Home ইসলাম নামায কিভাবে পড়বো -পর্ব-২ (নামাযে কি কি পড়তে হয়)

নামায কিভাবে পড়বো -পর্ব-২ (নামাযে কি কি পড়তে হয়)

by admin
০ comment

নামায

নামায কিভাবে পড়বো -পর্ব-২

(নামাযে কি কি পড়তে হয়)

মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

তাহারাত : পবিত্রতা

. তাহারাত বা পবিত্রতা

মেসওয়াক : পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মেসওয়াকের ভূমিকা মেসওয়াক

শয়নে-জাগরণে মেসওয়াক

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মেসওয়াক

দাঁতের রোগ-ব্যাধি নিরাময়ে মেসওয়াক

যেসব গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক তৈরি করা যায়

আধুনিক : Toothbrush ও মেসওয়াক

রমযান ও মেসওয়াক

অযু : পবিত্রতায় অযুর ভূমিকা

তাইয়্যাম্মুম : পবিত্রতায় তাইয়্যাম্মুম ও গোসল

গোসল : গোসল ও পবিত্রতা

তাহারাত : পবিত্রতা

প্রথম অধ্যায়ে আমরা নাজাসাত সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এ অধ্যায়ে তাহারাত (পবিত্রতা) সম্পর্কে আলোকপাত করবো ইনশা’আল্লাহ। শরীয়ত-নির্দেশিত পন্থায় পানি বা মাটি ব্যবহারে অযু, গোসল ও তায়াম্মুমের মাধ্যমে যে পবিত্রতা অর্জিত হয় তাকে বলে তাহারাত’। তাহারাত বা পবিত্রতা সম্পর্কে নিম্নে কুরআন এবং হাদীসে-রাসূলের কিছু বর্ণনা সহৃদয় পাঠকদের সুবিধার্থে তুলে ধরা হলো। তাহারাতের সাথে সংশ্লিষ্ট আরেকটি বিষয় যার নাম মেসওয়াক। নিম্মে পর্যায়ক্রমিকভাবে তাহারাত সম্পর্কিত বিষয়াবলীর বিস্তারিত আলোচনা করা হলো :

ক. মেসওয়াক

খ. অযু

গ. তায়্যাম্মুম ও

ঘ. গোসল

ক. মেসওয়াক

যদিও মেসওয়াক বা মেসওয়াকের বর্ণনা পবিত্র কুরআনে নেই, তথাপিও তাহারাত বা পবিত্রতার সাথে মেসওয়াকের সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আমরা জানতে পারি, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় বক্তব্যের মাধ্যমে মেসওয়াক সম্পর্কে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।মেসওয়াকের গুণাগুণ বা উপকারিতা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাণী বিষয় ভিত্তিকভাবে সম্মানিত পাঠকদের উদ্দেশ্যে নিম্নে বণির্ত হলো :

. মেসওয়াক : বিষয়ভিত্তিক কিছু হাদীসে রাসূল

পরিষ্কারপরিচ্ছন্নতায় মেসওয়াকের ভূমিকা :

১.আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যদি আমার উম্মতের কষ্ট হবার আশংকা না হতো অথবা লোকদের কষ্টের ভয় না হতো, তাহলে আমি তাদেরকে প্রত্যেক নামাযের জন্য মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। (সহীহ মুসলিম)

২.উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মেসওয়াক দিয়ে মুখ পরিষ্কার হয় এবং আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। (আন-নাসায়ী)

৩.হযরত হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর মেসওয়াক দিয়ে মুখ ঘষতেন।

৪.হযরত হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য তাঁর মেসওয়াক ও ওযুর পানি তৈরি রাখতাম। আল্লাহ রাতে যখন তাঁকে জাগাতে চাইতেন তখন উঠে তিনি মেসওয়াক করতেন, ওযু করতেন এবং নামায পড়তেন।

৫.হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মেসওয়াক না করে নামাযের তুলনায় মেসওয়াক করে নামাযের সওয়াব সত্তর গুণ বেশি। (বায়হাকী)

৬.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : ‘আমি তোমাদেরকে বেশি বেশি মেসওয়াক করার নির্দেশ দিচ্ছি।’ অর্থাৎ আমি মেসওয়াক করার ব্যাপারে তোমাদেরকে অত্যধিক উৎসাহিত করছি। (সহীহ আল বোখারী ও আন-নাসায়ী)

শয়নেজাগরণে মেসওয়াক :

১.হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুম থেকে জাগতেন মধ্য রাতে নামায পড়ার জন্য, তখন তিনি মেসওয়াক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতেন।” (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

২.সুরাইহ ইবনে হানী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “আমি হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম কি কাজ করতেন? তিনি জবাব দিলেন, সর্বপ্রথম তিনি মেসওয়াক করতেন।” (সহীহ মুসলিম, ইবনে মাজাহ ও আন-নাসায়ী)

৩.হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহা আনহা আরো বর্ণনা করেন, “ইন্তেকালের পূর্বেও আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেসওয়াক ব্যবহার করেছেন।” (সহীহ আল বোখারী)

৪.ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “একদা তিনি আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট রাত যাপন করেছিলেন। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ রাতে জেগে বাইরে গিয়ে আসমানের দিকে তাকিয়ে সূরা আলে ইমরানের এ আয়াতটি (ইন্না ফি খালকিস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ ……… ওয়াক্বিনা আযাবান্নার) পাঠ করলেন। এরপর ঘরে ফিরে এসে মেসওয়াক করলেন ও অযু করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে নামায পড়লেন।” (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মেসওয়াক :

১.হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মেসওয়াক মুখকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করে এবং মহান আল্লাহ্ সুব্হানাহু ওয়াতা‘য়ালার সন্তুষ্টি বিধান করে।” (সহীহ আল বোখারী, মুসনাদে আহমাদ ও আন-নাসায়ী)

