Home ইসলাম নামায কিভাবে পড়বো পর্ব-৪ (নামাযে কি কি পড়তে হয়)

নামায কিভাবে পড়বো পর্ব-৪ (নামাযে কি কি পড়তে হয়)

by admin
০ comment

নামায

নামায কিভাবে পড়বো পর্ব-৪

(নামাযে কি কি পড়তে হয়)

মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

নামায

. নামায       

নামায কি ও কেন?

পৃথিবীর সকল মাখলূকই নামায আদায় করে

নামায অতীতের সকল শরীয়তের বিধান

নামায মানুষকে পবিত্র করে

ইসলামের সবচেয়ে বড় আনুষ্ঠানিক ইবাদত নামায

নামাযের সময়

সময়মতো নামায পড়া

জামায়াতের সাথে নামায না পড়ার পরিণাম

নামায না পড়ার পরকালীন শাস্তি

নামায ত্যাগ করা কুফরি

আল কুরআনে নামায কায়েমের নির্দেশ

মুমিন বান্দা ও কাফিরের মধ্যে বাহ্যিক পার্থক্য নামায

নামায মুমিনের জন্য মি‘রাজ

নামায

নামায কি ও কেন?

নামায ফারসী শব্দ। এর আরবী প্রতিশব্দ হলো সালাত। আমাদের দেশে নামায শব্দটি বেশি প্রচলিত। সালাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে নত হওয়া, অবনত হওয়া, বাঁকানো কাঠ সোজা করা, বিস্তৃত করা। ইসলামী পরিভাষায়, রুকূ-সিজদাসহ শরীয়তের বিধি-বিধান মুতাবিক ইবাদত করাকে নামায বলে। নামায হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হিজরতের এক বছর পূর্বে মি‘রাজের রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হয়। ইসলামের ৫টি স্তম্ভের মধ্যে কালেমা, নামায ও রোযা ছাড়া আরো দুটি ফরয আছে যেগুলো সবার জন্য সবক্ষেত্রে সমভাবে অবশ্য পালনীয় নয়।

আল্লাহপাক মানুষ সৃষ্টি করেছেন শুধু তাঁর ইবাদাত এবং খিলাফতের দায়িত্ব পালনের জন্য। ইবাদতের শিরোমনি বা শীর্ষ ইবাদতই হচ্ছে নামায। তাই ইবাদাতের হক পুরোপুরি আদায়ের জন্য তাঁর খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার। আল্লাহর বিধানাবলী জেনে নেয়া নামাযিদের জন্য অপরিহার্য। কারণ আল্লাহর হুকুম-আহকাম না জানলে আমরা অনুশীলন করবো কি?

ঈমানের পরেই নামাযের স্থান। যারা আল্লাহ ও রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান এনে মুসলমান হয়েছেন তাদের সর্বপ্রথম এবং সর্বপ্রধান আমল হচ্ছে নামায। নামায তাই ‘اَفْضَلُ الْعِبَادَةِ’ সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদাত। পবিত্র কুরআনে ৮২-এর অধিক জায়গায় আল্লাহতায়ালা ‘اَقِيْمُوْالصَلٰوةَ’ বলে নামায কায়েমের তাগিদ দিয়েছেন। আল্লাহতায়ালা নামাযের আদেশ করেছেন মানুষের জীবনের সুন্দর্য বা সুন্দর চরিত্র গঠনের জন্য।   এ সম্পর্কে সূরা আল আনকাবুতের ৪৫ নং আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে اِنَّ الصَّلوٰةَ تَنْهٰى عَنِ الْفَحْشَاَءِ وَالْمُنْكَرِ

“ইন্নাছ্ছালাতা তানহা আনিল ফাহশায়ে ওয়াল মুনকারি” নিশ্চয় নামায মানুষকে পাপ, অন্যায় ও অশ্লীলতা এবং লজ্জাশীল কাজ হতে বিরত রাখে।

ইমাম গাজজালী (রহ.) বলেছেন, মানুষ নামাযে আল্লাহর সাথে যে ওয়াদা করলো তা যদি সে জানতে না পারে তাহলে পূরণ করবে কি করে? কাজেই সেই লোকটি মদখোরের চেয়েও বেশি অপরাধী।

পৃথিবীর সকল মাখলূকই সেজদা আদায় করে (আল্লাহর দাসত্বের স্বীকৃতি প্রদানে সেজদা করে)

সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, বৃক্ষ-লতা, জীব-জন্তু ও পশু-পাখিসহ পৃথিবীতে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা যতো মাখলূক সৃষ্টি করেছেন, তারা সবাই নিজস্ব নিয়মে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের উদ্দেশ্যে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও সম্মান প্রদর্শন করে আসছে। সবাই তাঁর ইবাদত-বন্দেগী ও আনুগত্যে নিয়োজিত। কোথাও কোনো অবাধ্যতা ও বিশৃঙ্খলা নেই। কোথাও নেই সামান্যতম বিরক্তি ও অনীহার বহিঃপ্রকাশ। সবাই সৃষ্টিকর্তার আদেশ পালন করে তাঁকে সিজদাহ্ করে ধন্য হচ্ছে। পবিত্র কালামেপাকে ইরশাদ হয়েছে :

وَلِلّٰهِ يَسْجُدُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مِنْ دَابَّةٍ وَالْمَلَائِكَةُ وَهُمْ لَايَسْتَكْبِرُونَ-يَخَافُوْنَ رَبَّهُم مِّنْ فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُوْنَ مَايُؤْمَرُونَ

উচ্চারণ : ওয়লিল্লাহি ইয়াসজুদু মাফিস সামাওয়াতি ওয়ামাফিল আরদি মিন দাব্বাতিন ওয়াল মালাইকাতু ওয়াহুম লা-ইয়াসতাকবিরুন। ইয়াখাফুনা রব্বাহুম মিন ফাওকিহিম ওয়াইয়াফআলুনা মা-ইউমারুন।

অর্থ : পৃথিবী ও আকাশে যতো সৃষ্টি আছে প্রাণসত্তাসম্পন্ন এবং যতো ফিরেশতা আছে, তারা সবাই রয়েছে আল্লাহ্র সামনে সেজদাবনত। তারা কখনো অবাধ্যতা প্রকাশ করেনা। ভয় করে নিজেদের রবকে, যিনি তাদের ওপরে আছেন এবং যা কিছু হুকুম দেয়া হয় সেই অনুযায়ী কাজ করে। (সূরা ১৬ আন নাহল : আয়াত ৪৯-৫০)

এ আয়াত থেকে জানা যায়, আকাশম-লী ও পৃথিবীতে যতকিছু আছে সবকিছুই আল্লাহর দরবারে সেজদাবনত হয়। তবে তাদের সেজদার ধরণ ও নিয়ম-পদ্ধতি আমাদের মতো নয়। তারা কিভাবে তাসবীহ্-তাহ্লীল করে ও সালাত আদায় করে, তার ইঙ্গিতও কুরআন মজীদে রয়েছে। এ ব্যাপারে আল্লাহতায়ালা বলেন :

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللهَ يُسَبِّحُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالطَّيْرُ صَافَّاتٍ ۖ كُلٌّ قَدْعَلِمَ صَلَاتَه ُ وَتَسْبِيحَهُ ۗ وَاَللهُ عَلِيمٌ بِمَا يَفْعَلُوْنَ-وَ لِلّٰهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأ َرْضِ ۖ وَإِلَى اللهِ الْمَصِيْرُ

উচ্চারণ : আলাম তারা আন্নাল্লাহা ইসাব্বিহু লাহু মান ফিস সামাওয়াতি ওয়ালআরদি ওয়াত্বইরু ছাফ্ফাতিন। কুল্লুন ক্বাদ আলিমা সালাতাহু ওয়াতাসবিয়াহু। ওয়াল্লাহু আলিমুন বিমা ইয়াফআলুন। ওয়ালিল্লাহি মুলকুস সামাওয়াতি ওয়ালআরদি ওয়াইলাল্লাহিল মাসির।

অর্থ : আপনি কি দেখেন না যে, আকশম-লী ও পৃথিবীতে যারা আছে, তারা এবং যে পাখিরা ডানা বিস্তার করে আকাশে ওড়ে, সবাই আল্লাহ্র পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই জানে তার নামায আদায়ের এবং পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করার পদ্ধতি। আর এরা যা কিছু করে, আল্লাহ তা জানেন। আকাশম-লী ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহ্রই এবং তাঁরই কাছে সবাইকে ফিরে যেতে হবে। (সূরা ১৪ নূর : আয়াত ৪১-৪২)

