Home ইসলাম নামায কিভাবে পড়বো (নামাযে কি কি পড়তে হয়)

নামায কিভাবে পড়বো (নামাযে কি কি পড়তে হয়)

by admin
০ comment

 নামায

নামায কিভাবে পড়বো

(নামাযে কি কি পড়তে হয়)

মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

লেখকের কথা

আলহামদুলিল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের জন্য। যিনি আপন অনুগ্রহে আমাদেরকে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সৃষ্টি করে তাঁর মনোনীত দীন ইসলামের অনুসারী (মুসলিম) বানিয়ে জীবন যাপনের তাওফিক এনায়েত করেছেন। সালাত ও সালাম তাঁর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি যাঁকে বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। পরম করুনাময় আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনই হওয়া উচিত আমাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। তিনি সন্তুষ্ট হলেই আমাদের দুনিয়ার জীবনে ফিরে আসবে শান্তি এবং আখেরাতের অনন্ত জীবনে আমরা পাবো মুক্তি (নাযাত)। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একমাত্র উপায়- তাঁর বিধি-বিধানের সঠিক ইত্তেবা (অনুসরণ) তথা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা যার নাম ‘ইবাদত’।

কুরআন থেকে হেদায়েত পাওয়ার শর্ত হিসেবে সূরা বাকারার ৩ নং আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন : اَلَّذِينَ يُؤْمِنُوْنَ بِالْغَيْبِِِوَيُقِيْمُوْنَ الصَّلَاةَ “যারা অদৃশ্যে ঈমান আনে এবং সালাত কায়েম করে।” এ আয়াতে কারীমায় এক নম্বরে ঈমান এবং দুই নম্বরে নামায কায়েমের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহর বিধি-বিধান সম্বলিত ইসলামের পাঁচটি মৌলিক ভিত্তিতেও ঈমানের পরেই নামাযের স্থান। নামাযের আরবি প্রতিশব্দ হলো ‘সালাত’। কালামে পাকের ৮২ জায়গায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ‘اَقِيْمُوْالصَّلوٰةَ’ বলে নামায কায়েমের অতীব গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। নামায কায়েম মানে- নামাযে পঠিত কুরআনের বিধি-বিধান সমাজ তথা রাষ্ট্রে চালু করা বা কুরআন-হাদীসভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। নামাযের ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কালামেপাকে সূরা আনকাবুতের ৪৫ নং আয়াতে বলেছেন :   اِنَّالصَّلوٰةَ تَنْهَي عَنِ الْفَحْشَاءِ   وَالْمُنْكَرِ- “নিশ্চয়ই নামায মানুষকে পাপ, অন্যায় ও অশ্ল¬ীলতা এবং লজ্জাহীনতা থেকে বিরত রাখে।” রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “কাফির এবং মুসলিমের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো নামায।” সেজন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুমিনদের জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ করেছেন।   اَوَّلُ مَايُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِالصَّلٰوةَ কিয়ামতের দিন মুসলমানের সর্বপ্রথম হিসাব নেয়া হবে নামাযের। খুশু-খুযুর সাথে সঠিক পদ্ধতিতে নামায আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের অবশ্য কর্তব্য। নামাযের বিধান যেমন রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে এসেছে তদ্রƒপ তাঁর নিয়ম-পদ্ধতিও তিনি উম্মতকে শিখিয়েছেন।

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে নামাযের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন, কি পদ্ধতিতে নামায পড়েছেন, নামাযে কী কী পড়েছেন, নামাযের আরকান-আহকাম কিভাবে পালন করেছেন, ফরয নামায ছাড়া আর কি কি নামায তিনি কতো রাকাত পড়েছেন? নামায সংক্রান্ত উপরোক্ত মৌলিক বিষয়গুলো ‘নামায কিভাবে পড়বো’ নামক বক্ষমান বইটিতে কুরআন-হাদীসের আলোকে বর্ণনার চেষ্টা করা হয়েছে। বইটি অধ্যয়নে আমরা তা অতি সহজেই জানার সুযোগ পাবো ইনশা‘আল্লাহ।

স্বল্প শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত এবং শিক্ষিত মুসলমান ভাই-বোনেরা অতি সহজে নামাযের রীতিনীতির ব্যাপারে এ বই থেকে সমভাবে উপকৃত হবেন বলে আমার বিশ্বাস। বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে বইখানা প্রকাশনায় যে শ্রম ও সময় দেয়ার প্রয়োজন ছিলো তা সম্ভব হয়নি। তারপরও প্রথম সংস্করণ হিসেবে এতে ভুলত্রুটি এবং সীমাবদ্ধতা থাকা অস্বাভাবিক নয়। সহৃদয় পাঠক, শুভাকাক্সক্ষী-শুভানুধ্যায়ীদের নিকট অনুরোধ-কোনো ভুলত্রুটি বা সীমাদ্ধতা পরিলক্ষিত হলে মেহেরবানী করে অবহিত করলে পরবর্তী সংস্করণে তা সংশোধনের আপ্রাণ চেষ্টা করবো ইনশা’আল্লাহ ।

আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা, তিনি যেনো আমার এ ক্ষুদ্র উদ্যোগকে ছদকায়ে জারিয়াহ হিসেবে কবুল করেন এবং পরকালে বইটির পাঠক, শুভাকাক্সক্ষী-শুভানুধ্যায়ীসহ আমাদের সকলের নাযাতের উসিলা বানান। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন ।

মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

মে, ২০১

সূচিপত্র

. নাজাসাত বা অপবিত্রতা

নাজাসাত কী ও কেন?

বিভিন্ন বস্তু পবিত্র করার উপায়

মল-মূত্র ত্যাগের সঠিক নিয়ম

হাদীসের আয়নায় ইস্তেঞ্জা (শৌচকার্য)

পানির বিবরণ

. তাহারাত বা পবিত্রতা

মেসওয়াক : পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মেসওয়াকের ভূমিকা মেসওয়াক

শয়নে-জাগরণে মেসওয়াক

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মেসওয়াক

দাঁতের রোগ-ব্যাধি নিরাময়ে মেসওয়াক

যেসব গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক তৈরি করা যায়

আধুনিক : Toothbrush ও মেসওয়াক

রমযান ও মেসওয়াক

অযু : পবিত্রতায় অযুর ভূমিকা

তাইয়্যাম্মুম : পবিত্রতায় তাইয়্যাম্মুম ও গোসল

গোসল : গোসল ও পবিত্রতা

. আযান ইকামত  

আযানের গুরুত্ব

আযানে আমরা যা বলি

আযানের উত্তর

আযানের দোয়া

ইকামত

. নামায       

নামায কি ও কেন?

পৃথিবীর সকল মাখলূকই নামায আদায় করে

নামায অতীতের সকল শরীয়তের বিধান

নামায মানুষকে পবিত্র করে

ইসলামের সবচেয়ে বড় আনুষ্ঠানিক ইবাদত নামায

নামাযের সময়

সময়মতো নামায পড়া

জামায়াতের সাথে নামায না পড়ার পরিণাম

নামায না পড়ার পরকালীন শাস্তি

নামায ত্যাগ করা কুফরি

আল কুরআনে নামায কায়েমের নির্দেশ

মুমিন বান্দা ও কাফিরের মধ্যে বাহ্যিক পার্থক্য নামায

নামায মুমিনের জন্য মি‘রাজ

. নামাযের ব্যাপারে রাসূল (সা:)-এর বাণী      

কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম হিসাব নেয়া হবে নামাযের

নামায জানমালের নিরাপত্তা লাভের উপায়

পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের দৃষ্টান্ত

সময়মতো নামায পড়ার ফযীলত

সময়মত নামায না পড়ার পরিণতি

যথাযথভাবে নামায পড়ার পদ্ধতি

জামায়াত কায়েমের ফযীলত

এক নজরে জামায়াতে নামাযের ফযীলত

তাকবীরে উলার সাথে নামায পড়া

নামায গুনাহ মাফের উসিলা

নামাযি আল্লাহর সান্নিধ্য এবং আরশে ছায়া পাবে

নামায মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে

নামাযে অবহেলা/শৈথিল্য প্রদর্শনের শাস্তি

নামায নষ্ট করা

নামাযে চুরি

মসজিদে নামায

মসজিদে যাওয়ার ফযীলত

নামাযের জন্য অপেক্ষা করার ফযীলত

ফযর ও এশার জামায়াতে হাযির হওয়া

আছরের নামাযে হাজির হওয়া

জামায়াত আরম্ভ হলে সুন্নাত নেই

তাহাজ্জুদের চাইতে ফজরের জামায়াতের গুরুত্ব বেশি

জামায়াতে উপস্থিতির ক্ষেত্রে বিলম্ব ও ব্যতিক্রমের অবকাশ

নামাযে কাতার সোজা করা

প্রথম কাতারের ফযীলত

নামাজের সামনে দিয়ে আসা-যাওয়া

সুন্নাতে মুয়াক্কাদার পুরস্কার

নামাযের সময়

কেরাত পড়ার বিধান

. নামাযের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মাসআলাহ 

এক নজরে ফরয, ওয়াযিব ও সুন্নাতসমূহ

নামাযের বাইরের ফরয

নামাযের ভেতরের ফরয

নামাযের ওয়াজিব

নামাযে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা

নামায ভঙ্গের কারণসমূহ

নামায পাঁচ প্রকার

নামাযের রাকা’আত সংখ্যা

নামায পড়ার সংক্ষিপ্ত নিয়ম

নামাযের বিস্তারিত নিয়ম

নামায পড়ার নিয়ম     

প্রথম রাকা’আতের মাসআলাসমূহ :

প্রথম রাকা’আতে রুকুর আগের মাসআলাসমূহ

সেজদায় : প্রথম রাকা’আতের প্রথম সেজদার মাসআলাসমূহ

প্রথম রাকা’আতের দ্বিতীয় সেজদার মাসআলাসমূহ

দ্বিতীয় রাকা’আতের মাসআলাসমূহ :

রুকুর মধ্যে : দ্বিতীয় রাকা’আতের রুকুর মাসআলাসমূহ

সেজদায় : দ্বিতীয় রাকা’আতের প্রথম সেজদার মাসআলাসমূহ

দ্বিতীয় রাকা’আতের দ্বিতীয় সেজদার মাসআলাসমূহ

তৃতীয় রাকা’আতের মাসআলাহসমূহ :

রুকুর মধ্যে : তৃতীয় রাকা’আতের রুকুর মাসআলাহসমূহ

সেজদায় : তৃতীয় রাকা’অতের প্রথম সেজদার মাসআলাহসমূহ

তৃতীয় রাকা’আতের দ্বিতীয় সেজদার মাসআলাহসমূহ

চতুর্থ রাকা’আতের মাসআলাহসমূহ :

রুকুর মধ্যে : চতুর্থ রাকা’আতের রুকুর মাসআলাহসমূহ

সেজদা : চতুর্থ রাকা’আতের প্রথম সেজদার মাসআলাহসমূহ

চতুর্থ রাকা’আতের দ্বিতীয় সেজদার মাসআলাহসমূহ

আখেরী বৈঠকের মাসআলাহসমূহ

নামায শেষে তাসবীহ

নামায শেষে দোয়া

. এক নজরে নামায   

১. নামাযের ভেতরে পঠিত বিষয়সমূহ

২. নামায শেষে দোয়া

. বিভিন্ন নামায         

১. ফজরের নামায

২. যোহরের নামায

৩. আছরের নামায

৪. মাগরিবের নামায

৫. এশার নামায

৬. বিতরের নামায

৭. জুম’আর নামায

৮. তাহাজ্জুদের নামায

৯. সালাতুল ইশরাকের নামায

১০. চাশতের নামায

১১. আউয়াবীনের নামায

১২. তাহিয়্যাতুল অযুর নামায

১৩. দুখুলিল মসজিদের নামায

১৪. সালাতুত তাসবীহর নামায

১৫. শবে বারাতের নামায

১৬. শবে ক্বদরের নামায

১৭. সালাতুত তারাবীহ নামায

১৮. সফরের নামায

১৯. জমা বাইনাস সালাতাইন

২০. সালাতুত তাওবা

২১. জানাযার নামায

২২. ঈদুল ফিতরের নামায

২৩. ঈদুল আযহার নামায

. নামাযে বহুল পঠিত কুরআনের শেষ ১০টি সূরা       

১. সূরা আল ফীল

২. সূরা আল কুরাইশ

৩. সূরা আল মা’ঊন

৪. সূরা আল কাউছার

৫. সূরা আল কাফিরূন

৬. সূরা আন নাসর

৭. সূরা আল লাহাব বা মাসাদ

৮. সূরা আল ইখলাস

৯. সূরা আল ফালাক

১০. সূরা আন নাস

১০. নামায সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ আমল      

১. ফযরের নামাজের পরের আমল

২. রাতে ঘুমাবার পূর্বের আমল

৩. আল-কোরআনের কতিপয় দোয়া

৪. দৈনন্দিন ব্যবহারিক দোয়া

নাজাসাত বা অপবিত্রতা

নাজাসাত কী ও কেন?

নামায কিভাবে পড়বো এবং নামাযে কি কি পড়তে হয়- এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে নামাযের প্রস্তুতিমূলক দুটি বিষয়ে আমাদেরকে সম্যক ধারণা অর্জন করতে হবে। তারমধ্যে একটি নাজাসাত বা অপবিত্রতা আর অপরটি তাহারাত বা পবিত্রতা। এ দুটি বিষয়ের ধারণা ছাড়া আমাদের নামায সহীহ-শুদ্ধ হবে না। নামায সহীহ-শুদ্ধ না হলে নামাযের দ্বারা অন্তরাত্মার যে পরিশুদ্ধির কথা কালামে পাকে বলা হয়েছে তা অর্জনও আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। তাই পবিত্রতার বিষয়ে পরবর্তী অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এ অধ্যায়ে নাজাসাত সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করা হলো।

শরীর থেকে যেসব জিনিস বের হওয়ার কারণে শরীর নাপাক হয়ে যায়, অথবা যেসব দ্রব্য কোনো পাক বস্তুতে লাগলে তা নাপাক হয়ে যায় তাকে ‘নাজাসাত’ নাপাকী বা অপবিত্রতা বা অপবিত্র জিনিস বলা হয়। নাজাসাত দু’প্রকার : ১. নাজাসাতে হাকিকী ও ২. নাজাসাতে হুকমী।

১. নাজাসাতে হাকিকী :

যা স্পর্শ করা যায় এবং দৃষ্টিগোচর হয় তাকে নাজাসাতে হাকিকী বলে। প্রস্রাব, পায়খানা, রক্ত, বীর্য ও মদ প্রভৃতি বস্তু এ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। কোনো পবিত্র দ্রব্যে এসব নাপাক জিনিস লাগার পর পবিত্র পানি দিয়ে এসব বস্তু ভালরূপে পরিষ্কার করলে এসব পবিত্র হয়ে যায়।

২. নাজাসাতে হুকমী :

যা স্পর্শ করা যায় না এবং দৃষ্টিগোচরও হয় না তাকে নাজাসাতে হুকমী বলে। শরীর থেকে বায়ু নির্গত হওয়া, অযু ভঙ্গ হওয়া ও গোসল ফরয হওয়া প্রভৃতি এ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। অযু ও গোসল করা ছাড়া এগুলো থেকে পাক হওয়া যায় না।

নাজাসাতে হাকিকী আবার দু’প্রকার :

ক. নাজাসাতে গলীযা ও

খ. নাজাসাতে খফীফা।

ক. নাজাসাতে গলীযা :

যে নাপাকী খুব গাঢ় তা নাজাসাতে গলীযা। হারাম জন্তু এবং মানুষের প্রস্রাব ও পায়খানা, গৃহপালিত পশু-পাখির মল-মূত্র, বীর্য, নির্গত রক্ত প্রভৃতি নাজাসাতে গলীযা। স্তন্যপায়ী সন্তানদের প্রস্রাব-পায়খানাও নাজাসাতে গলীযা। নাজাসাতে গলীযা যদি তরল ও হালকা অথবা প্রচলিত ধাতব টাকার পরিমাণ অথবা হাতের তালুর গহ্বর পরিমাণ পর্যন্ত নাপাকী অবস্থায় নামায শুদ্ধ হবে। তবে তা মাকরূহে তাহরীমি হবে। সুযোগ থাকলে এ অবস্থায়ও পবিত্রতা অর্জনের পরই নামায পড়া উত্তম। তবে এ অবস্থা থেকে পবিত্র হতে গিয়ে যদি নামায কাজা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে নামায পড়ে নেয়া যাবে।

খ. নাজাসাতে খফীফা :

যে নাপাকী কিছু হালকা তা নাজাসাতে খফীফা। সকল প্রকার হালাল ও হারাম পাখির মল নাজাসাতে খফীফা। নাজাসাতে খফীফা কোনো কাপড়ে বা শরীরে লাগলে শরীর বা কাপড়ের যে অংশে লাগবে যদি উক্ত নাপাকী তার এক চতুর্থাংশের চাইতে কম পরিমাণ স্থানে লেগে থাকে তবে তা মাফ কিন্তু যদি পূর্ণ এক চতুর্থাংশ বা ততোধিক স্থানে লেগে থাকে তবে এ অবস্থায় নামায শুদ্ধ হবে না। নাজাসাতে খফীফা দু’প্রকার :

১.       নাজাসাতে হদসে আসগর ও

২.       নাজাসাতে হদসে আকবর।

১. নাজাসাতে হদসে আসগর :

যেসব নাপাকী শুধু অযু দ্বারা দূর হয়ে যায় তাকে নাজাসাতে হদসে আসগর বলে। যেমন পায়খানা, প্রসাব এবং মলদ্বার দিয়ে বায়ু ইত্যাদি নির্গত হলে কেবল অযু করলেই শরীর পবিত্র হয়ে যায়।

২. নাজাসাতে হদসে আকবর :

যেসব নাপাকী শুধু অযু দ্বারা দূর হয়না বা যে ক্ষেত্রে নাপাকী থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসলের প্রয়োজন হয় তাকে নাজাসাতে হদসে আকবর বলে। যেমন কামভাবে শুক্রপাত, মহিলাদের গুপ্তাঙ্গে পুরুষের গুপ্তাঙ্গ প্রবেশ করানো অথবা মহিলাদের হায়েজ (মাসিক ঋতুস্রাব) ও নেফাস (বাচ্চা প্রসবের পরের রক্তস্রাব) শেষ হলে গোসল ছাড়া শরীর পাক হয় না।

মাছের রক্ত, মশা, মাছি ও ছারপোকার ভুক্ত রক্ত পবিত্র। প্রস্রাবের ছিটা সূঁচাগ্রভাগ পরিমাণ হলে তাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে এর চেয়ে বেশি হলে আক্রান্ত জায়গা বা কাপড়চোপড় ধুয়ে ফেলতে হবে নতুবা নামায শুদ্ধ হবে না। যেসব হালাল পাখি শূন্যে মলত্যাগ করে এদের মল পাক। কুকুরের লালা এবং শূকরের যে কোনো বস্তু সম্পূর্ণ অপবিত্র।

বিভিন্ন বস্তু পবিত্র করার উপায়

ক. জমাট নাপাক বস্তু :

কোনো বস্তুতে পায়খানা ও রক্ত লাগলে প্রথমে উক্ত ময়লা অপসারিত করতে হবে। এরপর তা তিনবার ধুয়ে ব্যবহার করতে হবে। যদি তিন বারেও নাপাকি দূর না হয় তবে নাপাকি দূর না হওয়া পর্যন্ত ভালরূপে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

খ. তরল নাপাক বস্তু :

পেশাব বা এ জাতীয় কোন নাপাক তরল পদার্থ কাপড়ে লাগলে তিন বার উত্তমরূপে নিংড়িয়ে ধৌত করতে হবে। কিন্তু শেষবারে সাধ্যানুযায়ী জোরে নিংড়াতে হবে; নচেৎ কাপড় পাক হবে না। শরীর বা কাপড়ে যেকোন নাপাক দ্রব্য লাগলে তা না ধুয়ে শুধু নিংড়ালে পাক হবে না।

গ. শক্ত ধাতব বস্তু :

আয়না, চাকু, ছুরি, লোহা, তামা, কাঁসা এবং স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলঙ্কার প্রভৃতি নাপাক হয়ে গেলে উত্তমরূপে ঘঁষে-মেজে ধুলে পাক হবে। বড় বিছানার এক কোণা নাপাক হলে বাকি সব পাক থাকলে পাক স্থানে দাঁড়িয়ে নামায পড়া জায়েয হবে।

গোবর বা নাপাক দ্রব্য দ্বারা জমিন লেপন করলে তা নাপাক হয়ে যাবে। এর উপর কোনো পাক বিছানা না বিছিয়ে নামায পড়লে উক্ত নামায জায়েয বা সহীহ হবে না।

মল-মূত্র ত্যাগের সঠিক নিয়ম

টুপি বা কোনো কাপড় মাথায় দিয়ে পায়খানা ও প্রস্রাবখানায় যেতে হবে। খালি মাথায় যাওয়া দূষণীয়। উভয় স্থানে প্রথমে বাম পা বাড়িয়ে প্রবেশ করতে হবে এবং বাম পায়ের উপর ভর দিয়ে উত্তর বা দক্ষিণমুখী হয়ে বসতে হবে। কখনো কেবলামুখী হয়ে অথবা কেবলাকে পিছ করে বসতে নেই; এটি গুনাহ। এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য শহরে হোক চাই গ্রামে হোক পায়খানা এবং প্রস্রাবখানা (ঞড়রষবঃ) অবশ্যই উত্তর এবং দক্ষিণমুখী করে তৈরি করতে হবে। অধিকাংশ গ্রামে ফাউন্ডেশন করা বহুতল ভবন থাকে না কাজেই ভুল বশত: গ্রামের কোনো টয়লেট এর ব্যতিক্রম হলেও পরবর্তীতে পূর্বেরটি ভেঙ্গে সংস্কার করা সম্ভব।

প্রসঙ্গত: উল্লেখযোগ্য, ঢাকা শহরে আমরা একটি বহুতল ফ্লাট বাসা ভাড়া নেয়ার সময় বিষয়টি আমাদের গোচরীভূত হয়নি। পরবর্তীতে ব্যবহারের সময় দেখা গেলো উক্ত বাসার একটি টয়লেট পূর্বমুখী। বাড়িওয়ালা খুবই মোখলেস এবং পরহেজগার মানুষ। বিষয়টি তার গোচরীভূত করায় তিনি জবাব দিলেন, ‘আমি সৌদি আরবে চাকরিতে থাকাকালে আমার প্রতিনিধি বিল্ডিংটি করেছেন। তিনি তখন বিষয়টি অনুধাবন করতে পারেননি।’ আমি বললাম, ‘আপনি এখন সৌদির চাকরি শেষে বাংলাদেশে আছেন, কেবলামুখি হয়ে এস্তেঞ্জা না করার গুরুত্ব আপনি বুঝেন।’ তখন তিনি উত্তর দিলেন, এতো বড় সাততলা ফাউন্ডেশন করা ডাবল ইউনিটের বাড়ির ১৪টি বাথরুম ভেঙ্গে কি আর নতুন করে করা সম্ভব? অর্থাৎ যুগ যুগ ধরে এ বাড়িতে যারা আসবেন তাদেরকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাধ্য হয়েই কেবলার দিকে পেছন দিয়ে এস্তেঞ্জা করতে হবে।

নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত হচ্ছে প্রস্রাব-পায়খানার পর প্রথমে ঢিলা ব্যবহার করা এবং অতঃপর পানি দিয়ে ধুয়ে পবিত্রতা অর্জন করা। স্বাস্থ্য সচেতন কোনো লোক নিজের মলমূত্র নিজহাতে স্পর্শ করেনা। এটি রুচি বিরোধী ও অত্যন্ত অপবিত্র কাজ। এটি স্বাস্থ্যসম্মতও নয়। কারণ মলমূত্র থেকে অনেক জীবাণু হাতের মাধ্যমে শরীর ও অন্যান্য স্থানে সংক্রমিত হতে পারে।

হাদীসের আয়নায় ইস্তেঞ্জা (শৌচকার্য)

১.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইস্তেঞ্জা করার সময় ডানহাত ব্যবহার করবে না এবং কোনো বরতন বা পাত্রে মলমূত্র ত্যাগ করবে না। (আবু দাউদ ও আন-নাসায়ী)

২.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুবার লোকদের বললেন, আল্লাহ্ তোমাদের পবিত্রতার খুবই প্রশংসা করেছেন। তিনি কুবার লোকদের নিকট জানতে চাইলেন, এর রহস্য কী? তারা উত্তর দিলেন, আমরা ঢিলা ও পানি উভয়টি দ্বারাই পবিত্রতা অর্জন করি। (আবু দাঊদ ও মুসনাদে আহ্মাদ)

৩.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইস্তেঞ্জার পর পবিত্রতা লাভের জন্য বামহাত ব্যবহার করবে। (আবু দাঊদ)

৪.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের আগে ঢিলা ব্যবহার করবে। (আবু দাঊদ ও আন-নাসায়ী)

এখানে ঢিলা বলতে মাটির টুকরাকে বোঝানো হয়েছে। বর্তমানে এর বিকল্প হিসেবে টিস্যু পেপার ব্যবহার হচ্ছে। এ সম্পর্কিত নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীসমূহ প্রত্যেক হাদীস গ্রন্থের ‘কিতাবুত তাহারাত’ অধ্যায়ের ইস্তেঞ্জা পরিচ্ছেদে বিশদভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে। যে সকল লোক মলত্যাগের পর পানি দিয়ে শৌচকার্য করেনা বা শুধুমাত্র কাগজ ব্যবহার করে, তাদের বেশ কয়েক ধরনের রোগ সৃষ্টি হতে পারে। যেমন, মলদ্বারের আশপাশে ফোঁড়া এবং গোদের মধ্যে পুঁজ, যা প্রস্রাবের সময় বের হয়ে আসে। তাই পানি দিয়ে মলমূত্র ত্যাগের স্থানসমূহ পরিষ্কার করার আগে কোনো ঢিলা বা টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে নেয়া উচিত। তবে গোবরের ঢিলা ব্যবহার করতে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।

৫.হযরত আবু কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলা হলো, আপনাদের নবী প্রতিটি বিষয় আপনাদের শিক্ষা দিয়েছেন; এমনকি পায়খানা-পেশাবের শিষ্টাচার পর্যন্ত। সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হ্যাঁ, তিনি আমাদের কিবলামুখী হয়ে পায়খানা-পেশাব করতে, মল ত্যাগের পর ডান হাত দিয়ে ইস্তেঞ্জা (মল ত্যাগের জায়গা পরিষ্কার করা ও পবিত্রতা অর্জন করা) করতে নিষেধ করেছেন। তিনি কাউকে তিনটি ঢিলার কম দিয়ে ইস্তেঞ্জা করতে এবং শুকনো গোবর অথবা হাড় দিয়ে ইস্তেনজা করতে নিষেধ করেছেন। (জামে আত-তিরমিযী ও আন-নাসায়ী)

৬.আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেনো পানি পান করার সময় পাত্রে নিশ্বাস না ফেলে। আর পায়খানায় এসে কেউ যেনো ডান হাত দ্বারা পুরুষাঙ্গ স্পর্শ না করে এবং সে যেন ডান হাত দ্বারা শৌচক্রিয়া না করে। (সহীহ আল বোখারী)

