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর কায়েম রাখ।

১২. তাহিয়্যাতুল অযুর নামায

অযুর পর দুই রাকা’আত নফল নামাযকে তাহিয়্যাতুল অযু বলে। তাহিয়্যাতুল সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী :

১. হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ফযরের নামাযের সময় বিলালকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে বিলাল! ইসলাম গ্রহণের পর তোমার সবচাইতে আশাব্যঞ্জক কাজের কথা আমাকে বল। কেননা বেহেশতে আমি তোমার আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। বিলাল বললেন, দিন বা রাতের মধ্যে যখনই আমি পরিচ্ছন্নতা গ্রহণ করেছি (অযু করেছি) তখনই সেই (অযু) দ্বারা আমার সামর্থ্য অনুসারে নামায় আদায় করেছি। এছাড়া আর কিছুতো করিনি।(সহীহ আল বোখারী -১০৭৮)

১.হযরত উকবা ইবনে আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে উত্তমরূপে অযু করে তারপর পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে দু’রাকা’আত নামায আদায় করে তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে’। (সহীহ মুসলিম)

রাকা’আত সংখ্যা ও পড়ার নিয়ম : তাহিয়্যাতুল অযুর নামায ২ দুই রাকা’আত।

পড়ার নিয়ম : অযু করে মসজিদে প্রবেশ করার পর না বসেই এই নামায পড়তে হয়।

তাহিয়্যাতুল অযু নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَى ْصَلَوةِ التَّحِيَةُ الْوَضُوْء ِمُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اكْبَرُ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই সালাতিত তাহিয়্যাতুল ওয়াযুই মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকা’আত তাহিয়্যাতুল অযু নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

১৩. দুখুলিল মসজিদের নামায

আবু কাতাদা ইবনে রাবয়ীল আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে, প্রথমে দু’রাকাআত নামায পড়ে নিবে তারপর বসবে। (সহীহ আল বোখারী -১০৮৯)

রাকা’আত সংখ্যা ও পড়ার নিয়ম : ২ দু’রাকা’আত নামায পড়া উত্তম। মসজিদে প্রবেশ মাত্র এ নামায পড়তে হয়।

দুখুলিল মসজিদের নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ دُخُوْل ِالْمَسْجِدِ مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اكْبَرُ

উচ্চারণ :         নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই ছালাতি দুখুলিল মাসজিদি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকা’আত দুখুলিল মাসজিদ নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

১৪. সালাতুত তাসবীহর নামায

আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, সুনানে বায়হাকী ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং জামে আত-তিরমিযী আবু রাফে থেকে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর চাচা আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে শিখানো চার রাকা’আত আলাদা ধরনের নামাযের কথা উল্লেখ করেছেন। এই নামায ‘সালাতুত তাসবীহ’ হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। এই নামায সংক্রান্ত হাদীসটি নিম্মরূপ :

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে লক্ষ করে বললেন, ‘চাচা! আমি কি আপনাকে একটি উপহার দিব না? আমি কি আপনাকে দান করবো না? আমি কি আপনাকে শুভ সংবাদ দিব না? আমি কি আপনাকে এমন দশটি কাজ করাব না? যখন আপনি তা করবেন, আল্লাহ আপনার পাপ ক্ষমা করে দিবেন। প্রথম অপরাধ, শেষ অপরাধ, পুরাতন অপরাধ, নতুন অপরাধ, অনিচ্ছাকৃত অপরাধ, ইচ্ছাকৃত অপরাধ, ছোট অপরাধ, বড় অপরাধ এবং গোপনীয় অপরাধ ও প্রকাশ্য অপরাধ। আপনি চার রাকা’আত নামায পড়বেন। আর প্রত্যেক রাকা’আতে সূরা ফাতেহা এবং যে কোন একটি সূরা পড়বেন এবং সুবাহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহি ওয়ালাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহ আকবার নিম্মে বর্ণিত নিয়মানুসারে ৭৫ বার করে ৪ রাকা’আতে মোট ৩০০ বার পড়বেন।

রাকা’আত সংখ্যা পড়ার নিয়ম : সালাতুত তাসবীহ নামায ৪ (চার) রাকা’আত। যে কোন সময় পড়া যায়।

সালাতুত তাসবীহ নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْتَسْبِيْهِ مُتَوَجِّهًاْ اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবায়া রাকা’আতাই ছালাতিত তাছবিহি মুতাওয়াজ্জিহান ইলাজিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে ৪ (চার) রাকা’আত ছালাতুত তাসবীহ সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

সালাতুত তাসবীহ নামাযের দোয়া :سُبْحَانَ الله ِ – وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ – وَلَا اِلٰهَ اِلاَّ اَللهُ وَاللهُ اَكْبَرْ

উচ্চারণ : সুবাহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহ আকবার।

অর্থ : আমি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। সমস্ত প্রশংসাই আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।

পড়ার নিয়ম : ১ম রাকা’আতে ছানা এবং ‘আউযুবিল্লাহি মিনাস শাইতানির রাজিম’ ও বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ ও সূরা ফাতিহা ও যে কোন সূরা মিলাবার পর দাঁড়ানো অবস্থায় উপরোক্ত তাসবীহ ১৫ বার পড়বে। এরপরে রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবীহ শেষ করে ঐ অবস্থাতে ঐ তাসবীহ ১০ দশ বার পড়বে ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। তারপর সেজদায় না গিয়ে ঐ দাঁড়ানো অবস্থায়ই উহা ১০ বার পড়বে। অত:পর আল্লাহু আকবার বলে সেজদায় যাবে। ১ম সেজদার তাসবীহ (সুবহানা রাব্বিয়াল আলা) শেষ করে মাথা না তুলে ঐ তাসবীহ ১০ বার এবং দুই সেজদার মাঝে বসা অবস্থায় ১০ বার এবং দ্বিতীয় সেজদার তাসবীহ শেষ করেও ঐ অবস্থায় ঐ তাসবীহ ১০ বার পড়বে। এভাবে ১ম রাকা’আতের মধ্যেই উক্ত তাসবীহ মোট ৭৫ বার পড়া হবে। এরপর আল্লাহু আকবার বলে দ্বিতীয় রাকা’আাতের জন্য দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহার পর কেরাত শেষে ১৫ বার, রুকু শেষে ১০ বার রুকু থেকে উঠে ১০ বার, ১ম সেজদা শেষে ১০ বার দুই সেজদার মাঝে ১০ বার এবং দ্বিতীয় সেজদা শেষ ১০ বার এভাবে মোট ৭৫ বার পড়া হবে। আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করে তৃতীয় রাকা’আতেও এইভাবে ৭৫ বার এবং ৪র্থ রাকায়াতেও ৭৫ বার উক্ত তাসবীহ পড়া হবে। এতে করে ৪ রাকা’আতে মোট ৭৫´৪=৩০০ (তিনশ) বার তাসবীহ পাঠ করা হবে। বস্তুত এত অধিক সংখ্যক তাসবীহ’র জন্য এই এই নামাযকে তাসবীহ’র নামায বলা হয়।