প্রতেকেই জানে তার সালাত (নামায) আদায়ের পদ্ধতি। মহান আল্লাহ্র এ ঘোষণা থেকে স্পষ্ট হয়, পৃথিবীতে যতো মাখলূক রয়েছে, সকলেই নিজ নিজ পদ্ধতিতে নামায আদায় করছে। তদ্রƒপ পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণ এবং তাঁদের উম্মতগণও নামায আদায় করেছেন।

নামায অতীতের সকল শরীয়তের বিধান

নামাজের বিধান বিগত শরীয়তসমূহের মধ্যেও বিদ্যমান ছিলো। কোনো শরীয়তই নামায বিহীন ছিলো না। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বলেছেন :

رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيْمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِيْ ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ

উচ্চারণ : রাব্বিয আলনি মুকিমাস সালাতি ওয়া মিনযুররিইয়াতি রাব্বানা ওয়াতাক্বাব্বাল দুয়াই।

অর্থ : হে আমার প্রতিপালক! আমাকে নামায প্রতিষ্ঠাকারী করুন এবং আমার বংশধরদের মধ্যে হতেও। (সূরা ১৪ ইবরাহীম : আয়াত ৪০)

ইসমাঈল আলাইহিস সালামের নামায সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেছেন :

وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِندَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا

উচ্চারণ : ওয়াকানা ইয়ামুরু আহলাহু বিস্সালাতি ওয়াজ্জাকাতি ওয়াকানা ইন্দা রাব্বিহী মারদ্বিইয়া।

অর্থ : সে তার পরিবারবর্গকে নামায ও যাকাতের নির্দেশ দিতো এবং সে ছিলো তার প্রতিপালকের নিকট সন্তোষভাজন (পছন্দনীয় ব্যক্তি)। (সূরা ১৯ মরিয়ম : আয়াত ৫৫)

ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ইরশাদ করেছে :

وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَمَا كُنْتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَادُمْتُ حَيًّا

উচ্চারণ:ওয়াজাআলানি মুবারাকান আইনা মাকুনতু ওয়াও সানি বিসসালাতি ওয্যাকাতি মাদুমতু হাইয়ান।

অর্থ : (ঈসা আলাইহিস সালাম বলেন) এবং তিনি (আল্লাহ্) আমাকে বরকত দান করেছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন, যতোদিন জীবিত থাকি ততোদিন নামায ও যাকাত আদায় করতে। (সূরা ১৯ মারিয়ম : আয়াত ৩১)

নামায মানুষকে পবিত্র করে

اِنَّ الصَّلوٰةَ تَنْهٰى عَنِ الْفَحْشَاَءِ وَالْمُنْكَرِ

উচ্চারণ : ইন্নাস সলাতা তানহা আনিল ফাহ্শাই ওয়াল মুনকার।

অর্থ : অবশ্যি নামায অশ্লীল ও অসৎ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখে। (সূরা ২৯ আনকাবুত : আয়াত ৪৫)

حَافِظُواْ عَلَى الصَّلَوٰتِ وَا الصَّلوٰةِ الْوُسْطٰى وَقُوْمُوْا لِلّٰهِ

উচ্চারণ : হাফিজু আ’লাস সলাওয়াতিল উসত্বা ওয়া ক্কুমুলিল্লাহ।

অর্থ : তোমাদের নামাযগুলো সংরক্ষণ করো, বিশেষ করে এমন নামায যাতে নামাযের সমস্ত গুণের সমন্বয় ঘটেছে। (বাকারাহ : আয়াত ২৩৮)

فَاِنْ تَابُوْا وَاَقَامُوْا الصَّلوٰةَ وَءَاتَوُ اْاُلزّٰكَوةَ فَخَلُّوْا سَبِيْلَهُ اِنَّ اللَّهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ

উচ্চারণ:ফাইন তাবু ওয়া আকামুস সালাতা ওয়াআতাউয যাকাতা ফাখালুু সাবিলাহ ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহীম।

অর্থ : আর যদি তারা তাওবা করে, নামায কায়েম করে এবং যাকাত আদায় করে তাহলে তাদের পথ ছেড়েদাও নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা ৯ তাওবা : আয়াত

ইসলামের সবচেয়ে বড় আনুষ্ঠানিক ইবাদত নামায

নামাজই হচ্ছে ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ আনুষ্ঠানিক ইবাদত এবং ইসলামের প্রতীক। মহান আল্লাহ্ বলেন,

اَ لَّذِيْنَ يُؤْمِنُوْنَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيْمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُوْنَ

আল্লাযিনা ইউঁমিনুনা বিলগাইবি ওইউক্বিমুনাস সালাতা ওমিম্মা রাযাকনা হুম ইউনফিকুন।

অর্থ : মুত্তাকী তারা যারা গায়েবে ঈমান রাখে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। (সূরা- ২ আল বাকারাহ : আয়াত ৩)

এভাবে কালামে পাকের ৮২ জায়গায় নামায কায়েম করতে বলা হয়েছে। নামায কায়েমের ব্যাপক অর্থ হলো নামাযে যে কালামে পাক তেলাওয়াত করা হয় সেই কালামে পাকের বিধি-বিধান অনুযায়ী ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। হাদীসে নামাযকে দ্বীনের খুঁটিও বলা হয়েছে। খুঁটি ছাড়া যেমন ঘর নির্মাণ করা যায়না, তেমনি নামায ছাড়া সমাজ বিনির্মাণ করা যায়না; দ্বীন পরিপূর্ণ হয়না। কালেমার সাক্ষ্য দেয়ার পর নামাযই হচ্ছে ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ বা রুকন। এমনকি আল্লাহ পাক নামাযকে ঈমান নামেও অভিহিত করেছেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন :

وَمَا كَانَ اَللهُ لِيُضِيْعَ إِيْمَانَكُمْ ۚ إِنَّ اللهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوْفٌ رَّحِيْمٌ

ওমা কানাল্লাহু লিইউদিয়া ঈমানাকুম। ইন্নাল্লাহা বিন নাসি লা রাঊফুর রহিম।

অর্থ : আল্লাহ্ এরূপ নন যে, তিনি তোমাদের ঈমান (নামায) নষ্ট করে দিবেন। (সূরা-২ আল বাকারাহ : আয়াত ১৪৩)

এ আয়াতে নামাযকে রূপক অর্থে ঈমান বলা হয়েছে। যেহেতু ঈমানের বহি:প্রকাশ ও দাবি হলো নামায আদায় করা, যদিও নামায না পড়ে অস্বীকার না করলে ঈমান চলে যায় না। অবশ্য এতে ঈমান দুর্বল হয়ে যায়। সুতরাং ঈমানের ওপর নামাযের প্রভাব অনস্বীকার্য। ইসলামের যাবতীয় অবশ্য পালনীয় বা ফরয বিধানগুলো জিবরাঈল আলাইহিস সালাম মারফত নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর নাযিল করা হয়েছে। কিন্তু নামায এর ব্যতিক্রম। নামাযের জন্য তাঁকে মহান আল্লাহ্র দরবারে আমন্ত্রণ জানিয়ে স্বসম্মানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে মহিমান্বিত আল্লাহ্ তাঁর সাথে কথোপকথন করেন। এবং তাঁর উম্মতের প্রতি ৫০ ওয়াক্ত নামায ফরয করেন। অত:পর মূসা আলাইহিস সালামের পরামর্শে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বার বার সুপারিশে তা কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্তে সীমাবদ্ধ করা হয়, যার নেকি ৫০ ওয়াক্ত নামাযের সমান।

হযরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন : মি‘রাজ রজনীতে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরয হয়েছিল। পরে তা কমিয়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত করা হয়। এরপর বলা হয়, হে মুহাম্মদ! আমার কথায় কোনো রদবদল হয় না। আপনার জন্য এ পাঁচ ওয়াক্তের সওয়াব পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমান। (জামে আত-তিরমিযী)

রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদিও ফরয ইবাদত। আপনি সার্বিকভাবে সুস্থ থাকলে বছরে একমাস রোযা আপনাকে রাখতেই হবে। আর যদি অসুস্থ থাকেন বা মুসাফির হন, তাহলে পরবর্তীতে তা কাযা করা যাবে বা অন্য কোনো উপায়ে রোযার ফিদিয়া কাফ্ফারা আদায় করা যাবে। যেমন মিসকীনদের পেটভরে আহার করানো, খাবার দান করা ইত্যাদি। অপরদিকে সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য হজ্জ ফরয। যারা বাইতুল্লাহ শরীফ পর্যন্ত যাওয়ার আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য রাখেন। যিনি সামর্থ্য রাখেননা, তার জন্য হজ্জ ফরয নয়। এ ব্যাপারে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

وَ لِلّٰهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيْلًا ۚ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِيْنَ

উচ্চারণ : ওয়ালিল্লাহি আলান নাসি হিজ্জুল বাইতি মানিস তাত্বাআ ইলাইহি সাবিলান। ওয়ামান কাফারা ফাইন্নাল লাহা গানিইউন আনিল আলামিনা।

অর্থ : যারা বাইতুল্লাহ পর্যন্ত যাওয়ার সামর্থ্য রাখে, তাদের উপর হজ্জ সম্পন্ন করা আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আরোপিত হক (অধিকার)। আর যে ব্যক্তি এ নির্দেশ মেনে চলতে অস্বীকার করে, তার জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ্ সমগ্র সৃষ্টি জাহানের মুখাপেক্ষী নন। (সূরা ৩ আল ইমরান : আয়াত ৯৭)

অপরদিকে হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : হজ্জ জীবনে একবারই করতে হবে। কেউ যদি অতিরিক্ত করে, তাহলে তার জন্য তা নফল হবে। (মুসনাদে আহ্মাদ ও আন-নাসায়ী)

তৃতীয় ফরয হচ্ছে যাকাত প্রদান বা আদায় করা। কুরআন মাজীদের বহু জায়গায় নামায কায়েম করার সাথে সাথে যাকাত আদায়ের কথা বলা হয়েছে। এই নামায ও যাকাত প্রতি যুগেই দ্বীন ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃত হয়ে আসছে।

অন্যান্য নবীগণের মতো বনী ইসরাঈলের নবীরাও এর প্রতি কঠোর তাগিদ দিয়েছেন। কারো নিকট নিসাব পরিমাণ স্বর্ণ (সাড়ে সাত ভরি বা ৮৭.৪৫ গ্রাম), রূপা (সাড়ে ৫২ ভরি বা ৬১২.১৫ গ্রাম) বা টাকা-পয়সা কিংবা ব্যবসায়িক মাল আছে যা এক বছরকাল স্থায়ী থাকে, এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর এর যাকাত আদায় করা ফরয হয়। এ ফরয আদায় করতেই হবে। নাহলে বড় গুনাহগার হতে হবে, ভয়ানক শাস্তি পেতে হবে। যাকাত ধনীদের ধনে গরীবের হক। যাকাত না দিলে গরীবের সম্পদ নিজের কাছে রাখা হয়। অন্যের টাকা নিজের কাছে না রাখাই ভালো। কিন্তু নামাযের বেলায় আক্রমনের ভয় আছে সেখানেও নামায আদায়ের হুকুম আছে কৌশলগতভাবে। এমনকি অসুস্থ থাকলেও নামায পড়ার বিধান আছে। দাঁড়িয়ে নামায পড়তে অক্ষম হলে বসে নামায পড়বেন, বসে পড়তে অক্ষম হলে শুয়ে পড়বেন অথবা ইশারা ইঙ্গিতে পড়বেন। তবুও মাফ নেই।

ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাঁড়িয়ে নামায পড়। যদি অক্ষম হও, বসে নামায পড়। আর তাও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে ইশারা করে নামায পড়। (সহীহ আল বোখারী)

শুধু অপবিত্র অবস্থায় নামায পড়া যাবে না। কারণ শারীরিক বা দৈহিক পবিত্রতা নামায আদায়ের অন্যতম শর্ত। আল্লাহ্র রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনÑসালাতের চাবি হলো তাহারাত বা পবিত্রতা।         (জামে আত-তিরমিযী)

তবে যদি কোনো অবস্থায় এমন হয়, নামাযের ওয়াক্ত শেষ হবার পূর্বে তাহারাত বা পবিত্রতা অর্জনের জন্য পানি পাওয়া না যায় কিংবা তায়্যাম্মুম করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রেও নামায আদায় করতে হবে তবে কিরাতের সময় চুপ থাকবে, আর পরবর্তীতে ঐ নামায পুনরায় পড়ে নিবেন।

নামাযের সময়

فَسُبْحَانَ اللهِ حِيْنَ تُمْسُوْنَ وَحِيْنَ تُصْبِحُونَ ﴿١٧﴾ وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَات ِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّاوَحِيْنَ تُظْهِرُوْنَ ١٨

উচ্চারণ : ফাসুব্হানাল্লাহি হীনা তুম্সূনা ওয়াহিনা তুছ্বিহুন। ওয়ালাহুল হামদু ফিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি ওয়া আশিইয়ান ওয়াহিইনা তুজ্হিরুন।

অর্থ : অতএব তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর। নামায পড় সন্ধ্যায় (মাগরিব ও এশায়) ও সকালে (ফজর) এবং বৈকালে (আছর) ও দ্বিপ্রহরে (জোহর)। আসমান ও জমীনে সকল প্রশংসা তারই। সূরা ৩০ রুম : আয়াত ১৭ ও ১৮)

فَاصْبِرْ عَلٰى مَا يَقُوْلُوْنَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوْبِهَا ۖ وَمِنْ آنَاءِ اللَّيْلِ فَسَبِّحْ وَأَطْرَافَ النَّهَارِ لَعَلَّكَ تَرْضَىٰ ﴿١٣٠﴾

উচ্চারণ : ফাসবির আলা মা ইয়াক্বুলুনা ওয়াসাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা ক্বাবলা ত্বুলু’ইশ শামসি ওয়াক্বাবলা গুরুবিহা ওয়ামিন আন্নাইলাইলি কাসাব্বিহ ওয়াআত্বরাফান নাহারি লা’আল্লাকা তারদ্বা।

অর্থ : সুতরাং এরা যা বলে সে বিষয় আপনি ধৈর্য-ধারণ এবং আপনার পালন কর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন, রাত্রের কিছু অংশে (মাগরিব ও এশায়) ও দিবা ভাগে (যোহর) সম্ভবতঃ আপনি তাতে সন্তুষ্ট হবেন। (সূরা ২০ তোয়াহা : আয়াত ১৩০)

সময়মতো নামায পড়া উত্তম

সময়মত নামায আদায় করা ফরয। আল্লাহ পাক কুরআনে ইরশাদ করেন :

إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ كِتَابًا مَّوْقُوْتًا

উচ্চারণ : ইন্নাস-সালাতা কানাত আলাল মুমিনীনা কিতাবাম মাওক্বুতা।

অর্থ : নির্ধারিত সময়ে সালাত কায়েম করা মুমিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য। (সূরা ৪ : আন নিসা : আয়াত ১০৩)

জামায়াতের সাথে নামায না পড়ার পরিণাম

يَوْمَ يُكْشَفُ عَن سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُوْدِ فَلَا يَسْتَطِيْعُونَ ﴿٤٢﴾ خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ ۖ وَقَدْكَانُوا يُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُوْدِ وَهُمْ سَالِمُونَ  ٤٣

উচ্চারণ : ইয়াওমা ইউকশাফু আন সাক্কিন ওয়া ইউদ আউনা ইলাস সুজুদি ফালা ইয়াস তাত্বীউন। খাশিআতান আবসারুহুম তারহাকুহুম জিল্লাতুন ওয়া ক্বাদকানু ইউদ আউনা ইলাসসুজুদি ওয়া হুম সালিমুন।

অর্থ : আল্লাহ বলেন : পায়ের গোছা পর্যন্ত উম্মুক্ত করার দিনের কথা স্মরণ কর, সেদিন তাদেরকে সিজদা করতে বলা হবে, অতঃপর তারা সক্ষম হবে না। তাদের দৃষ্টি অবনত থাকবে, তারা লাঞ্ছনাগ্রস্ত হবে,অথচ যখন তারা সুস্থ অবস্থায় ছিল, তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহবান জানানো হতো। কিন্তু তারা সাড়া দিত না (সূরা ৬৮ কালাম : আয়াত ৪২-৪৩)