২.আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায় যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা মেসওয়াক করো। কেননা মুখ পবিত্র ও পরিস্কার করে ইবাদত করা মহান প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের উপায়।” (ইবনে মাজাহ)

৩.নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, “তোমরা কুরআন তিলওয়াতের জন্য মুখ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখো।” (আল বাযযার)

৪.হযরত আলী ইবনে তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “তোমাদের মুখ হলো কুরআনের রাস্তা। অতএব তোমরা দাঁতন (মেসওয়াক) করে তা পবিত্র ও সুগন্ধিযুক্ত করো।” (ইবনে মাজাহ)

দাঁতের রোগ-ব্যাধি নিরাময়ে মেসওয়াক

মুখ পরিষ্কার রাখার বড় মাধ্যম বা উপায় হচ্ছে দাঁত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। যদি দাঁত পরিষ্কার না থাকে বা দাঁতে কোনো রোগ-ব্যাধি থাকে তাহলে তা বিশ্রী দেখায় এবং মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। আশপাশের লোকেরা এতে ক্ষুব্ধ হয় ও তিরস্কার করে।

১.নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি খানা খাবে, সে যেনো খিলাল করে।” (মুসনাদে আহমাদ ও দারিমী)

২.হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, “মেসওয়াক ব্যবহার করলে ১০ ধরনের উপকার পাওয়া যায়।” (আবু নূ’য়াইম ও আস-সুয়ূতী)

এ উপকারগুলো হচ্ছে মুখে সুঘ্রাণ আসা, মুখের অভ্যন্তরে মাড়ি শক্তিশালী করা, পেটকে খাদ্য গ্রহণের জন্য উপযোগী করে তোলা, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, মানুষের প্রতিভা বৃদ্ধি পাওয়া, ফেরেশতাদের খুশি করতে পারা ইত্যাদি। মেসওয়াক নিঃশ্বাসকে সুগন্ধযুক্ত করে, যারা নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহার করেন তারা দাঁতের ক্ষয়রোগ থেকে রক্ষা পান। এছাড়া মেসওয়াক দাঁতের উপরিভাগে যে ংপধষব পড়ে, তা থেকে রক্ষা করে এবং জীবাণুযুক্ত প্লেগ দূর করে।

খিলাল করার মাধ্যমে দাঁতের গোড়ায় আটকে থাকা খাদ্যাংশ বের হয়ে যাবেÑ তা বের না হয়ে মুখ দুর্গন্ধযুক্ত ও দাঁতকে নষ্ট করে ফেলে। উপরোক্ত হাদীসগুলো থেকে আমরা জানতে পারি যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখ ও দাঁতের যতেœ মেসওয়াক-এর প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করতেন। তিনি নিজে নিয়মিত মেসওয়াক করতেন এবং সাহাবাদেরও মেসওয়াক করতে নির্দেশ দিতেন। বস্তুত মেসওয়াক করার মাধ্যমে দাঁতের মাড়ি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়না এবং দাঁত সম্পূর্ণ পরিষ্কার, সুন্দর ও ঝক্ঝকে থাকে। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সারা জীবনের অন্যতম একটি নিয়মিত আমল হলো মেসওয়াক করা।

আমরা অনেকে এমন আছি যারা নিদেনপক্ষে দৈনিক তিনবার মূল খাবারের পরেও নিয়মিত মেসওয়াক বা দাঁত ব্রাশ করি না। এই না করার কারণে আমাদের মুখের দুর্গন্ধে অন্যেরা কষ্ট পায়। মুখগহ্বর অপরিচ্ছন্নতার কারণে দাঁতের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে দাঁত হারিয়ে অনেক সময় আমরা মুখে রূমাল দিয়ে রাখি। উৎসুক্য হয়ে কেউ জিজ্ঞেস করলে উত্তরে বলি “আল্লাহর দাঁত আল্লায় নিয়ে গেছে আমি কী করবো।” রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখনে বলেছেন : “আত্তুহুরু শাতরুল ঈমান।”-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধাংশ, সেখানে মুমিন হয়েও আমরা নিয়মিত দাঁতের যত্ন না করে অকালে দাঁত হারিয়ে দোষ দেই আল্লাহর।

যেসব গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক তৈরি করা যায়

১.আবি জাহিদ আল-গাফিকী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তিন ধরনের মেসওয়াক রয়েছে। তুমি যদি ‘আরক’ পাও তাহলে তা ব্যবহার করো। যদি না পাও তবে ধহধস বা নধঃস ব্যবহার করো।” (আবু নু‘য়াইম)

আরবি ‘আনাম’ বা ‘খা’রুর’ গাছের নড়ঃধহরপধষ নাম হচ্ছে ঈবৎধফড়হরধ ংরষরয়ঁধ. ইংরেজী নাম হচ্ছে ঈধৎড়ন ঃৎবব.এটি উর্দ মাসটাকি নামেও পরিচিত। আল্লামা আস্-সুয়ূতী (রহ.) বর্ণিত রিওয়ায়াত থেকে জানা যায় যে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের হাতের লাঠিটি ছিল এই ঈধৎড়ন ঃৎবব থেকে তৈরি। আল্লামা আস্-সুয়ূতী (রহ.) বর্ণনা করেন যে, “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডালিম বা বাবুই তুলসী (ঢ়ড়সবমৎধহধঃব বা নধংরষ) গাছের ডাল দ্বারা মেসওয়াক করতে নিষেধ করতেন।” (আস্-সুয়ূতী)