এই নামাযের ১ম রাকায়াতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ‘ইযা যুলযিলাতিল আরদ’ দ্বিতীয় রাকা’আতে সূরা ‘আলহাকু মুত্তাকাছুর’, তৃতীয় রাকা’আতে সূরা ‘ইয়া আইউহাল কাফিরুন’ এবং ৪র্থ রাকা’আতে সূরা ‘কুল হুয়াল্লাহ আহাদ’ পাঠ করা মুস্তাহাব।

এই চার রাকা’আত নামায যদি প্রতিদিন পড়তে পারেন তাহলে খুব ভালো। সম্ভব না হলে প্রতি জুময়ায় একবার পড়ুন। তাও সম্ভব না হলে প্রতি মাসে একবার, তাও সম্ভব না হলে বছরে একবার, তাও সম্ভব না হলে জীবনে একবার হলেও পড়–ন।

১৫. শবে বারাতের নামায

রাকা’আত সংখ্যা : শবে বারাতের নামায সংখ্যা নির্দিষ্ট নেই তবে দুই রাকা’আত করে যত রাকা’আত ইচছা পড়া যায়।

পড়ার নিয়ম : نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ لٰيْلَةِ بَرَعْةِ مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবায়া রাকা’আতাই ছালাতি লাইলাতুল বারআতি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হবে ২ (দুই) রাকা’আত শবে বরাতের নফল নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

১৬.শবে ক্বদরের নামায

রাকা’আত সংখ্যা : শবে ক্বদরের নামায সংখ্যা নির্দিষ্ট নেই তবে যত রাকা’আত ইচছা পড়া যায়।

পড়ার নিয়ম : দুই রাকা’আত করে পড়তে হয়।

শবে ক্বদরের নামাযের নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ لٰيْلَةِ الْقَدْرِ مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই ছালাতি লাইলাতুল ক্বাদরি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকা’আত শবে কদরের নফল নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

১৭.সালাতুত তারাবীহ নামায

রাকা’আত সংখ্যা : তারাবীহ নামায ২০ রাকা’আত।

পড়ার নিয়ম : এশার পরে ও বেতর নামাযের পূর্বে এই নামায দুই রাকা’আত করে আদায় করতে হয়।

সালাতুত তারাবীহ নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوة ِا لتَّرَابِيْحِ سُنَّةِ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই ছালাতিত তারাবাহি সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে ২ দুই রাকা’আত তারাবীহর সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

তারাবীহ’র দোয়া :

سُبْحَانَ ذِىْ الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوْتِ سُبْحَانَ ذِىْ الْعِزَّةِ و َالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ و َالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيْاءِ وَالْجَبَارُوْتِ سُبْحَانَ ذِى الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِىْ لَايَنَامُ وَلاَيْمُوْتُ اَبَدًا اَبَدًا سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنَا و َرَبُّ الْمَلَئِكَةِ وَالْرُّوْحِ

উচ্চারণ : সুবহানা যিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা যিল ইজ্জাতে ওয়াল আযমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল ক্বুদরাতি ওয়াল কিবরিয়াই ওয়াল জাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল লাযী লা ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুতু আবাদান আবাদন সুব্বুহুন ক্বুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়াররূহ।

অর্থ : আমি তাঁরই পবিত্রতা ঘোষণা করছি যিনি সমস্ত সাম্রাজ্য ও ফেরেশতাকুলের অধিপতি। তাঁরই পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি যিনি মান, সম্ভ্রম, ভীতি, ক্ষমতা, অহংকার ও প্রতাপের মলিক। আমি আরো পবিত্রতা প্রচার করছি তাঁরই যিনি চিরঞ্জীব শাহানশহ, অনাদি অনন্তকাল ধরে যার কোন নিদ্রাও নেই, মৃত্যুও নেই, যিনি মহাপবিত্র ও চির নিষ্কলংক, যিনি আমাদের প্রতিপালক প্রভু এবং যিনি ফেরেশতামন্ডলী ও বিশেষ করে হযরত জিবরাইলেরও প্রভু।

তারাবীহ্র’ মোনাজাত :

اَللّٰهُمَّ اِنَّانَسئَلُكَ الْجَنَّةَ وَنَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّار يَا خَالِقَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ بِرَحْمَتِكَ يْا عَزِيْزُ يْاغَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَاسَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَا بَارُّ اَللّٰهُمَّ اجِرْنَا مِنَ ا لنَّارِيَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ بِرَحْمَتِكَ يَا ا َرْحَمَ الرَّاحِمِيْن

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউযুবিকা মিনান্নারি। ইয়া খালিক্বাাল জান্নাতি ওয়াননার। বিরাহমাতিকা, ইয়া আজীজু ইয়া গাফফারু ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার। ইয়া রাহীমু ইয়া জাব্বার। ইয়া খালিকু ইয়া বারিয়্যূ। আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান্নার। ইয়া মুজিরু ইয়া মুজিরু ইয়া মুজিরু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমরা তোমারই নিকট জান্নাত প্রার্থনা করি এবং তোমারই নিকট জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই। ওগো জান্নাত ও জাহান্নাম সৃজনকারী। তোমারই রহমতের আমরা ভিখারী- ওগো মহাশক্তিধর ও মহা ক্ষমাশীল, ওগো দয়াময় ও দোষ গোপনকারী, ওগো করুণাময় ও প্রতাপশালী, ওগো সৃষ্টিকর্তা, হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর- ওগো রক্ষাকারী, ওগো রক্ষাকারী, ওগো রক্ষাকারী। আমরা তোমার রহমত প্রার্থনা করি-ওগো সকল দয়ালুর দয়ালু।

১৮.সফরের নামায

কেউ যদি নিজ এলাকা থেকে আটচল্লিশ মাইল দূরে যাওয়ার এবং সেখানে পৌঁছে পনেরো দিনের কম থাকার নিয়ত করে তাহলে সে কসর পড়বে। নিজ এলাকা থেকে বের হওয়ার পর থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত। কসর অর্থ হচ্ছে চার রাকা’আত বিশিষ্ট নামায দুই রাকা’আত পড়া। যথা জোহর আসর ও ইশা। দুই বা তিন রাকা’আত বিশিষ্ট নামাযে কসর নেই। যেমন ফজর ও মাগরিবের নামায এবং বিতর নামায।

সফরের নামায সম্পর্কে কতিপয় হাদীসে রাসূল :

১.ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। আল্লাহতায়ালা তোমাদের নবীর মাধ্যমে আবাসে চার রাকা’আত এবং প্রবাসে (সফরে) দুই রাকাত নামায ফরয করেছেন। (সহীহ মুসলিম)

২.আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহু সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মক্কা রওয়ানা করি। আমরা মক্কা থেকে মদিনা ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি চার রাক’আতের নামায দুই রাকা’আত পড়েছেন। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

রাসূলুল্লাহু সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সকল সফরের নামায দুই রাকাত করে পড়েছেন। সুতরাং আমাদেরও শুধু উচিৎ নয় বরং আবশ্যিকভাবে সফরে চার রাকা’আত নামায দুই রাকা’আত করে পড়া।