এ আয়াতের প্রথমাংশে কিয়ামতের দিনের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। তাদের ওপর অবমাননার ছাপ থাকবে। অথচ দুনিয়ার জীবনে তাদেরকে সেজদা করতে ডাকা হতো ইব্রাহিম তাইমী এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন: অর্থাৎ আযান ও ইকামাত দ্বারা তাদেরকে ফরয নামাযের দিকে ডাকা হতো। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব বলেন: তারা আযান শুনতো, অথচ সুস্থ সবল থাকা সত্ত্বেও জামায়াতে হাজির হতো না। কা’ব আল আহবার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: এ আয়াত কেবলমাত্র নামাযের জামায়াতে অনুপস্থিত থাকা লোকদের প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছিল। এ থেকে বিনা ওযরে জামায়াতে উপস্থিত না হওয়ার কী ভয়ংকর পরিণাম, তা জানা যায়।

এ হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, একজন সুস্থ মানুষের পক্ষে জামায়াতে হাজির না হওয়া কোন ক্রমেই বৈধ হতে পারে না। কেননা রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন অন্ধ ব্যক্তিকেও বাড়িতে নামায পড়ার অনুমতি দেননি।

জামায়াতের সাথে নামায না পড়ার পরিণাম সংক্রান্ত কতিপয় হাদীস :

১.উবাই ইবনে কা’আব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর পর দুইদিন ফযর নামাযের সালাম ফিরিয়ে আমাদের জিজ্ঞেস করেন : ‘অমুক ব্যক্তি কি নামাযে হাযির হয়েছে? সবাই বললো : জ্বী না। তিনি আবার বললেন : অমুক উপস্থিত হয়েছে কি? লোকেরা বললো : জ্বী না। তিনি বললেন : এই দুইটি (ফজর ও এশার)Ñনামায মুনাফিকদের জন্য অন্যান্য নামাযের তুলনায় অধিকতর ভারী। তোমরা যদি জানতে এই দুইটি নামাযের মধ্যে কি পরিমাণ (সওয়াব) নিহিত আছে, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও নামাযে উপস্থিত হতে। (আবু দাউদ ও আন-নাসায়ী)

২.আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: আল্লাহর শপথ, আমি সাহাবীগণকে দেখেছি। (তাঁরা কখনো নামাযের জামায়াত ত্যাগ করতেন না) জামায়াত ত্যাগ করে তো কেবল সুস্পষ্ট মুনাফিক। নিশ্চয়ই সাহাবীগণের মধ্যে এমন লোকও দেখা গেছে, যাকে দু’পাশ থেকে দুজনে ভর দিয়ে ধরে মসজিদে এনেছে এবং সফের মধ্যে দাঁড় করিয়েছে। (সহীহ মুসলিম)

৩.উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মসজিদে আযান হবার পর যে ব্যক্তি বিশেষ জরুরি কাজ ছাড়া বেরিয়ে যায় এবং মসজিদে প্রত্যাবর্তণের ইচ্ছা রাখে না, সে মুনাফিক। (মিশকাত)

৪. ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আমি দেখেছি সাহাবায়ে কিরামের সমাজকে। সে সমাজে মুনাফিক এবং রোগাক্রান্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউই জামায়াতে উপস্থিত না হয়ে থাকতো না। (সহীহ মুসলিম)

৫.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমার ইচ্ছা হয়, নামাযের নির্দেশ জারি করি, আর এক লোকের ইমামতিতে নামাযের জামায়াত শুরু হোক, অতঃপর আমি শুকনো লাকড়ি বহনকারী এক দল লোক নিয়ে ঐ লোকদের বাড়ীতে গিয়ে তাদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেই-যারা জামায়াতে হাযির হয়নি। (সহীহ বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

৬.হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করা হল, এক লোক সারা দিন রোযা রাখে এবং সারা রাত নামায পড়ে, কিন্তু ফরয নামাযের জামায়াতে শরীক হয় না, তার কি ফয়সালা? তিনি বললেন: এ অবস্থায় মারা গেলে সে দোযখে যাবে। (জামে আত-তিরমিযী)

৭.হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আরো বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তিন ব্যক্তিকে আল্লাহপাক অভিশাপ দিয়েছেন :

১.যে নেতাকে লোকেরা অপছন্দ করে,

২. যে মহিলা তার উপর স্বামী অসন্তুষ্ট থাকা অবস্থায় রাত যাপন করে,

৩.নামাযের আযান শ্রবণ করেও যে জামায়াতে উপস্থিত হয় না। (হাকেম)

৮.হযরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন : কিয়ামাতের দিন যে ব্যক্তি মুসলমান হিসেবে আল্লাহর দীদার লাভ করতে চায়, সে যেন প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায ঠিকমত আদায় করে। কেননা আল্লাহ তোমাদের নবীর জন্য হিদায়াতের বিধানাবলী প্রবর্তন করে দিয়েছেন। আর এ নামাযগুলো হচ্ছে হিদায়াতের অন্যতম পন্থা। অনেকের মতে তোমরাও যদি নিজ গৃহে নামায পড়, তবে যেন নবীর পথ ছেড়েদিলে। আর তোমরা যদি নবীর পথ ছেড়ে দাও, তাহলে পথভ্রষ্ট হবে। আমার জানামতে, মুনাফিক বা অসুস্থব্যক্তি ছাড়া কেউ জামায়াতে শামিল হতে অবহেলা করে না। অথচ যে ব্যক্তি দু’জনের কাঁধে ভর দিয়ে মসজিদ পর্যন্ত আসে, অবশ্যই সে জামায়াতে নামাযের জন্যই আগমন করে। অসুস্থ রবী বিন খায়সাম দু’জনের কাঁধে ভর দিয়ে মসজিদে এসে জামায়াতে শরীক হতেন। তাঁকে বলা হতো, আপনি তো অক্ষম, আপনার ঘরে বসে নামায পড়া তো জায়েয। তিনি বলতেন : আমি তো আযান শুনতে পাই। অতএব যে ব্যক্তি জামায়াতে শরীক হওয়ার শক্তি আছে, তাকে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও শরীক হতে হবে। কোন কোন বুযুর্গ বলতেন : জামায়াত তরক শুধু পাপের কারণে হয়ে থাকে।

৯.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। কোন সময় নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সংখ্যক লোককে দেখতে পেলেন না। তিনি বললেন : আমি স্থিরভাবে মনস্থ করেছি যে, তাদের নিকট চলে যাই, যারা নামাযে অনুুপস্থিত থাকে, অতঃপর কাঠ জমা করে তাদের ঘর জ্বালিয়ে দিতে বলি। (সহীহ বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

১০.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি মায়ের ডাক শুনলো কিন্তু ওজর না থাকা সত্বেও জামায়াতে হাজির হলো না, তার একাকি পড়া নামায কবুল হবেনা। জিজ্ঞেস করা হলো যে, কি ধরণের ওজর? রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, রোগ অথবা বিপদের আশঙ্কা। (আবু দাউদ)

১১.যে ব্যক্তি আযান শুনল এবং এর অনুসরণের পথে অর্র্থাৎ-নামাযের জামায়াতে হাযির হবার ব্যাপারে কোন ওযরই প্রতিবন্ধক রূপে না দাঁড়ায়, তার ঘরে পড়া কোন নামায কবুল হবে না। প্রকৃত ওযর কি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: ভয় কিংবা রোগ। (আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)

১২.হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তিন ব্যক্তির উপর আল্লাহর অভিশাপ ১. সেই ইমাম যার উপর সমাজের লোক নারায, ২. স্বামী অসন্তুষ্ট অবস্থায় রাত্রিযাপনকারিনী স্ত্রী এবং ৩. যে ব্যক্তি হাইয়্যা আলাস সালাহ এবং হাইয়্যা আলাল ফালাহ শুনেও তাতে সাড়া দেয় না। অর্থাৎ জামায়াতে উপস্থিত হয় না। (মুসতাদরক হাকিম)