৭. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি হাদীস বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা শুকনো গোবর আর হাড় দিয়ে ইস্তেঞ্জা করবে না। (জামে আত-তিরমিযী ও আন-নাসায়ী)

৮. হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ডানহাত ছিলো খাদ্য গ্রহণ ও অজু করার জন্য, আর বাম হাত ছিলো মলমূত্র ত্যাগের পর উক্ত স্থান পরিষ্কার করার জন্য। (আবু দাঊদ)

৯. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্ল¬াম শৌচ করার পর মাটিতে তাঁর হাত ঘষে পরিষ্কার করতেন এবং অযু করতেন। (আন-নাসায়ী)

১০. হযরত জারীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি     ওয়াসাল্ল¬ামের সাথে ছিলাম। তিনি একদা পায়খানায় গেলেন এবং প্রয়োজন সমাধা করে বললেন, হে জারীর! পানি আনো। অতএব আমি তাঁকে পানি এনে দিলাম। তিনি পানি দিয়ে শৌচকার্য করলেন এবং পরে পানি দিয়ে হাত মাটিতে ঘষলেন। (আন-নাসায়ী)

১১. হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদের পিতৃতুল্য। আমি তোমাদের শিক্ষা দেই। যখন কেউ টয়লেটে যায়, সে যেনো কিছুতেই কিবলামুখী হয়ে বা কিবলাকে পেছনের দিকে রেখে না বসে। আর মলত্যাগের পর উক্ত স্থান যেন ডানহাত দিয়ে পরিষ্কার না করে। (আবু দাঊদ ও আন-নাসায়ী)

১২. হযরত আবু আইয়ূব আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন যে, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কেউই কিবলামুখী হয়ে বা কিবলা পেছনে রেখে মলমূত্র ত্যাগ করবে না। (সহীহ আল বোখারী, সহীহ মুসলিম ও আন-নাসায়ী)

১৩.আবু আইয়ূব আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু আরো বলেন, আমরা যখন সিরিয়ায় এলাম তখন দেখতে পেলাম সেখানকার টয়লেটগুলো কিবলামুখী করে নির্মাণ করা হয়েছে। তখন আমরা আমাদের মুখ অন্য দিকে ফিরিয়ে নিই এবং আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। (সহীহ মুসলিম ও আবু দাঊদ)

১৪.আব্দুল্লাহ ইবনে সারজিস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো গর্তে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। (আবু দাঊদ ও আন-নাসায়ী)

এর সম্ভাব্য কারণ গর্তে সাপ বা বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ থাকতে পারে যা বের হয়ে কামড় দিতে পারে। অপরদিকে দুর্বল কীটপতঙ্গগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হাদীসগুলোর সবই যৌক্তিক ও বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যশীল।

১৫.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা দুটো বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকো, যা আল্লাহ্র অভিসম্পাতের কারণ স্বরূপ। উপস্থিত সাহাবীরা বলে উঠলেন, সে দুটো জিনিস কী হে আল্লাহ্র রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! যা অভিসম্পাতের কারণ? তিনি উত্তর দেন, জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় এবং ছায়াদানকারী গাছের নিচে যেখানে লোকজন বিশ্রাম গ্রহণ করে ও আশ্রয় নেয়, সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করা। (সহীহ মুসলিম)

১৬.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ্র রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউই বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করবে না, যে পানি প্রবাহিত হয় না এবং পরে সে পানিতে গোসল করা উচিত নয়। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

১৭.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। একদা এক গ্রাম্য লোক মসজিদে নববীতে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে আরম্ভ করে। উপস্থিত লোকেরা তাকে বাধা দিতে যায়। ঐ সময় নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লোকটিকে ছেড়ে দাও এবং প্রস্রাবের ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। কেননা তোমাদেরকে সহজ করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, কঠোরতা অবলম্বন করার জন্য বানানো হয়নি। (সহীহ আল বোখারী)

প্রস্রাব আটকিয়ে রাখলে মারাত্মক অসুখ সৃষ্টি হতে পারে। সে বিষয়ে চিন্তা করেই নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপরোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি জানা থাকলে এরূপ অবস্থায় মসজিদ নাপাককারীর প্রতি আমরা সদয় আচরণ করতে সক্ষম হবো

পায়খানায় প্রবেশের দোয়া :                                       اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْخُبْث ِوَالْخَبَائِثِ.

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল খুব্সি ওয়াল খাবাইস।

অর্থ : হে আল্লাহ! নাপাক পুরুষ-জ্বিন ও নাপাক স্ত্রী-জ্বিন (অর্থাৎ সমস্ত শয়তান) থেকে আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি ।

কুলূখ ব্যবহার, ইস্তেঞ্জা ও শৌচকার্য

মল-মূত্র ত্যাগ করলে পাক শুকনা মাটির ঢিলা, পাথর খ-, ছেঁড়া কাপড়, তুলা ও শুকনা কাঠের টুকরা প্রভৃতি দিয়ে কুলূখ নেয়া জায়েয আছে। হাড়, ইট, কয়লা, গোবর, কাগজ, বাসন-কোসন, ভাঙ্গা চাড়া, কাঁচা ঘাস, খাবার বস্তু প্রভৃতি দ্বারা কুলূখ নেয়া নিষেধ। কুলূখের সংখ্যা ও কুলূখ ব্যবহারের কোনো বিধিবদ্ধ নিয়ম নেই। একটি দ্বারা হোক বা একাধিক দ্বারা হোক এবং যেদিক দিয়েই প্রথমে আরম্ভ করা হোক না কেন, গুহ্যদ্বার মুছে পবিত্রতা লাভ করাই কুলূখ নেয়ার একমাত্র উদ্দেশ্যে। তবে মেয়েদের জন্য প্রস্রাবের পর ঢিলা-কুলূখ ব্যবহার করার আবশ্যক হয় না। শহুরে এলাকায় বিশেষ করে যেসব জায়গায় উপরোক্ত কুলূখের উপকরণ সহজলভ্য নয় এরকম স্থানে ঢিলা-কুলূখের বিকল্প টয়লেট পেপার ব্যবহার করা যেতে পারে।

কুলূখ ব্যবহার করার পর প্রচুর পরিমাণ পানি দ্বারা শৌচকার্য সম্পাদন করতে হবে। বাম হাতের দুই বা তিন আঙ্গুলে পেট দ্বারা শৌচকার্য করতে হয়। এ কাজকে ইস্তেঞ্জা বলা হয়। ইস্তেঞ্জা সুন্নতে মুআক্কাদাহ্। তারপর উত্তমরূপে হাত ধুয়ে ডান পা আগে বাড়িয়ে পায়খানা/প্র¯্রাবখানা থেকে বের হয়ে নিম্নলিখিত দু‘আ পাঠ করিতে হবে।

পায়খানা থেকে বের হওয়ার দোয়া:              غُفْرَانَكَ اَ لْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِىْ اَذْهَبَ عَنِّى الْا ٰذ ٰى وَعَافَانِىْ.

উচ্চারণ : গুফরানাকা আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আয্হাবা আন্নিল্ আযা ওয়া আ’ফানী।

অর্থ : হে আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি। শোকর সেই আল্লাহর যিনি আমার ভিতর থেকে অপবিত্র কষ্টদায়ক সববস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে শান্তি প্রদান করেছেন।

পানির বিবরণ

গোটা পৃথিবীর তিন ভাগের দু’ভাগ পনি আর এক ভাগ হলো স্থল। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পানির উপরই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। পানি সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন :

وَاَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَآءِمَاَءً طَهُورًا.

উচ্চারণ : ওয়া আনযালনা মিনাস সামাই মাআন ত্বহূরা।

অর্থ : এবং আমি আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেছি যার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা হয়। (সূরা ২৫ ফুরকান : আয়াত ৪৮)

وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُم مِنَ السَّمَاءِمَاءً لِّيُطَهِّرَكُم بِهِ.

উচ্চারণ : ওয়াইয়ুনায্যিলু আলাইকুম মিনাস সামাই মাআল্লিইয়ূত্বহহিরাকুম বিহি।

অর্থ : এবং আল্লাহতায়ালা তোমাদের জন্য আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেছেন যাতে এর মাধ্যমে তোমাদেরকে পবিত্র করেন। (সূরা ৮ আনফাল : আয়াত ১১)

হাদীস : রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সমুদ্রের পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যায়।

বিশুদ্ধ পানির কোনো বর্ণ, গন্ধ ও স্বাদ নেই। সমুদ্র, নদী খাল-বিল, ঝর্ণা, পুকুর, কূপ, মেঘ, বৃষ্টি ও বরফ ইত্যাদির পানি পাক। তা দিয়ে নাপাকী দূর করা এবং অযু ও গোসলে ব্যবহার করা জায়েয। যে কোনো বদ্ধ পানি বা গর্তের পানি যার পরিধি (দৈর্ঘ্য-প্রস্থ) মিলিয়ে যদি ৪০ (চল্লিশ) হাতের কম হয় তবে অল্প হোক বা অধিক হোক নাপাকী পড়া মাত্র তা নাপাক হয়ে যাবে। ধুলা-বালি বা কাদা মিশ্রিত ঘোলাটে পানি, সাবান বা জাফরান মিশ্রিত ঘোলাটে পানি দ্বারা অযু ও গোসল জায়েয হবে। কিন্তু যদি সাবান ও জাফরানের রঙ স্পষ্টভাবে দৃষ্টিগোচর হয় তবে তা দিয়ে গোসল করা জায়েয হবে না।

মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়াসহ যেসব কীট-পতঙ্গ পানিতে জন্মে অথবা মশা-মাছি প্রভৃতি যাদের দেহে রক্ত হয় না তা পানিতে মরে পঁচে গেলেও পানি নাপাক হবে না। শূকর ও কুকুর ছাড়া মৃত জন্তুর পশম, শিং, হাড়, দাঁত, রগ, ক্ষুর, নখ ও চক্ষু প্রভৃতি যদি চর্বিহীন হয় তবে পাক। এগুলো পানিতে পড়লে কোন ক্ষতি নেই। কিন্তু যদি এগুলোর উপরে বা মধ্যে চর্বি থাকে তবে পানি নাপাক হয়ে যাবে।

তাহারাত : পবিত্রতা

প্রথম অধ্যায়ে আমরা নাজাসাত সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এ অধ্যায়ে তাহারাত (পবিত্রতা) সম্পর্কে আলোকপাত করবো ইনশা’আল্লাহ। শরীয়ত-নির্দেশিত পন্থায় পানি বা মাটি ব্যবহারে অযু, গোসল ও তায়াম্মুমের মাধ্যমে যে পবিত্রতা অর্জিত হয় তাকে বলে তাহারাত’। তাহারাত বা পবিত্রতা সম্পর্কে নিম্নে কুরআন এবং হাদীসে-রাসূলের কিছু বর্ণনা সহৃদয় পাঠকদের সুবিধার্থে তুলে ধরা হলো। তাহারাতের সাথে সংশ্লিষ্ট আরেকটি বিষয় যার নাম মেসওয়াক। নিম্মে পর্যায়ক্রমিকভাবে তাহারাত সম্পর্কিত বিষয়াবলীর বিস্তারিত আলোচনা করা হলো :

ক. মেসওয়াক

খ. অযু

গ. তায়্যাম্মুম ও

ঘ. গোসল

যদিও মেসওয়াক বা মেসওয়াকের বর্ণনা পবিত্র কুরআনে নেই, তথাপিও তাহারাত বা পবিত্রতার সাথে মেসওয়াকের সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আমরা জানতে পারি, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় বক্তব্যের মাধ্যমে মেসওয়াক সম্পর্কে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।মেসওয়াকের গুণাগুণ বা উপকারিতা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাণী বিষয় ভিত্তিকভাবে সম্মানিত পাঠকদের উদ্দেশ্যে নিম্নে বণির্ত হলো :

ক. মেসওয়াক : বিষয়ভিত্তিক কিছু হাদীসে রাসূল

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় মেসওয়াকের ভূমিকা :

১.আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যদি আমার উম্মতের কষ্ট হবার আশংকা না হতো অথবা লোকদের কষ্টের ভয় না হতো, তাহলে আমি তাদেরকে প্রত্যেক নামাযের জন্য মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। (সহীহ মুসলিম)

২.উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মেসওয়াক দিয়ে মুখ পরিষ্কার হয় এবং আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। (আন-নাসায়ী)

৩.হযরত হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর মেসওয়াক দিয়ে মুখ ঘষতেন।

৪.হযরত হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য তাঁর মেসওয়াক ও ওযুর পানি তৈরি রাখতাম। আল্লাহ রাতে যখন তাঁকে জাগাতে চাইতেন তখন উঠে তিনি মেসওয়াক করতেন, ওযু করতেন এবং নামায পড়তেন।

৫.হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মেসওয়াক না করে নামাযের তুলনায় মেসওয়াক করে নামাযের সওয়াব সত্তর গুণ বেশি। (বায়হাকী)

৬.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : ‘আমি তোমাদেরকে বেশি বেশি মেসওয়াক করার নির্দেশ দিচ্ছি।’ অর্থাৎ আমি মেসওয়াক করার ব্যাপারে তোমাদেরকে অত্যধিক উৎসাহিত করছি। (সহীহ আল বোখারী ও আন-নাসায়ী)

শয়নে-জাগরণে মেসওয়াক :

১.হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুম থেকে জাগতেন মধ্য রাতে নামায পড়ার জন্য, তখন তিনি মেসওয়াক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতেন।” (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

২.সুরাইহ ইবনে হানী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “আমি হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম কি কাজ করতেন? তিনি জবাব দিলেন, সর্বপ্রথম তিনি মেসওয়াক করতেন।” (সহীহ মুসলিম, ইবনে মাজাহ ও আন-নাসায়ী)

৩.হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহা আনহা আরো বর্ণনা করেন, “ইন্তেকালের পূর্বেও আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেসওয়াক ব্যবহার করেছেন।” (সহীহ আল বোখারী)

৪.ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “একদা তিনি আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট রাত যাপন করেছিলেন। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ রাতে জেগে বাইরে গিয়ে আসমানের দিকে তাকিয়ে সূরা আলে ইমরানের এ আয়াতটি (ইন্না ফি খালকিস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ ……… ওয়াক্বিনা আযাবান্নার) পাঠ করলেন। এরপর ঘরে ফিরে এসে মেসওয়াক করলেন ও অযু করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে নামায পড়লেন।” (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মেসওয়াক :

১.হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মেসওয়াক মুখকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করে এবং মহান আল্লাহ্ সুব্হানাহু ওয়াতা‘য়ালার সন্তুষ্টি বিধান করে।” (সহীহ আল বোখারী, মুসনাদে আহমাদ ও আন-নাসায়ী)

২.আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায় যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা মেসওয়াক করো। কেননা মুখ পবিত্র ও পরিস্কার করে ইবাদত করা মহান প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের উপায়।” (ইবনে মাজাহ)

৩.নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, “তোমরা কুরআন তিলওয়াতের জন্য মুখ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখো।” (আল বাযযার)

৪.হযরত আলী ইবনে তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “তোমাদের মুখ হলো কুরআনের রাস্তা। অতএব তোমরা দাঁতন (মেসওয়াক) করে তা পবিত্র ও সুগন্ধিযুক্ত করো।” (ইবনে মাজাহ)

দাঁতের রোগ-ব্যাধি নিরাময়ে মেসওয়াক

মুখ পরিষ্কার রাখার বড় মাধ্যম বা উপায় হচ্ছে দাঁত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। যদি দাঁত পরিষ্কার না থাকে বা দাঁতে কোনো রোগ-ব্যাধি থাকে তাহলে তা বিশ্রী দেখায় এবং মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। আশপাশের লোকেরা এতে ক্ষুব্ধ হয় ও তিরস্কার করে।

১.নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি খানা খাবে, সে যেনো খিলাল করে।” (মুসনাদে আহমাদ ও দারিমী)

২.হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, “মেসওয়াক ব্যবহার করলে ১০ ধরনের উপকার পাওয়া যায়।” (আবু নূ’য়াইম ও আস-সুয়ূতী)

এ উপকারগুলো হচ্ছে মুখে সুঘ্রাণ আসা, মুখের অভ্যন্তরে মাড়ি শক্তিশালী করা, পেটকে খাদ্য গ্রহণের জন্য উপযোগী করে তোলা, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, মানুষের প্রতিভা বৃদ্ধি পাওয়া, ফেরেশতাদের খুশি করতে পারা ইত্যাদি। মেসওয়াক নিঃশ্বাসকে সুগন্ধযুক্ত করে, যারা নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহার করেন তারা দাঁতের ক্ষয়রোগ থেকে রক্ষা পান। এছাড়া মেসওয়াক দাঁতের উপরিভাগে যে ংপধষব পড়ে, তা থেকে রক্ষা করে এবং জীবাণুযুক্ত প্লেগ দূর করে।

খিলাল করার মাধ্যমে দাঁতের গোড়ায় আটকে থাকা খাদ্যাংশ বের হয়ে যাবেÑ তা বের না হয়ে মুখ দুর্গন্ধযুক্ত ও দাঁতকে নষ্ট করে ফেলে। উপরোক্ত হাদীসগুলো থেকে আমরা জানতে পারি যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখ ও দাঁতের যতেœ মেসওয়াক-এর প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করতেন। তিনি নিজে নিয়মিত মেসওয়াক করতেন এবং সাহাবাদেরও মেসওয়াক করতে নির্দেশ দিতেন। বস্তুত মেসওয়াক করার মাধ্যমে দাঁতের মাড়ি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়না এবং দাঁত সম্পূর্ণ পরিষ্কার, সুন্দর ও ঝক্ঝকে থাকে। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সারা জীবনের অন্যতম একটি নিয়মিত আমল হলো মেসওয়াক করা।

আমরা অনেকে এমন আছি যারা নিদেনপক্ষে দৈনিক তিনবার মূল খাবারের পরেও নিয়মিত মেসওয়াক বা দাঁত ব্রাশ করি না। এই না করার কারণে আমাদের মুখের দুর্গন্ধে অন্যেরা কষ্ট পায়। মুখগহ্বর অপরিচ্ছন্নতার কারণে দাঁতের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে দাঁত হারিয়ে অনেক সময় আমরা মুখে রূমাল দিয়ে রাখি। উৎসুক্য হয়ে কেউ জিজ্ঞেস করলে উত্তরে বলি “আল্লাহর দাঁত আল্লায় নিয়ে গেছে আমি কী করবো।” রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখনে বলেছেন : “আত্তুহুরু শাতরুল ঈমান।”-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধাংশ, সেখানে মুমিন হয়েও আমরা নিয়মিত দাঁতের যত্ন না করে অকালে দাঁত হারিয়ে দোষ দেই আল্লাহর।

যেসব গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক তৈরি করা যায়

১.আবি জাহিদ আল-গাফিকী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তিন ধরনের মেসওয়াক রয়েছে। তুমি যদি ‘আরক’ পাও তাহলে তা ব্যবহার করো। যদি না পাও তবে ধহধস বা নধঃস ব্যবহার করো।” (আবু নু‘য়াইম)

আরবি ‘আনাম’ বা ‘খা’রুর’ গাছের নড়ঃধহরপধষ নাম হচ্ছে ঈবৎধফড়হরধ ংরষরয়ঁধ. ইংরেজী নাম হচ্ছে ঈধৎড়ন ঃৎবব.এটি উর্দ মাসটাকি নামেও পরিচিত। আল্লামা আস্-সুয়ূতী (রহ.) বর্ণিত রিওয়ায়াত থেকে জানা যায় যে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের হাতের লাঠিটি ছিল এই ঈধৎড়ন ঃৎবব থেকে তৈরি। আল্লামা আস্-সুয়ূতী (রহ.) বর্ণনা করেন যে, “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডালিম বা বাবুই তুলসী (ঢ়ড়সবমৎধহধঃব বা নধংরষ) গাছের ডাল দ্বারা মেসওয়াক করতে নিষেধ করতেন।” (আস্-সুয়ূতী)

বাবুই তুলসী গাছটির আরবি নাম রায়হান, ইউনানী নাম ফারাজন মুশক্, ইংরেজি নাম- ঙপরহঁস নধংরষরপধস. এটা সুগন্ধি গাছ। অনেকেই ধপধপরধ ঃরিম কে প্রকৃত আনাম বলে অভিহিত করেন। এই ‘আনাম’ ছাড়া আর যে গাছটির ডাল মেসওয়াক হিসেবে ব্যবহারের জন্য রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তা হলো ‘ইধঃস’, বুটুম বা উর্দ মাসটাকি। এটির হিন্দি, উর্দু ও ফারসি নাম হচ্ছে, ‘মুসটাগী কাবুলী’।

আধুনিক  : Toothbrush বনাম মেসওয়াক

আধুনিক টুথব্রাশ হচ্ছে মেসওয়াকের উন্নততর এক বিকল্প সংস্করণ। এটি একটি নতুন উদ্ভাবন। শহরাঞ্চলে গ্রামের মতো বিভিন্ন গাছের তাজা ডাল-পালা সহজলভ্য না হওয়ায় আনুমানিক ২০০ বছর যাবত এই ঢ়ৎধপঃরপবটি চালু হয়েছে । ঞধংঃু ঃরিম-এর সাহায্যে দাঁত মাজা-ই পরবর্তী সময়ে আধুনিক টুথব্রাশ আবিষ্কারের প্রথম ংঃবঢ়। আমরা যদি মেসওয়াকের সাথে ঃড়ড়ঃয ঢ়ধংঃব ব্যবহার করে দাঁত পরিষ্কার করি, তাহলে দাঁতের যতেœ নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসও মানা হবে, আর টুথপেস্টের মাধ্যমে দাঁত-মুখ পরিষ্কার করার ফলে মুখের দুর্গন্ধও দূর হবে এবং সতেজতার অনুভূতি সৃষ্টি হবে এবং এতে আল্লাহ্ ও তাঁর ফেরেশতাগণ সন্তুষ্ট হবেন। আলোচ্য হাদীসে-রাসূল থেকে আমরা মেসওয়াকের গুণাবলী জানতে পারলাম। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাঁর দেহ এবং মুখ-গহ্বর থেকে বের হতো স্বর্গীয় খোশবু তিনি যদি শয়নের পূর্বে জাগরণের পরেসহ বিভিন্ন সময়ে দৈনিক এতোবার মেসওয়াক করতে পারেন তাহলে আমাদের মতো গুনাহগারদের কতোবার মেসওয়াক করা উচিত তা সহজেই অনুমেয়। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো রহমাতুল্লিল আলামীন যদি তাঁর হাদীসে মেসওয়াকের এতো গুরুত্ব দেন তাহলে আমরা রাসূলের অনুসারীরা কি নিদেনপক্ষে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পূর্বে এবং তিনবার খাবারের পূর্বে মেসওয়াক করতে পারি না?

রমযান ও মেসওয়াক

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে ‘রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশ্ক জাফরানের ঘ্রাণের চেয়েও উত্তম।’ উক্ত হাদীসটির দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে আমরা অনেকে রমযান আসলে দাঁত ব্রাশ করাই প্রায় ছেড়ে দেই। অথচ আমরা ভোর রাতে সেহেরীর পরে নিয়মিত পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে পারি। ইফতারের পরে দাঁত ব্রাশ করতে পারি এবং রাতে খাওয়ার পরেও অনায়াসে দাঁত ব্রাশ করতে পারি। আর রমযানে সতর্কতা অবলম্বন করে মেসওয়াক অথবা খালি ব্রাশ (টুথপেস্ট ছাড়া) দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করতে পারি।

এবার আসুন রমযানে মেসওয়াকের ব্যাপারে রাসূলেপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বলেছেন তা নিম্নোক্ত হাদীসের দ্বারা জেনে নেই :

১.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা অবস্থায় মেসওয়াক করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু রোযা রেখে সকালে ও বিকালে মেসওয়াক করতেন। ইবনে শিরিন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রোযা অবস্থায় কাঁচা রসযুক্ত মেসওয়াক ব্যবহারেও কোনো ক্ষতি নেই।” (সহীহ আল বোখারী)

২. হযরত আমির ইবনে রাবিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন : আমি অসংখ্যবার রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রোযা অবস্থায় মেসওয়াক করতে দেখেছি। (জামে আত-তিরমিযী)

৩.হযরত আমির ইবনে রাবিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে যখন রোযা রাখতেন তখন সে মাসে আমি বিভিন্ন সময়ে তাঁকে মেসওয়াক করতে দেখেছি।” (সহীহ আল বোখারী)

খ. অযু : পবিত্রতায় অযুর ভুমিকা

হাদাসে ‘আছগার’ বা ছোট নাপাকী থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য অযু করা হয়। শরীয়তের বিধান মতে পবিত্র পানি দিয়ে শরীরের কতিপয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোওয়াকে অযু বলে। শরীয়তে অযুর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। অযু ছাড়া নামায হয় না। তিনটি বিশেষ ক্ষেত্রে অযুর বিশেষ বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। যথা :

১. নামাযের জন্য অযু করা ফরয।

২. কা’বা শরীফ তাওয়াফ করার জন্য অযু করা ওয়াজিব।

৩. কুরআন শরীফ তেলাওয়াতের জন্য, সর্বদা পবিত্র থাকার জন্য এবং গোসলের পূর্বে অযু করা সুন্নত।

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজে গিয়ে যখন বেহেশত দর্শন করলেন তখন তাঁর সামনে হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর পায়ের খড়ম (স্যান্ডেল বিশেষ) শব্দ শুনতে পেলেন। পরবর্তীতে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করেন : ‘বিলাল! তুমি এমন কী আমল করো যার বরকতে বেহেশতে আমার সামনে সামনে তোমাকে দেখতে পাই।’ উত্তরে হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন : ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি তেমন কোনো আমল করি না, তবে যখনই অযু নষ্ট হয় তার সাথে সাথেই আমি পুনরায় অযু করে দু’রাকাআত নফল নাময আদায় করে নেই।’ সুবহানাল্লাহ্!