বাবুই তুলসী গাছটির আরবি নাম রায়হান, ইউনানী নাম ফারাজন মুশক্, ইংরেজি নাম- ঙপরহঁস নধংরষরপধস. এটা সুগন্ধি গাছ। অনেকেই ধপধপরধ ঃরিম কে প্রকৃত আনাম বলে অভিহিত করেন। এই ‘আনাম’ ছাড়া আর যে গাছটির ডাল মেসওয়াক হিসেবে ব্যবহারের জন্য রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তা হলো ‘ইধঃস’, বুটুম বা উর্দ মাসটাকি। এটির হিন্দি, উর্দু ও ফারসি নাম হচ্ছে, ‘মুসটাগী কাবুলী’।

আধুনিক  : Toothbrush বনাম মেসওয়াক

আধুনিক টুথব্রাশ হচ্ছে মেসওয়াকের উন্নততর এক বিকল্প সংস্করণ। এটি একটি নতুন উদ্ভাবন। শহরাঞ্চলে গ্রামের মতো বিভিন্ন গাছের তাজা ডাল-পালা সহজলভ্য না হওয়ায় আনুমানিক ২০০ বছর যাবত এই ঢ়ৎধপঃরপবটি চালু হয়েছে । ঞধংঃু ঃরিম-এর সাহায্যে দাঁত মাজা-ই পরবর্তী সময়ে আধুনিক টুথব্রাশ আবিষ্কারের প্রথম ংঃবঢ়। আমরা যদি মেসওয়াকের সাথে ঃড়ড়ঃয ঢ়ধংঃব ব্যবহার করে দাঁত পরিষ্কার করি, তাহলে দাঁতের যতেœ নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসও মানা হবে, আর টুথপেস্টের মাধ্যমে দাঁত-মুখ পরিষ্কার করার ফলে মুখের দুর্গন্ধও দূর হবে এবং সতেজতার অনুভূতি সৃষ্টি হবে এবং এতে আল্লাহ্ ও তাঁর ফেরেশতাগণ সন্তুষ্ট হবেন। আলোচ্য হাদীসে-রাসূল থেকে আমরা মেসওয়াকের গুণাবলী জানতে পারলাম। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাঁর দেহ এবং মুখ-গহ্বর থেকে বের হতো স্বর্গীয় খোশবু তিনি যদি শয়নের পূর্বে জাগরণের পরেসহ বিভিন্ন সময়ে দৈনিক এতোবার মেসওয়াক করতে পারেন তাহলে আমাদের মতো গুনাহগারদের কতোবার মেসওয়াক করা উচিত তা সহজেই অনুমেয়। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো রহমাতুল্লিল আলামীন যদি তাঁর হাদীসে মেসওয়াকের এতো গুরুত্ব দেন তাহলে আমরা রাসূলের অনুসারীরা কি নিদেনপক্ষে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পূর্বে এবং তিনবার খাবারের পূর্বে মেসওয়াক করতে পারি না?

রমযান মেসওয়াক

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে ‘রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশ্ক জাফরানের ঘ্রাণের চেয়েও উত্তম।’ উক্ত হাদীসটির দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে আমরা অনেকে রমযান আসলে দাঁত ব্রাশ করাই প্রায় ছেড়ে দেই। অথচ আমরা ভোর রাতে সেহেরীর পরে নিয়মিত পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে পারি। ইফতারের পরে দাঁত ব্রাশ করতে পারি এবং রাতে খাওয়ার পরেও অনায়াসে দাঁত ব্রাশ করতে পারি। আর রমযানে সতর্কতা অবলম্বন করে মেসওয়াক অথবা খালি ব্রাশ (টুথপেস্ট ছাড়া) দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করতে পারি।

এবার আসুন রমযানে মেসওয়াকের ব্যাপারে রাসূলেপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বলেছেন তা নিম্নোক্ত হাদীসের দ্বারা জেনে নেই :

১.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা অবস্থায় মেসওয়াক করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু রোযা রেখে সকালে ও বিকালে মেসওয়াক করতেন। ইবনে শিরিন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রোযা অবস্থায় কাঁচা রসযুক্ত মেসওয়াক ব্যবহারেও কোনো ক্ষতি নেই।” (সহীহ আল বোখারী)

২. হযরত আমির ইবনে রাবিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন : আমি অসংখ্যবার রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রোযা অবস্থায় মেসওয়াক করতে দেখেছি। (জামে আত-তিরমিযী)

৩.হযরত আমির ইবনে রাবিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে যখন রোযা রাখতেন তখন সে মাসে আমি বিভিন্ন সময়ে তাঁকে মেসওয়াক করতে দেখেছি।” (সহীহ আল বোখারী)

. অযু : পবিত্রতায় অযুর ভুমিকা

হাদাসে ‘আছগার’ বা ছোট নাপাকী থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য অযু করা হয়। শরীয়তের বিধান মতে পবিত্র পানি দিয়ে শরীরের কতিপয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোওয়াকে অযু বলে। শরীয়তে অযুর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। অযু ছাড়া নামায হয় না। তিনটি বিশেষ ক্ষেত্রে অযুর বিশেষ বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। যথা :

১. নামাযের জন্য অযু করা ফরয।

২. কা’বা শরীফ তাওয়াফ করার জন্য অযু করা ওয়াজিব।

৩. কুরআন শরীফ তেলাওয়াতের জন্য, সর্বদা পবিত্র থাকার জন্য এবং গোসলের পূর্বে অযু করা সুন্নত।

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজে গিয়ে যখন বেহেশত দর্শন করলেন তখন তাঁর সামনে হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর পায়ের খড়ম (স্যান্ডেল বিশেষ) শব্দ শুনতে পেলেন। পরবর্তীতে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করেন : ‘বিলাল! তুমি এমন কী আমল করো যার বরকতে বেহেশতে আমার সামনে সামনে তোমাকে দেখতে পাই।’ উত্তরে হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন : ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি তেমন কোনো আমল করি না, তবে যখনই অযু নষ্ট হয় তার সাথে সাথেই আমি পুনরায় অযু করে দু’রাকাআত নফল নাময আদায় করে নেই।’ সুবহানাল্লাহ্!