১১.রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: অমুসলিমদের ও আমাদের মাঝে যে অঙ্গীকার, তা হচ্ছে নামায সংক্রান্ত। নামাযকে যে ত্যাগ করলো, সে কাফের। তিনি আরো বলেছেন: বান্দার ও তার কাফের হওয়ার মাঝে কেবল নামায তরকের ব্যবধান।

কুরআন মজীদে বলা হয়েছে, আল্লাহভীরু লোক ছাড়া অন্যদের জন্য নামায ভারী বোঝার মতো। অন্যান্য হাদীসে বলা হয়েছে, মুনাফিকরা লোক দেখানোর জন্য নামায পড়ে। কেউ না দেখলে নামায পড়ে না। কেউ দেখলে বাধ্য হয়ে পড়ে।

নামায না পড়ার পরকালীন শাস্তি

مَاسَلَكَكُم ْفِي سَقَرَ ﴿٤٢﴾ قَالُوْ الَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّيْنَ ﴿٤٣﴾

মাসালাকাকুম ফি সাক্বারা। ক্বালু লাম নাকু মিনাল মুসল্লিন।

জাহান্নামবাসীদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন : জান্নাতবাসী তাদেরকে জিজ্ঞেস করবে, কোন কারণে তোমরা দোজখে গেলে? তারা জবাব দেবে : আমরা নামায আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না ।

মহান আল্লাহ বলেন :

فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوْا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوْا الشَّهَوَاتِ ۖ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا ﴿٥٩﴾

উচ্চারণ : ফা খালাফা মিম বা’দিহিম খালফুন আদা’উস সলাতা ওয়াত্তাবায়ুশ শাহাওয়াতি ফাসাওফা ইয়াকাউনা গাইয়ান।

অর্থ : তাদের পরে যারা স্থলাভিষিক্ত হল তারা নামায নষ্ট করল আর নফসের লালসা-বাসনার অনুকরণ করলো। অতএব সেই দিন বেশী দুরে নয় যখন তারা এই কুকর্মের শাস্তি ভোগ করবে। অবশ্য তারা ব্যতীত যারা তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্মশীল হয়েছে। (সূরা ১৯ মরিয়াম : আয়াত ৫৯)

মহান আল্লাহ বলেন :

فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّيْنَ ﴿٥﴾ الَّذِيْنَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ ﴿٥﴾ الَّذِيْنَ هُمْ يُرَاءُوْنَ ﴿٦﴾

উচ্চারণ : ফা ওয়াইলুল লিল মুসাল্লিন। আল্লাযিনা হুম আন সলাতিহিম সাহুন। আল্লাযিনা হুম ইউরাউন।

অর্থ : সুতরাং ‘ওয়াইল’ নামক দোযখের কঠিন শাস্তি সেই নামায় আদায়কারীদের জন্য যারা তাদের নামায সম্পর্কে উদাসীন। (সূরা ১০৭ মাউন : আয়াত ৪-৫)

মহান আল্লাহ বলেন :

مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ ﴿٤٢﴾ قَالُوْا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّيْنَ ﴿٤٣﴾ وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِيْنَ ﴿٤٤﴾ وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ ﴿٤٥﴾ وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّيْنِ ﴿٤٦﴾ حَتَّىٰ أَتَا نَا الْيَقِيْنُ ﴿٤٧﴾ فَمَا تَنفَعُ هُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِيْنَ ﴿٤٨﴾

উচ্চারণ : মাসালাক্বাকুম ফি সাক্বারা। ক্বালু লাম নাকু মিনাল মুসল্লিন। ওয়ালাম নাকু নুতইমুল মিসকিন। ওয়াকুন্না নাখুদু মা’আআল খাইদিন।ওয়া কুন্না নুকাজ্জিবু বি ইয়াওমিদ্দিন। হাত্তা আতানাল ইয়াক্বিন। ফামাতানফাউহুম শাফায়াতুআশ্শাফিইন।

অর্থ : তোমাদেরকে কিসে সাকারে অর্থাৎ জাহান্নামে নিক্ষেপ করছে? উত্তরে তারা বললেন; আমরা মুছল্লিদের অন্তর্ভূক্ত ছিলাম না, (অর্থাৎ আমরা নামায পড়তাম না) আমরা অভাবীদেরকে অন্ন দান করতাম না,আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করে থাকতাম এবং আমরা কর্মফল দিবসকে অস্বীকার করতাম। শেষ পর্যন্ত আমাদের নিকট নিশ্চিত মৃত্যুর আগমন গটল। এমতাবস্থায় সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন উপকারে আসবে না। (সূরা ৭৪ আল মুদ্দাছছির : আয়াত ৪২-৪৮)

নামায না পড়ার পরকালীন শাস্তি সম্পর্কে রাসূলের বাণী :

১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমার ইবনুল আছ কর্তৃক নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে, একদা তিনি নামাযের প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করলেন, বললেন : যে লোক নামায সঠিকভাবে আদায় করবে না তার জন্য নূর, অকট্য দলীল এবং মুক্তি কিছুই হবে না বরং কিয়ামতের দিন তার পরিণতি হবে কারুন, ফিরাউন হামাম এবং উবাই ইবনে খালাফ-এর সাথে। (মুসনাদে আহমদ, দারেমী ও সুনানে বায়হাকী)

২.একদা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের জন্য দু‘আ করলেন : হে আল্লাহ! আমাদেরকাউকে বঞ্চিত ও হতভাগা করো না, অতঃপর উপস্থিত সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রশ্ন করলেন: ইয়ারাসূলুল্লাহ! কে সে ব্যক্তি? তিনি বললেন: নামায ত্যাগকারী।

৩.বর্ণিত আছে, বনী ইসরাঈলের এক মহিলা হযরত মূসা আলাইহিস সালামের নিকট এসে বলল : হে আল্লাহর নবী! আমি এক জঘন্য গুনাহ করেছি, আতঃপর তা থেকে আল্লাহর কাছে তাওবা করেছি। আপনি দু‘আ করুন আল্লাহ যেন আমাকে মাফ করে দেন এবং আমার তাওবা কবুল করেন। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি পাপ করেছ? সে বলল : আমি যিনায় লিপ্ত হয়ে একটি সন্তান প্রসব করেছি এবং তাকে হত্যা করে ফেলেছি। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম বললেন : হে পাপিষ্ঠ! এ মুহূর্তে এখান থেকে চলে যাও। নচেৎ আকাশ থেকে আগুন এসে আমাদেরকেও জ্বালিয়ে ফেলবে। মহিলাটি ভগ্ন হৃদয়ে চলে গেল। তখনি জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এসে বললেন : হে মুসা! আল্লাহ জানতে চেয়েছেন, কি কারণে আপনি এ তাওবাকারিণীকে দূর করে দিলেন : হে জিবরাঈল! এর চেয়েও বড় পাপী আর কে হতে পারে? জিবরাঈল আলাইহিস সালাম বললেন : ইচ্ছাকৃতভাবে নামাযত্যাগকারী।

৪.হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : মানুষ যতক্ষণ এক আল্লাহকে মা’বুদ হিসাবে মেনে না নেবে, নামায কায়েম ও যাকাত আদায় না করবে, ততক্ষণ তাদের সাথে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট। এ কাজগুলো যারা করবে, তাদের রক্ত ও সম্পদ আমার হাত থেকে নিরাপদ। তবে ন্যয়সঙ্গত কারণ থাকলে ভিন্ন কথা। তাদের হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব আল্লাহতায়ালার। এ হাদীসের ব্যখ্যা প্রসঙ্গে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন : নামায ত্যাগকারী ইসলামের প্রদত্ত কোন সুযোগ সুবিধা ও নিরাপত্তা ভোগ করতে পারবেনা। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

৫.রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি বেনামাযী হয়ে আল্লাহর কাছে যাবে, তার অন্যান্য সৎ কাজকে আল্লাহ গ্রহন করবেন না। (তাবরানী)

৬.রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন : কোন বান্দা যখন প্রথম ওয়াক্তে নামায পড়ে তখনসেই নামায একটি আলোকরশ্মি ছুঁড়তে ছুঁড়তে আরশ পর্যন্ত পৌছে যায়। অতঃপর কিয়ামত পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে যে, তুমি যেমন আমাকে রক্ষা করেছেন। আল্লাহ তেমন তোমাকে রক্ষা করুন! (তাবরানী)