সম্মানিত পাঠক ভাই ও বোনেরা! উপরোক্ত বর্ণনা থেকে আমরা অযু এবং নফল নামাযের বরকত সম্বন্ধে সম্যক ধারণা অর্জন করতে পারলাম। সর্বাবস্থায় পবিত্র থাকার লক্ষ্যে আসুন আমরা আজ থেকে ইস্তেঞ্জা এবং গোসল ফরয হয় এমন প্রয়োজনীয়তা অনুভবের পূর্বেই অযু-গোসলের ব্যবস্থায় নিশ্চিত হবো। নেহায়েত অসুবিধায় না পড়লে এরকম ব্যবস্থাহীন স্থানে আমরা অপবিত্র হবো না। এভাবে অতি সহজে আমরা সর্বদা পবিত্রবাস্থায় জীবন অতিবাহিতের একটি পথ খুঁজে পাবো ইনশা‘আল্লাহ। পবিত্র হওয়ার পর বিশেষ করে অযুরর পরই আমরা দু’রাকায়াত তাহিয়্যাতুল অযু নামায পড়ে নেবো। এ পবিত্রতার যে কী উপকারিতা তা কিছুদিন পর আপনি নিজেই অনুভব করবেন। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন পবিত্র তাই তিনি পবিত্রতাকেই পছন্দ করেন। কম ঘুম এবং পরিমিত খাবার দেহ-মনের পবিত্রতার জন্য সহায়ক। অযুকারীর অযুর অঙ্গগুলো কিয়ামতের দিন ঝলমল করতে থাকবে।

অযুর পদ্ধতি :

অযুর পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কালামে পাকে দিয়েছেন এভাবে:

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوْهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوْا بِرُءُوْسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ۚ

উচ্চারণ : ইয়া আইয়্যুহাল্লাযীনা আমানু ইযা কুমতুম ইল্সা-সলাতি ফাগসিলু উজুহাকুম ওয়াআইদিয়াকুম ইলাল মারাফিক্বি ওয়ামসাহু বিরুউসিকুম ওয়াআরজুলাকুম ইলাল কা’বাইনি;

অর্থ : হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাযের জন্য তৈরি হও, তখন তোমাদের মুখম-ল ও হাত দু’টি কনুই পর্যন্ত ধুয়ে ফেলো, মাথার ওপর হাত বুলাও এবং পা দু’টি গোড়ালী পর্যন্ত ধুয়ে ফেলো। (সূরা ৫ মায়েদা : আয়াত ৬)

অযু সম্পর্কীত কতিপয় হাদীসে রাসূল :

১.হযরত উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। একদা তিনি একটি পানির পাত্র আনিয়ে দু’হাতের কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধুলেন। তারপর তিনি ডান হাত পানির পাত্রে প্রবেশ করালেন এবং কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। তারপর তিনবার মুখম-ল এবং তিনবার দু’হাতের কনুই পর্যন্ত ধুইলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। দু’পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত তিনবার ধুইয়ে বললেন: রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার ন্যায় এরূপ অযু করার পর একাগ্রচিত্তে দু’রাকাত নামায পড়বে, কিন্তু মাঝখানে সে নাপাক হবে না। আল্লাহ পাক তার পূর্বকৃত সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন।”   (সহীহ আল বোখারী)

২.হযরত হুমরান থেকে বর্ণিত। তিনি একদা উসমান ইবনে আফফানকে দেখলেন যে, একটি পানির পাত্র আনিয়ে সে পানি দিয়ে দু’হাত তিনবার ধুলেন। তারপর তিনি তার ডান হাত পানির পাত্রে প্রবেশ করালেন এবং কুলি করলেন ও নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। তারপর তিনবার মুখম-ল এবং তিনবার দু’হাতের কনুই পর্যন্ত ধুলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার এ অযুর ন্যায় অযু করতে দেখেছি। আর তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার ন্যায় এরূপ অযু করার পর একাগ্রচিত্তে দু’রাকাত নামায পড়বে, কিন্তু মাঝখানে সে নাপাক হবে না। আল্লাহ তার পূর্বকৃত সকল গোনাহ মাফ করে দেবেন। (সহীহ আল বোখারী)

৩.হযরত উকবাহ ইবন আমের রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তিই সুন্দর করে অযু করে প্রফুল্ল মন নিয়ে একাগ্রচিত্তে দু’রাকাআত সালাত আদায় করে, তখন তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। (সহীহ মুসলিম)

৪.হযরত মুসআব ইবনে সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অযু ছাড়া নামায হয়না এবং আত্মসাতের সম্পদ থেকে সাদাকাহ হয় না। (সহীহ মুসলিম)

৫.যার অযু নষ্ট হবে অযু করার আগ পর্যন্ত তার নামায হয় না। (সহীহ আল বোখারী)

৬.নুয়াইম মুজমির বলেন- আমি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম। তিনি অযু করলেন এবং বললেন, আমি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, কিয়ামাতের দিন আমার উম্মতকে এমন অবস্থায় ডাকা হবে যে, তাদের অযুর অঙ্গগুলো ঝলমল করতে থাকবে। অতএব তোমাদের কেউ যদি তার উজ্জল স্থানকে দীর্ঘ করতে চায় তবে সে যেন তা করে। (অর্থাৎ অযুর অঙ্গগুলো নির্ধারিত স্থান থেকে বেশি করে ধৌত করবে)। (সহীহ আল বোখারী)

৭.উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত-রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি উত্তমরূপে অযু করে, তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে- আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারাসূলুহু। তাহলে জান্নাতের আটটি দরজাই তার জন্য উম্মুক্ত হয়ে যায়। উক্তদরজা যেটি দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। (সহীহ মুসলিম)

৮.অযু শুরুর দু‘আ : আবু মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি এমন এক সময় নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম, যখন তিনি অযু করছিলেন এবং তাঁর যবান মুবারক থেকে এ দু‘আ উচ্চারিত হচ্ছিল : “হে আল্লাহ! আমার গুনাহ মাফ করে দিন। আমার ঘরের প্রয়োজন মিটিয়ে দিন এবং আমার রিযিকে বরকত দান করুন।” (আন-নাসায়ী

৯.অযু শেষের দু‘আ : উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অযু সম্পন্নের পর নিম্নলিখিত দু‘আ করে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেয়া হবে। সে যে কোনো দরজা দিয়েই ইচ্ছা বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে। (সহীহ মুসলিম ও জামে আত-তিরমিযী) দু‘আটি নিম্নরূপ :

اَشْهَدُاَنْ لاَّ اِلٰهَ اِلاَّاللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَهُ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَّوَّابِيْنَ وَاجْعَلْنِيْ مِنَ الْمُتَطَهَّرِيْنَ-

উচ্চারণ : আশহাদ আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শরীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ’আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। আল্লাহুম্মাজ্’আলনী মিনাত্ তাওয়াবীনা ওয়াজ’আলনী মিনাল মুতাত্বহ্হেরীন।

অর্থ : আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো ইলাহ্ নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্র বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারী লোকদের মধ্যে শামিল করুন। (সহীহ মুসলিম ও জামে আত-তিরমিযী)

سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ اَشْهَدُاَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّااَنْتَ اَسْتَغْفِرُكَ وَاَتُوْبُ اِلَيْكَ

উচ্চারণ : ছুবহানাকা ওয়াবিহামদিকা আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আনতা আছতাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইকা।

অর্থ : সমস্ত ত্রুটি ও অক্ষমতা থেকে মুক্ত তুমি। তোমার প্রশংসা স্বীকার করে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তোমার কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী, তোমারই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করছি।

নিম্নে ধারাবাহিকভাবে ক. অযুর ফরয, খ. অযুর সুন্নাত ও নফল এবং গ. অযু ভঙ্গের কারণ বর্ণিত হলো :

ক. অযুর চার ফরয :

১. সমস্ত মুখম-ল ধোয়া (কপালের উপরিভাগ থেকে থুতনির নিচ পর্যন্ত এবং এক কানের লতি থেকে অপর কানের লতি)

২.দু’হাতের কনুইসহ একবার ধোয়া

৩.মাথার চার ভাগের এক ভাগ মাসেহ করা এবং

৪.দু’পায়ের টাখনুসহ একবার ধোয়া।

এ চারটি ফরযের যে কোনো একটি বাদ পড়লে অথবা বর্ণিত কোনো অঙ্গ চুল পরিমাণ শুকনা থাকলে অযু হবে না।

খ.অযুর সুন্নাত ও নফল:

১.অযুর পূর্বে মেসওয়াক করা

২.বিসমিল্ল¬fহ’ বলে অযু শুরু করা

৩.ডান দিক থেকে অযু শুরু করা

৪.দু’হাতের কব্জি ধোয়া

৫.অযুর নিয়ত করা

৬.এক অঙ্গ ধোয়ার পর অপর অঙ্গ ধুইতে বিলম্ব না করা

৭.প্রতি অঙ্গ তিন বার ধোয়া

৮.হাত পায়ের আঙ্গুলসমূহ মর্দন/খিলাল করা

৯.কুলি করা

১০.গড়গড়া করা

১১.নাকে পানি দেয়া

১২.ডান হাতে পানি দেয়া, বাম হাতে নাক পরিষ্কার করা

১৩.হাতে আংটি থাকলে এদিক সেদিক ঘুরিয়ে নেয়া

১৪.কানের ভিতর ও বাইরে দিয়ে পানি নেয়া

১৫.সমস্ত মাথা মাসেহ করা

১৬.ঘাড় মাসেহ করা

১৭.দাড়ি খেলাল করা

১৮.মোজা পায়ে না থাকলে পা ধোয়া, মোজা থাকলে মোজার উপর মাসেহ করা

১৯.মোজার উপর মাসেহ করা নিজ বাড়িতে থাকা অবস্থায় অর্থাৎ মুকীম-এর জন্য ১ দিন ১ রাত আর ভ্রমণে অর্থাৎ মুসাফির-এর জন্য ৩ দিন ৩ রাত পর্যন্ত

২০.কেবলামুখী হয়ে অযু করা

২১.অযুর সময় বাজে কথা না বলা

২২.ওয়াক্তের পূর্বে অযু করা

২৩.অযু করতে গিয়ে পানি অপচয় না করা

২৪.অযুর তারতীব (ধারাবাহিকতা) রক্ষা করা

২৫.উঁচু স্থানে বসে অযু করা

২৬.অযু শেষে দাঁড়িয়ে অযুর পানি পান করা

২৭.ডান হাতে করে পানি দেয়া

২৮.অযু করার পর ধৌত করা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ না মোছা

২৯.অযু শেষে দোয়া করা।

.অযু ভঙ্গের কারণ :

১.পায়খানা পেশাবের রাস্তা দিয়া কোন কিছু বের হওয়া

২.মুখ ভরে বমি হওয়া

৩.শরীরের কোন জায়গা হতে রক্ত, পুঁজ বা পানি বের হয়ে গড়িয়ে পড়া

৪.থুথুর সাথে রক্তের ভাগ সমান বা বেশী হওয়া

৫.চিৎ বা কাত হয়ে হেলান দিয়ে ঘুম যাওয়া

৬.পাগল, মাতাল, অচেতন হওয়া এবং

৭.নামাযে উচ্চস্বরে হাসা।

গ.তাইয়্যাম্মুম : পবিত্রতায় তাইয়্যাম্মুম ও গোসল

রোগগ্রস্ত অবস্থায়, সফরে থাকা অবস্থায়,নারীদের সহবাসের পর পানি না পাওয়া গেলে পবিত্রতা অর্জনের জন্য মাটি বা মাটি জাতীয় পবিত্র দ্রব্যাদির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতিকে মাসেহ করা হয় তাকে তাইয়্যাম্মুম বলে। অযু এবং গোসল দ্বারা যেরূপ পবিত্রতা অর্জন করা যায় তাইয়্যাম্মুম দ্বারাও ঠিক সেরূপ পবিত্রতা অর্জন করা যায়। অর্থাৎ ক্ষেত্র বিশেষে গোসলের বিকল্প তাইয়্যাম্মুম। অযু করতে হয় পানি দিয়ে কিন্তু যখন পানি পাওয়া না যায় কিংবা রোগের কারণে ডাক্তারের পরামর্শে পানি পরিহার করে চলতে হয় এমন পানি স্পর্শবিহীন অবস্থায় পবিত্রতা অর্জনের জন্য আল্লাহতায়ালা যে বিকল্প ব্যবস্থা দান করেছেন তারই নাম তাইয়্যাম্মুম। তাইয়্যাম্মুম ও গোসলের ব্যাপারে কালামে পাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেছেন:

وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوْا ۚ وَإِنْ كُنْتُمْ مَّرْضىٰ أَوْ عَلٰى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِّنْكُمْ مِّنَ الْغَائِطِ   أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيْدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوْا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيْكُمْ مِّنْهُ ۚ مَايُرِيْدُ اَللهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِّنْ حَرَجٍ وَّلـٰكِنْ يُرِيْدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ.

উচ্চারণ : ওয়াইন কুনতুম জুনুবান ফাত্ত্বাহহারু; ওয়াইন কুনতুম মারদ্বা আও-আলা সাফারিন আও জ্বাআ আহাদুম মিনকুম মিনাল গায়িতি আও লামাসতুমুন নিসাআ ফালাম তাজ্বিদু মাআন ফাতাইয়াম্মামু ছ¦ায়িদান ত্বইয়িবান ফামসাহু বিউজুহিকুম ওয়া আইদীকুম মিনহু মাইয়ুরীদুল্লাহু লিইয়াজ্ব’আলা আলাইকুম মিন হারজ্বিঁও ওয়ালাকিই ইয়ূরীদু লিইয়াত্বহ্হিরাকুম ওয়ালিইয়ুতিম্মা নি’মাতাহু, আইকুম লা’আল্লাকুম তাশকুরুন।

অর্থ : যদি তোমরা জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় থাকো, তাহলে গোসল করে পাক সাফ হয়ে যাও। যদি তোমরা রোগগ্রস্ত হও বা সফরে থাকো অথবা তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি মলমূত্র ত্যাগ করে আসে বা তোমরা নারীদেরকে স্পর্শ করে থাকো এবং পানি না পাও, তাহলে পাক-পবিত্র মাটি দিয়ে কাজ সেরে নাও। তার (মাটির) ওপর হাত রেখে নিজের চেহারা ও হাতের ওপর মাসেহ করে নাও। আল্লাহ তোমাদের জন্য জীবনকে সংকীর্ণ করে দিতে চান না কিন্তু তিনি চান তোমাদেরকে পাক-পবিত্র করতে এবং তাঁর নিয়ামত তোমাদের ওপর সম্পূর্ণ করে দিতে, হয়তো তোমাদের শোকর গুজার হবে। (সূরা ৫ মায়েদা : আয়াত ৬)

তাইয়্যাম্মুম সম্পর্কে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী :

১.আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি ওমর ইবনে খাত্তাবের নিকট এসে বলল, আমি অপবিত্র হয়ে পড়েছি-এরূপ প্রশ্ন শুনে আমি হযরত ওমরকে স্মরণ করিয়ে দিলাম যে, এক সময় আমি ও আপনি সফরে ছিলাম। তখন গোসলের প্রয়োজন হয়েছিল, কিন্তু পানি পাওয়া গেলনা। আপনি পানি না পাওয়ায় নামায পড়লেন না। আর আমি সমস্ত শরীরে বালু মেখে বালু গোসল করলাম। পরে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ ঘটনা বলার পর তিনি বললেন : তোমাদের শুধু এরূপ করাই যথেষ্ট ছিল-(এই বলে) তিনি তাঁর দু’খানা হাত মাটিতে রাখলেন এবং হাত দিয়ে মুখমন্ডল ও বাহু দু’খানা মলে দিলেন। (সহীহ আল বোখারী)

২.হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত-এক ব্যক্তি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, আমার গোসল ফরয হয়েছিল। (কিন্তু পানি না থাকায় আমি) মাটিতে গড়াগড়ি করেছি। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘এভাবে হাত দিয়ে চাপড় দাও’ এবং নিজেই দুই হাত দিয়ে ভুমিতে চাপড় দিলেন ও চেহারা মাসেহ করলেন। পুনরায় দুই হাত দিয়ে চাপড় দিলেন এবং দুই কনুই পর্যন্ত মাসেহ করলেন। (সুনানে বায়হাকী)

তাইয়্যাম্মুমে তিন ফরয :

১.নিয়ত করা

২.সমস্ত মুখ একবার মাসেহ করা

৩.দুই হাতের কনুইসহ একবার মাসেহ করা।

তাইয়্যাম্মুমের পদ্ধতি :

তাইয়্যাম্মুমের নিয়ত করে দু’হাত খোলা অবস্থায় মাটিতে চাপড় দিবে অতঃপর যদি ধুলার পরিমাণ বেশী তবে হাত ঝেড়ে মুখম-ল এমনভাবে মাসেহ করবে যেন কোনো জায়গা স্পর্শহীন না থাকে। এরপর পুনরায় দু’হাত দিয়ে মাটিতে চাপড় দিবেন এবং হাত ঝেড়ে বাম হাতের তর্জনী থেকে কনিষ্ঠা এই চার আঙ্গুলের ভিতরের অংশ ডান হাতের অঙ্গুলির নীচে রেখে আঙ্গুলের মাথা থেকে কনুই পর্যন্ত টেনে নিয়ে আসবেন। তারপর বাম হাতের তালু ডান হাতের উপর রেখে কনুই থেকে আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবেন। একই নিয়মে ডান হাত দিয়ে বাম হাতের আঙ্গুলের মাথা থেকে কনুই পর্যন্ত এবং কনুই থেকে আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত মাসেহ করবেন। এরপর দুই হাতের আঙ্গুল পরষ্পরের মধ্যে ঢুকিয়ে খিলাল করবেন। আংটি পরা থাকলে তার নিচেও আঙ্গুলের স্পর্শ লাগতে হবে। কেননা হাতের কোথাও চুল পরিমাণ জায়গা স্পর্শহীন থাকলে তাইয়্যাম্মুম দুরস্ত হবে না।

তাইয়্যাম্মুম শেষে দোয়া :

اَشْهَدُ اَنْ لاَّ اِلٰهَ اِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَهُ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ – اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَّوَّابِيْنَ وَاجْعَلْنِيْ مِنَ الْمُتَطَهِّرِيْنَ وَاجْعَلْنِىْ مِنْ عِبَادِكَ الصَّالِحِيْنَ وَاجْعَلْنِىْ مِنَ الَّذِيْنَ لَاخَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَاهُمْ يَحْزَنُوْنَ.

উচ্চারণ :আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারাসূলুহ। আল্লাহুম্মাজ আ’লনী মিনাত তাউয়াবীনা ওয়াজ আ’লনী মিনাল মুতাতহহিরীনা ওয়াজ আ’লনী মিন ই’বাদাসসালিহীন ওয়াজ আ’লনী মিনাল্লাজীনা লা-খাওফুন আ’লাইহিম ওয়ালাহুম ইয়াহযানুন।

অর্থ : আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো অভিভাবক নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই্ আর নিঃসন্দেহে মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছেন তাঁরই বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারীদের মধ্যে গণ্য করুন। আর পবিত্র মানুষদের মধ্যে শামিল করুন, আর আমাদের এবাদতকারী সালেহীনদের মধ্যে শামিল করুন এবং আমাদের সেসব মানুষদের সাথে সম্পৃক্ত করুন, যাদের কোনো ভয়ের কারণ নেই, আর নেই কোনো দুশ্চিন্তা।

. গোসল : গোসল পবিত্রতা

শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উত্তমরূপে ধোয়াকে গোসল বলা হয়। নিয়মিত গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য হিতকর। ধূলোবালি, ময়লা থেকে মুক্ত থাকার জন্যও এটা একান্ত প্রয়োজন। বড় ধরনের নাপাকী অর্থাৎ ‘হাদাসে আকবার’ থেকে পবিত্রতা হাসিলের জন্য গোসল করা ফরয।

গোসলের ব্যাপারে কালামে পাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :

وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا ۚ وَإِنْ كُنْتُم ْمَّرْضىٰ أَوْ عَلٰى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِّنْكُمْ مِّنَ الْغَائِطِ أَو ْلَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيْدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوْا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيْكُمْ مِّنْهُ ۚ مَا يُرِيْدُ اَللهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِّنْ حَرَجٍ وَّلـٰكِنْ يُرِيْدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ.

উচ্চারণ : ওয়াইন কুনতুম জুনুবান ফাত্তাহহারু; ওয়াইন কুনতুম মারদ্বা আও-আলা সাফারিন আও জ্বাআ আহাদুম মিনকুম মিনাল গায়িতি আও লামাসতুমুন নিসাআ ফালাম তাজ্বিদু মাআন ফাতাইয়াম্মামু সায়িদান ত্বইয়িবান ফামসাহু বিউজুহিকুম ওয়া আইদীকুম মিনহু মাইয়ুরীদুল্লাহু লিইয়াজ্ব’আলা আলাইকুম মিন হারজ্বিঁও ওয়ালাকিই ইয়ূরীদু লিইয়াত্বহ্হিরাকুম ওয়ালিইয়ুতিম্মা নি’মাতাহু, আআইকুম লা’আল্লাকুম তাশকুরুন।

অর্থ : যদি তোমরা জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় থাকো, তাহলে গোসল করে পাক সাফ হয়ে যাও। যদি তোমরা রোগগ্রস্ত হও বা সফরে থাকো অথবা তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি মলমূত্র ত্যাগ করে আসে বা তোমরা নারীদেরকে স্পর্শ করে থাকো এবং পানি না পাও, তাহলে পাক-পবিত্র মাটি দিয়ে কাজ সেরে নাও। তার ওপর হাত রেখে নিজের চেহারা ও হাতের ওপর মাসেহ করে নাও। আল্লাহ তোমাদের জন্য জীবনকে সংকীর্ণ করে দিতে চান না কিন্তু তিনি চান তোমাদেরকে পাক-পবিত্র করতে এবং তাঁর নিয়ামত তোমাদের ওপর সম্পূর্ণ করে দিতে, হয়তো তোমাদের শোকর গুজার হবে।(সূরা ৫ মায়েদা :আয়াত ৬)

হাদীসের আলোকে গোসলের নিয়ম :

গোসলের নিয়ম সম্বলিত রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় হাদীসে বর্ণনা করা হলো :

১. হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। মায়মুনা বলেছেন, আমি নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তিনি তাঁর দু’হাত দুবার কিংবা তিনবার ধুয়ে ফেললেন। তারপর তিনি বাঁ হাতে পানি নিয়ে তাঁর বিশেষ স্থান ধুলেন তারপর হাত মাটিতে রগড়ালেন। তারপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন এবং মুখ মন্ডল ও দু’হাত ধুয়ে ফেললেন। অতপর সারা শরীরে পানি প্রবাহিত করলেন। সবশেষে সে স্থান থেকে সরে গিয়ে পা দু’টি ধুয়ে ফেললেন। (সহীহ আল বোখারী-২৫০)

২. হযরত মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তিনি ডান হাত দ্বারা বাম হাতে পানি ঢেলে উভয় হাত ধুয়ে ফেললেন। এরপর বিশেষ স্থান ধুলেন। তারপর হাতটি মাটিতে রগড়ালেন এবং ধুয়ে ফেললেন। এরপর কুল্লি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। এরপর মুখম-ল ধুলেন এবং মাথায় পানি ঢাললেন এবং সে স্থান থেকে সরে গিয়ে পা দু’টি ধুলেন। অতঃপর তাঁকে গা মোছার জন্য এক টুকরা কাপড় দেয়া হলো। কিন্তু তিনি তা ব্যবহার করলেন না। (সহীহ আল বোখারী-২৫২)

৩.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয গোসলে প্রথমে দু’হাত ধুতেন। তারপর ডান হাতে পানি ঢেলে বাম হাত দিয়ে শরীরের বিশেষ স্থান ধুইতেন। এরপর নামাযের অযুর মতো অযু করতেন। এরপর পানি ঢেলে আঙ্গুল দিয়ে চুলের গোড়া ভেজাতেন। চুল ভালোভাবে ভিজে যাবার পর তিন আঁজলা পানি শির মোবারকে দিতেন। এরপরে গোটা শরীরে পানি প্রবাহিত করতেন। সবশেষে দুই পা ধৌত করতেন।

৪.অন্য রেওয়ায়েতে এসেছে-আঙুল দিয়ে চুলের গোড়া ভিজাতেন। চুলের গোড়া ভালোভাবে ভিজে যাবার পর শির মোবারকে তিনবার পানি ঢালতেন। (সহীহ আল বোখারী)

৫.কেউ যদি ফরয গোসলের মধ্যে শরীরের এক চুল পরিমাণ স্থানও শুকনা রাখে তাহলে তা জাহান্নামের আগুনে এই শাস্তি ভোগ করবে।

গোসল চার প্রকার : ক. ফরয খ.ওয়াজিব গ. সুন্নত ঙ. মুস্তাহাব।

ক. গোসল ফরয হওয়ার কারণ সাতটি :

১. নিদ্রিত বা জাগ্রত অবস্থায় যৌন উত্তেজনায় বীর্যপাত হলে

২. স্বপ্নদোষ হলে

৩. স্ত্রী সহবাস করলে

৪. বীর্যপাত হোক বা না হোক পুরুষের লিঙ্গের অগ্রভাগ স্ত্রী লিঙ্গে বা গুহ্যদ্বারে প্রবেশ করালে

৫. মহিলাদের হায়েজ-নেফাসের রক্তস্রাব বন্ধ হলে

৬. স্বপ্নদোষের কথা স্মরণ হোক বা না হোক নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়ার পর শরীরে বা কাপড়ে বীর্য পরিদৃষ্ট হলে এবং

৭. হস্তমৈথুন, পুংমৈথুন অথবা পশুমৈথুন হলে। এ ধরণের নাপাকী হতে পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসল ফরজ হয়।

. গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণ তিনটি :

১.অমুসলিম অবস্থায় (পুরুষ বা মহিলা) মুসলমান হলে

২.ছেলেরা স্বপ্নদোষের মাধ্যমে বালেগ হলে

৩.মেয়েরা স্বপ্নদোষ বা ঋতুস্রাবের (হায়েয) মাধ্যমে বালেগা হলে গোসল ওয়াজিব হয়।

.সুন্নত গোসল :

১. যাদের প্রতি জুম’আর নামায পড়া ফরয তাদের জন্য জুম‘আর নামাযের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে

২. যাদের প্রতি ঈদের নামায পড়া ওয়াজিব তাদের জন্য ফজরের পর থেকে ঈদের নামাযের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে মধ্যে

৩. হজ্জ বা ওমরার ইহরাম বাঁধার পূর্বে এবং

৪. হজ্জ উদযাপনকারীদের জন্য আরাফার দিন দ্বি-প্রহরের পর গোসল করা সুন্নত।

গোসলে ফরয তিনটি :

১.গড়গড়া করে উত্তমরূপে কুলি করা, কিন্তু রোযাদার হলে কুলি করা যাবে/গড়গড়া করা যাবে না।

২. নাকের ভেতরের নরম স্থানে উত্তমরূপে পানি প্রবেশ করানো এবং

৩.সমস্ত শরীর একবার উত্তমরূপে ধৌত করা।

গোসলের সুন্নত ছয়টি :

১.গোসলের পূর্বে নামাযের অযুর ন্যায় অযু করা। শুধু পা ধোয়া দরকার হবে না।

২.দু’হাতের কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধোয়া

৩.তিনবার গড়গড়া করা

৪.নাকের ভিতরে তিনবার পানি পৌঁছানো

৫.প্রথম লজ্জাস্থান ধুয়ে তারপরে শরীর ভালোরূপে মর্দন করা

৬.সর্বাগ্রে নাপাকি ধুয়ে শরীর পরিষ্কার করা এবং

৬.সমস্ত শরীর উত্তমরূপে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা।

গোসলের নিয়ত :

নাপাকী দূর করা উদ্দেশ্যে আমি গোসলের নিয়ত করলাম।

আযান ও ইকামত

নির্দিষ্ট সময়ে সকল মুসুল্লি মিলে একত্রে ফরয নামায আদায় করাকে ‘জামায়াতে নামায আদায়’ বলা হয়। জামায়াতে নামায আদায়ের জন্য মুসুল্লিদেরকে মসজিদের দিকে আহবান করাকে ‘আযান’ বলা হয়। আযান শব্দের অর্থ ‘আহ্বান।’ আযান সুন্নতে মুআক্কাদাহ। আযানের জন্য হাদীস শরীফে যে কতিপয় শব্দ নির্দিষ্ট আছে তাই আযান হিসেবে স্বীকৃত। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের জন্য লোকদেরকে অন্য কোনো কথা বলে আযানের বিধিবদ্ধ শব্দমালা দিয়েই লোকদেরকে মসজিদে জামায়াতের জন্য আহবান করতেন।