১৯. জমা বাইনাস সালাতাইন

জমা বাইনাস সালাতাইন শব্দের অর্থ হল, দুই নামায একত্রে আদায় করা। যেমন, জোহর ও আছর, কিংবা মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করা। এটা দু’ভাবে হতে পারে :

১.জমউত তাকদীম’ ও ‘জমউত তাখীর’। ‘জমউত তাকদীম’ অর্থ হল-দ্বিতীয় নামাযকে এগিয়ে এনে প্রথম নামযের সময়ে আদায় করা। যেমন যোহর ও আসরের নামায যোহরের সময় একত্রে আদায় করা আর ‘জমউত তাখীর’অর্থ হল-প্রথম নামাযকে বিলম্বিত করে দ্বিতীয় নামাযের সময় আদায় করা। যথা মাগরিব ও এশার নামায এশার সময় একত্রে আদায় করা।

২.দ্বিতীয় পদ্ধতিকে বলা হয় ‘জময়ে জাহিরী’। এর অর্থ হচ্ছে প্রথম নামায তার ওয়াক্তের শেষ অংশে আর দ্বিতীয় নামায পরের ওয়াক্তের প্রথম অংশে আদায় করা। এভাবে বাহ্যত দুই নামায একত্রে পড়া হলেও কোনো নামাযকেই তার ওয়াক্ত থেকে সরানো হয়নি এবং যথা যোহরের নামাযের সময় যদি বেলা ১.০০ টা থেকে বিকাল ৪.০০ টা পর্যন্ত হয় এবং আসরের সময় ৪.০০ টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হয় তাহলে ‘জময়ে জাহিরী’ এভাবে হতে পারে যে, যোহরের মানায পৌনে ৪.০০ টায় আদায় করা হল আর আসরের নামায ৪.০০টায় আদায় করা হল।

২০.সালাতুত তাওবা

আল্লাহতায়ালা মানুষের মধ্যে মন্দ দুই প্রবণতাই সুপ্ত রেখেছেন। অত:পর মানুষের জন্য ভালো ও মন্দ দুই পথ চিহ্নিত করে দিয়েছেন, যাতে করে মানুষ তার কর্মের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে-কে আল্লাহ সন্তুষ্টিকামী, আর কে প্রবৃত্তির অনুসারী। নবীগণ ছাড়া অন্য সকল মানুষেরই কিছু না কিছু গুনাহ হয়ে যায়। তবে মুমিন এ কারণে হতাশ হয় না; বরং আপন কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করে এবং গুনাহর সিয়হী থেকে পরিষ্কার হওয়ার চেষ্টা করে। তাওবা অর্থ হল কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং আগামীতে না করার জন্য সংকল্প করা।

বিপদ-মুছিবতে আল্লাহর রহমতের প্রতি নিরাশ না হওয়ার ব্যাপারে কালামে পাকের ঘোষণা :

قُلْ يَاعِبَادِيَ الَّذِيْنَ أ َسْرَفُوا عَلٰى أَنفُسِهِمْ لَاتَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللهِ إِنَّ اللهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيْعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيْمُ

উচ্চারণ : ক্বুল ইয়া ইবাদিইয়াল্লাযীনা আসরাফূ আলা আনফূসিহিম লা-তাক্বনাতু মির রাহমাতিল্লাহ। ইন্নাল্লাহা ইয়াগফিরুয যুনুবা জ্বামী‘আ; ইন্নাহূ হুওয়াল গাফুরুর রাহীম।

অর্থ : আপনি আমার ওই বান্দাদের বলে দিন, যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছে, তোমাদের আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল গোনাহ ক্ষমা করবেন। নি:সন্দেহে তিনিই হলেন পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু। (সূরা ৩৯ যুমার : আয়াত ৫৩)

وَإِنِّي ْلَغَفَّارٌ لِّمَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَىٰ

উচ্চারণ :ওয়াইন্নী লাগাফ্ফারুল লিমান তাবা ওয়াআমানা ওয়াআমিলা ছালিহান ছুম্মাহ তাদা।

অর্থ : আমি অতি ক্ষমাশীল তার প্রতি, যে তাওবা করে, ঈমান আনে সৎকর্ম করে এবং সৎপথে অবিচলিত থাকে। (সূরা ২০ তোয়াহা : ৮২)

তাওবার পদ্ধতি :ইসলামে তাওবার পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ। তাওবার জন্য কোনো মাধ্যম গ্রহণের প্রয়োজন হয় না। খৃষ্টধর্মে যেমন-পাদ্রীর সম্মুখে পাপ স্বীকার করে ক্ষমাপত্রে দস্তখত করার আগ পর্যন্ত পাপের কালিমা থেকে মুক্ত হওয়া যায় না- এমন কোনো ধারণা ও নিয়ম ইসলামে নেই। তাওবার উদ্দেশ্যে যদি দুই রাকা’আত নামায পড়া যায় তবে অতি উত্তম।

গুনাহ মাফে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী :হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদি আল্লাহু আনহু নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন- ‘যার কোন গুনাহ হয়ে যায়, এরপর সে উত্তমরূপে অযু করে দুই রাকা’আত নামায পড়ে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রর্থনা করে, আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন’। এরপর রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত পাঠ করেন- ‘আর যারা কোনো মন্দ কাজ করে ফেললে কিংবা নিজেদের উপর জুলুম করে বসলো আল্লাহকে স্মরণ করে কৃতকর্মের উপর জেনে শুনে অবিচল থাকে না’। (সুনানে আবু দাউদ)

২১. জানাযার নামায

পৃথিবীতে সকল মানুষের আয়ু সুনির্ধারিত। এ নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে সকল মানুষকে চলে যেতে হবে। যখন অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় যে, মৃত্যুর সময় সন্নিকটে তখন পরিবারের দায়িত্বশীলদের কর্তব্য হল, প্রিয়জনের কাছে বসে আস্তে আস্তে কালেমা পড়া, যাকে কালেমার তালক্বীন দেয়া বলে, যাতে তারাও কালেমা পড়ার কথা স্মরণ হয় এবং স্বেচ্ছায় কালেমা পড়ে।

মৃত্যুর সময় কালেমার তালকীন করার ব্যাপারে রাসূলের বাণী :

১.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা মুমুর্ষ ব্যক্তিদের কালেমার তালকীন কর’। (সহীহ মুসলিম)

২.হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-যার শেষ কথা হবে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

মৃত্যুর পরের মাসনুন কাজ : মৃতের চোখ খোলা থাকলে তা বন্ধ করে দিবে। কাপড় দিয়ে চোয়াল বেঁধে দিবে। শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সোজা করে দিবে। এ সময় যেহেতু ফেরেশতারা উপস্থিত থাকেন এবং দু’আকারীদের দু’আয় আমীন বলেন তাই মৃতের বা অন্য কারোর প্রতি বদদোআ করা উচিত নয়। এ সময় বিলাপ থেকে উচ্চ আওয়াজে ক্রন্দন করা থেকেও বিরত থাকবে। কেননা, এতে মৃতের কষ্ট হয়ে থাকে।

এ ব্যাপারে দুটি সহিহ হাদীস :