নামায ত্যাগ করা কুফরি

وَماَمَنَعَهُم ْ اَن تُقْبَلَ مِنْهُمْ نَفَقَتُهُمْ اَلَّا اَنَّهُمْ كَفَرُوْا بِاَللهِ وَبِرَسُوْلِهِ وَلَا تَاتُوْنَ الصَّلوٰةَ اِلَّا وَهُمْ كُسَالَى وَلَا يُنْفِقُونَ اِلَّا وَهُمْ كَرِهُوْن

উচ্চারণ : ওয়ামা মানাআহুম আন তুক্ববালা মিনহুম নাফাক্বাতুহুম আল্লা আন্নাহুম কাফারু বিল্লাহি ওয়া বিরাসূলিহি ওয়া লা তাতুনাস্সালাতা ইল্লা ওয়াহুম কুসালা ওয়ালা উনফিকুনা ইল্লা ওয়াহুম কারিহুন।

অর্থ : তাদের দেয়া সম্পদ গৃহীত না হবার এছাড়া আর কোন কারণ নেই যে, তারা আল্লাহ ও তার রসূলের সাথে কুফরী করেছে, নামাযের জন্য যখন আসে আড়মোড় ভাংতে আসে এবং আল্লাহর পথে খরচ করলে তা করে অনিচ্ছাকৃত।

এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :

১.যাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বান্দা ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত পরিত্যাগ। (সহীহ মুসলিম)

২.বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের ও তাদের (মুনাফিকদের) মধ্যে যে অঙ্গীকার আছে, তাহলো সালাত । সুতরাং যে সালাত ত্যাগ করবে সে (প্রকাশ্যে) কুফরি করছে। (মুসনাদে আহমদ, জামে আত-তিরমিযী, আন-নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ)

৩.একবার রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হে আল্লাহ আমাদের মধ্যে কাউকে বঞ্চিত হতভাগা বানিওনা, তরপর উপস্থিত সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন : তোমরা কি জান বঞ্চিত হতভাগা কে? সাহাবীগণ বললেন : হে আল্লাহর রাসূল! সে কে ? তিনি বললেন: নামায তরককারী।

৪.অপর এক হাদীসে আছে, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের মুখ কালো হবে, তারা হলো নামায তরককারী। জাহান্নামে মালহাম’নামক একটা অঞ্চল আছে। সেখানে বহু সাপ থাকে। তার প্রতিটি সাপ উটের ঘাড়ের মত মোটা এবং প্রায় এক মাসের পথের সমান লম্বা। এই সাপ নামায তরককারীকে দংশন করবে। এর বিষ তার শরীরে ৭০ বছর ধরে যন্ত্রণা দিতে থাকবে। অবশেষে তার গোশত খসে খসে পড়বে।

৫.রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : অমুসলিমদের ও আমাদের মাঝে যে অঙ্গীকার, তা হচ্ছে নামায সংক্রান্ত। নামাযকে যে ত্যাগ করলো, সে কাফের। তিনি আরো বলেছেন : বান্দার ও তার কাফের হওয়ার মাঝে কেবল নামায তরকের ব্যবধান।

৬.ইমাম ইবনে হাযম বলেছেন : আল্লাহর সাথে শরীক করা ও অন্যায়ভাবে কোন মুমিনকে হত্যা করার পরেই সবচেয়ে বড় গুনাহর কাজ হলো নামায তরক করা।

৭. ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন : যখন কেউ ফযর ও এশার নামাযে অনুপস্থিত থাকতো, তখন আমরা মনে করতাম সে মুনাফিক হয়ে গেছে।

ইব্রাহিম নাগয়ী, আইয়ূব সাখতিয়ানী, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আহমাদ ইবনে হাম্বল ও ইসহাক বিন রাহয়েল মতে বিনা ওযরে স্বেচ্ছায় নামায তরককারীকে নামাযের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর কাফের গণ্য করতে হবে।

আল কুরআনে নামায কায়েমের নির্দেশ

নামায সম্পর্কে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতা’আলা বলেন

وَ أَقِيْمُوالصَّلَاةَ وَآتُوْا الزَّكَاةَ وَ ارْكَعُوْ امَعَ الرَّاكِعِيْنَ

উচ্চারণ : ওয়া আক্বীমুস সালাতা ওয়া আতুয-যাকাতা, ওয়ারকা‘য়ু মা‘আর রাকি‘ঈন।

অর্থ : তোমরা নামায কায়েম করো ও যাকাত আদায় করো এবং যারা আমার সামনে অবনত হচ্ছে তাদের সাথে তোমরাও অবনত হও (রুকূকারীদের ন্যায় কুকূ কর)। (সূরা ২ আল বাকারাহ : আয়াত ৪৩)

وَأَقِيْمُوْاالصَّلَاةَوَآتُواالزَّكَاةَ ۚ وَمَاتُقَدِّمُوْا لِأَنفُسِكُمْ مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِنْدَ اللهِ ۗ إِنَّ اللهَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِيْرٌ

উচ্চারণ : ওয়া আক্বীমুস সালাতা ওয়াআতুয-যাকাতা, ওয়ামা তুক্বাদ্দিমু লিআনফুসিকুম্ মিন খায়রিন্ তাজিদূহু ইনদাল্লাহি ইন্নাল্লাহা বিমা তা‘মালূনা বাসীর।

অর্থ : তোমরা সালাত কায়েম করো ও যাকাত আদায় করো এবং নিজেদের পরকালের জন্য তোমরা যাকিছু সৎকাজ করে আগে পাঠিয় দেবে, তা সবই আল্লাহ্র ওখানে মজুদ পাবে। তোমরা যাকিছু করো সবই আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে। (সূরা ২ আল বাকারাহ : আয়াত ১১০)

حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ

উচ্চারণ : হাফিজু ‘আলাস সলাওয়াতি ওয়াসসালাতিল উস্ত্বা।

অর্থ : তোমরা নামাযগুলো সংরক্ষণ করো (নামাজের প্রতি যতœবান হও), বিশেষ করে মধ্যবর্তী (আসরের) নামাযের। (সূরা ২ আল বাকারাহ : আয়াত ২৩৮)

وَقَالَ اللهُ إِنِّي مَعَكُمْ ۖ لَئِنْ أَقَمْتُمُ الصَّلَاةَ وَآتَيْتُمُ الزَّكَاةَ وَآمَنتُم بِرُسُلِي وَعَزَّرْتُمُو هُمْ وَأَقْرَضْتُمُ اللهَ قَرْضًا حَسَنًا لَّأُكَفِّرَنَّ عَنكُم ْسَيِّئَاتِكُمْ وَ لَأُدْخِلَنَّكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ

উচ্চারণ : ওয়াক্বলাল্লাহু ইন্নি মা‘আকুম, লাইন্ আক্বাম্তুমুস্সালাতা ওয়া আতাইতুমুয্ যাকাতা ওয়াআমানতুম্ বিরুসূলী ওয়াআয্যারতুমূহুম, ওয়াআক্বরাদ্ব তুমুল্লহা ক্বরদ্বান হাসানাল্ লা’উকাফফিরান্না ‘আনকুম সাইয়্যিয়াতিকুম ওয়ালা উদখিলান্নাকুম জান্নাতিন তাজ্রী মিন্ তাহ্তিহাল আনহার।

অর্থ : আর আল্লাহ্ বলেছিলেন, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি, যদি তোমরা নামায কায়েম করো, যাকাত দাও, আমার রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনো ও তাদেরকে সম্মান করো এবং আল্লাহকে ‘করযে হাসানা’ (উত্তম ঋণ) দিতে থাকো, তাহলে নিশ্চিত বিশ্বাস করো আমি তোমাদের থেকে তোমাদের পাপগুলো মোচন করে দেবো এবং তোমাদের এমন সব বাগানে (জান্নাতে) প্রবেশ করাবো যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। (সূরা ৫ আল মায়েদাহ : আয়াত ১২)

وَأَنْ أَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَاتَّقُوهُ ۚ وَهُوَ الَّذِي إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ

উচ্চারণ : ওয়াআন আক্বীমুস্ সালাতা ওয়াত্তাকূহু ওয়াহুয়াল্লাযী ইলাইহি তুহ্শারূন।

অর্থ : নামায কায়েম করো এবং তাঁর নামফরমানী করা থেকে দূরে থেকো। তাঁরই কাছে তোমাদের সমবেত করা হবে। (সূরা ৬ আন‘আম : আয়াত ৭২)

وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ ۗ وَبَشِّرِالْمُؤْمِنِينَ

উচ্চারণ : ওয়াআক্বীমুস্ সালাতা ওয়াবাশ্শিরিল্ মু’মিনীন।

অর্থ নামায কায়েম করো আর ঈমানদার লোকদের সুসংবাদ দাও। (সূরা ১০ ইউনুস : আয়াত ৮৭)

وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ ۚ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ۚ ذَ‌ٰلِكَ ذِكْرَىٰ لِلذَّاكِرِينَ

উচ্চারণ : ওয়া আক্বীমিস্সালাতা তরাফাইন নাহারি ওয়া যুলাফাম মিনাল্ লাইলি, ইন্নাল হাসানাতি য়ুয্হিবনাস সায়্যিয়াতি যালিকা যিক্র লিয্ যাকিরীন।

অর্থ : নামায কায়েম করো দিনের দু’প্রান্তে এবং রাতের প্রথমাংশে। নিশ্চয়ই সৎকাজগুলো অসৎকাজকে দূর করে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, এটা তাদের জন্য এক উপদেশ। (সূরা ১১ হুদ : আয়াত ১১৪)

أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَىٰ غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ ۖ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا

উচ্চারণ : আক্বীমিস্ সালাতা লিদুলুকিশ্ শামসি ইলা গাসাক্বিল্ লাইলি ওয়াকুরআনাল ফাজরি, ইন্না কুরআনাল্ ফাজরি কানা মাশহূদা।

অর্থ : নামায কায়েম করো সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার সময় থেকে নিয়ে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত। আর ফজরে কুরআন পড়ার ব্যবস্থা করো। নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন পাঠ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে (আল্লাহর ফিরিশ্তাগণ উপস্থিত হয়ে থাকেন)। (সূরা ১৭ বনী ইসরাঈল : আয়াত ৭৮)

إِنَّنِي أَنَا اَللهُ لَاإِلـٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي

উচ্চারণ : ইন্নানী আনাল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লা আ-না ফা‘বুদনি ওয়াআক্বীমিস্ সালাতা লিযিকরী।

অর্থ : আমিই আল্লাহ্। আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। কাজেই তুমি আমার ইবাদত করো এবং আমাকে স্মরণ করার জন্য নামায কায়েম করো। (সূরা ২০ তোয়াহা : আয়াত ১৪)

فَأَقِيْمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللهِ هُوَ مَوْلَا كُمْ ۖ فَنِعْمَ الْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ النَّصِيرُ

উচ্চারণ : ফা আক্বীমুস্ সালাতা ওয়াআতুয-যাকাতা ওয়াতা‘সিমু বিল্লাহি হুয়া মাওলাকুম ফানি‘মাল্ মাওলা ওয়ানি‘মান নাসীর।

অর্থ : অতএব তোমরা নামায কায়েম করো, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে শক্তভাবে ধারন করো (অর্থাৎ আল্লাহর নিকট হতে হিদায়াত ও জীবন বিধান গ্রহণ করো)। তিনি তোমাদের অভিভাবক, কতো উত্তম অভিভাবক তিনি, কতো উত্তম সাহায্যকারী তিনি। (সূরা ২২ আল হাজ্জ : আয়াত ৭৮)

وَأَقِيْمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيْعُوا الرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ

উচ্চারণ : ওয়াআক্বীমুস্ সালাতা ওয়াআতুয-যাকাতা ওয়াআত্বির্উ রাসূলা লা‘আল্লাকুম্ তুরহামূন্।

অর্থ : নামায কায়েম করো, যাকাত দাও এবং রসূলের আনুগত্য করো। আশা করা যায় যে, তোমাদের প্রতি রহম (করুণা) করা হবে। (সূরা ২৪ আন্ নূর : আয়াত ৫৬)

مُنِيْبِيْنَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوْ هُ وَأَقِيْمُوا الصَّلَاةَ وَ لَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ

উচ্চারণ : মুনীবীনা ইলাইহি ওয়াত্তাকূহু ওয়াআক্বীমুস্ সালাতা ওয়ালা তাকূনূ মিনাল্ মুশরিকীন।

অর্থ : (প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাও একথার ওপর) আল্লাহ্ অভিমুখী হয়ে এবং তাঁকে ভয় করো, আর নামায কায়েম করো এবং মুশরিকদের মধ্যে শামিল হয়ো না। (সূরা ৩০ আর রূম : আয়াত ৩১)

فَأَقِيْمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيْعُو اللهَ وَرَسُوْلَهُ ۚ وَاللهُ خَبِيْرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ

উচ্চারণ : ফাআক্বীমুস্সালাতা ওয়াআতুয-যাকাতা ওয়াআত্বীউল্লাহ ওয়ারাসূলাহু ওয়াল্লাহু খাবীরুম্ বিমা তা‘মালূন।

অর্থ : তাহলে নামায কায়েম করো ও যাকাত দিতে থাকো এবং আল্লাহ ও রাসূলের আদেশ-নিষেধ মেনে চলতে থাকো। (মনে রেখো) তোমরা যা কিছু করো সে বিষয়ে আল্লাহ পুরাপুরি ওয়াকিফহাল। (সূরা ৫৮ আল মুজাদালাহ : আয়াত ১৩)

وَأَقِيْمُوْا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَقْرِضُواللهَ قَرْضًا حَسَنًا

উচ্চারণ : ওয়া আক্বীমুস্ সালাতা ওয়াআতুয-যাকাতা ওয়াআক্বরিদ্বুল্লাহা ক্বারদ্বান হাসানা।

অর্থ : নামায কায়েম করো, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে ‘করযে হাসানা’ দিতে থাকো (অর্থাৎ উত্তম ঋণ দাও)। (সূরা ৭৩ আল মুয্যাম্মিল : আয়াত ২০)

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

উচ্চারণ : ফাসাল্লিলি রব্বিকা ওয়ার্ন্হা।

অর্থ : সুতরাং তুমি তোমার প্রভুর জন্য নামায পড়ো এবং কুরবানী করো। (সূরা ১০৮ আল কাউসার : আয়াত ২)

اَنَا فَاعْبُدْنِ -وَاَقِمِ الصَّلَوٰةَ لِذِكْرِىْ

উচ্চারণ : আনা ফা’বুদনি ওয়া আকি¡িমস সালাতা লি যিকরি।

অর্থ : আমি (আল্লাহ) আমার ইবাদত কর। আর আমার স্মরণের জন্য নামায কায়েম করো। (সূরা ২০ তোয়াহা : আয়াত ১৪)

قُلْ يَا أَهْل َالْكِتَابِ لَسْتُمْ عَلٰى شَيْءٍ حَتَّى تُقِيمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنجِيلَ

উচ্চারণ : ক্বুল ইয়া আহলাল কিতাবি লাসতুম আলা শাইয়্যিন হাত্তা তুকিমুত্ তাওরাতা ওয়াল ইঞ্জিল।

অর্থ : হে আহলে কিতাবীগণ! তোমাদের কোনই মূল্য নেই যে পর্যন্ত না তোমরা তাওরাত এবং ইঞ্জিলকে কায়েম করবে। (সূরা ৫ মায়েদা : আয়াত ৬৭)

الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ ﴿٣﴾ أُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا ۚ لَّهُمْ دَرَجَاتٌ عِندَرَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ

উচ্চারণ : আল্লাযীনা ইয়ুক্বীমূনাস সালাতা ওয়মিম্মা রাজাক্কনাহুম ইয়ুনফিক্বুন। উলাইকা হুমুল মু’মিনুনা হাক্বক্ব¡া লাহুম দারাজ্বাতুন ইনদা রাব্বিহিম ওয়া মাগফিরাতুঁও ওয়ারিযক্বুন কারীম।

অর্থ : যারা নামায কায়েম করে এবং আমার দেয়া রিযিক থেকে ব্যয় করে। তারা হল সত্যিকার ঈমানদার। তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে রয়েছে মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক। (সূরা ৮ আনফাল: আয়াত ৩-৪)

وَالَّذِين َهُمْ عَلٰى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ ﴿٩﴾ أُولَـٰئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ ﴿١﴾ الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