আযান : আযানের গুরুত্ব

ফরয নামাযের জন্য আযান সুন্নাত। জানাযার নামায ও ঈদের নামাযে আযান দেয়ার বিধান নেই। তবে কোনো সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তার কানে আযান দেয়ার বিধান রয়েছে। জুম’আর জামায়াতে হাযির হওয়ার কুরআনী আহবান।

إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْم ِالْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ۚ ذَ‌ٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِنْكُنتُمْ تَعْلَمُونَ

উচ্চারণ : ইযা নু’দিয়া লিস্সালাতি মিন ইয়াওমিলজুময়াতি ফাসয়াও ইলা যিকরিল্লাহি ওয়াযারুল বাইয়্যা যালিকুম খায়রুল্লাকুম ইন কুনতুম তা’লামুন।

অর্থ : যারা ঈমান এনেছো, জুম’আর দিন। যখন নামাযের জন্য তোমাদের ডাকা হয় তখন আল্লাহর যিকরের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য বেশী ভাল যদি তোমাদের জ্ঞান থাকে। (সূরা ৬২ জুম’আ : আয়াত ৯)

আযানের গুরুত্ব ও মাহাত্ম সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্বপূর্ণ বাণী :

১.যে ব্যক্তি আযান দিবে ও ইক্বামাত বলবে এবং আল্লাহকে ভয় করে চলবে, আল্লাহ তার গোনাহ মার্জনা করে তাকে জান্নাত দান করবেন।

২.অন্য এক হাদীসে আছে : সাত বছর পর্যন্ত বিনা বেতনে/পারিশ্রমিকে কেউ আযান দিলে বিনা হিসেবে সে জান্নাতে যাবে।

৩.মুয়াযযিনের আওয়াজ যতদুর পৌঁছবে ততদূরে জিন, ইনসান, আসমান-জমিন, গাছ-পালা, পশু-পাখী সকলেই তার জন্য সাক্ষ্য দিবে।

৪.আযান দেয়া ও প্রথম কাতারে শামিল হওয়ার সওয়াবের কথা মানুষ জানে না। যদি তারা তা জানতো তাহলে তারা লটারীর মাধ্যমে ভাগ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করতো। মানুষ যদি নামাযের সওয়াবের কথা জানতো তাহলে তার জন্য তারা দৌড়িয়ে মসজিদে যেত। আর তারা যদি এশা ও ফজরের নামাযের সওয়াবের কথা জানতো তাহলে (হাঁটার শক্তি না থাকলে) হামাগুড়ি দিয়ে হলেও মসজিদে আসতো। (সহীহ বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

৫.মুয়াযযিনের আযানের স্বর যতোদূর পৌঁছে ততোদূরের সকলেই কেয়ামতের দিন মুয়াযযিনের পক্ষে সাক্ষ্যদান করবে। কেউ যদি বকরী চরাতে গমন করে তবে সেখানেই উচ্চস্বরে আযান দিবে। কেননা তার আযানের স্বর যতোদূর পৌঁছবে তার মধ্যে অবস্থিত সকল সৃষ্টি জীবই তার পক্ষে কেয়ামতের দিন সাক্ষ্যদান করবে। (সহীহ আল বোখারী)

৬.আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, যে কোন তিনজন লোক একত্রে থেকে আযান দিবেনা ও একত্রে নামায কায়েম করবেনা, শয়তান তাদেরকে পরাস্ত করে নিবে। (মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ ও আন-নাসায়ী)

৭.আবু মাহযুরা হতে বর্ণিত। রাসূল্ল্লুাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আযান দেয়ার এ পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন। আল্লাহু আকবার দ্’ুবার, আশহাদু আল-লাইলাহা ইল্লাল্লাহ দু’বার। আশহাদু আন্না মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ দু’বার বলতে হবে। অতঃপর এ সাক্ষ্যদ্বয় পুনরায় দু’বার করে উচ্ছারণ করবে। তারপর হাইয়া-আলাস্সালাহ দু’বার ও হাইয়া-আলাল ফালাহ দু’বার। ইসহাক বাড়ায়ে বলেছেন যে, আল্লাহু আকবার ও   লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ একবার বলবে। (সহীহ মুসলিম)

৮.আবু মাহযুরা বলেন : আমাকে রাসূলে করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযান শিক্ষা দিয়েছেন, ‘ফজরের হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলার পর আস্সালাত ুখায়রুম মিনান নাউম বলবে।

৯.হযরত তালহা ইবনে ইয়াহইয়া তার চাচা থেকে বর্ণনা করেন যে-‘আমি মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে ছিলাম। এমন সময় মুয়াজ্জিন এসে তাঁকে নামাযের বিষয়ে অবহিত করলো। মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘আমি রাসূল্ল্লুাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আযান দানকারীদের গ্রীবা (শির) কিয়ামতের দিন সবচেয়ে উঁচু হবে।’(সহীহ মুসলিম)

১০.উম্মুল মোমেনীন হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ রকম অভ্যাস ছিল যে, তিনি যখন ঘরে তাশরীফ আনতেন কোন লৌকিকতা ছাড়াই ঘরবাসীদের সাথে প্রাণ খুলে কথাবার্তা বলতেন। কিন্তু মুয়াজ্জিনের আযান শোনা মাত্রই তিনি এরূপ ব্যাকুল হয়ে উঠতেন যে, সাথে সাথে আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা বন্ধ করে দিতেন এবং নামাযের প্রস্তুতি নিতেন। তখন তাঁর অবস্থা দেখে মনে হতো, আমরা যেনো তাঁর অপরিচিত। এর কারণ এই ছিল যে, আল্লাহতায়ালা এবং তাঁর বান্দার মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র সূত্র হচ্ছে নামায; সুতরাং এই নামাযের জন্য স্ত্রী-পুত্র তো বটেই এমনকি সমগ্র দুনিয়া এবং দুনিয়ায় যা কিছু আছে তার সবকিছু বিনষ্ট হলেও কিছু আসে যায় না।

আযানে আমরা কি বলি

আযানে আমরা কি বলি তাও জানা একান্ত দরকার। নিম্নে আযানের অর্থসহ তা বিস্তারিত বর্ণিত হলো :

১. اَللهُ اَكْبَر -= اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার-আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ-আল্ল¬াহ সর্বশ্রেষ্ঠ।

২.اَشْهَدُ أَنْ لاَّ اِلٰهَ اِلاَّ اللهُ -= اَشْهَدُ اَنْ لاَّ اِلٰهَ اِلاَّ اللهُ

উচ্চারণ : আশহাদু আল ¬লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ -আশহাদু আল¬ লা-ইলাহা ইল্ল¬াল্লাহ

অর্থ : আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্ল¬াহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই – আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্ল¬াহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই।

৩. اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهُ – = اَشْهَدُ اَنّ َمُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهُ

উচ্চারণ : আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্ল¬াহ – আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্ল¬াহ।

অর্থ : আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি- মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি- মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।

৪. حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ – = حَيّ َعَلَى الصَّلَاةِ

উচ্চারণ : হাইয়্যা আলাস সালাহ-হাইয়্যা আলাসসালাহ।

অর্থ : সলাতের (নামাযের) দিকে আসুন – সলাতের (নামাযের) দিকে আসুন।

৫. حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ – = حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ

উচ্চারণ : হাইয়্যা আলাল ফালাহি-হাইয়্যা আলাল ফালাহি।

অর্থ : কল্যাণের দিকে আসুন – কল্যাণের দিকে আসুন।

৬. اَللهُ اَكْبَر -= اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার-আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ-আল্ল¬াহ সর্বশ্রেষ্ঠ।

৭. لَا اِلٰهَ اِلاَّ اللهُ

উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।

অর্থ : কোনো মাবুদ নেই, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত।

ফজরের নামাযের আযানে অতিরিক্ত যে দুটি বাক্য উচ্চারণ করতে হয়-

৮. اَلصَّلَاةُ خَيْرٌ مِّنَ النَّوْمِ – = اَلصَّلَاةُ خَيْرٌ مِّنَ النَّوْمِ

উচ্চারণ : আস্ সালাতু খাইরুম মিনান নাওম – আস্ সালাতু খাইরুম মিনান নাওম

অর্থ : ঘুমের চেয়ে নামায উত্তম – ঘুমের চেয়ে নামায উত্তম।

আযানের উত্তর

১. اَللهُ اَكْبَرُ -= اَللهُ اَكْبَرُ

উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার – আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ – আল্ল¬াহ সর্বশ্রেষ্ঠ।

২. اَشْهَدُ أنْ لاَّ اِلٰهَ اِلاَّ اللهُ – = اَشْهَدُ ا َنْ لاَّ اِلٰهَ   اِلاَّ اللهُ

উচ্চারণ : আশহাদু আল ¬লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ – আশহাদু আল¬ লা-ইলাহা ইল্ল¬াল্লাহ।

অর্থ : আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্ল¬াহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই – আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্ল¬াহ ব্যতীত কোন্ েইলাহ নেই।

৩. رَضِيْتُ بِالَّلهِ رَبَّا وَّبِالْاِسْلاَمِ دِيْنًا وَبِمُحَمَّدٍ رَّسُوْلا ً صَلَّي اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

উচ্চারণ : রাদীতু বিল্ল¬াহি রাব্বান, ওয়া বিল ইসলামে দ্বীনান ওয়া বি মুহাম্মাদিন রাসূলান সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

অর্থ : আমি সন্তুষ্ট হয়েছি আল্লাহকে রব হিসেবে লাভ করে, ইসলামকে দ্বীন বা জীবন বিধান হিসেবে লাভ করে এবং হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাসূল হিসেবে পেয়ে।

৪. – لَاحَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِالَّلهِ = لَاحَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِالَّلهِ

উচ্চারণ : লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্ল¬া বিল্লাহ-লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ : আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারোর নেক কাজ করার শক্তি নেই এবং বদ কাজ থেকে বেঁচে থাকারও ক্ষমতা নেই।

৫. – لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ = لَاحَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ

উচ্চারণ : লা হাওলা ওয়ালা ক্বুওয়্যাতা ইল্ল¬া বিল্লাহ-লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ : আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারোর নেক কাজ করার শক্তি নেই এবং বদ কাজ থেকে বেঁচে থাকারও ক্ষমতা নেই।

৬. اَللهُ اَكْبَرُ -= اَللهُ اَكْبَرُ

উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার-আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ-আল্ল¬াহ সর্বশ্রেষ্ঠ।

৭. لَا اِلٰهَ اِلاَّ اللهُ

উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।

অর্থ : কোনো মাবুদ নেই, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত।

ফযরের আযানের সময়ে অতিরিক্ত বাক্যের জবাবে বলতে হয়-

৮.صَدَّقْتَ و َبَرَرْتَ

উচ্চারণ : সাদ্দাক্বতা ওয়া বারারতা।

অর্থ : তুমি সত্য বলেছ এবং সৎ কাজ করেছ।

আযানের দোয়া

اَللّٰهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَوةِ الْقَائِمَةِ اَتِ مُحَمَّدَنِ الْوَسِيْلَةَ وَالْفَضِيْلَةَ وَالدَّرَجَةَ  لرَّفِيْعَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًامَّحْمُوْدَنِ الَّذِيْ وَعَدَتَّهُ اِنَّكَ لا َتُخْلِفُ الْمِيْعَادْ

উচ্চারণ : আল্ল¬াহুম্মা রাব্বা হাযিহীদ্দা‘ওয়াতিত তাম্মাতি ওয়াস্সালাতিল ক্বা-য়িমাতি আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়ালফাদ্বীলাতা ওয়াদ্দারাজাতিররাফী’য়াতা ওয়াবআসহু মাক্বামাম মাহমুদানিল্ল¬াযী ওয়া‘আদতাহু ইন্নাকা লা তুখলিফুল মীয়াদ।

অর্থ : হে আল্লাহ, এ পরিপূর্ণ আহ্বান ও শাশ্বত নামাযের তুমিই প্রভু; হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দান করো সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান ও সুমহান মর্যাদা এবং জান্নাতের শ্রেষ্ঠতম প্রশংসিত স্থানে তাঁকে তুমি অধিষ্ঠিত করো। যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাঁকে দিয়েছ। নিশ্চয়ই তুমি ভঙ্গ করো না অঙ্গীকার।

এই আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দৈনিক পাঁচ বার আমরা উচ্চারণ করি, কিন্তু আল্লাহর রাজ কায়েমের কোনো চেষ্টাই করি না। হাত না নাড়ালে একটা খড় কুটাওতো নড়ে না। আল্লfহর শ্রেষ্ঠত্ব কায়েমের চেষ্টা না করলে কি করে শ্রেষ্ঠত্ব কায়েম হবে?

ইকামাত : ইকামাতের গুরুত্ব

ফরয নামায শুরুর আগে মুয়াজ্জিন বা ইমামের অনুমতি সাপেক্ষে একজনকে ইকামত দিতে হয় তা আযানের মতোই। শুধু হাইয়্যা আলাল ফালাহর পরে বলতে হয়-

قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ – = قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ

উচ্চারণ : ক্বাদ্ব ক্বামাতিছ ছলাহ-ক্বাদ্ব ক্বামাতিছ ছালাহ।

অর্থ : নামায আরম্ভ হল – নামায আরম্ভ হল।

১. اَللهُ اَكْبَرُ -= اَللهُ اَكْبَرُ

উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার-আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ-আল্ল¬াহ সর্বশ্রেষ্ঠ।

২.اَشْهَدُ أَنْ لاَّ اِلٰهَ اِلاّ َاللهُ -= اَشْهَدُ اَنْ لاَّ اِلٰهَ اِلاَّاللهُ

উচ্চারণ : আশহাদু আল ¬লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ- আশহাদু আল¬ লা-ইলাহা ইল্ল¬াল্লাহ।

অর্থ : আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্ল¬াহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই-আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্ল¬াহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই।

৩.اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْل ُ اللهُ -= اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْل ُاللهُ

উচ্চারণ : আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্ল¬াহ-আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্ল¬াহ।

অর্থ : আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি- মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল – আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি- মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।

৪. حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ – = حَيّ َعَلَى الصَّلَاةِ

উচ্চারণ : হাইয়্যা আলাস সলাহ-হাইয়্যা আলাস সলাহ।

অর্থ : সালাতের দিকে আসুন – সালাতের দিকে আসুন।

৫. حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ – = حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ

উচ্চারণ : হাইয়্যা আলাল ফালাহি-হাইয়্যা আলাল ফালাহ।

অর্থ : কল্যাণের দিকে আসুন – কল্যাণের দিকে আসুন।

৬. قَد ْقَامَتِ الصَّلَاةُ -= قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ

উচ্চারণ : ক্বাদ্ব ক্বামাতিস সলাহ -ক্বাদ্ব ক্বামাতিস সালাহ।

অর্থ : নামায আরম্ভ হলো – নামায আরম্ভ হলো।

৭. اَللهُ اَكْبَرُ -=اَللهُ اَكْبَرُ

উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার-আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ-আল্ল¬াহ সর্বশ্রেষ্ঠ।

৮. لَا اِلٰهَ اِلاَّ اللهُ

উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু।

অর্থ : কোন মাবুদ নেই, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত।

                                                  ৪

নামায

নামায কি ও কেন?

নামায ফারসী শব্দ। এর আরবী প্রতিশব্দ হলো সালাত। আমাদের দেশে নামায শব্দটি বেশি প্রচলিত। সালাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে নত হওয়া, অবনত হওয়া, বাঁকানো কাঠ সোজা করা, বিস্তৃত করা। ইসলামী পরিভাষায়, রুকূ-সিজদাসহ শরীয়তের বিধি-বিধান মুতাবিক ইবাদত করাকে নামায বলে। নামায হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হিজরতের এক বছর পূর্বে মি‘রাজের রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হয়। ইসলামের ৫টি স্তম্ভের মধ্যে কালেমা, নামায ও রোযা ছাড়া আরো দুটি ফরয আছে যেগুলো সবার জন্য সবক্ষেত্রে সমভাবে অবশ্য পালনীয় নয়।

আল্ল¬াহপাক মানুষ সৃষ্টি করেছেন শুধু তাঁর ইবাদাত এবং খিলাফতের দায়িত্ব পালনের জন্য। ইবাদতের শিরোমনি বা শীর্ষ ইবাদতই হচ্ছে নামায। তাই ইবাদাতের হক পুরোপুরি আদায়ের জন্য তাঁর খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার। আল্ল¬াহর বিধানাবলী জেনে নেয়া নামাযিদের জন্য অপরিহার্য। কারণ আল্ল¬াহর হুকুম-আহকাম না জানলে আমরা অনুশীলন করবো কি?

ঈমানের পরেই নামাযের স্থান। যারা আল্লাহ ও রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান এনে মুসলমান হয়েছেন তাদের সর্বপ্রথম এবং সর্বপ্রধান আমল হচ্ছে নামায। নামায তাই ‘اَفْضَلُ الْعِبَادَةِ’- সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদাত। পবিত্র কুরআনে ৮২-এর অধিক জায়গায় আল্লাহতায়ালা ‘اَقِيْمُوْالصَلٰوةَ’ বলে নামায কায়েমের তাগিদ দিয়েছেন। আল্লাহতায়ালা নামাযের আদেশ করেছেন মানুষের জীবনের সুন্দর্য বা সুন্দর চরিত্র গঠনের জন্য।   এ সম্পর্কে সূরা আল আনকাবুতের ৪৫ নং আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে اِنَّ الصَّلوٰةَ تَنْهٰى عَنِ الْفَحْشَاَءِ وَالْمُنْكَرِ

– “ইন্নাছ্ছালাতা তানহা আনিল ফাহশায়ে ওয়াল মুনকারি”Ñনিশ্চয় নামায মানুষকে পাপ, অন্যায় ও অশ্ল-ীলতা এবং লজ্জাশীল কাজ হতে বিরত রাখে।

ইমাম গাজজালী (রহ.) বলেছেন, মানুষ নামাযে আল্লাহর সাথে যে ওয়াদা করলো তা যদি সে জানতে না পারে তাহলে পূরণ করবে কি করে? কাজেই সেই লোকটি মদখোরের চেয়েও বেশি অপরাধী।

পৃথিবীর সকল মাখলূকই সেজদা আদায় করে (আল্লাহর দাসত্বের স্বীকৃতি প্রদানে সেজদা করে)

সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, বৃক্ষ-লতা, জীব-জন্তু ও পশু-পাখিসহ পৃথিবীতে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা যতো মাখলূক সৃষ্টি করেছেন, তারা সবাই নিজস্ব নিয়মে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের উদ্দেশ্যে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও সম্মান প্রদর্শন করে আসছে। সবাই তাঁর ইবাদত-বন্দেগী ও আনুগত্যে নিয়োজিত। কোথাও কোনো অবাধ্যতা ও বিশৃঙ্খলা নেই। কোথাও নেই সামান্যতম বিরক্তি ও অনীহার বহিঃপ্রকাশ। সবাই সৃষ্টিকর্তার আদেশ পালন করে তাঁকে সিজদাহ্ করে ধন্য হচ্ছে। পবিত্র কালামেপাকে ইরশাদ হয়েছে :

وَلِلّٰهِ يَسْجُدُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مِنْ دَابَّةٍ وَالْمَلَائِكَةُ وَهُمْ لَايَسْتَكْبِرُونَ-يَخَافُوْنَ رَبَّهُم مِّنْ فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُوْنَ مَايُؤْمَرُونَ

উচ্চারণ : ওয়লিল্লাহি ইয়াসজুদু মাফিস সামাওয়াতি ওয়ামাফিল আরদি মিন দাব্বাতিন ওয়াল মালাইকাতু ওয়াহুম লা-ইয়াসতাকবিরুন। ইয়াখাফুনা রব্বাহুম মিন ফাওকিহিম ওয়াইয়াফআলুনা মা-ইউমারুন।

অর্থ : পৃথিবী ও আকাশে যতো সৃষ্টি আছে প্রাণসত্তাসম্পন্ন এবং যতো ফিরেশতা আছে, তারা সবাই রয়েছে আল্লাহ্র সামনে সেজদাবনত। তারা কখনো অবাধ্যতা প্রকাশ করেনা। ভয় করে নিজেদের রবকে, যিনি তাদের ওপরে আছেন এবং যা কিছু হুকুম দেয়া হয় সেই অনুযায়ী কাজ করে। (সূরা ১৬ আন নাহল : আয়াত ৪৯-৫০)

এ আয়াত থেকে জানা যায়, আকাশম-লী ও পৃথিবীতে যতকিছু আছে সবকিছুই আল্লাহর দরবারে সেজদাবনত হয়। তবে তাদের সেজদার ধরণ ও নিয়ম-পদ্ধতি আমাদের মতো নয়। তারা কিভাবে তাসবীহ্-তাহ্লীল করে ও সালাত আদায় করে, তার ইঙ্গিতও কুরআন মজীদে রয়েছে। এ ব্যাপারে আল্লাহতায়ালা বলেন :

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللهَ يُسَبِّحُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالطَّيْرُ صَافَّاتٍ ۖ كُلٌّ قَدْعَلِمَ صَلَاتَه ُ وَتَسْبِيحَهُ ۗ وَاَللهُ عَلِيمٌ بِمَا يَفْعَلُوْنَ-وَ لِلّٰهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأ َرْضِ ۖ وَإِلَى اللهِ الْمَصِيْرُ

উচ্চারণ : আলাম তারা আন্নাল্লাহা ইসাব্বিহু লাহু মান ফিস সামাওয়াতি ওয়ালআরদি ওয়াত্বইরু ছাফ্ফাতিন। কুল্লুন ক্বাদ আলিমা সালাতাহু ওয়াতাসবিয়াহু। ওয়াল্লাহু আলিমুন বিমা ইয়াফআলুন। ওয়ালিল্লাহি মুলকুস সামাওয়াতি ওয়ালআরদি ওয়াইলাল্লাহিল মাসির।

অর্থ : আপনি কি দেখেন না যে, আকশম-লী ও পৃথিবীতে যারা আছে, তারা এবং যে পাখিরা ডানা বিস্তার করে আকাশে ওড়ে, সবাই আল্লাহ্র পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই জানে তার নামায আদায়ের এবং পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করার পদ্ধতি। আর এরা যা কিছু করে, আল্লাহ তা জানেন। আকাশম-লী ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহ্রই এবং তাঁরই কাছে সবাইকে ফিরে যেতে হবে। (সূরা ১৪ নূর : আয়াত ৪১-৪২)

প্রতেকেই জানে তার সালাত (নামায) আদায়ের পদ্ধতি। মহান আল্লাহ্র এ ঘোষণা থেকে স্পষ্ট হয়, পৃথিবীতে যতো মাখলূক রয়েছে, সকলেই নিজ নিজ পদ্ধতিতে নামায আদায় করছে। তদ্রƒপ পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণ এবং তাঁদের উম্মতগণও নামায আদায় করেছেন।

নামায অতীতের সকল শরীয়তের বিধান

নামাজের বিধান বিগত শরীয়তসমূহের মধ্যেও বিদ্যমান ছিলো। কোনো শরীয়তই নামায বিহীন ছিলো না। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বলেছেন :

رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيْمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِيْ ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ

উচ্চারণ : রাব্বিয আলনি মুকিমাস সালাতি ওয়া মিনযুররিইয়াতি রাব্বানা ওয়াতাক্বাব্বাল দুয়াই।

অর্থ : হে আমার প্রতিপালক! আমাকে নামায প্রতিষ্ঠাকারী করুন এবং আমার বংশধরদের মধ্যে হতেও।        (সূরা ১৪ ইবরাহীম : আয়াত ৪০)

ইসমাঈল আলাইহিস সালামের নামায সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেছেন :

وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِندَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا

উচ্চারণ : ওয়াকানা ইয়ামুরু আহলাহু বিস্সালাতি ওয়াজ্জাকাতি ওয়াকানা ইন্দা রাব্বিহী মারদ্বিইয়া।

অর্থ : সে তার পরিবারবর্গকে নামায ও যাকাতের নির্দেশ দিতো এবং সে ছিলো তার প্রতিপালকের নিকট সন্তোষভাজন (পছন্দনীয় ব্যক্তি)। (সূরা ১৯ মরিয়ম : আয়াত ৫৫)

ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ইরশাদ করেছে :

وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَمَا كُنْتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَادُمْتُ حَيًّا

উচ্চারণ:ওয়াজাআলানি মুবারাকান আইনা মাকুনতু ওয়াও সানি বিসসালাতি ওয্যাকাতি মাদুমতু হাইয়ান।

অর্থ : (ঈসা আলাইহিস সালাম বলেন) এবং তিনি (আল্লাহ্) আমাকে বরকত দান করেছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন, যতোদিন জীবিত থাকি ততোদিন নামায ও যাকাত আদায় করতে। (সূরা ১৯ মারিয়ম : আয়াত ৩১)

নামায মানুষকে পবিত্র করে

اِنَّ الصَّلوٰةَ تَنْهٰى عَنِ الْفَحْشَاَءِ وَالْمُنْكَرِ

উচ্চারণ : ইন্নাস সলাতা তানহা আনিল ফাহ্শাই ওয়াল মুনকার।

অর্থ : অবশ্যি নামায অশ্লীল ও অসৎ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখে। (সূরা ২৯ আনকাবুত : আয়াত ৪৫)

حَافِظُواْ عَلَى الصَّلَوٰتِ وَا الصَّلوٰةِ الْوُسْطٰى وَقُوْمُوْا لِلّٰهِ

উচ্চারণ : হাফিজু আ’লাস সলাওয়াতিল উসত্বা ওয়া ক্কুমুলিল্লাহ।

অর্থ : তোমাদের নামাযগুলো সংরক্ষণ করো, বিশেষ করে এমন নামায যাতে নামাযের সমস্ত গুণের সমন্বয় ঘটেছে। (বাকারাহ : আয়াত ২৩৮)

فَاِنْ تَابُوْا وَاَقَامُوْا الصَّلوٰةَ وَءَاتَوُ اْاُلزّٰكَوةَ فَخَلُّوْا سَبِيْلَهُ اِنَّ اللَّهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ

উচ্চারণ:ফাইন তাবু ওয়া আকামুস সালাতা ওয়াআতাউয যাকাতা ফাখালুু সাবিলাহ ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহীম।

অর্থ : আর যদি তারা তাওবা করে, নামায কায়েম করে এবং যাকাত আদায় করে তাহলে তাদের পথ ছেড়েদাও নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা ৯ তাওবা : আয়াত

ইসলামের সবচেয়ে বড় আনুষ্ঠানিক ইবাদত নামায

নামাজই হচ্ছে ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ আনুষ্ঠানিক ইবাদত এবং ইসলামের প্রতীক। মহান আল্লাহ্ বলেন,

اَ لَّذِيْنَ يُؤْمِنُوْنَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيْمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُوْنَ

আল্লাযিনা ইউঁমিনুনা বিলগাইবি ওইউক্বিমুনাস সালাতা ওমিম্মা রাযাকনা হুম ইউনফিকুন।

অর্থ : মুত্তাকী তারা যারা গায়েবে ঈমান রাখে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। (সূরা- ২ আল বাকারাহ : আয়াত ৩)

এভাবে কালামে পাকের ৮২ জায়গায় নামায কায়েম করতে বলা হয়েছে। নামায কায়েমের ব্যাপক অর্থ হলো নামাযে যে কালামে পাক তেলাওয়াত করা হয় সেই কালামে পাকের বিধি-বিধান অনুযায়ী ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। হাদীসে নামাযকে দ্বীনের খুঁটিও বলা হয়েছে। খুঁটি ছাড়া যেমন ঘর নির্মাণ করা যায়না, তেমনি নামায ছাড়া সমাজ বিনির্মাণ করা যায়না; দ্বীন পরিপূর্ণ হয়না। কালেমার সাক্ষ্য দেয়ার পর নামাযই হচ্ছে ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ বা রুকন। এমনকি আল্লাহ পাক নামাযকে ঈমান নামেও অভিহিত করেছেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন :

وَمَا كَانَ اَللهُ لِيُضِيْعَ إِيْمَانَكُمْ ۚ إِنَّ اللهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوْفٌ رَّحِيْمٌ

ওমা কানাল্লাহু লিইউদিয়া ঈমানাকুম। ইন্নাল্লাহা বিন নাসি লা রাঊফুর রহিম।

অর্থ : আল্লাহ্ এরূপ নন যে, তিনি তোমাদের ঈমান (নামায) নষ্ট করে দিবেন। (সূরা-২ আল বাকারাহ : আয়াত ১৪৩)

এ আয়াতে নামাযকে রূপক অর্থে ঈমান বলা হয়েছে। যেহেতু ঈমানের বহি:প্রকাশ ও দাবি হলো নামায আদায় করা, যদিও নামায না পড়ে অস্বীকার না করলে ঈমান চলে যায় না। অবশ্য এতে ঈমান দুর্বল হয়ে যায়। সুতরাং ঈমানের ওপর নামাযের প্রভাব অনস্বীকার্য। ইসলামের যাবতীয় অবশ্য পালনীয় বা ফরয বিধানগুলো জিবরাঈল আলাইহিস সালাম মারফত নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর নাযিল করা হয়েছে। কিন্তু নামায এর ব্যতিক্রম। নামাযের জন্য তাঁকে মহান আল্লাহ্র দরবারে আমন্ত্রণ জানিয়ে স্বসম্মানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে মহিমান্বিত আল্লাহ্ তাঁর সাথে কথোপকথন করেন। এবং তাঁর উম্মতের প্রতি ৫০ ওয়াক্ত নামায ফরয করেন। অত:পর মূসা আলাইহিস সালামের পরামর্শে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বার বার সুপারিশে তা কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্তে সীমাবদ্ধ করা হয়, যার নেকি ৫০ ওয়াক্ত নামাযের সমান।

হযরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন : মি‘রাজ রজনীতে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরয হয়েছিল। পরে তা কমিয়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত করা হয়। এরপর বলা হয়, হে মুহাম্মদ! আমার কথায় কোনো রদবদল হয় না। আপনার জন্য এ পাঁচ ওয়াক্তের সওয়াব পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমান। (জামে আত-তিরমিযী)

রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদিও ফরয ইবাদত। আপনি সার্বিকভাবে সুস্থ থাকলে বছরে একমাস রোযা আপনাকে রাখতেই হবে। আর যদি অসুস্থ থাকেন বা মুসাফির হন, তাহলে পরবর্তীতে তা কাযা করা যাবে বা অন্য কোনো উপায়ে রোযার ফিদিয়া কাফ্ফারা আদায় করা যাবে। যেমন মিসকীনদের পেটভরে আহার করানো, খাবার দান করা ইত্যাদি। অপরদিকে সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য হজ্জ ফরয। যারা বাইতুল্লাহ শরীফ পর্যন্ত যাওয়ার আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য রাখেন। যিনি সামর্থ্য রাখেননা, তার জন্য হজ্জ ফরয নয়। এ ব্যাপারে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

وَ لِلّٰهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيْلًا ۚ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِيْنَ

উচ্চারণ : ওয়ালিল্লাহি আলান নাসি হিজ্জুল বাইতি মানিস তাত্বাআ ইলাইহি সাবিলান। ওয়ামান কাফারা ফাইন্নাল লাহা গানিইউন আনিল আলামিনা।

অর্থ : যারা বাইতুল্লাহ পর্যন্ত যাওয়ার সামর্থ্য রাখে, তাদের উপর হজ্জ সম্পন্ন করা আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আরোপিত হক (অধিকার)। আর যে ব্যক্তি এ নির্দেশ মেনে চলতে অস্বীকার করে, তার জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ্ সমগ্র সৃষ্টি জাহানের মুখাপেক্ষী নন। (সূরা ৩ আল ইমরান : আয়াত ৯৭)

অপরদিকে হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : হজ্জ জীবনে একবারই করতে হবে। কেউ যদি অতিরিক্ত করে, তাহলে তার জন্য তা নফল হবে। (মুসনাদে আহ্মাদ ও আন-নাসায়ী)

তৃতীয় ফরয হচ্ছে যাকাত প্রদান বা আদায় করা। কুরআন মাজীদের বহু জায়গায় নামায কায়েম করার সাথে সাথে যাকাত আদায়ের কথা বলা হয়েছে। এই নামায ও যাকাত প্রতি যুগেই দ্বীন ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃত হয়ে আসছে।

অন্যান্য নবীগণের মতো বনী ইসরাঈলের নবীরাও এর প্রতি কঠোর তাগিদ দিয়েছেন। কারো নিকট নিসাব পরিমাণ স্বর্ণ (সাড়ে সাত ভরি বা ৮৭.৪৫ গ্রাম), রূপা (সাড়ে ৫২ ভরি বা ৬১২.১৫ গ্রাম) বা টাকা-পয়সা কিংবা ব্যবসায়িক মাল আছে যা এক বছরকাল স্থায়ী থাকে, এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর এর যাকাত আদায় করা ফরয হয়। এ ফরয আদায় করতেই হবে। নাহলে বড় গুনাহগার হতে হবে, ভয়ানক শাস্তি পেতে হবে। যাকাত ধনীদের ধনে গরীবের হক। যাকাত না দিলে গরীবের সম্পদ নিজের কাছে রাখা হয়। অন্যের টাকা নিজের কাছে না রাখাই ভালো। কিন্তু নামাযের বেলায় আক্রমনের ভয় আছে সেখানেও নামায আদায়ের হুকুম আছে কৌশলগতভাবে। এমনকি অসুস্থ থাকলেও নামায পড়ার বিধান আছে। দাঁড়িয়ে নামায পড়তে অক্ষম হলে বসে নামায পড়বেন, বসে পড়তে অক্ষম হলে শুয়ে পড়বেন অথবা ইশারা ইঙ্গিতে পড়বেন। তবুও মাফ নেই।

ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাঁড়িয়ে নামায পড়। যদি অক্ষম হও, বসে নামায পড়। আর তাও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে ইশারা করে নামায পড়। (সহীহ আল বোখারী)

শুধু অপবিত্র অবস্থায় নামায পড়া যাবে না। কারণ শারীরিক বা দৈহিক পবিত্রতা নামায আদায়ের অন্যতম শর্ত। আল্লাহ্র রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনÑসালাতের চাবি হলো তাহারাত বা পবিত্রতা।         (জামে আত-তিরমিযী)

তবে যদি কোনো অবস্থায় এমন হয়, নামাযের ওয়াক্ত শেষ হবার পূর্বে তাহারাত বা পবিত্রতা অর্জনের জন্য পানি পাওয়া না যায় কিংবা তায়্যাম্মুম করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রেও নামায আদায় করতে হবে তবে কিরাতের সময় চুপ থাকবে, আর পরবর্তীতে ঐ নামায পুনরায় পড়ে নিবেন।

নামাযের সময়

فَسُبْحَانَ اللهِ حِيْنَ تُمْسُوْنَ وَحِيْنَ تُصْبِحُونَ ﴿١٧﴾ وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَات ِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّاوَحِيْنَ تُظْهِرُوْنَ ﴿١٨﴾

উচ্চারণ : ফাসুব্হানাল্লাহি হীনা তুম্সূনা ওয়াহিনা তুছ্বিহুন। ওয়ালাহুল হামদু ফিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি ওয়া আশিইয়ান ওয়াহিইনা তুজ্হিরুন।

অর্থ : অতএব তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর। নামায পড় সন্ধ্যায় (মাগরিব ও এশায়) ও সকালে (ফজর) এবং বৈকালে (আছর) ও দ্বিপ্রহরে (জোহর)। আসমান ও জমীনে সকল প্রশংসা তারই। সূরা ৩০ রুম : আয়াত ১৭ ও ১৮)

فَاصْبِرْ عَلٰى مَا يَقُوْلُوْنَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوْبِهَا ۖ وَمِنْ آنَاءِ اللَّيْلِ فَسَبِّحْ وَأَطْرَافَ النَّهَارِ لَعَلَّكَ تَرْضَىٰ ﴿١٣٠﴾

উচ্চারণ : ফাসবির আলা মা ইয়াক্বুলুনা ওয়াসাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা ক্বাবলা ত্বুলু’ইশ শামসি ওয়াক্বাবলা গুরুবিহা ওয়ামিন আন্নাইলাইলি কাসাব্বিহ ওয়াআত্বরাফান নাহারি লা’আল্লাকা তারদ্বা।

অর্থ : সুতরাং এরা যা বলে সে বিষয় আপনি ধৈর্য-ধারণ এবং আপনার পালন কর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন, রাত্রের কিছু অংশে (মাগরিব ও এশায়) ও দিবা ভাগে (যোহর) সম্ভবতঃ আপনি তাতে সন্তুষ্ট হবেন। (সূরা ২০ তোয়াহা : আয়াত ১৩০)

সময়মতো নামায পড়া উত্তম

সময়মত নামায আদায় করা ফরয। আল্লাহ পাক কুরআনে ইরশাদ করেন :

إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ كِتَابًا مَّوْقُوْتًا

উচ্চারণ : ইন্নাস-সালাতা কানাত আলাল মুমিনীনা কিতাবাম মাওক্বুতা।

অর্থ : নির্ধারিত সময়ে সালাত কায়েম করা মুমিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য। (সূরা ৪ : আন নিসা : আয়াত ১০৩)

জামায়াতের সাথে নামায না পড়ার পরিণাম

يَوْمَ يُكْشَفُ عَن سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُوْدِ فَلَا يَسْتَطِيْعُونَ ﴿٤٢﴾ خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ ۖ وَقَدْكَانُوا يُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُوْدِ وَهُمْ سَالِمُونَ ﴿٤٣﴾

উচ্চারণ : ইয়াওমা ইউকশাফু আন সাক্কিন ওয়া ইউদ আউনা ইলাস সুজুদি ফালা ইয়াস তাত্বীউন। খাশিআতান আবসারুহুম তারহাকুহুম জিল্লাতুন ওয়া ক্বাদকানু ইউদ আউনা ইলাসসুজুদি ওয়া হুম সালিমুন।

অর্থ : আল্লাহ বলেন : পায়ের গোছা পর্যন্ত উম্মুক্ত করার দিনের কথা স্মরণ কর, সেদিন তাদেরকে সিজদা করতে বলা হবে, অতঃপর তারা সক্ষম হবে না। তাদের দৃষ্টি অবনত থাকবে, তারা লাঞ্ছনাগ্রস্ত হবে,অথচ যখন তারা সুস্থ অবস্থায় ছিল, তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহবান জানানো হতো। কিন্তু তারা সাড়া দিত না (সূরা ৬৮ কালাম : আয়াত ৪২-৪৩)

এ আয়াতের প্রথমাংশে কিয়ামতের দিনের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। তাদের ওপর অবমাননার ছাপ থাকবে। অথচ দুনিয়ার জীবনে তাদেরকে সেজদা করতে ডাকা হতো ইব্রাহিম তাইমী এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন: অর্থাৎ আযান ও ইকামাত দ্বারা তাদেরকে ফরয নামাযের দিকে ডাকা হতো। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব বলেন: তারা আযান শুনতো, অথচ সুস্থ সবল থাকা সত্ত্বেও জামায়াতে হাজির হতো না। কা’ব আল আহবার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: এ আয়াত কেবলমাত্র নামাযের জামায়াতে অনুপস্থিত থাকা লোকদের প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছিল। এ থেকে বিনা ওযরে জামায়াতে উপস্থিত না হওয়ার কী ভয়ংকর পরিণাম, তা জানা যায়।

এ হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, একজন সুস্থ মানুষের পক্ষে জামায়াতে হাজির না হওয়া কোন ক্রমেই বৈধ হতে পারে না। কেননা রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন অন্ধ ব্যক্তিকেও বাড়িতে নামায পড়ার অনুমতি দেননি।

জামায়াতের সাথে নামায না পড়ার পরিণাম সংক্রান্ত কতিপয় হাদীস :

১.উবাই ইবনে কা’আব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর পর দুইদিন ফযর নামাযের সালাম ফিরিয়ে আমাদের জিজ্ঞেস করেন : ‘অমুক ব্যক্তি কি নামাযে হাযির হয়েছে? সবাই বললো : জ্বী না। তিনি আবার বললেন : অমুক উপস্থিত হয়েছে কি? লোকেরা বললো : জ্বী না। তিনি বললেন : এই দুইটি (ফজর ও এশার)Ñনামায মুনাফিকদের জন্য অন্যান্য নামাযের তুলনায় অধিকতর ভারী। তোমরা যদি জানতে এই দুইটি নামাযের মধ্যে কি পরিমাণ (সওয়াব) নিহিত আছে, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও নামাযে উপস্থিত হতে। (আবু দাউদ ও আন-নাসায়ী)

২.আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: আল্লাহর শপথ, আমি সাহাবীগণকে দেখেছি। (তাঁরা কখনো নামাযের জামায়াত ত্যাগ করতেন না) জামায়াত ত্যাগ করে তো কেবল সুস্পষ্ট মুনাফিক। নিশ্চয়ই সাহাবীগণের মধ্যে এমন লোকও দেখা গেছে, যাকে দু’পাশ থেকে দুজনে ভর দিয়ে ধরে মসজিদে এনেছে এবং সফের মধ্যে দাঁড় করিয়েছে। (সহীহ মুসলিম)

৩.উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মসজিদে আযান হবার পর যে ব্যক্তি বিশেষ জরুরি কাজ ছাড়া বেরিয়ে যায় এবং মসজিদে প্রত্যাবর্তণের ইচ্ছা রাখে না, সে মুনাফিক। (মিশকাত)

৪. ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আমি দেখেছি সাহাবায়ে কিরামের সমাজকে। সে সমাজে মুনাফিক এবং রোগাক্রান্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউই জামায়াতে উপস্থিত না হয়ে থাকতো না। (সহীহ মুসলিম)

৫.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমার ইচ্ছা হয়, নামাযের নির্দেশ জারি করি, আর এক লোকের ইমামতিতে নামাযের জামায়াত শুরু হোক, অতঃপর আমি শুকনো লাকড়ি বহনকারী এক দল লোক নিয়ে ঐ লোকদের বাড়ীতে গিয়ে তাদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেই-যারা জামায়াতে হাযির হয়নি। (সহীহ বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

৬.হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করা হল, এক লোক সারা দিন রোযা রাখে এবং সারা রাত নামায পড়ে, কিন্তু ফরয নামাযের জামায়াতে শরীক হয় না, তার কি ফয়সালা? তিনি বললেন: এ অবস্থায় মারা গেলে সে দোযখে যাবে। (জামে আত-তিরমিযী)

৭.হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আরো বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তিন ব্যক্তিকে আল্লাহপাক অভিশাপ দিয়েছেন :

১.যে নেতাকে লোকেরা অপছন্দ করে,

২. যে মহিলা তার উপর স্বামী অসন্তুষ্ট থাকা অবস্থায় রাত যাপন করে,

৩.নামাযের আযান শ্রবণ করেও যে জামায়াতে উপস্থিত হয় না। (হাকেম)

৮.হযরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন : কিয়ামাতের দিন যে ব্যক্তি মুসলমান হিসেবে আল্লাহর দীদার লাভ করতে চায়, সে যেন প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায ঠিকমত আদায় করে। কেননা আল্লাহ তোমাদের নবীর জন্য হিদায়াতের বিধানাবলী প্রবর্তন করে দিয়েছেন। আর এ নামাযগুলো হচ্ছে হিদায়াতের অন্যতম পন্থা। অনেকের মতে তোমরাও যদি নিজ গৃহে নামায পড়, তবে যেন নবীর পথ ছেড়েদিলে। আর তোমরা যদি নবীর পথ ছেড়ে দাও, তাহলে পথভ্রষ্ট হবে। আমার জানামতে, মুনাফিক বা অসুস্থব্যক্তি ছাড়া কেউ জামায়াতে শামিল হতে অবহেলা করে না। অথচ যে ব্যক্তি দু’জনের কাঁধে ভর দিয়ে মসজিদ পর্যন্ত আসে, অবশ্যই সে জামায়াতে নামাযের জন্যই আগমন করে। অসুস্থ রবী বিন খায়সাম দু’জনের কাঁধে ভর দিয়ে মসজিদে এসে জামায়াতে শরীক হতেন। তাঁকে বলা হতো, আপনি তো অক্ষম, আপনার ঘরে বসে নামায পড়া তো জায়েয। তিনি বলতেন : আমি তো আযান শুনতে পাই। অতএব যে ব্যক্তি জামায়াতে শরীক হওয়ার শক্তি আছে, তাকে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও শরীক হতে হবে। কোন কোন বুযুর্গ বলতেন : জামায়াত তরক শুধু পাপের কারণে হয়ে থাকে।

৯.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। কোন সময় নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সংখ্যক লোককে দেখতে পেলেন না। তিনি বললেন : আমি স্থিরভাবে মনস্থ করেছি যে, তাদের নিকট চলে যাই, যারা নামাযে অনুুপস্থিত থাকে, অতঃপর কাঠ জমা করে তাদের ঘর জ্বালিয়ে দিতে বলি। (সহীহ বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

১০.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি মায়ের ডাক শুনলো কিন্তু ওজর না থাকা সত্বেও জামায়াতে হাজির হলো না, তার একাকি পড়া নামায কবুল হবেনা। জিজ্ঞেস করা হলো যে, কি ধরণের ওজর? রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, রোগ অথবা বিপদের আশঙ্কা। (আবু দাউদ)

১১.যে ব্যক্তি আযান শুনল এবং এর অনুসরণের পথে অর্র্থাৎ-নামাযের জামায়াতে হাযির হবার ব্যাপারে কোন ওযরই প্রতিবন্ধক রূপে না দাঁড়ায়, তার ঘরে পড়া কোন নামায কবুল হবে না। প্রকৃত ওযর কি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: ভয় কিংবা রোগ। (আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)

১২.হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তিন ব্যক্তির উপর আল্লাহর অভিশাপ ১. সেই ইমাম যার উপর সমাজের লোক নারায, ২. স্বামী অসন্তুষ্ট অবস্থায় রাত্রিযাপনকারিনী স্ত্রী এবং ৩. যে ব্যক্তি হাইয়্যা আলাস সালাহ এবং হাইয়্যা আলাল ফালাহ শুনেও তাতে সাড়া দেয় না। অর্থাৎ জামায়াতে উপস্থিত হয় না। (মুসতাদরক হাকিম)

১১.রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: অমুসলিমদের ও আমাদের মাঝে যে অঙ্গীকার, তা হচ্ছে নামায সংক্রান্ত। নামাযকে যে ত্যাগ করলো, সে কাফের। তিনি আরো বলেছেন: বান্দার ও তার কাফের হওয়ার মাঝে কেবল নামায তরকের ব্যবধান।

কুরআন মজীদে বলা হয়েছে, আল্লাহভীরু লোক ছাড়া অন্যদের জন্য নামায ভারী বোঝার মতো। অন্যান্য হাদীসে বলা হয়েছে, মুনাফিকরা লোক দেখানোর জন্য নামায পড়ে। কেউ না দেখলে নামায পড়ে না। কেউ দেখলে বাধ্য হয়ে পড়ে।

নামায না পড়ার পরকালীন শাস্তি

مَاسَلَكَكُم ْفِي سَقَرَ ﴿٤٢﴾ قَالُوْ الَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّيْنَ ﴿٤٣﴾

মাসালাকাকুম ফি সাক্বারা। ক্বালু লাম নাকু মিনাল মুসল্লিন।

জাহান্নামবাসীদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন : জান্নাতবাসী তাদেরকে জিজ্ঞেস করবে, কোন কারণে তোমরা দোজখে গেলে? তারা জবাব দেবে : আমরা নামায আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না ।

মহান আল্লাহ বলেন :

فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوْا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوْا الشَّهَوَاتِ ۖ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا ﴿٥٩﴾

উচ্চারণ : ফা খালাফা মিম বা’দিহিম খালফুন আদা’উস সলাতা ওয়াত্তাবায়ুশ শাহাওয়াতি ফাসাওফা ইয়াকাউনা গাইয়ান।

অর্থ : তাদের পরে যারা স্থলাভিষিক্ত হল তারা নামায নষ্ট করল আর নফসের লালসা-বাসনার অনুকরণ করলো। অতএব সেই দিন বেশী দুরে নয় যখন তারা এই কুকর্মের শাস্তি ভোগ করবে। অবশ্য তারা ব্যতীত যারা তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্মশীল হয়েছে। (সূরা ১৯ মরিয়াম : আয়াত ৫৯)

মহান আল্লাহ বলেন :

فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّيْنَ ﴿٥﴾ الَّذِيْنَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ ﴿٥﴾ الَّذِيْنَ هُمْ يُرَاءُوْنَ ﴿٦﴾

উচ্চারণ : ফা ওয়াইলুল লিল মুসাল্লিন। আল্লাযিনা হুম আন সলাতিহিম সাহুন। আল্লাযিনা হুম ইউরাউন।

অর্থ : সুতরাং ‘ওয়াইল’ নামক দোযখের কঠিন শাস্তি সেই নামায় আদায়কারীদের জন্য যারা তাদের নামায সম্পর্কে উদাসীন। (সূরা ১০৭ মাউন : আয়াত ৪-৫)

মহান আল্লাহ বলেন :

مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ ﴿٤٢﴾ قَالُوْا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّيْنَ ﴿٤٣﴾ وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِيْنَ ﴿٤٤﴾ وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ ﴿٤٥﴾ وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّيْنِ ﴿٤٦﴾ حَتَّىٰ أَتَا نَا الْيَقِيْنُ ﴿٤٧﴾ فَمَا تَنفَعُ هُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِيْنَ ﴿٤٨﴾

উচ্চারণ : মাসালাক্বাকুম ফি সাক্বারা। ক্বালু লাম নাকু মিনাল মুসল্লিন। ওয়ালাম নাকু নুতইমুল মিসকিন। ওয়াকুন্না নাখুদু মা’আআল খাইদিন।ওয়া কুন্না নুকাজ্জিবু বি ইয়াওমিদ্দিন। হাত্তা আতানাল ইয়াক্বিন। ফামাতানফাউহুম শাফায়াতুআশ্শাফিইন।

অর্থ : তোমাদেরকে কিসে সাকারে অর্থাৎ জাহান্নামে নিক্ষেপ করছে? উত্তরে তারা বললেন; আমরা মুছল্লিদের অন্তর্ভূক্ত ছিলাম না, (অর্থাৎ আমরা নামায পড়তাম না) আমরা অভাবীদেরকে অন্ন দান করতাম না,আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করে থাকতাম এবং আমরা কর্মফল দিবসকে অস্বীকার করতাম। শেষ পর্যন্ত আমাদের নিকট নিশ্চিত মৃত্যুর আগমন গটল। এমতাবস্থায় সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন উপকারে আসবে না। (সূরা ৭৪ আল মুদ্দাছছির : আয়াত ৪২-৪৮)

নামায না পড়ার পরকালীন শাস্তি সম্পর্কে রাসূলের বাণী :

১.                 হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমার ইবনুল আছ কর্তৃক নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে, একদা তিনি নামাযের প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করলেন, বললেন : যে লোক নামায সঠিকভাবে আদায় করবে না তার জন্য নূর, অকট্য দলীল এবং মুক্তি কিছুই হবে না বরং কিয়ামতের দিন তার পরিণতি হবে কারুন, ফিরাউন হামাম এবং উবাই ইবনে খালাফ-এর সাথে। (মুসনাদে আহমদ, দারেমী ও সুনানে বায়হাকী)

২.                 একদা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের জন্য দু‘আ করলেন : হে আল্লাহ! আমাদেরকাউকে বঞ্চিত ও হতভাগা করো না, অতঃপর উপস্থিত সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রশ্ন করলেন: ইয়ারাসূলুল্লাহ! কে সে ব্যক্তি? তিনি বললেন: নামায ত্যাগকারী।

৩.বর্ণিত আছে, বনী ইসরাঈলের এক মহিলা হযরত মূসা আলাইহিস সালামের নিকট এসে বলল : হে আল্লাহর নবী! আমি এক জঘন্য গুনাহ করেছি, আতঃপর তা থেকে আল্লাহর কাছে তাওবা করেছি। আপনি দু‘আ করুন আল্লাহ যেন আমাকে মাফ করে দেন এবং আমার তাওবা কবুল করেন। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি পাপ করেছ? সে বলল : আমি যিনায় লিপ্ত হয়ে একটি সন্তান প্রসব করেছি এবং তাকে হত্যা করে ফেলেছি। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম বললেন : হে পাপিষ্ঠ! এ মুহূর্তে এখান থেকে চলে যাও। নচেৎ আকাশ থেকে আগুন এসে আমাদেরকেও জ্বালিয়ে ফেলবে। মহিলাটি ভগ্ন হৃদয়ে চলে গেল। তখনি জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এসে বললেন : হে মুসা! আল্লাহ জানতে চেয়েছেন, কি কারণে আপনি এ তাওবাকারিণীকে দূর করে দিলেন : হে জিবরাঈল! এর চেয়েও বড় পাপী আর কে হতে পারে? জিবরাঈল আলাইহিস সালাম বললেন : ইচ্ছাকৃতভাবে নামাযত্যাগকারী।

৪.হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : মানুষ যতক্ষণ এক আল্লাহকে মা’বুদ হিসাবে মেনে না নেবে, নামায কায়েম ও যাকাত আদায় না করবে, ততক্ষণ তাদের সাথে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট। এ কাজগুলো যারা করবে, তাদের রক্ত ও সম্পদ আমার হাত থেকে নিরাপদ। তবে ন্যয়সঙ্গত কারণ থাকলে ভিন্ন কথা। তাদের হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব আল্লাহতায়ালার। এ হাদীসের ব্যখ্যা প্রসঙ্গে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন : নামায ত্যাগকারী ইসলামের প্রদত্ত কোন সুযোগ সুবিধা ও নিরাপত্তা ভোগ করতে পারবেনা। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

৫.রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি বেনামাযী হয়ে আল্লাহর কাছে যাবে, তার অন্যান্য সৎ কাজকে আল্লাহ গ্রহন করবেন না। (তাবরানী)