সম্মানিত পাঠক ভাই ও বোনেরা! উপরোক্ত বর্ণনা থেকে আমরা অযু এবং নফল নামাযের বরকত সম্বন্ধে সম্যক ধারণা অর্জন করতে পারলাম। সর্বাবস্থায় পবিত্র থাকার লক্ষ্যে আসুন আমরা আজ থেকে ইস্তেঞ্জা এবং গোসল ফরয হয় এমন প্রয়োজনীয়তা অনুভবের পূর্বেই অযু-গোসলের ব্যবস্থায় নিশ্চিত হবো। নেহায়েত অসুবিধায় না পড়লে এরকম ব্যবস্থাহীন স্থানে আমরা অপবিত্র হবো না। এভাবে অতি সহজে আমরা সর্বদা পবিত্রবাস্থায় জীবন অতিবাহিতের একটি পথ খুঁজে পাবো ইনশা‘আল্লাহ। পবিত্র হওয়ার পর বিশেষ করে অযুরর পরই আমরা দু’রাকায়াত তাহিয়্যাতুল অযু নামায পড়ে নেবো। এ পবিত্রতার যে কী উপকারিতা তা কিছুদিন পর আপনি নিজেই অনুভব করবেন। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন পবিত্র তাই তিনি পবিত্রতাকেই পছন্দ করেন। কম ঘুম এবং পরিমিত খাবার দেহ-মনের পবিত্রতার জন্য সহায়ক। অযুকারীর অযুর অঙ্গগুলো কিয়ামতের দিন ঝলমল করতে থাকবে।

অযুর পদ্ধতি :

অযুর পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কালামে পাকে দিয়েছেন এভাবে:

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوْهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوْا بِرُءُوْسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ۚ

উচ্চারণ : ইয়া আইয়্যুহাল্লাযীনা আমানু ইযা কুমতুম ইল্সা-সলাতি ফাগসিলু উজুহাকুম ওয়াআইদিয়াকুম ইলাল মারাফিক্বি ওয়ামসাহু বিরুউসিকুম ওয়াআরজুলাকুম ইলাল কা’বাইনি;

অর্থ : হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাযের জন্য তৈরি হও, তখন তোমাদের মুখম-ল ও হাত দু’টি কনুই পর্যন্ত ধুয়ে ফেলো, মাথার ওপর হাত বুলাও এবং পা দু’টি গোড়ালী পর্যন্ত ধুয়ে ফেলো। (সূরা ৫ মায়েদা : আয়াত ৬)

অযু সম্পর্কীত কতিপয় হাদীসে রাসূল :

১.হযরত উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। একদা তিনি একটি পানির পাত্র আনিয়ে দু’হাতের কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধুলেন। তারপর তিনি ডান হাত পানির পাত্রে প্রবেশ করালেন এবং কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। তারপর তিনবার মুখম-ল এবং তিনবার দু’হাতের কনুই পর্যন্ত ধুইলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। দু’পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত তিনবার ধুইয়ে বললেন: রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার ন্যায় এরূপ অযু করার পর একাগ্রচিত্তে দু’রাকাত নামায পড়বে, কিন্তু মাঝখানে সে নাপাক হবে না। আল্লাহ পাক তার পূর্বকৃত সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন।”   (সহীহ আল বোখারী)

২.হযরত হুমরান থেকে বর্ণিত। তিনি একদা উসমান ইবনে আফফানকে দেখলেন যে, একটি পানির পাত্র আনিয়ে সে পানি দিয়ে দু’হাত তিনবার ধুলেন। তারপর তিনি তার ডান হাত পানির পাত্রে প্রবেশ করালেন এবং কুলি করলেন ও নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। তারপর তিনবার মুখম-ল এবং তিনবার দু’হাতের কনুই পর্যন্ত ধুলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার এ অযুর ন্যায় অযু করতে দেখেছি। আর তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার ন্যায় এরূপ অযু করার পর একাগ্রচিত্তে দু’রাকাত নামায পড়বে, কিন্তু মাঝখানে সে নাপাক হবে না। আল্লাহ তার পূর্বকৃত সকল গোনাহ মাফ করে দেবেন। (সহীহ আল বোখারী)

৩.হযরত উকবাহ ইবন আমের রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তিই সুন্দর করে অযু করে প্রফুল্ল মন নিয়ে একাগ্রচিত্তে দু’রাকাআত সালাত আদায় করে, তখন তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। (সহীহ মুসলিম)

৪.হযরত মুসআব ইবনে সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অযু ছাড়া নামায হয়না এবং আত্মসাতের সম্পদ থেকে সাদাকাহ হয় না। (সহীহ মুসলিম)

৫.যার অযু নষ্ট হবে অযু করার আগ পর্যন্ত তার নামায হয় না। (সহীহ আল বোখারী)

৬.নুয়াইম মুজমির বলেন- আমি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম। তিনি অযু করলেন এবং বললেন, আমি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, কিয়ামাতের দিন আমার উম্মতকে এমন অবস্থায় ডাকা হবে যে, তাদের অযুর অঙ্গগুলো ঝলমল করতে থাকবে। অতএব তোমাদের কেউ যদি তার উজ্জল স্থানকে দীর্ঘ করতে চায় তবে সে যেন তা করে। (অর্থাৎ অযুর অঙ্গগুলো নির্ধারিত স্থান থেকে বেশি করে ধৌত করবে)। (সহীহ আল বোখারী)

৭.উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত-রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি উত্তমরূপে অযু করে, তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে- আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারাসূলুহু। তাহলে জান্নাতের আটটি দরজাই তার জন্য উম্মুক্ত হয়ে যায়। উক্তদরজা যেটি দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। (সহীহ মুসলিম)