উচ্চারণঃ ওয়াল্লাযীনাহুম আলা সলাওয়াতিহিম ইয়ু হাফিযুন। উলাইকা হুমুল ওয়ারিছুনা। আল্লাযীনা ইয়ারিছুনাল ফিরদাউসা হুম ফীহা খালিদূন।

অর্থ : আর যারা তাদের নামাযসমূহের হিফাযত করে তারাই হবে উত্তরাধিকারী। তারা জান্নাতুল ফেরদাউসের অধিকারী হবে। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। (সূরা ২৩ মুমিনুন: আয়াত ৯-১১)

মুমিন বান্দা ও কাফিরের মধ্যে বাহ্যিক পার্থক্য নামায

নামায ত্যাগ করলে কুফরিতে নিপতিত হওয়ার আশংকা থাকে। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায়, আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মুমিন বান্দা ও কাফিরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত পরিত্যাগ করা। (সহীহ মুসলিম)

অর্থাৎ মুমিনরা নামায পড়ে আর কাফিররা নামায পড়েনা। যেহেতু একজন মুমিন আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে সে নামায ছাড়তে পারেনা। তাই আমি বলবো, যে ব্যক্তি মুসলমান হয়েও নামায পড়েনা, সে সত্যিই দুর্ভাগা।

নামায সম্পর্কিত মুমিন ও কাফিরের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশক কতিপয় হাদীসে রাসূল :

১.হযরত বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমাদের ও তাদের (মুনাফিকদের) মধ্যে যে অঙ্গীকার (পার্থক্য) আছে, তা হচ্ছে সালাত। সুতরাং যে সালাত পরিত্যাগ করল, সে প্রকাশ্যে কুফরি করল। (মুসনাদে আহ্মাদ, জামে আত-তিরমিযী, আন-নাসায়ী, আবু দাঊদ ও ইবনে মাজাহ)

২.তাই যে কুফরী করছে, সে কি করে বেহেশতে যাওয়ার আশা করবে? প্রখ্যাত তাবেয়ী শাকীক ইবনে আব্দুল্লাহ আল উকাইলী (রহ.) বলেন, সাহাবায়ে কিরাম নামায ব্যতীত অন্য কোনো আমল ছেড়ে দেয়াকে কুফরি মনে করতেন না। (জামে আত-তিরমিযী)

৩.হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জনৈকা বেনামাযি নারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যে নামায পড়ে না সে কাফির। (জামে আত-তিরমিযী)

৪.হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি নামায ছেড়ে দিল ইসলামে তার কোনো অংশ নেই। ইমাম আহমাদ (রহ.) মত প্রকাশ করেন, একজন লোক নামায অস্বীকার না করলেও কেবল নামায পরিত্যাগ করলেই কুফরির অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি নিম্নোক্ত হাদীসটিকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেন। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : সর্বপ্রথম তোমরা দ্বীনের যা হারাবে তা হলো আমানত এবং সর্বশেষ দ্বীনের যা হারাবে তা হলো নামায। (শু‘য়াবুল ঈমান, সুনানে বায়হাকী)

৫.তাই এ হাদীসের উপর ভিত্তি করে ইমাম আহমাদ (রহ.) বলেন, সুতরাং ইসলাম থেকে চলে যাওয়া সর্বশেষ বস্তু যখন নামায, অতএব যে বস্তুর শেষ চলে যায় সে বস্তু সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায়। এ জন্য আপনারা দ্বীনের সর্বশেষ অংশ (নামায)কে যথাযথভাবে আঁকড়ে ধরুন। (কিতাবুস্ সালাত)

৬.রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন : যার ভিতর কুরআন নেই সে একটা উজাড় বা বিরান গৃহ। (আত-তিরমিযী ও দারিমী)

তাই আমি বলছি, যার ভিতর নামায নেই তার ভিতর কিছুই নেই। তার সাথে কোনো সম্পর্ক রাখা ঠিক নয়। বেনামাযির কাছে নিজের নামাযি ছেলে-মেয়ে বিয়ে দেয়াও উচিত নয়। এটা ঠিক যে, অনেক তথাকথিত নামাযি দোযখে যেতে পারে, যারা লোক দেখানো নামায পড়ে। কিন্তু কোনো বেনামাযি ব্যক্তি বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবেনা। কারণ তার কাছে বেহেশতের দরজা খোলার কোনো চাবি নেই। অথচ জান্নাতের দরজায় বড় একটা তালা ঝুলে আছে। জাহান্নামের প্রহরীগণও নিকটে অবস্থান করবেন। তাই কেউই তাকে বেহেশতে নিতে পারবে না। তবে আমাদের সমাজে কেউ নামায না পড়লেই তাকে কাফির ধরা হয় না, যদি সে নামাযকে অস্বীকার না করে। অন্যথায় কাফির ধরা যাবে। যেসব হাদীস শরীফে স্পষ্টভাবে কাফির শব্দ এসেছে সেখানে উদ্দেশ্য হলো, সে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো। উল্লেখ্য ঈমান হলো রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত বিধি-বিধানকে অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করা আর তা কর্মে পরিণত করা তাই যদি কেউ ঈমান আনে কিন্তু কাজে পরিণত না করে, সে পূর্ণ মুমিন হবে না। যথাযোগ্য শাস্তি ভোগ করার পর নাযাত পাবে। যেমন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাই কোনো ব্যক্তি নামায না পড়লে সে সত্যিকার অর্থে পূর্ণ মুমিন হবে না।

নামায মুমিনের জন্য মিরাজ

নামায মু’মিনের জন্য মি‘রাজ স্বরূপ। প্রিয় রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াাসাল্লাম যেমন মি‘রাজে গিয়ে মহান আল্লাহ্ রব্বুল ‘আলামীনের সাথে কথা বলেছিলেন, মু’মিন বান্দাও তেমনি নামাযে সূরা ফাতিহার মাধ্যমে আল্লাহ্র সাথে কথা বলে থাকেন :

১.হাদীস শরীফে এসেছে, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহতায়ালা বলেন : ‘আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে অর্ধেক অর্ধেক করে ভাগ করে নিয়েছি। আর আমার বান্দা যা চাইবে, তা সে পাবে।’

অত:পর বান্দা যখন বলে- ‘আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল ‘আলামীন’ (সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই প্রাপ্য)। আল্লাহ্ তখন বলেন, ‘বান্দা আমার প্রশংসা করেছে।’

আর যখন সে বলে- ‘আর-রহমানির রাহীম’ (যিনি দয়াময় পরম দয়ালু)। আল্লাহতায়ালা তখন বলেন, ‘বান্দা আমার গুণাবলী বর্ণনা করেছে।’

অত:পর যখন সে বলে- ‘মালিকি ইয়াওমিদ্দীন’ (কর্মফল দিবসের মালিক)। আল্লাহ্ বলেন, ‘আমার বান্দা আমার মহিমা ও বুযুর্গী বর্ণনা করেছে।’ আর কখনো বলেছেন, ‘আমার বান্দা (তার সব কাজ) আমার ওপর সোপর্দ করেছে।’

যখন সে বলে- ‘ইয়্যাকা না’বুদু ওয়াইয়্যাকা নাসতা‘ঈন’ (আমরা শুধু আপনারই ইবাদত করি, শুধু আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি)। আল্লাহ বলেন, ‘এটা আমার ও আমার বান্দার মধ্যের ব্যাপার। আর আমার বান্দা যা চাইবে,তা সে পাবে।’

যখন বান্দা বলে- ‘ইহদিনাস সিরাত্বাল মুসতাক্বীম, সিরাত্বল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম, গায়রিল মাগদ্বূবি আলাইহিম, ওয়ালাদ্বল্লীন’ (আমাদেরকে সরল পথ দেখান, তাদের পথে, যাদেরকে আপনি অনুগ্রহ দান করেছেন, তবে তাদের পথে নয়, যারা ক্রোধে নিপতিত (ইয়াহূদী) ও পথভ্রষ্ট (খ্রিস্টান)। তখন আল্লাহ বলেন, ‘এটি কেবল আমার বান্দার জন্য। আর আমার বান্দা যা চাইবে, তা সে পাবে।’ (সহীহ মুসলিম, ২য় খ- হাদীস নং ৭৬২)

You may also like