৬.রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন : কোন বান্দা যখন প্রথম ওয়াক্তে নামায পড়ে তখনসেই নামায একটি আলোকরশ্মি ছুঁড়তে ছুঁড়তে আরশ পর্যন্ত পৌছে যায়। অতঃপর কিয়ামত পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে যে, তুমি যেমন আমাকে রক্ষা করেছেন। আল্লাহ তেমন তোমাকে রক্ষা করুন! (তাবরানী)

নামায ত্যাগ করা কুফরি

وَماَمَنَعَهُم ْ اَن تُقْبَلَ مِنْهُمْ نَفَقَتُهُمْ اَلَّا اَنَّهُمْ كَفَرُوْا بِاَللهِ وَبِرَسُوْلِهِ وَلَا تَاتُوْنَ الصَّلوٰةَ اِلَّا وَهُمْ كُسَالَى وَلَا يُنْفِقُونَ اِلَّا وَهُمْ كَرِهُوْن

উচ্চারণ : ওয়ামা মানাআহুম আন তুক্ববালা মিনহুম নাফাক্বাতুহুম আল্লা আন্নাহুম কাফারু বিল্লাহি ওয়া বিরাসূলিহি ওয়া লা তাতুনাস্সালাতা ইল্লা ওয়াহুম কুসালা ওয়ালা উনফিকুনা ইল্লা ওয়াহুম কারিহুন।

অর্থ : তাদের দেয়া সম্পদ গৃহীত না হবার এছাড়া আর কোন কারণ নেই যে, তারা আল্লাহ ও তার রসূলের সাথে কুফরী করেছে, নামাযের জন্য যখন আসে আড়মোড় ভাংতে আসে এবং আল্লাহর পথে খরচ করলে তা করে অনিচ্ছাকৃত।

এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :

১.যাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বান্দা ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত পরিত্যাগ। (সহীহ মুসলিম)

২.বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের ও তাদের (মুনাফিকদের) মধ্যে যে অঙ্গীকার আছে, তাহলো সালাত । সুতরাং যে সালাত ত্যাগ করবে সে (প্রকাশ্যে) কুফরি করছে। (মুসনাদে আহমদ, জামে আত-তিরমিযী, আন-নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ)

৩.একবার রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হে আল্লাহ আমাদের মধ্যে কাউকে বঞ্চিত হতভাগা বানিওনা, তরপর উপস্থিত সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন : তোমরা কি জান বঞ্চিত হতভাগা কে? সাহাবীগণ বললেন : হে আল্লাহর রাসূল! সে কে ? তিনি বললেন: নামায তরককারী।

৪.অপর এক হাদীসে আছে, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের মুখ কালো হবে, তারা হলো নামায তরককারী। জাহান্নামে মালহাম’নামক একটা অঞ্চল আছে। সেখানে বহু সাপ থাকে। তার প্রতিটি সাপ উটের ঘাড়ের মত মোটা এবং প্রায় এক মাসের পথের সমান লম্বা। এই সাপ নামায তরককারীকে দংশন করবে। এর বিষ তার শরীরে ৭০ বছর ধরে যন্ত্রণা দিতে থাকবে। অবশেষে তার গোশত খসে খসে পড়বে।

৫.রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : অমুসলিমদের ও আমাদের মাঝে যে অঙ্গীকার, তা হচ্ছে নামায সংক্রান্ত। নামাযকে যে ত্যাগ করলো, সে কাফের। তিনি আরো বলেছেন : বান্দার ও তার কাফের হওয়ার মাঝে কেবল নামায তরকের ব্যবধান।

৬.ইমাম ইবনে হাযম বলেছেন : আল্লাহর সাথে শরীক করা ও অন্যায়ভাবে কোন মুমিনকে হত্যা করার পরেই সবচেয়ে বড় গুনাহর কাজ হলো নামায তরক করা।

৭. ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন : যখন কেউ ফযর ও এশার নামাযে অনুপস্থিত থাকতো, তখন আমরা মনে করতাম সে মুনাফিক হয়ে গেছে।

ইব্রাহিম নাগয়ী, আইয়ূব সাখতিয়ানী, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আহমাদ ইবনে হাম্বল ও ইসহাক বিন রাহয়েল মতে বিনা ওযরে স্বেচ্ছায় নামায তরককারীকে নামাযের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর কাফের গণ্য করতে হবে।

আল কুরআনে নামায কায়েমের নির্দেশ

নামায সম্পর্কে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতা’আলা বলেনÑ

وَ أَقِيْمُوالصَّلَاةَ وَآتُوْا الزَّكَاةَ وَ ارْكَعُوْ امَعَ الرَّاكِعِيْنَ

উচ্চারণ : ওয়া আক্বীমুস সালাতা ওয়া আতুয-যাকাতা, ওয়ারকা‘য়ু মা‘আর রাকি‘ঈন।

অর্থ : তোমরা নামায কায়েম করো ও যাকাত আদায় করো এবং যারা আমার সামনে অবনত হচ্ছে তাদের সাথে তোমরাও অবনত হও (রুকূকারীদের ন্যায় কুকূ কর)। (সূরা ২ আল বাকারাহ : আয়াত ৪৩)

وَأَقِيْمُوْاالصَّلَاةَوَآتُواالزَّكَاةَ ۚ وَمَاتُقَدِّمُوْا لِأَنفُسِكُمْ مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِنْدَ اللهِ ۗ إِنَّ اللهَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِيْرٌ

উচ্চারণ : ওয়া আক্বীমুস সালাতা ওয়াআতুয-যাকাতা, ওয়ামা তুক্বাদ্দিমু লিআনফুসিকুম্ মিন খায়রিন্ তাজিদূহু ইনদাল্লাহি ইন্নাল্লাহা বিমা তা‘মালূনা বাসীর।

অর্থ : তোমরা সালাত কায়েম করো ও যাকাত আদায় করো এবং নিজেদের পরকালের জন্য তোমরা যাকিছু সৎকাজ করে আগে পাঠিয় দেবে, তা সবই আল্লাহ্র ওখানে মজুদ পাবে। তোমরা যাকিছু করো সবই আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে। (সূরা ২ আল বাকারাহ : আয়াত ১১০)

حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ

উচ্চারণ : হাফিজু ‘আলাস সলাওয়াতি ওয়াসসালাতিল উস্ত্বা।

অর্থ : তোমরা নামাযগুলো সংরক্ষণ করো (নামাজের প্রতি যতœবান হও), বিশেষ করে মধ্যবর্তী (আসরের) নামাযের। (সূরা ২ আল বাকারাহ : আয়াত ২৩৮)

وَقَالَ اللهُ إِنِّي مَعَكُمْ ۖ لَئِنْ أَقَمْتُمُ الصَّلَاةَ وَآتَيْتُمُ الزَّكَاةَ وَآمَنتُم بِرُسُلِي وَعَزَّرْتُمُو هُمْ وَأَقْرَضْتُمُ اللهَ قَرْضًا حَسَنًا لَّأُكَفِّرَنَّ عَنكُم ْسَيِّئَاتِكُمْ وَ لَأُدْخِلَنَّكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ

উচ্চারণ : ওয়াক্বলাল্লাহু ইন্নি মা‘আকুম, লাইন্ আক্বাম্তুমুস্সালাতা ওয়া আতাইতুমুয্ যাকাতা ওয়াআমানতুম্ বিরুসূলী ওয়াআয্যারতুমূহুম, ওয়াআক্বরাদ্ব তুমুল্লহা ক্বরদ্বান হাসানাল্ লা’উকাফফিরান্না ‘আনকুম সাইয়্যিয়াতিকুম ওয়ালা উদখিলান্নাকুম জান্নাতিন তাজ্রী মিন্ তাহ্তিহাল আনহার।

অর্থ : আর আল্লাহ্ বলেছিলেন, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি, যদি তোমরা নামায কায়েম করো, যাকাত দাও, আমার রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনো ও তাদেরকে সম্মান করো এবং আল্লাহকে ‘করযে হাসানা’ (উত্তম ঋণ) দিতে থাকো, তাহলে নিশ্চিত বিশ্বাস করো আমি তোমাদের থেকে তোমাদের পাপগুলো মোচন করে দেবো এবং তোমাদের এমন সব বাগানে (জান্নাতে) প্রবেশ করাবো যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। (সূরা ৫ আল মায়েদাহ : আয়াত ১২)

وَأَنْ أَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَاتَّقُوهُ ۚ وَهُوَ الَّذِي إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ

উচ্চারণ : ওয়াআন আক্বীমুস্ সালাতা ওয়াত্তাকূহু ওয়াহুয়াল্লাযী ইলাইহি তুহ্শারূন।

অর্থ : নামায কায়েম করো এবং তাঁর নামফরমানী করা থেকে দূরে থেকো। তাঁরই কাছে তোমাদের সমবেত করা হবে। (সূরা ৬ আন‘আম : আয়াত ৭২)

وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ ۗ وَبَشِّرِالْمُؤْمِنِينَ

উচ্চারণ : ওয়াআক্বীমুস্ সালাতা ওয়াবাশ্শিরিল্ মু’মিনীন।

অর্থ নামায কায়েম করো আর ঈমানদার লোকদের সুসংবাদ দাও। (সূরা ১০ ইউনুস : আয়াত ৮৭)

وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ ۚ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ۚ ذَ‌ٰلِكَ ذِكْرَىٰ لِلذَّاكِرِينَ

উচ্চারণ : ওয়া আক্বীমিস্সালাতা তরাফাইন নাহারি ওয়া যুলাফাম মিনাল্ লাইলি, ইন্নাল হাসানাতি য়ুয্হিবনাস সায়্যিয়াতি যালিকা যিক্র লিয্ যাকিরীন।

অর্থ : নামায কায়েম করো দিনের দু’প্রান্তে এবং রাতের প্রথমাংশে। নিশ্চয়ই সৎকাজগুলো অসৎকাজকে দূর করে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, এটা তাদের জন্য এক উপদেশ। (সূরা ১১ হুদ : আয়াত ১১৪)

أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَىٰ غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ ۖ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا

উচ্চারণ : আক্বীমিস্ সালাতা লিদুলুকিশ্ শামসি ইলা গাসাক্বিল্ লাইলি ওয়াকুরআনাল ফাজরি, ইন্না কুরআনাল্ ফাজরি কানা মাশহূদা।

অর্থ : নামায কায়েম করো সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার সময় থেকে নিয়ে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত। আর ফজরে কুরআন পড়ার ব্যবস্থা করো। নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন পাঠ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে (আল্লাহর ফিরিশ্তাগণ উপস্থিত হয়ে থাকেন)। (সূরা ১৭ বনী ইসরাঈল : আয়াত ৭৮)

إِنَّنِي أَنَا اَللهُ لَاإِلـٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي

উচ্চারণ : ইন্নানী আনাল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লা আ-না ফা‘বুদনি ওয়াআক্বীমিস্ সালাতা লিযিকরী।

অর্থ : আমিই আল্লাহ্। আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। কাজেই তুমি আমার ইবাদত করো এবং আমাকে স্মরণ করার জন্য নামায কায়েম করো। (সূরা ২০ তোয়াহা : আয়াত ১৪)

فَأَقِيْمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللهِ هُوَ مَوْلَا كُمْ ۖ فَنِعْمَ الْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ النَّصِيرُ

উচ্চারণ : ফা আক্বীমুস্ সালাতা ওয়াআতুয-যাকাতা ওয়াতা‘সিমু বিল্লাহি হুয়া মাওলাকুম ফানি‘মাল্ মাওলা ওয়ানি‘মান নাসীর।

অর্থ : অতএব তোমরা নামায কায়েম করো, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে শক্তভাবে ধারন করো (অর্থাৎ আল্লাহর নিকট হতে হিদায়াত ও জীবন বিধান গ্রহণ করো)। তিনি তোমাদের অভিভাবক, কতো উত্তম অভিভাবক তিনি, কতো উত্তম সাহায্যকারী তিনি। (সূরা ২২ আল হাজ্জ : আয়াত ৭৮)

وَأَقِيْمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيْعُوا الرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ

উচ্চারণ : ওয়াআক্বীমুস্ সালাতা ওয়াআতুয-যাকাতা ওয়াআত্বির্উ রাসূলা লা‘আল্লাকুম্ তুরহামূন্।

অর্থ : নামায কায়েম করো, যাকাত দাও এবং রসূলের আনুগত্য করো। আশা করা যায় যে, তোমাদের প্রতি রহম (করুণা) করা হবে। (সূরা ২৪ আন্ নূর : আয়াত ৫৬)

مُنِيْبِيْنَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوْ هُ وَأَقِيْمُوا الصَّلَاةَ وَ لَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ

উচ্চারণ : মুনীবীনা ইলাইহি ওয়াত্তাকূহু ওয়াআক্বীমুস্ সালাতা ওয়ালা তাকূনূ মিনাল্ মুশরিকীন।

অর্থ : (প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাও একথার ওপর) আল্লাহ্ অভিমুখী হয়ে এবং তাঁকে ভয় করো, আর নামায কায়েম করো এবং মুশরিকদের মধ্যে শামিল হয়ো না। (সূরা ৩০ আর রূম : আয়াত ৩১)

فَأَقِيْمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيْعُو اللهَ وَرَسُوْلَهُ ۚ وَاللهُ خَبِيْرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ

উচ্চারণ : ফাআক্বীমুস্সালাতা ওয়াআতুয-যাকাতা ওয়াআত্বীউল্লাহ ওয়ারাসূলাহু ওয়াল্লাহু খাবীরুম্ বিমা তা‘মালূন।

অর্থ : তাহলে নামায কায়েম করো ও যাকাত দিতে থাকো এবং আল্লাহ ও রাসূলের আদেশ-নিষেধ মেনে চলতে থাকো। (মনে রেখো) তোমরা যা কিছু করো সে বিষয়ে আল্লাহ পুরাপুরি ওয়াকিফহাল। (সূরা ৫৮ আল মুজাদালাহ : আয়াত ১৩)

وَأَقِيْمُوْا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَقْرِضُواللهَ قَرْضًا حَسَنًا

উচ্চারণ : ওয়া আক্বীমুস্ সালাতা ওয়াআতুয-যাকাতা ওয়াআক্বরিদ্বুল্লাহা ক্বারদ্বান হাসানা।

অর্থ : নামায কায়েম করো, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে ‘করযে হাসানা’ দিতে থাকো (অর্থাৎ উত্তম ঋণ দাও)। (সূরা ৭৩ আল মুয্যাম্মিল : আয়াত ২০)

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

উচ্চারণ : ফাসাল্লিলি রব্বিকা ওয়ার্ন্হা।

অর্থ : সুতরাং তুমি তোমার প্রভুর জন্য নামায পড়ো এবং কুরবানী করো। (সূরা ১০৮ আল কাউসার : আয়াত ২)

اَنَا فَاعْبُدْنِ -وَاَقِمِ الصَّلَوٰةَ لِذِكْرِىْ

উচ্চারণ : আনা ফা’বুদনি ওয়া আকি¡িমস সালাতা লি যিকরি।

অর্থ : আমি (আল্লাহ) আমার ইবাদত কর। আর আমার স্মরণের জন্য নামায কায়েম করো। (সূরা ২০ তোয়াহা : আয়াত ১৪)

قُلْ يَا أَهْل َالْكِتَابِ لَسْتُمْ عَلٰى شَيْءٍ حَتَّى تُقِيمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنجِيلَ

উচ্চারণ : ক্বুল ইয়া আহলাল কিতাবি লাসতুম আলা শাইয়্যিন হাত্তা তুকিমুত্ তাওরাতা ওয়াল ইঞ্জিল।

অর্থ : হে আহলে কিতাবীগণ! তোমাদের কোনই মূল্য নেই যে পর্যন্ত না তোমরা তাওরাত এবং ইঞ্জিলকে কায়েম করবে। (সূরা ৫ মায়েদা : আয়াত ৬৭)

الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ ﴿٣﴾ أُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا ۚ لَّهُمْ دَرَجَاتٌ عِندَرَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ

উচ্চারণ : আল্লাযীনা ইয়ুক্বীমূনাস সালাতা ওয়মিম্মা রাজাক্কনাহুম ইয়ুনফিক্বুন। উলাইকা হুমুল মু’মিনুনা হাক্বক্ব¡া লাহুম দারাজ্বাতুন ইনদা রাব্বিহিম ওয়া মাগফিরাতুঁও ওয়ারিযক্বুন কারীম।

অর্থ : যারা নামায কায়েম করে এবং আমার দেয়া রিযিক থেকে ব্যয় করে। তারা হল সত্যিকার ঈমানদার। তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে রয়েছে মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক। (সূরা ৮ আনফাল: আয়াত ৩-৪)

وَالَّذِين َهُمْ عَلٰى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ ﴿٩﴾ أُولَـٰئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ ﴿١﴾ الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

উচ্চারণঃ ওয়াল্লাযীনাহুম আলা সলাওয়াতিহিম ইয়ু হাফিযুন। উলাইকা হুমুল ওয়ারিছুনা। আল্লাযীনা ইয়ারিছুনাল ফিরদাউসা হুম ফীহা খালিদূন।

অর্থ : আর যারা তাদের নামাযসমূহের হিফাযত করে তারাই হবে উত্তরাধিকারী। তারা জান্নাতুল ফেরদাউসের অধিকারী হবে। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। (সূরা ২৩ মুমিনুন: আয়াত ৯-১১)

মুমিন বান্দা কাফিরের মধ্যে বাহ্যিক পার্থক্য নামায

নামায ত্যাগ করলে কুফরিতে নিপতিত হওয়ার আশংকা থাকে। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায়, আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মুমিন বান্দা ও কাফিরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত পরিত্যাগ করা। (সহীহ মুসলিম)

অর্থাৎ মুমিনরা নামায পড়ে আর কাফিররা নামায পড়েনা। যেহেতু একজন মুমিন আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে সে নামায ছাড়তে পারেনা। তাই আমি বলবো, যে ব্যক্তি মুসলমান হয়েও নামায পড়েনা, সে সত্যিই দুর্ভাগা।

নামায সম্পর্কিত মুমিন ও কাফিরের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশক কতিপয় হাদীসে রাসূল :

১.হযরত বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমাদের ও তাদের (মুনাফিকদের) মধ্যে যে অঙ্গীকার (পার্থক্য) আছে, তা হচ্ছে সালাত। সুতরাং যে সালাত পরিত্যাগ করল, সে প্রকাশ্যে কুফরি করল। (মুসনাদে আহ্মাদ, জামে আত-তিরমিযী, আন-নাসায়ী, আবু দাঊদ ও ইবনে মাজাহ)

২.তাই যে কুফরী করছে, সে কি করে বেহেশতে যাওয়ার আশা করবে? প্রখ্যাত তাবেয়ী শাকীক ইবনে আব্দুল্লাহ আল উকাইলী (রহ.) বলেন, সাহাবায়ে কিরাম নামায ব্যতীত অন্য কোনো আমল ছেড়ে দেয়াকে কুফরি মনে করতেন না। (জামে আত-তিরমিযী)

৩.হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জনৈকা বেনামাযি নারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যে নামায পড়ে না সে কাফির। (জামে আত-তিরমিযী)

৪.হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি নামায ছেড়ে দিল ইসলামে তার কোনো অংশ নেই। ইমাম আহমাদ (রহ.) মত প্রকাশ করেন, একজন লোক নামায অস্বীকার না করলেও কেবল নামায পরিত্যাগ করলেই কুফরির অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি নিম্নোক্ত হাদীসটিকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেন। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : সর্বপ্রথম তোমরা দ্বীনের যা হারাবে তা হলো আমানত এবং সর্বশেষ দ্বীনের যা হারাবে তা হলো নামায। (শু‘য়াবুল ঈমান, সুনানে বায়হাকী)

৫.তাই এ হাদীসের উপর ভিত্তি করে ইমাম আহমাদ (রহ.) বলেন, সুতরাং ইসলাম থেকে চলে যাওয়া সর্বশেষ বস্তু যখন নামায, অতএব যে বস্তুর শেষ চলে যায় সে বস্তু সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায়। এ জন্য আপনারা দ্বীনের সর্বশেষ অংশ (নামায)কে যথাযথভাবে আঁকড়ে ধরুন। (কিতাবুস্ সালাত)

৬.রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন : যার ভিতর কুরআন নেই সে একটা উজাড় বা বিরান গৃহ। (আত-তিরমিযী ও দারিমী)

তাই আমি বলছি, যার ভিতর নামায নেই তার ভিতর কিছুই নেই। তার সাথে কোনো সম্পর্ক রাখা ঠিক নয়। বেনামাযির কাছে নিজের নামাযি ছেলে-মেয়ে বিয়ে দেয়াও উচিত নয়। এটা ঠিক যে, অনেক তথাকথিত নামাযি দোযখে যেতে পারে, যারা লোক দেখানো নামায পড়ে। কিন্তু কোনো বেনামাযি ব্যক্তি বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবেনা। কারণ তার কাছে বেহেশতের দরজা খোলার কোনো চাবি নেই। অথচ জান্নাতের দরজায় বড় একটা তালা ঝুলে আছে। জাহান্নামের প্রহরীগণও নিকটে অবস্থান করবেন। তাই কেউই তাকে বেহেশতে নিতে পারবে না। তবে আমাদের সমাজে কেউ নামায না পড়লেই তাকে কাফির ধরা হয় না, যদি সে নামাযকে অস্বীকার না করে। অন্যথায় কাফির ধরা যাবে। যেসব হাদীস শরীফে স্পষ্টভাবে কাফির শব্দ এসেছে সেখানে উদ্দেশ্য হলো, সে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো। উল্লেখ্য ঈমান হলো রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত বিধি-বিধানকে অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করা আর তা কর্মে পরিণত করা তাই যদি কেউ ঈমান আনে কিন্তু কাজে পরিণত না করে, সে পূর্ণ মুমিন হবে না। যথাযোগ্য শাস্তি ভোগ করার পর নাযাত পাবে। যেমন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাই কোনো ব্যক্তি নামায না পড়লে সে সত্যিকার অর্থে পূর্ণ মুমিন হবে না।

নামায মুমিনের জন্য মিরাজ

নামায মু’মিনের জন্য মি‘রাজ স্বরূপ। প্রিয় রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াাসাল্লাম যেমন মি‘রাজে গিয়ে মহান আল্লাহ্ রব্বুল ‘আলামীনের সাথে কথা বলেছিলেন, মু’মিন বান্দাও তেমনি নামাযে সূরা ফাতিহার মাধ্যমে আল্লাহ্র সাথে কথা বলে থাকেন :

১.হাদীস শরীফে এসেছে, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহতায়ালা বলেন : ‘আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে অর্ধেক অর্ধেক করে ভাগ করে নিয়েছি। আর আমার বান্দা যা চাইবে, তা সে পাবে।’

অত:পর বান্দা যখন বলে- ‘আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল ‘আলামীন’ (সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই প্রাপ্য)। আল্লাহ্ তখন বলেন, ‘বান্দা আমার প্রশংসা করেছে।’

আর যখন সে বলে- ‘আর-রহমানির রাহীম’ (যিনি দয়াময় পরম দয়ালু)। আল্লাহতায়ালা তখন বলেন, ‘বান্দা আমার গুণাবলী বর্ণনা করেছে।’

অত:পর যখন সে বলে- ‘মালিকি ইয়াওমিদ্দীন’ (কর্মফল দিবসের মালিক)। আল্লাহ্ বলেন, ‘আমার বান্দা আমার মহিমা ও বুযুর্গী বর্ণনা করেছে।’ আর কখনো বলেছেন, ‘আমার বান্দা (তার সব কাজ) আমার ওপর সোপর্দ করেছে।’

যখন সে বলে- ‘ইয়্যাকা না’বুদু ওয়াইয়্যাকা নাসতা‘ঈন’ (আমরা শুধু আপনারই ইবাদত করি, শুধু আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি)। আল্লাহ বলেন, ‘এটা আমার ও আমার বান্দার মধ্যের ব্যাপার। আর আমার বান্দা যা চাইবে,তা সে পাবে।’

যখন বান্দা বলে- ‘ইহদিনাস সিরাত্বাল মুসতাক্বীম, সিরাত্বল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম, গায়রিল মাগদ্বূবি আলাইহিম, ওয়ালাদ্বল্লীন’ (আমাদেরকে সরল পথ দেখান, তাদের পথে, যাদেরকে আপনি অনুগ্রহ দান করেছেন, তবে তাদের পথে নয়, যারা ক্রোধে নিপতিত (ইয়াহূদী) ও পথভ্রষ্ট (খ্রিস্টান)। তখন আল্লাহ বলেন, ‘এটি কেবল আমার বান্দার জন্য। আর আমার বান্দা যা চাইবে, তা সে পাবে।’ (সহীহ মুসলিম, ২য় খ- হাদীস নং ৭৬২)

নামাযের ব্যাপারে রাসূল (সা.)-এর বাণী

কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম হিসাব নেয়া হবে নামাযের

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্য থেকে যে আমলটির হিসেব সর্বপ্রথম গ্রহণ করা হবে তা হলো নামায। যদি এ হিসাবটি নির্ভুল পাওয়া যায় তাহলে সে সফলকাম হবে ও নিজের লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে। আর যদি এহিসাবটিতে গলদ বা গড়মিল দেখা যায় তাহলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও ধ্বংস হয়ে যাবে। যদি তার ফরযগুলির মধ্যে কোনো কমতি থাকে তাহলে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলবেন, ‘দেখ, আমার বান্দার কিছু নফলও আছে নাকি, তার সাহায্যে তার ফরযগুলির কমতি পূরণ করে দাও।’

নামায জানমালের নিরাপত্তা লাভের উপায়

আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি যতোক্ষণ না তারা বলবে ‘আল্লাহ্ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং নামায কায়েম করবে ও যাকাত আদায় করবে।’ এই কাজ করলে তারা আমার পক্ষ থেকে জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে। তবে ঐগুলো ছাড়া অন্য কোনো হক থাকলে তা ভিন্ন এবং তাদের হিসাব আল্লাহর যিম্মায় থাকবে। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের দৃষ্টান্ত

১.হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের দৃষ্টান্ত হচ্ছে-যেমন একটি বড় নদী প্রবাহিত হয়ে গেছে তোমাদের কারো ঘরের দরজার সামনে দিয়ে তাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার করে গোসল করে।

২.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের কারো বাড়ীর সামনে যদি একটা পানির ফোয়ারা (খাল-বিল, পুকুর, প্রবাহমান নদী) থাকে এবং সে তাতে দৈনিক পাঁচবার গোসল করে : তবে তার শরীরে কেনো ময়লা অবশিষ্ট থাকতে পারে কি? সাহাবাগণ বললেন : না, তার শরীরে কোনো ময়লা থাকতে পারে না। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এই হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের দৃষ্টান্ত, এর সাহায্যে আল্লাহতায়ালা (নামাযির) যাবতীয় গুনাহ-খাতা মাফ করে দেন।