৮.অযু শুরুর দু‘আ : আবু মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি এমন এক সময় নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম, যখন তিনি অযু করছিলেন এবং তাঁর যবান মুবারক থেকে এ দু‘আ উচ্চারিত হচ্ছিল : “হে আল্লাহ! আমার গুনাহ মাফ করে দিন। আমার ঘরের প্রয়োজন মিটিয়ে দিন এবং আমার রিযিকে বরকত দান করুন।” (আন-নাসায়ী

৯.অযু শেষের দু‘আ : উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অযু সম্পন্নের পর নিম্নলিখিত দু‘আ করে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেয়া হবে। সে যে কোনো দরজা দিয়েই ইচ্ছা বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে। (সহীহ মুসলিম ও জামে আত-তিরমিযী) দু‘আটি নিম্নরূপ :

اَشْهَدُاَنْ لاَّ اِلٰهَ اِلاَّاللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَهُ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَّوَّابِيْنَ وَاجْعَلْنِيْ مِنَ الْمُتَطَهَّرِيْنَ-

উচ্চারণ : আশহাদ আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শরীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ’আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। আল্লাহুম্মাজ্’আলনী মিনাত্ তাওয়াবীনা ওয়াজ’আলনী মিনাল মুতাত্বহ্হেরীন।

অর্থ : আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো ইলাহ্ নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্র বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারী লোকদের মধ্যে শামিল করুন। (সহীহ মুসলিম ও জামে আত-তিরমিযী)

سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ اَشْهَدُاَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّااَنْتَ اَسْتَغْفِرُكَ وَاَتُوْبُ اِلَيْكَ

উচ্চারণ : ছুবহানাকা ওয়াবিহামদিকা আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আনতা আছতাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইকা।

অর্থ : সমস্ত ত্রুটি ও অক্ষমতা থেকে মুক্ত তুমি। তোমার প্রশংসা স্বীকার করে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তোমার কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী, তোমারই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করছি।

নিম্নে ধারাবাহিকভাবে ক. অযুর ফরয, খ. অযুর সুন্নাত ও নফল এবং গ. অযু ভঙ্গের কারণ বর্ণিত হলো :

. অযুর চার ফরয :

১. সমস্ত মুখম-ল ধোয়া (কপালের উপরিভাগ থেকে থুতনির নিচ পর্যন্ত এবং এক কানের লতি থেকে অপর কানের লতি)

২.দু’হাতের কনুইসহ একবার ধোয়া

৩.মাথার চার ভাগের এক ভাগ মাসেহ করা এবং

৪.দু’পায়ের টাখনুসহ একবার ধোয়া।

এ চারটি ফরযের যে কোনো একটি বাদ পড়লে অথবা বর্ণিত কোনো অঙ্গ চুল পরিমাণ শুকনা থাকলে অযু হবে না।

খ.অযুর সুন্নাত ও নফল:

১.অযুর পূর্বে মেসওয়াক করা

২.বিসমিল্ল¬fহ’ বলে অযু শুরু করা

৩.ডান দিক থেকে অযু শুরু করা

৪.দু’হাতের কব্জি ধোয়া

৫.অযুর নিয়ত করা

৬.এক অঙ্গ ধোয়ার পর অপর অঙ্গ ধুইতে বিলম্ব না করা

৭.প্রতি অঙ্গ তিন বার ধোয়া

৮.হাত পায়ের আঙ্গুলসমূহ মর্দন/খিলাল করা

৯.কুলি করা

১০.গড়গড়া করা

১১.নাকে পানি দেয়া

১২.ডান হাতে পানি দেয়া, বাম হাতে নাক পরিষ্কার করা

১৩.হাতে আংটি থাকলে এদিক সেদিক ঘুরিয়ে নেয়া

১৪.কানের ভিতর ও বাইরে দিয়ে পানি নেয়া

১৫.সমস্ত মাথা মাসেহ করা

১৬.ঘাড় মাসেহ করা

১৭.দাড়ি খেলাল করা

১৮.মোজা পায়ে না থাকলে পা ধোয়া, মোজা থাকলে মোজার উপর মাসেহ করা

১৯.মোজার উপর মাসেহ করা নিজ বাড়িতে থাকা অবস্থায় অর্থাৎ মুকীম-এর জন্য ১ দিন ১ রাত আর ভ্রমণে অর্থাৎ মুসাফির-এর জন্য ৩ দিন ৩ রাত পর্যন্ত

২০.কেবলামুখী হয়ে অযু করা

২১.অযুর সময় বাজে কথা না বলা

২২.ওয়াক্তের পূর্বে অযু করা

২৩.অযু করতে গিয়ে পানি অপচয় না করা

২৪.অযুর তারতীব (ধারাবাহিকতা) রক্ষা করা

২৫.উঁচু স্থানে বসে অযু করা

২৬.অযু শেষে দাঁড়িয়ে অযুর পানি পান করা

২৭.ডান হাতে করে পানি দেয়া

২৮.অযু করার পর ধৌত করা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ না মোছা

২৯.অযু শেষে দোয়া করা।

.অযু ভঙ্গের কারণ :