১.হযরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-‘আবু সালমার মৃত্যু হলে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং তার চোখ বন্ধ করলেন। এরপর বললেন, ‘যখন রূহ কবজ করা হয় তখন দৃষ্টি তার অনুসরণ করে’। একথা শুনে পরিবারের লোকেরা চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম বললেন, ‘তোমরা এখন শুধু কল্যাণের দোয়া করবে। কেননা, ফেরেশতারা তোমাদের কথায় আমীন বলবেন।’ এরপর নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়া করলেন-ইয়া আল্লাহ! আবু সালামাকে ক্ষমা করুন। হেদায়েত প্রাপ্তদের মাঝে তার দরজা বুলন্দ করুন। তার পরিবারবর্গকে উত্তম নায়েব দান করুন। ইয়া রাব্বাল আলামীন! তাকে ও আমাদেরকে ক্ষমা করুন। তার কবরে আলো ও প্রশস্ততা দান করুন। (সহীহ মুসলিম)

২.হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম বলেন-‘বিলাপের কারণে মৃত ব্যক্তির আযাব হয়ে থাকে।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘পরিবারের লোকদের ক্রন্দন-মাতমের কারণে মৃত ব্যক্তির আযাব হয়ে থাকে। (সহীহ মুসলিম)

জানাযা নামাযের সময় : জানাযার নামাযের কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। নির্দিষ্ট ওয়াক্তে (অর্থাৎ সুর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়) ওয়াক্তিয়া বা অন্যান্য নামায নিষিদ্ধ হলেও জানাযার নামায নিষিদ্ধ নয়। মসজিদে যদি জানাযা নিয়ে আসা হয় তাহলে ওয়াক্তিয়া নামাযের জন্য নির্ধারিত সময়ের আগে আনা হলে উক্ত সময় অতিক্রম হওয়ার পরে জানাযার নামায পড়তে হবে। নিষিদ্ধ সময়ের ভিতরে জানাযা আনা হলে ঐ সময়ে পড়তে কোন বাধা নেই। কারো করো মতে ঐ সময জায়নাযার নামাজ না পড়া ভাল।

জানাযার ফযীলতের ব্যাপারে হাদীসে রাসূল :

১.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের জানাযায় শরীক হয়ে নামায পড়ে এবং তাকে কবরও দেয় সে দু’কীরাত নেকী পায়। প্রত্যেক কীরাত উহুদ পাহাড় সমান নেকী । আর যে ব্যক্তি শুধু জানাযার নামায পড়ে এবং মাটি দেয় না সে এক কীরাত নেকী পাবে।(সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

২.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন মুসলমানের জানাযায় এমন চল্লিশজন লোক যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেননি যদি শরীক হয়ে ঐ লাশের জন্য দোয়া করে তাহলে আল্লাহতা’য়ালা তাদের সুপারিশ নিশ্চয়ই কবুল করবেন। (সহীহ মুসলিম ও মিশকাত)

৩.উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-যখন কোনো মুসলমানের ইন্তেকাল হয় এবং একশ জনের কাছাকছি সংখ্যক মুসলমান তাঁর জানাযার নামায পড়ে ও তাঁর জন্য সুপারিশ করে তো এই সুপারিশ কবুল করা হয়’। (জামে আত-তিরমীযি)

জানাযার খাট বহন করার নিয়ম :

১.বয়স্ক নারী-পুরুষের লাশ খাটে করে বহন করতে হয়। খাটের চার কোণায় ৪ জনে বহন করবে। লোক অদল বদল করেও বহন করা চলে। লাশের মাথার দিকে সামনে রেখে চলতে হবে।

২.দুগ্ধপোষ্য বা তার চেয়ে কিছু বড় শিশুর লাশ দুই হাতে নিয়ে যেতে হবে। এ রকম লাশ একাই বহন করা যায়। পালাক্রমে অন্যেরাও ইহা বহন করতে পারে।

৩.জানাযা অর্থাৎ লাশ নিয়ে দ্রুত হাঁটা সুন্নাত। আবার লাশে ধাক্কা খায় বা দোলে এমন জোরে হাটাও ঠিক নয়।

৪.জানাযার সঙ্গে যারা যাবে তাদের পেছনে থাকা ভালো। তবে সামনে হাঁটা নাজায়েয নয়; কিন্তু ডানে বা বামে হাঁটা উচিত নয়।

যখন কোন মুসলমান মারা যায় তখন তার জন্য বিশেষভাবে কিছু দোয়া করা হয়। ঐ বিশেষ প্রক্রিয়ার দোয়া করার নাম জানাযার নামায। যত দ্রুত সম্ভব মাইয়্যেতকে গোসল দিয়ে কাফন পরাবে। এরপর জানাযার নামায পড়াবে।

হযরত আবু হুরায়রা রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বণিত-নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাহাবীদেরকে) নাজ্জাশীর মৃত্যু সংবাদ দিলেন। এরপর (জানাযার নামাযের জন্য) সামনে অগ্রসর হলেন। সাহাবীরা তাঁর পিছনে কাতার করলেন। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম (নামাযে) চার তাকবীর দিলেন’। (সহীহ আল বোখারী)

১. প্রথম তাকবীরের পর হামদ-ছানা পড়া

২. দ্বিতীয় তাকবীরের পর দরূদ পড়া

৩. তৃতীয় তাকবীরের পর দোয়া পড়া

৪. চতুর্থ তাকবীরের পর সালাম ফিরানো।

হাত উঠানো : জায়নামাজে শুধু প্রথম তাকবীরে হাত উঠাবে এ ছাড়া অন্য কোথাও হাত ওঠানোর নিয়ম নেই।

জানাযা নামাযের নিয়ম : জামায়াতের সামনে কাফন ঢাকা লাশ রাখতে হবে। তার পেছনে লাশের সিনা বরাবর ইমাম দাঁড়াবেন। তার পেছনে মুক্তাদীরা কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবেন। সবাই মনে মনে ধারনা করবেন : এই মৃত ব্যক্তির দোয়ার জন্য জানাযার নামায পড়ছি। এই হল নিয়ত।

জানাযা নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُوَدِّيْ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ تَكْبِرَاتٍ صَلْوَةِ الْجَنَازَةِ فِرْضِ الْكِفَايْةِا َلثَّنَاءُ لِلّٰهِ تَعَالٰى وَالصَّلَوةُ عَلٰى النَّبِي ْوَالدُّعَاءُ لِهَذَا الْمَيْتِ اِقْتَدَيْتُ بِهَذَاالاِمَامِ مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفِةِ اَللهُ اَكْبَر ُ.