ঈমানের পর ইসলামের প্রধান স্তম্ভ ও শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো নামায। ঈমানের বহিঃপ্রকাশের জন্য ইসলামের অপর চারটি রুকনের মধ্যে নামাযই সার্বজনীন। মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোচ্য উপরোক্ত হাদীসে চমৎকার দৃষ্টান্তের মাধ্যমে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও উপকারিতা তুলে ধরেছেন। সত্যিকার অর্থেই যদি কারো বাড়ির আঙ্গিনায় পুকুর বা নদী-নালা থাকে আর সে তাতে দৈনিক পাঁচবার গোসল করে তা হলে তার শরীরে ময়লা থাকতে পারে না। তদ্রƒপ কেউ যদি পাঁচবার মনের সকল কূটিলতা দূর করে খুশু-খুজুর সাথে একাগ্রচিত্তে সালাত আদায় করে তাহলে তার পাপ পঙ্কিলতা দূরীভূত হয়ে সে হতে পারে একজন নিষ্কলুষ মানুষ।

সময়মতো নামায পড়ার ফযীলত

১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন : আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলাম : কোন কাজটি সবচেয়ে ভাল? তিনি জবাব দিলেন : যথাসময়ে নামাযপড়া। জিজ্ঞেস করলাম : তারপর কোন কাজটি সবচেয়ে ভাল? তিনি জাবাব দিলেন : পিতামাতার সাথেভাল ব্যবহার করা। জিজ্ঞেস করলাম : তারপর কোনটি? জবাব দিলেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা।

২.হযরত আবু কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলে খোদা সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন: আমি তোমার উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছি এবং আমি নিজের নিকট অঙ্গীকার করেছি, যে ব্যক্তি সময়ানুবর্তিতার সাথে নামায সমূহের পূর্ণ হিফাযতকারী হিসাবে আমার কাছে আসবে, আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। আর যে নামায সমূহের হিফাযত করবেনা তার জন্য আমার নিকট কোন অঙ্গীকার নেই।

৩.হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো : হে রাসূল! ইসলামের কোন কাজ আল্লাহর নিকট বেশি প্রিয়? রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যথাসময়ে নামায পড়া। যে ব্যক্তি নামায ছেড়ে দিল তার ধর্ম নেই। নামায ইসলামের খুঁটি। (বায়হাকী)

৪.হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন আততায়ীর আঘাতে আহত হলেন, তখন তাঁকে জানানো হলো যে, হে আমীরুল মুমিনীন! নামাযের সময় উপস্থিত। তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি নামায পড়বো। নামায যে ছেড়ে দেয় ইসলামের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। অতঃপর তিনি নামায পড়লেন, তখনো তাঁর ক্ষতস্থান থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল।

সময়মত নামায না পড়ার পরিণতি

১.রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন : যে ব্যক্তি যথারীতি নামায আদায় করবে না, তার জন্য তা আলোকবর্তিকাও হবে না, যুক্তিপ্রমাণও হবেনা, মুক্তির ওসীলাও হবেনা। অধিকন্তুু সে কিয়ামতের দিন ফিরাউন, কারূন, হামান ও উবাই বিন খালাফের সঙ্গী হবে।

এ হাদীসের ব্যাখ্যায় কোনো কোনো মুসলিম মনীষী বলেছেন যে, উল্লেখিত চারজন কুখ্যাত কাফেরের সাথে বেনামাযীর হাশর হওয়ার কারণ এই যে, নামায তরকের কারণ চার রকমের হয়ে থাকে। অর্থসম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ, রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততা, প্রশাসনিক ব্যস্ততা ও বাণিজ্যিক ব্যস্ততা। নামায পরিত্যাগের কারণ প্রথমটি হলে কারূণের সাথে, দ্বিতীয়টি হলে ফেরাউনের সাথে, তৃতীয়টি হলে হামানের সাথে এবং চতুর্থটি হলে মক্কার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী উবাই বিন খালাফের সাথে তার হাশর হবে।

২.হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললো: হে আল্লাহর রাসূল! ইসলামের কোন কাজ আল্লাহর নিকট বেশি প্রিয়? রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি             ওয়াসাল্লাম বললেন : যথাসময়ে নামায পড়া। যে ব্যক্তি নামায ছেড়ে দিল তার ধর্ম নেই। নামায ইসলামের খুঁটি। (বায়হাকী)

৩.ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, কিয়ামাতের দিন এক ব্যক্তিকে আল্লাহর সামনে দাঁড় করিয়ে জাহান্নামে যাওয়ার আদেশ দেয়া হবে। সে জিজ্ঞেস করবে : হে আমার প্রতিপালক! কি কারণে (আমাকে জাহান্নামের নির্দেশ দেয়া হলো)? আল্লাহ বলবেন : নামায নির্ধারিত সময়ের পরে পড়া ও আমার নামে মিথ্যা কসম খাওয়ার কারণে।

বিশিষ্ট তাবেয়ী (যিনি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেননি, কিন্তু সাহাবীর সাক্ষাত পেয়েছেন তাকে-তাবেয়ী বলা হয়) আব্দুল্লাহ বিন শাকীফ (রহ.) বলেন : রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ নামায ছাড়া আর কোনো কাজকে ছেড়ে দিলে মানুষ কাফের হয়ে যায় বলে মনে করতেন না। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বে-নামাযীকে সুস্পষ্টভাবে যথাক্রমে কাফের ও বেদ্বীন বলেছেন। ইবনে আব্বাস বলেছেন : ইচ্ছাকৃতভাবে এক ওয়াক্ত নামায তরক করলেও আল্লাহর সাথে যখন সাক্ষাত হবে তিনি ক্রুদ্ধ থাকবেন।

উড়োজাহাজ বা ট্রেন বিমান বন্দর বা রেলস্টেশন ছেড়ে যাবার ৫/৭ মিনিট পরে সেখানে পৌঁছলে আপনি কি ভ্রমণ করতে পারবেন? উড়োজাহাজ বা ট্রেন কি আপনার জন্য অপেক্ষা করবে? কখনো নয়। তাই যারা জেনে-শুনে, বুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে নামায অসময়ে আদায় করছেন, তারা অন্যায় কাজ করছেন। তাই নামায প্রকৃত সময়েই আদায় করতে হবে। নামাযকে যারা এর নির্দিষ্ট সময় থেকে পিছিয়ে অসময়ে আদায় করে, তাদেরকে আল্লাহ হুঁশিয়ারী দিয়েছেন। ইমাম ইবনে কাসীর (রহ) তাঁর বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহ আনহু বলেছেন, “হজ্জের মতো নামাজেরও সময় নির্ধারিত।” অপর সাহাবী ইবনে মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন-এর মতও এমনটিই। তিনি বলেছেন, “হজ্জের মতো নামাজেরও একটি নির্ধারিত সময় রয়েছে।” তাই হজ্জ যেমন নির্ধারিত সময়ে আদায় না করে অন্য সময়ে আদায় করা যায় না, তেমনি নামায ও নির্ধারিত সময় ছাড়া আদায় করা যায় না। শরয়ী ওজর ব্যতীত নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় না করলে আল্লাহ্ তা কবুল নাও করতে পারেন।

ইমাম বোখারী ও ইমাম মুসলিমের উস্তাদ উবাইদুল্লাহ বিন উমার কাওয়ারী বলেন যে, আমি কখনো এশার নামায জামায়াতে পড়তে ভুলতাম না। কিন্তু একদিন আমার বাড়ীতে এক মেহমান আসায় তাকে নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার কারণে এশার জামায়াত ধরতে পারলামনা। পরে এশার নামায ২৭ বার পড়লাম। কারণ হাদীসে আছে, জামায়াতে নামাযের সওয়াব ২৭ গুণ বেশি। কিন্তু রাতে স্বপ্নে দেখলাম, আমি এক দল ঘোড় সওয়ারের সাথে দৌড়ে পাল্লা দিচ্ছি। কিন্তু আমি পেছনে পড়ে যাচ্ছি। যারা আগে ছিল তারা বললো, তুমি কখনো আমাদেরকে ধরতে পারবেনা। কারণ আমরা এশার নামায জামায়াতে পড়েছি আর তুমি পড়েছো একাকী।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা যারা নামায পড়ে বা আদায় করে বটে তবে তা যথাসময়ে ও সঠিক নিয়মে করেনা। নামাযের ব্যাপারে আলস্য ঔদাসীন্য, অনীহা প্রদর্শন করে থাকে। তারা কিয়ামতের দিন শাস্তির সম্মূখীন হবে।

যথাযথভাবে নামায পড়ার পদ্ধতি

১.আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। একদিন রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথীদের নিয়ে নামায আদায়ের পরে বসলেন। এ সময়ে এক ব্যক্তি এসে তাড়াতাড়ি রুকু সিজদা করে নামায পড়লো। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরা ওই ব্যক্তিকে দেখতে পাচ্ছো? সে যদি এই অবস্থায় মারা যায় তবে মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মাতের বহির্ভূত অবস্থায় মারা যাবে। কাক যেমন তার চঞ্চু দিয়ে রক্তে ঠোকর মারে, সে সেই রকম ঠোকর মেরে নামায সারলো। (সহীহে আবু বকর বিন খুযাইমা)

২.একদিন এক ব্যক্তি মসজিদে নববীতে প্রবেশ করলো। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মসজিদেই বসেছিলেন। লোকটি নামায পড়লো। অতঃপর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে সালাম করলো। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন : তুমি ফিরে যাও এবং নামায পড়। কারণ তুমি নামায পড়নি। সে চলে গেল এবং আগের মতো আবার নামায পড়ে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে সালাম করলো। তিনি সালামের জবাব দিয়ে আবার বললেন : তুমি ফিরে যাও এবং নামায পড়। কেননা তুমি নামায পড়নি। এরূপ তিনবার নামায পড়ার পর লোকটি বললো : হে আল্লাহর রাসূল। আমি এর চেয়ে ভালোভাবে নামায পড়তে পারি না। আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন : প্রথমে নামাযে দাঁড়িয়ে তাকবির বলো। অতঃপর যতোটুকু পারো কুরআন পাঠ করো। অতঃপর রুকু করো এবং রুকুতে গিয়ে স্থির হও। অতঃপর উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াও। তারপর সিজদা দাও এবং সিজদায় গিয়ে স্থির হও। তারপর স্থির হয়ে বসো অতঃপর আবার সিজদা দাও এবং সিজদায় স্থির হও। এভাবে নামায শেষ করো। (সহীহ আল বোখারী, ১ম খ-, পৃষ্ঠা- ৮৮ ও ২য় খ-, পৃষ্ঠা-৮৮৮, হাদীস নং- ৬৩১ ও ৭২৪৬ ও সহীহ মুসলিম)

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

৩.যে ব্যক্তি রুকু ও সিজদার মধ্যবর্তী স্থানে পিঠটান করে দাঁড়ায়না, আল্লাহ তাঁর দিকে দৃষ্টি দেবেন না। (মুসনাদে আহমাদ)

৪. সেই ব্যক্তির নামায মুনাফিকের নামায, যে বসে বসে সূর্যকে প্রত্যক্ষ করতে থাকে, আর যেই সূর্য শয়তানের দুই শিং এর মাঝে পৌঁছে যায় (অর্থাৎ অস্ত যাওয়ার অব্যবহিত পূর্বে) অমনি উঠে দাঁড়ায় এবং চারবার মাথা ঠুকে। ঐ সময়ে আল্লাহকে সে খুব কমই স্মরণ করতে পারে। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

৫.যখনই কেউ নামায পড়ে তখন একজন ফিরিশতা তার ডানে এবং একজন ফিরিশতা তার বামে থাকে। সে যদি সুষ্ঠুভাবে নামায শেষ করে তবে তারা উভয়ে সেই নামাযকে নিয়ে আল্লাহর কাছে পৌছায়। নচেত তারা তা তার মুখের ওপর ছুঁড়ে মারে। (দারকুতনী)

৬.যে ব্যক্তি সুষ্ঠুভাবে ওযু করে, অতঃপর নামাযে দাঁড়ায়, সুষ্ঠুভাবে-রুকূু সিজদা ও কুরআন পাঠ দ্বারা নামায সম্পন্ন করে, তার নামায তাকে বলে : তুমি যেমন আমাকে সংরক্ষণ করেছ, তেমনি আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করুন। অতঃপর তার জন্য আকাশের দুয়ার খুলে যায় এবং আল্লাহর নিকট পৌছে গিয়ে উক্ত নামাযির পক্ষে সুপারিশ করে। আর যখন কেউ রুকু-সিজদা ও কুরআন পাঠ সুষ্ঠুভাবে করেনা তখন নামায তাকে বলে : তুমি যেমন আমাকে নষ্ট করলে, আল্লাহও তেমনি তোমাকে নষ্ট করুক। অতঃপর তা অন্ধকারে আচ্ছন্ন অবস্থায় আকাশে উঠে যায়। তার জন্য আকাশের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। অতঃপর তাকে পুরানো কাপড়ের মতো গুটিয়ে নামাযির মুখের ওপর ছুঁড়ে মারা হয়।

৭.নামায একটি দাঁড়িপাল্লাস্বরূপ। যে ব্যক্তি এই দাঁড়িপাল্লা পুরোপুরিভাবে মেপে দেয়, তাকে তার পুরস্কারও পুরোপুরিভাবে দেয়া হবে। আর যে কম মেপে দেবে তার সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে যে, যারা মাপে কম দেয় তাদের জন্য ‘ওয়েল’ নির্দিষ্ট রয়েছে। মাপে কম দেয়া যেমন অন্যান্য জিনিসে হতে পারে, তেমনি নামাযেও হতে পারে। আর ‘ওয়েল’ হচ্ছে জাহান্নামের এমন উত্তপ্ত জায়গা, যার উত্তাপ থেকে জাহান্নাম নিজেও আল্লাহর কাছে পানাহ চায়। (মুসনাদে আহমাদ)

৮.সিজদার সময় তোমরা মুখম-ল, নাক ও দুই হাত মাটিতে রাখবে। কেননা আল্লাহতায়ালা আমাকে সাতটি অঙ্গ দিয়ে সিজদা করতে আদেশ দিয়েছেন : কপাল, নাক, দুইহাতের তালু, দুই হাটু ও দুই পায়ের পিঠ। সিজদার সময়ে কাপড় ও চুল সামলাতে নিষেধ করেছেন। যে ব্যক্তি প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে তার অধিকার না দিয়ে নামায পড়ে, তাকে সংশ্লিষ্ট অঙ্গ পুরো নামাযের সময়টা ধরে অভিশাপ দিতে থাকে। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

৯.হযরত হুযায়ফা এক ব্যক্তিকে দেখলেন ভালোভাবে রুকু সিজদা না করে নামায পড়ছে। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এভাবে কতদিন যাবত নামায পড়ছ? সে বললো : চল্লিশ বছর। তিনি বললেন : তুমি চল্লিশ বছর যাবত কোন নামাযই পড়নি। এ অবস্থায় মারা গেলে তুমি অমুসলিম অবস্থায় মারা যাবে।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা! নামায যদি আমাদের কাছে গুরুত্বহীন কাজ হয়, তাহলে ইসলামের আর কোন কাজটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হবে? কিয়ামতের দিন বান্দাকে সর্বপ্রথম নামাযের হিসাব দিতে হবে। সুতরাং নামাযের প্রতি সর্বাগ্রে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে, যতœশীল হতে হবে, কোনো মতে নামায বাদ দেয়া যাবে না, সময়মত নামায পড়তে হবে, যথাসময়ে নামায আদায় করতে হবে।

জামায়াত কায়েমের ফযীলত

১.আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: -কোনো জনবসতি কিংবা কোনো জনবিরল এলাকায় যদি তিনজন ব্যক্তিও বাস করে, আর তারা যদি নামাযের জামায়াত কায়েম না করে, তবে অবশ্যি শয়তান তাদের উপর চড়াও হবে। সুতরাং অবশ্যি তুমি জামায়াত কায়েম করবে। কারণ দলছাড়া ভেড়া-বকরীকে তো অবশ্যি নেকড়ে তার গ্রাস বানাবে। (মুসনাদেআহমদ, আবু দাউদ ও সুনানে নাসায়ী)

২.আবু মূসা আশ’আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : দুই বা দুইয়ের অধিক লোক হলেই একটি জামায়াত করতে হবে। (ইবনে মাজাহ)

৩.হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আযান শুনলো, অথচ জামায়াতে হাযির হলোনা, তার নামায নাই। তবে কোনো ওযর থাকলে ভিন্ন কথা। (আবু দাউদ ও দারু কুতনি)

৪.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কসম সেই সত্তার যার হাতে আমার জীবন! আমার ইচ্ছা হয়, কাঠ-খড়ি জমা করার নির্দেশ দিতে। অত:পর যখন সেগুলো কুড়িয়ে একত্র করা হবে, তখন নামাযের আযান দেবার নির্দেশ দিতে। অতঃপর কোনো একজনকে ইমামতি করার নির্দেশ দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখতে-কে কে নামায পড়তে আসেনি। অপর বর্ণনায় বলা হয়েছে : আমার ইচ্ছে হয়, যারা আযান শুনেও মসজিদে হাযির হয়না, তাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দিতে। (সহীহ বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

৫.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি লোকদের ঘরে নারী ও শিশু না থাকতো, তাহলে আমি যুবকদের আদেশ দিতাম, সেইসব ঘরে আগুন লাগিয়ে দিতে, যেসব ঘরের লোকেরা এশার জামায়াতে হাযির হয়নি। (মুসনাদে আহমদ)

৬.হযরত উম্মুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, একদিন আবু দারদা অত্যন্ত রাগান্বিত অবস্থায় ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোন জিনিসি আপনাকে রাগান্বিত করেছে? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি উম্মতে মুহাম্মদীর পরিচয় এছাড়া আর কিছুই জানিনা যে, তারা সবাই মিলে জামায়াতে নামায পড়ে। (সহীহ আল বোখারী)

৭.আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক অন্ধ ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো : ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার এমন কেউ নেই, যে আমাকে হাত ধরে মসজিদে আনবে। অতঃপর লোকটি মসজিদে উপস্থিত হওয়া থেকে অব্যাহতি চায় এবং ঘরে নামায পড়ার অনুমতি চায়। তিনি তাকে ঘরে নামায পড়ার অনুমতি দিয়ে দেন। অনুমতি পেয়ে লোকটি ফিরে রওয়ানা করে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পুনরায় ডেকে পাঠান। সে ফিরে আসে। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন : তুমি কি আযান শুনতে পাও? সে বললো : জী-হ্যা, শুনতে পাই। তিনি বললেন : তবে তুমি মসজিদে উপস্থিত হবে। (সহীহ মুসলিম)

৮.হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! মদীনায় ক্ষতিকর জীব- জানোয়ার এবং বন্য পশুদের আধিক্য, আর আমি অন্ধ মানুষ, আমার বাড়ীও বেশ দূরে এবং আমার হাত ধরে আনারও লোক নেই। আমি কি নিজের ঘরে নামায পড়তে পারি? তিনি বললেন; তুমি কি আজানের শব্দ শুনতে পাও? উত্তরে তিনি বললেন; জ্বি হাঁ। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তুমি সাড়া দেবে তোমার রুখসতের কোনো উপায় আমার নিকট নেই।

একজন অন্ধ মুসল্লীর ব্যাপার, যার কষ্টের কথা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সরাসরি বলার পরও রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে নামায পড়ার রুকসত বা অনুমতি দেননি। তাহলে আমরা জামায়াত ছাড়া কি ঘরে নামায পড়তে পারি?

৯.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মসজিদে নামায পড়ার মর্যাদা একা পড়ার চাইতে সাতাশ গুণ উর্ধ্বে। (সহীহ বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

১০.হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ১. কারও ঘরের নামায এক ওয়াক্ত নামাযের সমান ২. পাঞ্জেগানা মসজিদের নামায ২৫ নামাযের সমান ৩. জুম’আর মসজিদের নামায ৫০০ নামাযের সমান ৪. মসজিদে আকসার নামায ১ হাজার নামাযের সমান ৫. মসজিদে নববীর নামায ৫০ হাজার নামাযের সমান ৬. মসজিদে হারামের নামায ১ লক্ষ নামাযের সমান। (ইবনে মাজাহ)

১১.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোনো ব্যক্তির জামায়াতের সাথে নামায তার ঘরে বা বাজারের নামাযের চাইতে পঁচিশগুণ বেশি সওয়াবের অধিকারী। আর এটা তখন হয় যখন সে অযু করে এবং ভাল করে অযু করে তারপর বের হয়ে মসজিদের দিকে চলতে থাকে, একমাত্র নামাযের জন্যই সে ঘর থেকে বের হয়। এ অবস্থায় সে যতবার পা ফেলে তার প্রতিবারের পরিবর্তে একটি করে মর্যদা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি করে গুনাহ মাফ করা হয়। তারপর যখন সে নামায পড়তে থাকে, ফিরিশতারা তার জন্য রহমতের দোয়া করতে থাকে যতোক্ষণ সে নামাযের মুসল্লার ওপর থাকে এবং তার অযু না ভাঙ্গে। ফিরিশতাদের সেই দোয়ার শব্দাবলী হচ্ছে : হে আল্লাহ! এই ব্যক্তির ওপর রহমত নাযিল করো! হে আল্লাহ! এর ওপর রহম কর। আর যতোক্ষণ সে নামাযের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, সে নামাযের অন্তর্ভূক্ত গণ্য হতে থাকে।

১২.হযরত উব্বাই ইবনে কা’আব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : নামাযের প্রথম সারি হলো ফেরেশতাদের সারির মতো। তোমরা যদি প্রথম সারির মর্যাদা সম্পর্কে জানতে, তবে তা পাওয়ার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়তে। মনে রেখো, একা নামায পড়ার চাইতে দুই ব্যক্তির একত্রে নামায পড়া উত্তম। আর দুই ব্যক্তির একত্রে নামায পড়ার চাইতে তিন ব্যক্তির একত্রে নামায পড়া উত্তম। এভাবে যতো বেশি লোকের জামায়াত হবে, তা আল্লাহর কাছে ততো বেশি প্রিয় হবে। (আবু দাউদ, আন-নাসায়ী)

১৩.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত : যে ব্যক্তি উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে (জামায়াতে নামায পড়ার জন্য) কোনো একটি মসজিদের দিকে পা বাড়াবে, তার প্রতিটি কদমে আল্লাহ পাক তার জন্য একটি করে পণ্য লিখে দেবেন, তার একটি করে মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন এবং একটি করে পাপ মুছে দেবেন। (সহীহ মুসলিম)

১৫.ইমাম তিরমিযী (রহ.) মওকুফ সূত্রে বর্ণনা করেছেন-যখন হযরত ইবনে আব্বাস মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, যে দিনে রোজা রাখে এবং রাতে তাহাজ্জুদ নামায পড়ে কিন্তু জামায়াতের সাথে নামায পড়ে না-তার সম্বন্ধে তিনি বললেন-এই অবস্থায় তার মৃত্যু হলে সে জাহান্নামে যাবে।

১৬.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায ঠিকমত আদায় করেব, আল্লাহ তাকে পাঁচটি পুরস্কারে সম্মানিত করবেন। ১. তার অভাব দূর করে দেবেন ২. কবরের আযাব থেকে মুক্তি দেবেন ৩. ডান হাতে আমলনামা দেবেন ৪. বিজলীর ন্যায় পুলসিরাত পার করাবেন ও ৫. বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

১৭.নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যে ব্যক্তি পরিপূর্ণভাবে নামায আদায় করবে, বিচার দিবসে তার জন্য নামায নূর হবে এবং মুক্তির উপায় হবে । (আহমাদ ও মুসনাদে তিবরানী)

১৮.হযরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একবার হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর খেজুর বাগান পরিদর্শনে গেলেন। ফিরে এসে দেখেন আসর নামাযের জামায়াত ছুটে গেছে। তিনি তখন জামায়াত ছুটে যাওয়ার কাফফারাস্বরূপ খেজুর বাগনটি সদকা করে দেন।

এক নজরে জামায়াতে নামাযের ফযীলত :

১.একাকী নামাযের চেয়ে সাতাশ গুণ বেশি সওয়াব।

২.মসজিদে যাবার পথে প্রতি কদমে একটি পূণ্য।

৩.প্রতি কদমে একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি।

৪.প্রতি কদমে একটি করে পাপ মোচন।

৫.প্রথম সারিতে দাঁড়ালে ফেরেশতাতুল্য মর্যাদা লাভ।

৬.জামায়াতে যতো বেশি লোককে শামিল করা যাবে ততো বেশি আল্লাহর ভালোবাসা লাভ।

৭.জু’মআর মসজিদের নামায ৫০০ নামাযের সমান।

৮.মসজিদে আকসার নামায ১ হাজার নামাযের সমান।

৯.মসজিদে নববীর নামায ৫০ হাজার নামাযের সমান।

১০.মসজিদে হারামের নামায ১ লক্ষ নামাযের সমান।

১১.আল্লাহ অভাব দূর করে দিবেন।

১২.আল্লাহ কবর আযাব মাফ করে দিবেন।

১৩.আল্লাহ ডান হাতে আমলনামা দিবেন।

১৪.আল্লাহ বিনা হিসাবে জান্নাত দান করবেন।

১৫.জামায়াতের প্রথম কাতার বেহেস্তের প্রথম কাতার।

তাকবীরে উলার সাথে নামায পড়া

১.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি চল্লিশদিন পর্যন্ত তাকাবীরে উলার সাথে নামায আদায় করতে পারে, তার জন্য দু’টি ফরমান লিখে দেয়া হয়। প্রথমত: তাকে দোযখ থেকে মুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয়ত: এ মর্মে ফরমান দেয়া হয় যে, এ ব্যক্তি মুনাফেক নয়। (জামে আত-তিরমিযী)

আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিয়মিত তাকবীরে উলার সাথে জামায়াতে নামায আদায় করা।

নামায গুনাহ মাফের উসিলা

১.উবাদা ইবনে সামেত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অযু করে সময়মত সালাত আদায় করেছেন এবং রুকু সেজদায় খেয়াল রেখে মনোনিবেশের সাথে সালাত আদায় করে, অবশ্যই আল্লাহ তাকে মাফ করে দিবেন। আর যে তা করবে না, তার অপরাধ মাফ করে দেয়া সম্পর্কে আল্লাহর কোনো দায়িত্ব নেই। ইচ্ছা করলে তিনি মাফ করতে পারেন এবং ইচ্ছা করলে আযাবও দিতে পারেন। (আবু দাউদ)

২.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও এক জু’মআ থেকে আরেক জু’মআ পর্যন্ত পঠিত নামাযের মধ্যকার (সব গুনাহ) জন্য কাফফারাহ, যে পর্যন্ত কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।

৩.হযরত উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি : যদি কোনো মুসলমান ফরয নামাযের সময় হলেই ভাল করে অযু করে তারপর খুশু ও খুশু সহকারে নামায পড়ে তার এ নামায তার আগের সমস্ত গুনাহের কাফফারাহ হয়ে যায়। যে পর্যন্ত সে কবীরা গুনাহ থেকে দূরে থাকে। আর এ অবস্থা চলতে থাকে সমগ্র কালব্যাপী।

৪.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাল্লাম বলেছেন: পাঁচ ওয়াক্তের সালাত, এক জুম’আর নামায থেকে আর এক জু’মআ পর্যন্ত পঠিত নামায ও এক রমযানের রোযা থেকে অপর রমযানের রোযার কাফফারা হয় সে সব গুনাহের জন্য যা এদের মধ্যবর্তী সময় হয় যখন কবীরাগুনাহ থেকে বেঁেচ থাকা হয়। অর্থাৎ নামায ও রোযা মানুষের সকল সগীরা গুনাহ মাফ করে দেয়। কিন্তু কবিরা গুনাহ মাফ হয় না।