১.পায়খানা পেশাবের রাস্তা দিয়া কোন কিছু বের হওয়া

২.মুখ ভরে বমি হওয়া

৩.শরীরের কোন জায়গা হতে রক্ত, পুঁজ বা পানি বের হয়ে গড়িয়ে পড়া

৪.থুথুর সাথে রক্তের ভাগ সমান বা বেশী হওয়া

৫.চিৎ বা কাত হয়ে হেলান দিয়ে ঘুম যাওয়া

৬.পাগল, মাতাল, অচেতন হওয়া এবং

৭.নামাযে উচ্চস্বরে হাসা।

.তাইয়্যাম্মুম : পবিত্রতায় তাইয়্যাম্মুম গোসল

রোগগ্রস্ত অবস্থায়, সফরে থাকা অবস্থায়,নারীদের সহবাসের পর পানি না পাওয়া গেলে পবিত্রতা অর্জনের জন্য মাটি বা মাটি জাতীয় পবিত্র দ্রব্যাদির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতিকে মাসেহ করা হয় তাকে তাইয়্যাম্মুম বলে। অযু এবং গোসল দ্বারা যেরূপ পবিত্রতা অর্জন করা যায় তাইয়্যাম্মুম দ্বারাও ঠিক সেরূপ পবিত্রতা অর্জন করা যায়। অর্থাৎ ক্ষেত্র বিশেষে গোসলের বিকল্প তাইয়্যাম্মুম। অযু করতে হয় পানি দিয়ে কিন্তু যখন পানি পাওয়া না যায় কিংবা রোগের কারণে ডাক্তারের পরামর্শে পানি পরিহার করে চলতে হয় এমন পানি স্পর্শবিহীন অবস্থায় পবিত্রতা অর্জনের জন্য আল্লাহতায়ালা যে বিকল্প ব্যবস্থা দান করেছেন তারই নাম তাইয়্যাম্মুম। তাইয়্যাম্মুম ও গোসলের ব্যাপারে কালামে পাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেছেন:

وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوْا ۚ وَإِنْ كُنْتُمْ مَّرْضىٰ أَوْ عَلٰى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِّنْكُمْ مِّنَ الْغَائِطِ   أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيْدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوْا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيْكُمْ مِّنْهُ ۚ مَايُرِيْدُ اَللهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِّنْ حَرَجٍ وَّلـٰكِنْ يُرِيْدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ.

উচ্চারণ : ওয়াইন কুনতুম জুনুবান ফাত্ত্বাহহারু; ওয়াইন কুনতুম মারদ্বা আও-আলা সাফারিন আও জ্বাআ আহাদুম মিনকুম মিনাল গায়িতি আও লামাসতুমুন নিসাআ ফালাম তাজ্বিদু মাআন ফাতাইয়াম্মামু ছ¦ায়িদান ত্বইয়িবান ফামসাহু বিউজুহিকুম ওয়া আইদীকুম মিনহু মাইয়ুরীদুল্লাহু লিইয়াজ্ব’আলা আলাইকুম মিন হারজ্বিঁও ওয়ালাকিই ইয়ূরীদু লিইয়াত্বহ্হিরাকুম ওয়ালিইয়ুতিম্মা নি’মাতাহু, আইকুম লা’আল্লাকুম তাশকুরুন।

অর্থ : যদি তোমরা জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় থাকো, তাহলে গোসল করে পাক সাফ হয়ে যাও। যদি তোমরা রোগগ্রস্ত হও বা সফরে থাকো অথবা তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি মলমূত্র ত্যাগ করে আসে বা তোমরা নারীদেরকে স্পর্শ করে থাকো এবং পানি না পাও, তাহলে পাক-পবিত্র মাটি দিয়ে কাজ সেরে নাও। তার (মাটির) ওপর হাত রেখে নিজের চেহারা ও হাতের ওপর মাসেহ করে নাও। আল্লাহ তোমাদের জন্য জীবনকে সংকীর্ণ করে দিতে চান না কিন্তু তিনি চান তোমাদেরকে পাক-পবিত্র করতে এবং তাঁর নিয়ামত তোমাদের ওপর সম্পূর্ণ করে দিতে, হয়তো তোমাদের শোকর গুজার হবে। (সূরা ৫ মায়েদা : আয়াত ৬)

তাইয়্যাম্মুম সম্পর্কে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী :

১.আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি ওমর ইবনে খাত্তাবের নিকট এসে বলল, আমি অপবিত্র হয়ে পড়েছি-এরূপ প্রশ্ন শুনে আমি হযরত ওমরকে স্মরণ করিয়ে দিলাম যে, এক সময় আমি ও আপনি সফরে ছিলাম। তখন গোসলের প্রয়োজন হয়েছিল, কিন্তু পানি পাওয়া গেলনা। আপনি পানি না পাওয়ায় নামায পড়লেন না। আর আমি সমস্ত শরীরে বালু মেখে বালু গোসল করলাম। পরে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ ঘটনা বলার পর তিনি বললেন : তোমাদের শুধু এরূপ করাই যথেষ্ট ছিল-(এই বলে) তিনি তাঁর দু’খানা হাত মাটিতে রাখলেন এবং হাত দিয়ে মুখমন্ডল ও বাহু দু’খানা মলে দিলেন। (সহীহ আল বোখারী)

২.হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত-এক ব্যক্তি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, আমার গোসল ফরয হয়েছিল। (কিন্তু পানি না থাকায় আমি) মাটিতে গড়াগড়ি করেছি। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘এভাবে হাত দিয়ে চাপড় দাও’ এবং নিজেই দুই হাত দিয়ে ভুমিতে চাপড় দিলেন ও চেহারা মাসেহ করলেন। পুনরায় দুই হাত দিয়ে চাপড় দিলেন এবং দুই কনুই পর্যন্ত মাসেহ করলেন। (সুনানে বায়হাকী)

তাইয়্যাম্মুমে তিন ফরয :

১.নিয়ত করা

২.সমস্ত মুখ একবার মাসেহ করা

৩.দুই হাতের কনুইসহ একবার মাসেহ করা।

তাইয়্যাম্মুমের পদ্ধতি :