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উওয়াদ্দিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবা’আ তাকবীরাতিন সালাতিল জানাযাতি ফারদিল কেফাইয়তি আছ্ছানাউ লিল্লাহি ওয়াস সালাতু আলান্নাবীয়্যি ওয়াদ্দু’আউ লিহাযাল মাইয়্যিতি ইক্বতাদাইতু বিহাজাল ইমামে মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে চার তাকবীরের সাথে জানাযার ফারদিল কেফায়া নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

নিয়ত করে ইমাম জোরে আল্লাহু আকবার বলে কানের লতি বরাবর দুই হাত তুলে নাভির উপরে বাম হাত রেখো ডান হাতের বুড়ো ও কনিষ্ঠা আংগুল দিয়ে বাম হাতের কব্জি বেঁধে বাকী ৩ আংগুল বাম হাতের উপরে বিছিয়ে অন্য নামাযের ছানার ন্যায় ছানা পড়বে। তবে এই ছানার ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা এর পরে ওয়া জাল্লা ছানাউকা অতিরিক্ত বলতে হবে।

মুক্তাদীগণ ইমামের অনুসরণ করে ঐভাবে তাকবীর দিয়ে ছানা পড়বে। পরে ইমাম জোরে আল্লাহু আকবার বলে বাঁধা হাত ছেড়ে না দিয়েই আস্তে আস্তে অন্য নামাযের দরূদের ন্যায় দরূদ পড়বে। মুক্তাদীরাও ঐরূপ করবে। দরূদ শেষ করে ইমাম পুনরায় জোরে তাকবীর উচ্চারণ করে ঐ হাত বাঁধা অবস্থাতেই বয়স্ক ব্যক্তির লাশ হলে চুপে চুপে এই দোয়া পড়বে।

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِ نَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا وَذَكَرِنَا وَاُنْثَنَا اَللّٰهُمَّ مَنْ اَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَاَحْيِهِ عَلٰى الْاِسْلاَمِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلٰى الْاِيْمَانِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগ ফিরলি হায়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়িবিনা ও ওয়া কাবীরিনা ওয়া যাকারিনা ওয়া উনছানা। আল্লাহুম্মা মান আহইয়াহতাহু মিন্না ফাআহয়িহী আলাল ইসলামি ওয়া মান তাওয়াফ ফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহ আলাল ইমান। বিরাহমাতিকা ইয়া আর হামার রাহিমীন।

আর ঐ লাশ অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলে উক্ত দোয়ার পরিবর্তে নি¤œ দোয়া পড়বে :

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًا وَّاجْعَلْهُ لَنَا اَجْرً ا وَّذُخْرًا وَّاجْعَلْهُ لَنَا شَافِعًا وَّمُشَفِّعًا

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাজ আলহু লানা ফারাতাও ওয়াজ আলহু লানা আজরাও ওয়া যুখরাও ওয়াজ আলহু লানা শাফিআও ওয়া মুশাফফিআ।

অপ্রাপ্ত বয়স্ক লাশ মেয়ের হলে ‘হু’ (هُ) স্থানে ‘হা’ (هَا) বলতে হবে। এই দোয়ার পরে পুনরায় ইমাম জোরে তাকবীর বলে প্রথমে ডানে ও পরে বামে ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি’ বলে সালাম ফিরাবে। মুক্তাদীরাও তার অনুকরণ করবে।

জানাযার নামায সংক্রান্ত কতিপয় জরুরী মাসায়েল :

১.ছানা, দরূদ ও দোয়ার পরে যে আরো তিনবার তাকবীর বলতে হয় তখন ইমাম ও মোক্তাদীর হাত বাঁধা থাকবে।

২.ইমাম তাকবীর ব্যতীত সবকিছুই চুপে চুপে বলবে, শুধু তাকবীর উচ্চস্বরে বলবে। মোক্তাদীরা তাকবীরসহ সবকিছুই আস্তে আস্তে বলবে।

৩.ডান দিকে সালাম ফিরানোর সাথে সাথে ডান হাত এবং বাম দিকে সালাম ফিরানোর সাথে সাথে বাম হাত নামিয়ে ফেলবে।

৪.জানাযার নামাযের পরে আর কোন দোয়া বা মোনাজাত এক সাথে করার বিধান নেই।

৫.জানাযার নামায ছুটে যাওয়ার আশংকা হলে (পানি নিকটে থাকা সত্ত্বেও) তায়্যাম্মুম করে জানাযায় শরীক হওয়া যায়।

৬.জুতা পায়ে রেখেও জানাযার নামায পড়া যায়। তবে শর্ত এই যে জুতার তলা এবং জুতার জমিন পাক থাকতে হবে। আর যদি জুতা খুলে জুতার উপরে পা রেখে দাঁড়ায় তাহলে পায়ের সাথে লাগা জুতার উপরের অংশ পাক থাকলেই চলবে। জুতার তলা বা জুতার নীচে কার জমিন নাপাক থাকলেও জানাযার নামায হয়ে যাবে।

৭.জানাযার নামাযের জন্য জামাত শর্ত নয়। একজনে পড়লেও ফরয আদায় হয়ে যাবে।

৮.জানাযার নামাজ ৩ (তিন) কাতার করা মোস্তাহাব। ইমাম ছাড়া ৫ (পাঁচ) জন থাকলে ১ম কাতারে ২ জন, ২য় কাতারে ২ জন এবং তৃতীয় কাতারে ১ জন এইরূপ দাঁড়াতে হবে। লোক বেশী হলে ৩ এর অধিক যে কোন বিজোড় সংখ্যক কাতার করে দাঁড়ানো ভালো।

৯.জন্ম মাত্রই যে শিশুর মৃত্যু হয়েছে তার নাম রাখতে হবে এবং নিয়মানুযায়ী গোছল, জানাযা, কাফন দাফন করবে। আর যে মৃত অবস্থায় জন্মেছে তার নামও রাখবে, গোছল দেবে, কিন্তু নিয়মানুযায়ী কাফন ও জানাযা পড়তে হবে না। শুধু এক খ- কাপড় দিয়ে লাশ ঢেকে দিয়ে কবরে মাটি চাপা দিয়ে রেখে দেবে।

দাফন সংক্রান্ত মাসায়েল :

১.লাশ কবরে নামানোর জন্য ৩/৪ জন কবরে নেমে কেবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে খাট থেকে লাশ নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে উত্তর দিকে মাথা ও দক্ষিণ দিকে পা রেখে কবরে শোয়াবে। কিছু মাটি, বালু বা পাথরের টুকরার সাহায্যে মুখম-ল কেবলামুখী করে দিতে হবে। মহিলাদের লাশ যাদের সঙ্গে তাদের বিবাহ হারাম ছিল এমন আপন পুরুষেরা নামবেন। এমন কাউকে না পেলে দ্বীনদার মোত্তাকী লোকেরা নামবেন।

২.লাশ কবরে রাখার সময়ে এই দোয়া পড়বে : بِسْمِ اللهِ وَعَلٰى مِلَّةِ رَسُوْ ل ِاللهِ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি ও ওয়া আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ।

৩.মহিলাদের কবরে নামানোর সময়ে পর্দা করবে।

৪.কবরে রাখার পর কাফনের বাঁধনগুলো খুলে ফেলবে। তারপর বাঁশ বা কাঁচা ইট কবরের উপর বিছিয়ে দিয়ে কবর ঢেকে দিবে। উপর থেকে যাতে এর মাটি ইত্যাদি মৃতের গায়ে না পড়ে সে জন্য মাটি দেয়ার আগে কলা পাতা বা এ ধরনের পাতলা কিছু বিছিয়ে দেয়া ভালো। কবর মাছের পিঠের মত করবে। চৌকোণা করে করবে না।

প্রথম মুষ্টি মাটি দেয়ার সময়ে বলবে :مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ

উচ্চারণ : মিনহা খালাকনাকুম

অর্থ : এই মাটি থেকেই তোমাদের সৃষ্টি করেছি।

দ্বিতীয় মুষ্টি মাটি দেয়ার সময়ে বলবে : وَفِيْهَا نُعِيْدُ كُمْ

উচ্চারণ : ওয়া ফিহা নু’ঈদুকুম।

অর্থ : পুনরায় তোমাদেরকে মাটিতেই ফিরিয়ে আনব।

এবং তৃতীয় মুষ্টি মাটি দেয়ার সময়ে বলবে : وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً اُخْرَئ

উচ্চারণ : ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম তারাতান উখরা।

অর্থ : এবং আর একবার তোমাদেরকে মাটি থেকে বের করবে।

এরপর মাটি দেয়া শেষ করে, প্রয়োজন মত কবরের উপরিভাগ মজবুত করার জন্য পানি দিয়ে ও পিটিয়ে মাছের পিঠের আকার বিশিষ্ট করবে। পরিশেষে একবার পানি ছিটিয়ে দেয়া মোস্তাহাব। এই পানি দেয়া মাথার দিক থেকে শুরু করবে।

জানাযা কবর সংক্রান্ত আরো মাসায়েল :

১.জানাযার নামায মসজিদের ভেতর অথবা কবর সামনে রেখে পড়া মাকরূহ

২.জানাযার পরে লাশ বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় কালেমা ইত্যাদি আস্তে আস্তে পড়তে হবে। উচ্চস্বরে পড়া উচিত নয়।

৩. লোকের সংখ্যা বেশী হওয়ার আশায় জানাযার নামায বিলম্বিত করা মাকরূহ্

৪. জানাযার সামনে সাওয়ারির উপর আরোহন করা মাকরূহ।

৫. একত্রে কয়েকজনের জানাযা উপস্থিত হলে সকলের জানাযা এক সাথে পড়বে।

৬.ইমাম বা মুক্তাদী তাকবীর বলার (২য়, ৩য় ও ৪র্থ) সময়ে ভুলে হাত উঠায় তাহলে নামায হয়ে যাবে। ঐ নামায দ্বিতীয়বার পড়তে হবে না।

৭.কাফন-দাফনের পর পুনরায় কবর খনন করে লাশ উত্তোলন করা জায়েয নয়।

৮.মৃত স্থানে দাফন করা উত্তম। তবে এক দুই মাইলের মধ্যে দাফন করতে দোষ নেই। অধিক দূরে নেয়া উচিত নয়।

৯.জীবিত অবস্থায় নিজের কাফনের ব্যবস্থা করা জায়েয কিন্তু কবর তৈরী করা মাকরূহ।

১০.মৃত ব্যক্তিকে খারাপ ভাষায় স্মরণ করা বৈধ নয়। তার অসৎকর্মের প্রশংসাও করবে না এবং মন্দ কাজের প্রচারণাও করবে না।

১১.দাফনান্তে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে মৃত ব্যক্তির ক্ষমার জন্য দোয়া করা সুন্নাত। হযরত নবী করীম (সা) বলেছেন- মৃত দেহ দাফন করার পর তার শিয়রে সূরা বাকারার প্রথম আয়াতসমূহ অত : পর ডানে দাঁড়িয়ে ঐ সূরার শেষ আয়াতসমূহ পাঠ করবে। দাফন সম্পন্ন হয়ে গেলে সকলে মিলে একত্রে দোয়া করবে।

১২.কবরস্থানে গিয়ে গল্প গুজব করা বা বাজে কথা বলা উচিত নয়। বরং নিজের মৃত্যুর কথা স্মরণ করে মনে মনে বলবে : আমি আজ একজনকে দাফন করলাম, একদিন লোকেরা আমাকে দাফন করবে।

১৩.অধিক উঁচু করে কবর তৈরী করা জায়েয নয়। উটের পীঠের ন্যায় বড় জোর একহাত উঁচু করা যেতে পারে। কবরকে পাকা করা এবং তার উপর মিনার স্থাপন করা জায়েয নয়।

১৪.কদাচার থেকে কবরকে হেফাজত করার জন্য বেড়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এবং কার কবর তা বোঝার জন্য পাকা করে চিহ্নও স্থাপন করা যেতে পারে।

সমবেদনা জ্ঞাপন :

১.মৃত ব্যক্তির শোকার্ত আত্মীয়স্বজনকে সান্তনা দেয়া এবং ধৈর্য্য ধারণের উপদেশ দেয়া সুন্নাত। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং মৃত ব্যক্তির আত্মীয়গণের ঘরে ঘরে গিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করতেন এবং ছবরের উপদেশ দিতেন।

২. মৃত ব্যক্তির বাড়িতে খাবার পাঠানোও সমবেদনার অন্তর্ভুক্ত। তবে তিন বেলার অধিক পাঠানো উচিত নয়।

৩. দূরের কেউ না হলে তার জন্য তিন দিন পরে সমবেদনা জ্ঞাপন করতে যাওয়া মাকরূহ।

৪.মৃত ব্যক্তির ঘরে তিন দিন পর্যন্ত চুলা জ্বালানো খারাপ মনে করা নিষিদ্ধ। এটা চরম অজ্ঞতা। এইরূপ ধারণা করে চুলা না জ্বালানো অর্থাৎ রান্না বান্না না করা পরিষ্কার পাপ।

২২. ঈদুল ফিতরের নামায

পবিত্র মাহে রমযানের এক মাস রোযা রাখার পর শাওয়াল মাসের পহেলা তারিখ মুসলিম মিল্লাতের নিকট হাজির হয় তাদের প্রথম জাতীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এই দিনে এক মাস ধরে পানাহার, আর যৌন পিপাসা নিয়ন্ত্রণের কঠিন সাধনায় সফল হওয়ার পর তারা শপথ নেয় অবশিষ্ট জীবনে আল্লাহর কঠিন হতে কঠিনতর নির্দেশ মেনে চলার, আর আল্লাহর নিকট থেকে তারা লাভ করে নিষ্পাপ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার শুভ সংবাদ। ঈদ তাই পরম সাফল্যের, চরম আনন্দের। এই উপলক্ষেই আল্লাহ দু’রাকাত নামায ওয়াজিব করে দিয়েছেন।

ঈদের মাসায়েল :

১.ঈদের (পূর্ব) রাতে ইবাদাতে অতিবাহিত করা মোস্তাহাব। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন : যারা দুই ঈদের রাতে ছওয়াবের আশায় ইবাদাতে অতিবাহিত করবে তাদের আত্মা সেই দিন মরবে না যেদিন অন্য সবের আত্মা মরে যাবে (অর্থাৎ কেয়ামতের দিন)।

২. নিম্মরূপ কাজগুলো করা সুন্নাত :

ক. খুব ভোরে বিছানা থেকে ওঠা

খ. মেছওয়াক করা

গ.গোসল করা

ঘ.সামর্থ অনুযায়ী উত্তম পোশাক পরিধান করা

ঙ.শরীয়াতের সীমার ভেতর থেকে যথাসম্ভব সুসজ্জিত হওয়া

চ. খোশবু ব্যবহার করা

ছ.ঈদগাহে যাওয়ার আগে ফিতরা আদায় করা (ঈদের দিন মালিকে নেছাব হলেই যাদের ভরণ পোষণের দায়িত্ব রয়েছে তাদের সকলের জন্য মাথা প্রতি এক সের সাড়ে বার ছটাক গমের মূল্য হিসেবে দরিদ্রকে দান করা)

জ.ঈদগাহে যাওয়ার আগে খোরমা বা অন্য কোন মিষ্টি দ্রব্য আহার করা।

ঝ.বেশী দেরী না করে ঈদগাহে যাওয়া

ঞ.ঈদের নামায মসজিদে না পড়ে ঈদগাহে পড়া

ট.এক রাস্তায় ঈদগাহে যাওয়া এবং অন্য রাস্তায় বাড়ি ফেরা

ঠ.পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া এবং

ঢ.আস্তে আস্তে নিম্মলিখিত তাকবীর বলতে বলতে যাওয়া :

اَللهُ اَكْبَرْ – اَللهُ اَكْبَرْلَااِلٰه َاِلاَّ اللهُ – وَاللهُ اَكْبَرْ اَللهُ اَكْبَرْ وَ لِلّٰهِ الْحَمْدُ

উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

অর্থ : আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই। আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ এবং একমাত্র আল্লাহর জন্যই যাবতীয় প্রশংসা।

৩. এই নামাযে কোন আযান-একামাত নেই।

৪.আমি ঈদুল ফিতরের দুই রাকা’আত ওয়াজিব নামায আদায় করছি-এতটুকু খেয়াল করলেই নিয়ত হয়ে যাবে। মোক্তাদীগণের মনে এতটুকু কথা থাকলেই যথেষ্ট যে, তারা ইমামের পেছনে নামায পড়ছে। এতেই তাদের নিয়ত পূর্ণ হয়ে যাবে।

৫.দুই রাকা’আত নামাযে ৬টি অতিরিক্ত তাকবীর বলতে হয়।

৬.সালাম ফিরানোর পরে ইমাম নামাযীদের প্রতি মুখ করে খুৎবা দেবেন। এই খুৎবা দেয়া সুন্নাত এবং শোনা ওয়াজিব। খুৎবার সময়ে কথাবার্তা, চলাফেরা করা, নামায পড়া, তাসবহি তাহলীল বা দোয়া করা সবই হারাম। ময়দান ছেড়ে অন্যত্র বসাও অন্যায়।

৭.ইমাম দুই খুৎবা দেবেন। মাঝে কিছুক্ষণ বসবেন।

৮.ঈদের (যে তাকবীর আস্তে আস্তে বলতে বাড়ি থেকে ঈদগাহের দিকে আসা হয়েছে সেই) তাকবীর ইমাম প্রতি খুৎবার প্রথমে একবার অবশ্যই জোরে পড়বেন এবং ঐ একবার সহ প্রথম খুৎবায় ৯ বার এবং দ্বিতীয় খুৎবায় ৭ বা জোরে পড়বেন।

৯.খুৎবার পরে ইমাম খুৎবার বিষয়বস্তু বাংলায় বুঝাতে পারেন এবং পরিশেষে সবাইকে নিয়ে দোয়াও করতে পারেন। তবে এরূপ না করলে কোন ক্ষতি নেই। এই খুৎবার নিয়ম জুমুআর নিয়মের অনুরূপ।

ঈদুল ফিতরের নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوْةِ عِيْدِ الْفِطْر ِمَعَ سِتَّةِ تَكْبِيْرَاتٍ زَاءِدَا تٍ وَاجِبِ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ – اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই ছালাতি ঈদিল ফিতরি মা’আ ছিত্তাতি তাকরীবাতিন যায়িদানি ওয়াজিবিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিন কা’বাতিশ শারীফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সাথে ঈদুল ফিতরের দুই রাকা’আত ওয়াজিব নামায আদায় করছি। আল্লাহ আকবার।

প্রথমে ইমামের সাথে নিয়ত করে ‘আল্লাহ আকবার’ বলে নাভির নীচে হাত বাঁধতে হবে। তারপর ছানা পড়বে। ছানা শেষ করে তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলার সময় দুইহাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে হাত ছেড়ে দিতে হবে। তৃতীয় বার কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে নাভির নীচে বাঁধবে। এই তিনটি অতিরিক্ত তাকবীর। অতপর ‘আউযুবিল্লাহ’ বিসমিল্লাহ’ পড়ে সূরা ফাতিহা পড়বে। তারপর কুরআন পাকের কিছু আয়াত বা সূরা মিলাবে। এরপর ‘আল্লাহ আকবার’ বলে রুকু করবে। এরপর সেজদা ইত্যাদি করে প্রথম রাকা’আত শেষ করে দ্বিতীয় রাকা’আত পড়ার জন্য দাঁড়াবে। দ্বিতীয় রাকা’আতে সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে আরেকটি সূরা মিলাবার পরে, তিনি বার ‘আল্লাহু আকবার’ উচ্চারণ করে প্রতিবারই দুই হাত কান বরাবর তুলে হাত ছেড়ে দিবে। এই তিনটি তাকবীরও অতিরিক্ত। ৪র্থবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলে যথারীতি রুকু, সেজদা, তাশাহহুদ, দরূদ ও দোয়া মাছুরা পড়ে সালাম ফিরায়ে নামায শেষ করবে। এরপর ইমাম খুৎবা দেবেন।

২৩. ঈদুল আযহার নামায

‘আযহা’ শব্দের অর্থ কুরবানী। ‘ঈদুল আযহা’ মানে কুরবানীর আনন্দ-উৎসব অর্থাৎ আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিলিয়ে দেয়ার পরম আনন্দ প্রকাশের জন্যই এই উৎসব। আল্লাহর বান্দারা যত ধন দৌলত বা সম্পদের অধিকারী তার সবকিছুর মালিকই আল্লাহ পাক। বান্দারা শুধু এর তত্ত্বাবধায়ক বা প্রহরী মাত্র। আল্লাহ্র জমিনে আল্লাহর আইন কায়েম করার জন্য হোক, ইসলামের জন্য কোন মহান কাজে হোক কিংবা মুসলিম জাতির কোন সেবার জন্য হোক আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই সম্পদ বিলিয়ে দেয়াই হল প্রকৃত কুরবানী।

হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে যুগে যুগে এই কুরবানী মুসলমানগণ দিয়ে এসেছেন। এই কুরবানীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভাস্বর ও সবচাইতে উজ্জল হয়ে আছে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর কুরবানী। তিনি শুধু একটুখানি স্বপ্নের ইঙ্গিতেই আল্লাহকে রাজি খুশী করার মহান উদ্দেশ্যে চোখ বাঁধা অবস্থায় কুরবানী দিয়েছিলেন তার কলিজার টুকরা আপন পুত্র ইসমাইলকে। কিন্তু আল্লাহর প্রয়োজন ছিল না ইসমাঈলের প্রয়োজন ছিল হযরত ইব্রাহিমের মন পরীক্ষা করার – যে আমার খলীল আমাকে খুশি করার জন্য তার প্রিয়তম বস্তু ও দান করতে পারে কিনা। হযরত ইব্রাহিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। আল্লাহ ইসমাইলকে সরিয়ে সেখানে রেখে দিলেন একটি দুম্বা। আর তাই কুরবানী হয়ে গেল। কিন্তু হযরত ইব্রাহিম তার ধারণা মত পুত্রকেই কুরবানী দিলেন, ভেসে উঠলো সেখানে এক জান্নাতী ছবি। হযরত ইব্রাহিমের মুখ থেকে ছুরি চালনার সাথে সাথেই নি:সৃত হচ্ছিল “আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ। দুম্বার গলায় ছুরি চালিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্তও হযরত ইসমাঈলের মুখেও ছিল ঐ একই ধ্বনি আল্লাহ আকবার আর ঐ সময়ে আগত লাখো ফেরেশতাদের মুখেও ধ্বনিত হচ্ছিল ঐ একই দোয়া “আল্লাহু আকবার …..।”