তাইয়্যাম্মুমের নিয়ত করে দু’হাত খোলা অবস্থায় মাটিতে চাপড় দিবে অতঃপর যদি ধুলার পরিমাণ বেশী তবে হাত ঝেড়ে মুখম-ল এমনভাবে মাসেহ করবে যেন কোনো জায়গা স্পর্শহীন না থাকে। এরপর পুনরায় দু’হাত দিয়ে মাটিতে চাপড় দিবেন এবং হাত ঝেড়ে বাম হাতের তর্জনী থেকে কনিষ্ঠা এই চার আঙ্গুলের ভিতরের অংশ ডান হাতের অঙ্গুলির নীচে রেখে আঙ্গুলের মাথা থেকে কনুই পর্যন্ত টেনে নিয়ে আসবেন। তারপর বাম হাতের তালু ডান হাতের উপর রেখে কনুই থেকে আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবেন। একই নিয়মে ডান হাত দিয়ে বাম হাতের আঙ্গুলের মাথা থেকে কনুই পর্যন্ত এবং কনুই থেকে আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত মাসেহ করবেন। এরপর দুই হাতের আঙ্গুল পরষ্পরের মধ্যে ঢুকিয়ে খিলাল করবেন। আংটি পরা থাকলে তার নিচেও আঙ্গুলের স্পর্শ লাগতে হবে। কেননা হাতের কোথাও চুল পরিমাণ জায়গা স্পর্শহীন থাকলে তাইয়্যাম্মুম দুরস্ত হবে না।

তাইয়্যাম্মুম শেষে দোয়া :

اَشْهَدُ اَنْ لاَّ اِلٰهَ اِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَهُ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ – اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَّوَّابِيْنَ وَاجْعَلْنِيْ مِنَ الْمُتَطَهِّرِيْنَ وَاجْعَلْنِىْ مِنْ عِبَادِكَ الصَّالِحِيْنَ وَاجْعَلْنِىْ مِنَ الَّذِيْنَ لَاخَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَاهُمْ يَحْزَنُوْنَ.

উচ্চারণ :আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারাসূলুহ। আল্লাহুম্মাজ আ’লনী মিনাত তাউয়াবীনা ওয়াজ আ’লনী মিনাল মুতাতহহিরীনা ওয়াজ আ’লনী মিন ই’বাদাসসালিহীন ওয়াজ আ’লনী মিনাল্লাজীনা লা-খাওফুন আ’লাইহিম ওয়ালাহুম ইয়াহযানুন।

অর্থ : আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো অভিভাবক নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই্ আর নিঃসন্দেহে মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছেন তাঁরই বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারীদের মধ্যে গণ্য করুন। আর পবিত্র মানুষদের মধ্যে শামিল করুন, আর আমাদের এবাদতকারী সালেহীনদের মধ্যে শামিল করুন এবং আমাদের সেসব মানুষদের সাথে সম্পৃক্ত করুন, যাদের কোনো ভয়ের কারণ নেই, আর নেই কোনো দুশ্চিন্তা।

. গোসল : গোসল পবিত্রতা

শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উত্তমরূপে ধোয়াকে গোসল বলা হয়। নিয়মিত গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য হিতকর। ধূলোবালি, ময়লা থেকে মুক্ত থাকার জন্যও এটা একান্ত প্রয়োজন। বড় ধরনের নাপাকী অর্থাৎ ‘হাদাসে আকবার’ থেকে পবিত্রতা হাসিলের জন্য গোসল করা ফরয।

গোসলের ব্যাপারে কালামে পাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :

وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا ۚ وَإِنْ كُنْتُم ْمَّرْضىٰ أَوْ عَلٰى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِّنْكُمْ مِّنَ الْغَائِطِ أَو ْلَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيْدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوْا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيْكُمْ مِّنْهُ ۚ مَا يُرِيْدُ اَللهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِّنْ حَرَجٍ وَّلـٰكِنْ يُرِيْدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ.

উচ্চারণ : ওয়াইন কুনতুম জুনুবান ফাত্তাহহারু; ওয়াইন কুনতুম মারদ্বা আও-আলা সাফারিন আও জ্বাআ আহাদুম মিনকুম মিনাল গায়িতি আও লামাসতুমুন নিসাআ ফালাম তাজ্বিদু মাআন ফাতাইয়াম্মামু সায়িদান ত্বইয়িবান ফামসাহু বিউজুহিকুম ওয়া আইদীকুম মিনহু মাইয়ুরীদুল্লাহু লিইয়াজ্ব’আলা আলাইকুম মিন হারজ্বিঁও ওয়ালাকিই ইয়ূরীদু লিইয়াত্বহ্হিরাকুম ওয়ালিইয়ুতিম্মা নি’মাতাহু, আআইকুম লা’আল্লাকুম তাশকুরুন।

অর্থ : যদি তোমরা জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় থাকো, তাহলে গোসল করে পাক সাফ হয়ে যাও। যদি তোমরা রোগগ্রস্ত হও বা সফরে থাকো অথবা তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি মলমূত্র ত্যাগ করে আসে বা তোমরা নারীদেরকে স্পর্শ করে থাকো এবং পানি না পাও, তাহলে পাক-পবিত্র মাটি দিয়ে কাজ সেরে নাও। তার ওপর হাত রেখে নিজের চেহারা ও হাতের ওপর মাসেহ করে নাও। আল্লাহ তোমাদের জন্য জীবনকে সংকীর্ণ করে দিতে চান না কিন্তু তিনি চান তোমাদেরকে পাক-পবিত্র করতে এবং তাঁর নিয়ামত তোমাদের ওপর সম্পূর্ণ করে দিতে, হয়তো তোমাদের শোকর গুজার হবে।(সূরা ৫ মায়েদা :আয়াত ৬)

হাদীসের আলোকে গোসলের নিয়ম :

গোসলের নিয়ম সম্বলিত রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় হাদীসে বর্ণনা করা হলো :

১. হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। মায়মুনা বলেছেন, আমি নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তিনি তাঁর দু’হাত দুবার কিংবা তিনবার ধুয়ে ফেললেন। তারপর তিনি বাঁ হাতে পানি নিয়ে তাঁর বিশেষ স্থান ধুলেন তারপর হাত মাটিতে রগড়ালেন। তারপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন এবং মুখ মন্ডল ও দু’হাত ধুয়ে ফেললেন। অতপর সারা শরীরে পানি প্রবাহিত করলেন। সবশেষে সে স্থান থেকে সরে গিয়ে পা দু’টি ধুয়ে ফেললেন। (সহীহ আল বোখারী-২৫০)

২. হযরত মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তিনি ডান হাত দ্বারা বাম হাতে পানি ঢেলে উভয় হাত ধুয়ে ফেললেন। এরপর বিশেষ স্থান ধুলেন। তারপর হাতটি মাটিতে রগড়ালেন এবং ধুয়ে ফেললেন। এরপর কুল্লি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। এরপর মুখম-ল ধুলেন এবং মাথায় পানি ঢাললেন এবং সে স্থান থেকে সরে গিয়ে পা দু’টি ধুলেন। অতঃপর তাঁকে গা মোছার জন্য এক টুকরা কাপড় দেয়া হলো। কিন্তু তিনি তা ব্যবহার করলেন না। (সহীহ আল বোখারী-২৫২)

৩.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয গোসলে প্রথমে দু’হাত ধুতেন। তারপর ডান হাতে পানি ঢেলে বাম হাত দিয়ে শরীরের বিশেষ স্থান ধুইতেন। এরপর নামাযের অযুর মতো অযু করতেন। এরপর পানি ঢেলে আঙ্গুল দিয়ে চুলের গোড়া ভেজাতেন। চুল ভালোভাবে ভিজে যাবার পর তিন আঁজলা পানি শির মোবারকে দিতেন। এরপরে গোটা শরীরে পানি প্রবাহিত করতেন। সবশেষে দুই পা ধৌত করতেন।

৪.অন্য রেওয়ায়েতে এসেছে-আঙুল দিয়ে চুলের গোড়া ভিজাতেন। চুলের গোড়া ভালোভাবে ভিজে যাবার পর শির মোবারকে তিনবার পানি ঢালতেন। (সহীহ আল বোখারী)

৫.কেউ যদি ফরয গোসলের মধ্যে শরীরের এক চুল পরিমাণ স্থানও শুকনা রাখে তাহলে তা জাহান্নামের আগুনে এই শাস্তি ভোগ করবে।

গোসল চার প্রকার : ক. ফরয খ.ওয়াজিব গ. সুন্নত ঙ. মুস্তাহাব।

ক. গোসল ফরয হওয়ার কারণ সাতটি :

১. নিদ্রিত বা জাগ্রত অবস্থায় যৌন উত্তেজনায় বীর্যপাত হলে

২. স্বপ্নদোষ হলে

৩. স্ত্রী সহবাস করলে

৪. বীর্যপাত হোক বা না হোক পুরুষের লিঙ্গের অগ্রভাগ স্ত্রী লিঙ্গে বা গুহ্যদ্বারে প্রবেশ করালে

৫. মহিলাদের হায়েজ-নেফাসের রক্তস্রাব বন্ধ হলে

৬. স্বপ্নদোষের কথা স্মরণ হোক বা না হোক নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়ার পর শরীরে বা কাপড়ে বীর্য পরিদৃষ্ট হলে এবং

৭. হস্তমৈথুন, পুংমৈথুন অথবা পশুমৈথুন হলে। এ ধরণের নাপাকী হতে পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসল ফরজ হয়।

. গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণ তিনটি :

১.অমুসলিম অবস্থায় (পুরুষ বা মহিলা) মুসলমান হলে

২.ছেলেরা স্বপ্নদোষের মাধ্যমে বালেগ হলে

৩.মেয়েরা স্বপ্নদোষ বা ঋতুস্রাবের (হায়েয) মাধ্যমে বালেগা হলে গোসল ওয়াজিব হয়।

.সুন্নত গোসল :

১. যাদের প্রতি জুম’আর নামায পড়া ফরয তাদের জন্য জুম‘আর নামাযের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে

২. যাদের প্রতি ঈদের নামায পড়া ওয়াজিব তাদের জন্য ফজরের পর থেকে ঈদের নামাযের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে মধ্যে

৩. হজ্জ বা ওমরার ইহরাম বাঁধার পূর্বে এবং

৪. হজ্জ উদযাপনকারীদের জন্য আরাফার দিন দ্বি-প্রহরের পর গোসল করা সুন্নত।

গোসলে ফরয তিনটি :

১.গড়গড়া করে উত্তমরূপে কুলি করা, কিন্তু রোযাদার হলে কুলি করা যাবে/গড়গড়া করা যাবে না।

২. নাকের ভেতরের নরম স্থানে উত্তমরূপে পানি প্রবেশ করানো এবং

৩.সমস্ত শরীর একবার উত্তমরূপে ধৌত করা।

গোসলের সুন্নত ছয়টি :

১.গোসলের পূর্বে নামাযের অযুর ন্যায় অযু করা। শুধু পা ধোয়া দরকার হবে না।

২.দু’হাতের কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধোয়া

৩.তিনবার গড়গড়া করা

৪.নাকের ভিতরে তিনবার পানি পৌঁছানো

৫.প্রথম লজ্জাস্থান ধুয়ে তারপরে শরীর ভালোরূপে মর্দন করা

৬.সর্বাগ্রে নাপাকি ধুয়ে শরীর পরিষ্কার করা এবং

৬.সমস্ত শরীর উত্তমরূপে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা।

গোসলের নিয়ত :

নাপাকী দূর করা উদ্দেশ্যে আমি গোসলের নিয়ত করলাম।

You may also like