হযরত ইব্রাহীমের এই কুরবানীর কোন তুলনা দুনিয়ার ইতিহাসে নেই্ ইসলাম তথা মুসলিম মিল্লাতের উভয় জাহানের মুক্তি ও শান্তির জন্য এরূপ কুরবানীর প্রেরণা একান্ত অপরিহার্য। এই কুরবানীর কথা স্মরণ করে যাতে করে মুসলিম দুনিয়া কেয়ামত পর্যন্ত তাদের প্রিয় সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিতে পারে তারই উদ্দেশ্যে আল্লাহ পাক বিত্তবান সকল মুসলমানের জন্য পুত্রসন্তান নয় বরং সামান্য একটি জন্তু বা উহার অংশবিশেষ কুরবানী করার হুকুম দিয়েছেন। তাঁর উদ্দেশ্য যেন এমনি করেই তাঁর বান্দারা ইব্রাহিমের আদর্শকে সামনে রেখে তাদের সহায় সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিয়ে ধন্য হতে পারে। হযরত বিশ্বনবী (সা) কে যখন সাহাবীগণ প্রশ্ন করেছিলেন : হে আল্লাহর রাসূল! এই কুরবানী কী? তখন তিনি এরশাদ করলেন : ইহা তোমাদের পিতা হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম এর আদর্শ।

বস্তুত আল্লাহর রাস্তায় সম্পদ বিলিয়ে দেয়ার অপার আনন্দকে সামনে রেখে এবং বিত্তবান হলে ঐ দিনে জন্তু কুরবানীর খুশী নিয়ে ঈদের ময়দানে এসে দুই রাকা’আত নামায আদায় করতে হয়। যিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখে এই নামায জামা’তের সাথে পড়তে হয়। ইহা ওয়াজিব।

ঈদুল আযহার নামায পড়ার নিয়ম :

ঈদুল ফিতরের নামায যে নিয়মে পড়তে হয় সেই নিয়মেই ঈদুল আযহার নামায পড়তে হয়। এবং এই নামাযেও ৬টি তাকবীর অতিরিক্ত দিতে হয়। নিয়তের সময়ে শুধু ঈদুল ফিতরের স্থলে ঈদুল আযহার কথা মনে মনে খেয়াল করতে হয়।

ঈদুল আযহার নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىْ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوْةِ عِيْدِ الْاَضْحَىْ مَعَ سِتَّةِ تَكْبِيْرَاتٍ زَاءِدَا تٍ وَاجِبِ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ – اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই ছালাতি ঈদিল আদ্বহা মা’আ ছিত্তাতি তাকবিরাতিন যায়েদাতিন ওয়াজিবিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সাথে ঈদুল আযহার দুই রাকা’আত ওয়াজিব নামায আদায় করছি-আল্লাহু আকবার।

ঈদুল আযহার মাসায়েল :

১. ঈদুল ফিতরে যে তাকবীর পড়া হয় সেই তাকবীরই ঈদুল আযহার সময়ে ‘তাকবীরে তাশরীক’ হিসেবে পড়তে হয়। উহা হল : “আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ”।

২. হজ্জের দিন অর্থাৎ ৯ই যিলহজ্জ ফজর থেকে ১৩ই যিলহজ্জ আছর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরয নামায শেষ করার পর জামা’আতে নামায পাঠকারীদের জন্য কমপক্ষে ১ বার উচ্চস্বরে ‘তাকবীরে তাশরীক’ পড়া ওয়াজিব।

৩. ঈদের ময়দানে যাওয়ার পথে, আসার পথে, নামাযের পরে উচ্চস্বরে তাকবীরে তাশরীক পড়া সুন্নাত।

৪. যদি কেউ ঈদের নামায (ইদুল ফিতার ও ঈদুল আযহা) না পায় তবে একা একা ঈদের নামায পড়তে পারবে না। উহার কাযা পড়াও ওয়াজিব নয়। তবে কমপক্ষে তিনজন লোকে জামায়াত না পেলে তারা জামা’আতা করে নামায পড়তে পারবে। তবে কোন অবস্থাতেই পূর্ববর্তী জামা’আতের ইমাম ও মোক্তাদীর জামা’আতে শরীক হতে পারবে না।

৫. যদি কেউ অতিরিক্ত তাকবীরগুলোতে ইমামের সাথে শরীক হতে না পারে তাহলে সে তাকবীরগুলো একা একা করে নিবে। যদি সে রুকু অবস্থায় শামিল হয় তাহলে নিয়ত বেঁধে রুকুতে যাবে এবং রুকু অবস্থাতেই বাদ পড়া তাকবীরগুলো শুধু মুখে বলবে, কান পর্যন্ত হাত উঠাবে না। তাকবীর বলার পরে রুকুর তাসবীহ সময় পেলে পড়বে, নতুবা পড়বে না। আর যদি রুকুতে তাকবীর পড়ার পূর্বেই ইমাম রুকু শেষ করে ফেলেন তাহলে ঐ বাদ পড়ার তাকবীর তাকে আর পড়তে হবে না। যদি দ্বিতীয় রাকা’আতে কেউ জামা’আতে শামিল হয় তাহলে ছুটে যাওয়া রাকা’আতে সূরা মিলাবার পরে ও রুকুতে যাওয়ার পূর্বে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলে নিয়ে রুকুতে যাবে।

৬. ঈদুল আযহার দিনে নিম্মরূপ কাজগুলো করা সুন্নাত :

ক.আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী সজ্জিত হওয়া ও পোশাক পরা।

খ.মেসওয়াক করা।

গ.গোসল করা।

ঘ.সুগন্ধি ব্যবহার করা।

ঙ.খুব ভোরে বিছানা থেকে ওঠা।

চ.সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়া।

ছ.নামাযের আগে কোন কিছু না খাওয়া।

জ.মসজিদে না পড়ে ঈদগাহে নামায পড়া।

ঝ.এক রাস্তায় যাওয়া এবং অন্য রাস্তায় বাড়ি ফিরে আসা

ঞ.ঈদুল ফিতরের চেয়ে সকালে নামায পড়া।

ট.নামাযের পরে কুরবানী করা, আগে করলে কুরবানী হবে না, পুনরায় করতে হবে।

ঠ.তাকবীরে তাশরীক ঈদগাহে যাওয়া ও আসার পথে উচ্চস্বরে পড়তে হবে।

You may also like