৫.রাসূলে করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সর্বদা গুনাহর আগুনে জ্বলছো। তোমরা যখন ফজরের নামায আদায় করো, তখন তা নিভে যায়। ফজর হতে জোহর পর্যন্ত আবার পাপের আগুনে জ্বলতে থাকে। যখন জোহরের নামায শেষ করো তখন তা নিভে যায়। পুনরায় জোহর হতে আসর পর্যন্ত আগুন জ্বালিয়ে তার মধ্যে পোড়ার যাবতীয় ব্যবস্থা করতে থাকে; কিন্তু আসরের নামায সমাপ্ত করার সঙ্গে সঙ্গে তা নিভে শীতল হয়ে যায়। আবার আসর হতে মাগরিব পর্যন্ত সময় তা এমনভাবে জ্বলে উঠে যে, তার শিখা তোমাদেরকে ছাই করে ফেলতে চায়। কিন্তু মাগরিবের নামায আদায় করা মাত্রই তা নিভে যায়। তারপর এশা পর্যন্ত তোমাদের পাপের আগুন আবার তীব্রভাবে জ্বলতে থাকে এবং যখন তোমরা এশার নামায সম্পন্ন করো তখন তা সম্পূর্ণরূপেই নিভে যায়। তখন তোমরা সম্পূর্ণ নিষ্পাপ হয়ে ঘুমিয়ে থাকো। ঘুম ভাঙ্গা পর্যন্ত তোমাদের আমল নামায় আর কোনো প্রকার গুনাহ লিখা হয় না। (তারগীব ওয়াত তারহীব)

৬.হযরত আবুযার গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: একবার শীতের সময় যখন গাছের পাতা ঝরে পড়ছিল, তখন নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বাইরে তাশরীফ আনলেন এবং গাছের দু’টি ডাল ধরে ঝাঁকি দেয়া শুরু করলেন এবং ঝর ঝর করে (শুকনো) পাতা পড়তে লাগল। তখন নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বললেন, হে আবুযর! যখন কোনো মুসলমান একনিষ্ঠ হয়ে আন্তরিকতার সাথে নামায পড়ে, তার গুনাহসমূহ ঠিক এভাবে ঝরে পড়ে যেমন এ গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়ছে। (মুসনাদে আহমদ)

.বান্দার চারটি আমল নিয়ে ফেরেশতারা পরস্পরে বলাবলি করে আমল সমূহ নিম্মরূপ :

১. নামাযের পর মসজিদে বসে আল্লাহর জিকির করা।

২.এক নামায শেষ করে পরবর্তী নামাযের অপেক্ষায় বসে থাকা।

৩.জমায়াতে নামায পড়ার আশায় পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া। এবং

৪.অসুস্থ অবস্থায় শীতের কষ্ট উপেক্ষা করেও পরিপূর্ণ অযু করা।

এ চারটি কাজের মাধ্যমে নামাযি ব্যক্তি সুখে-শান্তিতে বাস করবে এবং নেককার বান্দা হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হবে। আর সে সদ্যজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হবে। (মিশকাত)

নামাযি আল্লাহর সান্নিধ্য এবং আরশে ছায়া পাবে

১. বান্দা তার প্রভুর সবচেয়ে বেশী নিকটবর্তী হয় তখন, যখন সে সেজদায় যায়। (সহীহ মুসলিম)

২. অবশ্যই তোমাদের মধ্যে কেউ যখন নামায আদায় করে, তখন সে তার প্রভুর সাথে কথা বলে। (সহীহ আল বোখারী)

৩.হাদীস শরীফে আছে, যে ব্যক্তি নামায পড়ে মসজিদ হতে বের হয়, কিন্তু পরবর্তী নামাযে শরীক না হওয়া পর্যন্ত তার অন্তঃকরণ মসজিদের দিকেই থাকে এবং সে যথাসময়ে নামায সম্পন্ন করে। সে ব্যক্তি কিয়ামতের কঠিন দিবসে আল্লাহ আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাবে।

নামাজ মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে

১.হাদীসে কুদসীতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন, আমি আপনার উম্মতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছি এবং আমি আমার নিজের সাথে অঙ্গীকার করেছি, যে ব্যক্তি যথাসময়ে নামাযসমূহের পূর্ণ হিফাযত করবে, আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। আর যে নামায সমূহের হিফাযত করবে না তার জন্য আমার কাছে কোনো অঙ্গীকার নেই। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

২. হাদীসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায যথারীতি আদায় করবে, আল্লাহ তাকে পাঁচটি মর্যাদা দান করবেন :

ক. তার দারিদ্র দূর করবেন।

খ. তাকে কবরের আযাব থেকে মুক্তি দেবেন।

গ. তার আমমলনামা ডান হাতে দেবেন।

ঘ. বিদ্যুৎবেগে তাকে পুলসিরাত পার করাবেন। এবং

ঙ. তাকে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

নামাযে অবহেলা/শৈথিল্য প্রদর্শনের শাস্তি

১. হযরত সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস বলেন : আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, (নামাযে) এই শিথিলতা কি? তিনি বলেন : নির্দিষ্ট সময় থেকে বিলম্বিত করা। তাদেরকে নামাযি বলা হয়েছে। কিন্তু উদাসীনতা ও বিলম্বের কারণে তাদেরকে ‘ওয়েল’ এর হুমকি দেয়া হয়েছে। ওয়েল অর্থ আযাবের কঠোরতা। কারো কারো মতে ওয়েল হচ্ছে জাহান্নামের এমন উত্তপ্ত একটি জায়গা যেখানে পৃথিবীর সমস্ত পাহাড়-পর্বত ফেলে দিলেও তা তীব্র দহনে গলে যাবে। তাওবা ও অনুতাপ সহকারে ক্ষমা না চাইলে নামায কাজাকারী ও নামাযে অলস্যকারীর জন্য এই জায়গা বাসস্থান হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে।

২.ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আল্লাহর সামনে দাঁড় করিয়ে জাহান্নামে যাওয়ার আদেশ দেয়া হবে। সে জিজ্ঞোস করবে : হে আমার প্রতিপালক! কি কারণে (আমাকে জাহান্নামে যাওয়ার আদেশ দেয়া হলো)? আল্লাহ বলবেন : নামায নির্ধারিত সময়ের পরে পড়া ও আমার নামে মিথ্যা কসম খাওয়ার কারণে।

৩.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায ঠিকমত আদায় করবে না অর্থাৎ নামাযে অবহেলা করবে, আল্লাহ তাকে ১৪টি শাস্তি দেবেন। ক. দুনিয়াতে পাঁচটি, খ. মৃত্যুর সময় তিনটি, গ. কবরে তিনটি, ঘ. কবর থেকে উঠানোর সময় তিনটি।

. দুনিয়াতে পাঁচটি :

১.তার হায়াত থেকে বরকত কমে যাবে।

২.চেহারা থেকে নেককারের নিদর্শন লোপ পাবে।

৩.তার কোনো নেক আমলের প্রতিদান দেয়া হবে না।

৪. তার কোনো দু‘আ কবুল হবে না।

৫.নেককারদের দু‘আ থেকে সে বঞ্চিত হবে।

. মূত্যুর সময় তিনটি :

১.সে অপমানিত হয়ে মারা যাবে।

২. অনাহারে মারা যাবে

৩. মৃতুর সময় সে এমন পিপাসার্ত হয়ে মারা যাবে যে, পৃথিবীর সব সমুদ্রের পানি তাকে পান করালেও তার পিপাসা মিটবে না।

. কবরে থাকাকালে তিনটি :

১. কবর সংকীর্ণ হয়ে এতো জোরে চাপ দেবে যে, তার পাঁজরের একদিকের হাড় অপরদিকে ঢুকে যাবে।

২. কবরে আগুন ভর্তি করে রাখা হবে, যে আগুনের জ্বলন্ত কয়লায় সে রাতদিন জ্বলতে থাকবে।

৩.তার কবরে ভয়ংকর বিষধর সাপ রাখা হবে, যেগুলো তাকে বিলম্বে নামায পড়ার কথা উল্লেখ করে কিয়ামত পর্যন্ত দংশন করতে থাকবে।

ঘ.কবর থেকে বেরুবার সময় তিনটি :

১.কঠোরভাবে হিসাব নেয়া হবে।

২.আল্লাহ তার উপর রাগান্বিত থাকবেন।

৩.জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

৪.অন্য রেওয়াতে আছে যে, কিয়ামতের দিন তার কপালে তিনটি কথা অংকিত থাকবে। একটি কথা হবে: হে আল্লাহর হক বিনষ্টকারী, দ্বিতীয় কথাটি হবে : হে আল্লাহর গযবের উপযুক্ত ব্যক্তি। তৃতীয়টি কথাটি হবে: তুমি পৃথিবীতে যেমন আল্লাহর অধিকার দাওনি, আজ তেমনি আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবে।

নামায নষ্ট করা

১.হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন : নামাযকে নষ্ট করার অর্থ পুরোপুরি তরক করা বা বর্জন করা নয়। এর অর্থ হলো নির্দিষ্ট সময়ের পরে পড়া বা কাযা করা।

২. হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব বলেন : এর অর্থ পরবর্তী নামাযের সময় না এসে পড়া পর্যন্ত নামায বিলম্বিত করা। এটা করতে যে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং এই অভ্যাসের ওপর তাওবা না করেই মারা যায় আল্লাহ তাকে ‘গায়’ নামক স্থানে নিক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। ‘গায়’ দোজখের অত্যন্ত নিচু ও নোংরা একটি গহবরের নাম।

নামাযে চুরি

১.হযরত আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন : সর্বাপেক্ষা বড় চোর সেই ব্যক্তি যে নামাযে চুরি করে। লোকেরা আরয করলো : ইয়া রাসূলুল্লাহ! নামাযে চুরি হয় কিভাবে? রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ‘এরা রুকু এবং সেজদা ঠিকমত করে না। (মুসনাদে আহমেদ)

মসজিদে নামায

১.হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন : মসজিদের প্রতিবেশীর নামায মসজিদ ছাড়া আদায় হয়না। জিজ্ঞেস করা হলো; মসজিদের প্রতিবেশী কে? তিনি বললেন : যে ব্যক্তি আজান শুনে। (মুসনাদে আহমাদ)

২.হযরত উব্বাই ইবনে কা’আব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নামাযের প্রথম সারি হলো ফেরেশতাদের সারির মতো। তোমরা যদি প্রথম সারির মর্যাদা সম্পর্কে জানতে, তবে তা পাওয়ার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়তে। মনে রেখো, একা নামায পড়ার চাইতে দুই ব্যক্তির একত্রে নামায পড়া উত্তম। আর দুই ব্যক্তির একত্রে নামায পড়ার চাইতে তিন ব্যক্তির একত্রে নামায পড়া উত্তম। এভাবে যতো বেশি লোকের জামায়াত হবে, তা আল্লাহর কাছে ততো বেশি প্রিয় হবে। (আবু দাউদ ও আন নাসায়ী)

৩.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত : যে ব্যক্তি উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (জামায়াতে নামায পড়ার জন্য) কোনো একটি মসজিদের দিকে পা বাড়াবে, তার প্রতিটি কদমে আল্লাহ পাক তার জন্য একটি করে পূণ্য লিখে দেবেন, তার একটি করে মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন এবং একটি করে পাপ মুছে দেবেন। (সহীহ মুসলিম)

৪.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন: জনৈক অন্ধ নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল : হে আল্লাহর রাসূল! আমার এমন কোনো লোক নেই যে আমাকে ধরে মসজিদে আনতে পারে! কাজেই রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অনুমতি চাইল যাতে সে মসজিদে না এসে ঘরেই নামায পড়তে পারে। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। তারপর যখন লোকটি চলে যাচ্ছিল, তখন তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন : তুমি কি নামাযের আযান শুনতে পাও? সে বলল: হাঁ, তিনি বললেন, তাহলে তুমি আওয়াজে সাড়া দাও। (অর্থাৎ জামায়াতের সাথে নামায পড়ার জন্য মসজিদে চলে এসো) (সহীহ মুসলিম)

৫.উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মসজিদে আযান হবার পর যে ব্যক্তি বিশেষ জরুরি কাজ ছাড়া বেরিয়ে যায় এবং মসজিদে প্রত্যাবর্তণের ইচ্ছা রাখে না, সে মুনাফিক। (মিশকাত)

মসজিদে যাওয়ার ফযীলত

১.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় মসজিদে যায়, আল্লাহ তার জন্য বেহেশতে মেহমানদারীর সরঞ্জাম তৈরি করেন। সে সকালে বা সন্ধ্যায় যতোবার যায় ততোবারই।

২.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি নিজের গৃহ থেকে পাক-পবিত্রতা অর্জন করে (অর্থাৎ অযু ও প্রয়োজনে গোসল সেরে) আল্লাহর গৃহের মধ্য থেকে কোনো একটি গৃহের দিকে যায়, আল্লাহর ফরযের মধ্য থেকে কোনো একটি ফরয আদায় করার উদ্দেশ্যে, তার প্রতিটি পদক্ষেপে একটি গুনাহ মাফ হয়ে যায় এবং অন্য পদক্ষেপটি তার একটি মর্যাদা বুলন্দ করে।

৩.হযরত আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : নি:সন্দেহে নামাযের জন্য সবচেয়ে বেশী প্রতিদান পাবে সেই ব্যক্তি যে, সবচেয়ে বেশী দূর থেকে হেঁটে নামাযে আসে। তারপর যে ব্যক্তি আরো বেশি দূর থেকে আসে সে আরো বেশি প্রতিদান পাবে। আর যে ব্যক্তি ইমামের সাথে নামায পড়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে সে তার চাইতে প্রতিদান পাবে, যে একাকী নামায পড়ে নেয়, তারপর শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

৪.হযরত বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করছেন। তিনি বলেছেন: অন্ধকারে পায়ে হেঁটে মসজিদের দিকে আগমনকারীকে কিয়ামতের পরিপূর্ণ আলোর সুখবর দাও।

৫.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন : আমি কি তোমাদেরকে এমন বিষয় জানাবো না, যার মাধ্যমে আল্লাহ গুনাহসমূহ খতম করে দেন এবং মর্যাদাবৃদ্ধি করেন? সাহাবাগণ বললেন : হাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন : তা হচ্ছে কঠিন অবস্থায় পুরোপুরি ওযু করা, মসজিদের দিকে বেশি পদক্ষেপ গ্রহণ করা (অর্থাৎ বেশী দূর থেকে মসজিদে আসা) এবং এক নামাযের পর আরেক নামাযের জন্য অপেক্ষা করা। এটিই হচ্ছে তোমাদের সীমান্ত প্রহরী। এটিই হচ্ছে তোমাদের সীমান্ত প্রহরী।

৬.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোনো ব্যক্তির জামায়াতের সাথে নামায তার ঘরে বা বাজারের নামাযের চাইতে পঁচিশ গুণ বেশি সওয়াবের গুরুত্বপূর্ণ। আর এটা তখন হয় যখন সে ভাল করে অযু করে তারপর বের হয়ে মসজিদের দিকে চলতে থাকে, একমাত্র নামাযের জন্যই সে ঘর থেকে বের হয়। এ অবস্থায় সে যতবার পাফেলে তার প্রতিবারের পরিবর্তে একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মাফ করা হয়। তারপর যখনসে নামায পড়তে থাকে, ফিরিশতারা তার জন্য রহমতের দোয়া করতে থাকে যতোক্ষণ সে নামাযের মুসল্লারওপর থাকে এবং তার অযু না ভাঙ্গে। ফিরিশতাদের সেই দোয়ার শব্দাবলী হচ্ছে : হে আল্লাহ! এই ব্যক্তির ওপর রহমত নাযিল করো। হে আল্লাহ! এর ওপর রহম করো। আর যতোক্ষণ সে নামাযের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে সে নামাযের অর্ন্তভূক্ত গণ্য হতে থাকে। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

নামাযের জন্য অপেক্ষা করার ফযীলত

১.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন : আমি কি তোমাদেরকে এমন বিষয় জানাব না, যার মাধ্যমে আল্লাহ গুনাহসমূহ খতম করে দেন এবং মর্যাদাবৃদ্ধি করেন? সাহাবাগণ বললেন: হাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন : তা হচ্ছে কঠিন অবস্থায় পুরোপুরি ওযু করা, মসজিদের দিকে বেশী পদক্ষেপ গ্রহণ করা (অর্থাৎ বেশী দূর থেকে মসজিদে আসা) এবং এক নামাযের পর আর এক নামাযের জন্য অপেক্ষা করা। এটিই হচ্ছে তোমাদের সীমান্ত প্রহরী।এটিই হচ্ছে তোমাদের সীমান্ত প্রহরী।

২.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন:যতক্ষণ নামাযের জন্য প্রতীক্ষা কোন ব্যক্তিকে আটকে রাখে এবং যতক্ষণ নামায ছাড়া অন্য কিছু তাকে গৃহে পরিজনদের কাছে ফিরে যাওয়ার পথে বাধা দেয়না, ততক্ষণ সে নামাযের মধ্যেই থাকে।

৩.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামায মধ্যরাত পর্যন্ত দেরী করে পড়লেন। নামাযের পর আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন : সমস্ত লোক নামায পড়ার পর ঘুমিয়ে পড়েছে কিন্তু তোমরা যখন থেকে নামাযের অপেক্ষায় আছ তখন থেকে নামাযের মধ্যেইআছ।

চেষ্টা করার পরও যদি জামায়াত পাওয়া না যায়

হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন : কেউ যদি ঘর থেকে উত্তমরূপে অযু করে জামায়াতে নামায পড়ার উদ্দেশ্য নিয়ে মসজিদের দিকে ওয়ানা হয় এবং গিয়ে দেখে যে, মসজিদে জামায়াত হয়ে গেছে, তবুও সে জামায়াতের পূর্ণ সওয়াব পাবে। কেননা সে জামায়াতে শামিল হওয়ার নিয়ত করেছিল এবং জামায়াত ধরার পরিপূর্ণ চেষ্টা করেছে। (আবু দাউদ)

ফযর ও এশার জামায়াতে হাযির হওয়া

১.হযরত উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি : যে ব্যক্তি এশার নামায জামায়াতের সাথে পড়ল সে যেন অর্ধরাত অবধি নামায পড়ল। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামায়াতের সাথে পড়ল সে যেন সারা রাত নামায পড়ল।

২.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যদি তারা এশা ও ফজরের নামাযের মধ্যে কি আছে তা জানতে পারত তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এই দুটি নামাযের (জামায়াতে) শামিল হত।

৩.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এশার ও ফজরের নামাযের মত আর কোন নামায মুনাফিকদের কাছে বেশী ভারী বোঝাা বলে মনে হয়না। তবে যদি তারা জানত এই দুই নামাযের মধ্যে কি আছে তাহলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এই দুই নামাযে শামিল হত।

৪.জামায়াতে নামায পড়ার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত এশা ও ফজরের নামাযকে। কেননা রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : এই দুইটি নামায অর্থাৎ ফযর ও এশা মুনাফিকের জন্য সবচেয়ে কঠিন। এই দুইটি নামায জামায়াতে পড়ার সওয়াব কত তা জানালে লোকেরা কিছুতেই তা ত্যাগ করতো না । (সহীহ আল বোখারী)

আছরের নামাযে হাজির হওয়া

১.হযরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যার আসরের নামায ছুটে গেল তার সমস্ত পরিবার ও সম্পদ লুট হয়ে গেল। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

২.সহীহ আল বোখারীতে আছে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যার আসরের নামায ছুটে যায়, তার সমস্ত সৎ কাজ বৃথা হয়ে যায়। সহীহ আল বোখারীতে আছে অপর হাদীসে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামায ত্যাগ করে, আল্লাহ তার দায়িত্ব থেকে মুক্ত।

৩.হযরত আবু বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে আসরের নামায ত্যাগ করেছে তার আমল বিনষ্ট হয়ে গেছে। (সহীহ আল বোখারী)

৪.হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর এক দেয়াল ঘেরা খেজুরের বাগানের দিকে গমন করেন। যখন ফিরে আসলেন তখন তিনি দেখলেন লোকেরা আছরের নামাযের জামায়াত পড়ে ফেলেছেন। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন-ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহি রাজিউন, আমার আছরের নামাযের জামায়াত ছুটে গিয়েছে! আপনারা সাক্ষী থাকুন, ওমর জামায়াতে নামায হারিয়ে যে অন্যায় করেছে, তাঁর সেই অপরাধের কাফফারা স্বরূপ তাঁর খেজুরের বাগান মিসকিনদের জন্য সদকা করে দেয়া হল।

৫.হযরত আবু মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি দুটি ঠা-া সময়ের নামায পড়ে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

৬.হযরত আবু যুহাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি “যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে নামায পড়ে সে কখনো জাহান্নামে প্রবেশ করবে না”। অর্থাৎ ফজর ও আসরের নামায। (সহীহ মুসলিম)

জামায়াত আরম্ভ হলে সুন্নাত নেই

১.আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যখন জামায়াতের জন্য ইকামত বলা হবে (অর্থাৎ যখন ফরয নামাযের জামায়াত আরম্ভ হবে) তখন ঐ (ফরয) নামাযটি ছাড়া আর কোনো নামায নেই। (সহীহ মুসলিম)

এই হাদীসের ‘আর কোন নামায নেই’ কথাটির অর্থ হলো, ফরয নামাযের জামায়াত দাঁড়িয়ে গেলে আর অন্য কোনো নামায পড়া যাবে না। এই হাদীসের ভিত্তিতে-

-ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেছেন : ফরয নামাজের জামায়াত দাঁড়িয়ে গেলে সুন্নাত নামায ত্যাগ করতে হবে এবং জামায়াতে শামিল হয়ে যেতে হবে।

– ইমাম আবু হানীফা (রহ.) বলেছেন : ফজরের জামায়াত এক রাকাত পাবার সম্ভাবনা থাকলেও সুন্নাত পড়ে নেয়া যাবে। তবে সফের নিকট থেকে দূরে দাঁড়াতে হবে। তার মতে সফের মধ্যে বা নিকটে দাঁড়ানো মাকরূহ।

-হাদীস বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হাদীস অনুযায়ী জামায়াত দাঁড়িয়ে যাবার পর সুন্নাত নামায পড়ার কোনো অবকাশ দেখা যায় না। কারণ-

– এমনটি করার অনুমতি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেননি।

-সাহাবায়ে কিরাম থেকেও এমনটি করার নযীর নেই।

-ফজরের সুন্নতের গুরুত্ব অন্যান্য সুন্নাত নামাযের তুলনায় বেশি হলেও সেটা সুন্নাতই, ফরয নয়।

-মুয়াযযিনের ইকামত দেয়ার অর্থই হলো, ইমামের পক্ষ থেকে জামায়াতে শরীক হবার আহ্বান। আর (ফরয নামাজের জন্য) ইমামের আহ্বানে সাড়া দেয়া তো ওয়াজিব।

সুতরাং এ হাদীসটির স্পষ্ট অর্থ এবং যুক্তি অনুযায়ী জামায়াত শুরু হয়ে গেলে সুন্নাত পড়ার অবকাশ থাকে না।

তাহাজ্জুদের চাইতে ফজরের জামায়াতের গুরুত্ব বেশি

আবু বকর ইবনে সুলাইমান ইবনে আবি হাছমা থেকে বর্ণিত। একদিন খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু ফজরের জামায়াতে (আমার পিতা) সুলাইমান ইবনে আবি হাছমাকে দেখতে পেলেন না। সেদিন সকালে ওমর বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। বাজারের পথেই ছিলো আমার পিতা সুলাইমানের বাসস্থান। খলিফা আমাদের বাড়িতে এসে আমার দাদী শিফা বিনতে আব্দুল্লাহ কে জিজ্ঞেস করেন: কী ব্যাপার, আজ ফজরের নামাযে তোমার ছেলে সুলাইমানকে দেখতে পেলাম না কেন? আমার দাদী বললেন : ও রাত জেগে (তাহাজ্জুদ) নামায পড়েছে। ফলে তার চোখে ঘুম চেপে বসেছে (এবং ঘরে নামায পড়ে) শুয়ে পড়েছে। একথা শুনে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন : আমার কাছে সারারাত জেগে নফল নামায পড়ার চাইতে ফজরের জামায়াতে হাযির হওয়া অধিক পছন্দনীয় (মু’আত্তা ইমাম মালিক)

হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর এই বক্তব্যে তাহাজ্জুদ বা রাত্রের নফল নামায পড়তে নিরুৎসাহিত করেননি, বরং তিনি এখানে জামায়াতে নামায এবং নফল নামাযের মধ্যে গুরুত্বের উপায় তুলে ধরেছেন।

১.সুন্নাত নামাযের মধ্যে তাহাজ্জুদ বা রাত্রের নামাযের মর্যাদা অনেক বেশি হলেও, ফরয নামায জামায়াতে পড়ার চাইতে এর মর্যাদা বেশি নয়।

২.ফজরের জামায়াত ছুটে যাওয়ার আশংকা থাকলে রাত জেগে ইবাদত বন্দেগি বা অন্য কোন দ্বীনি কাজও করা ঠিক নয়।

৩.এমনকি ফজরের জামায়াত ছুটে যাওয়ার আশংকা থাকলে রাত জেগে তাহাজ্জুদ নামায পড়াও ঠিক নয়। তবে ফজরের জামায়াতে হাযির হবার ব্যাপারে আশংকা না থাকলে তাহাজ্জুদ পড়া উত্তম।

জামায়াতে উপস্থিতির ক্ষেত্রে বিলম্ব ও ব্যতিক্রমের অবকাশ

১.উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি : খাবার উপস্থিত করা হলে এবং পায়খানা প্র¯্রাবের বেগ সৃষ্টি হলে-এগুলো সেরে নেয়ার আগ পর্যন্ত নামাযে যাবে না। (সহীহ মুসলিম)

২.আব্দুল্লাহ ইবনে আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি : যখন নামাযের ইকামত বলা হয়, তখন যদি তোমাদের কেউ পায়খানা-প্র¯্রাবের বেগ অনুভব করে, তাহলে সে যেনো আগে পায়খানা প্র¯্রাব সেরে নেয়। ( জামে আত-তিরমিযী, আবু দাউদ, আন- নাসায়ী ও মুআত্তায়ে মালিক)

৩.আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যদি তোমাদের কারো রাতের খাবার উপস্থিত করা হয়, আর তখন নামাযের ইকামত দেয়া হয়, তবে তাড়াহুড়া না করে প্রথমে প্রশান্তির সাথে খেয়ে নেবে (তারপর নামাযে যাবে)। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

৪.জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা খাওয়া বা অন্য কোনো কিছুর জন্য নামায (অর্থাৎ নামাযের জামায়াত) পিছিয়ে দিওনা। (শারহে সুন্নাহ)

৫.আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : প্রবল শীত ও বৃষ্টির রাতে তোমাদের কেউ যদি আযান দেয়, তখন সে যেনো একথাও বলে দেয়: আপনার নিজ নিজ আবাসে নামায পড়–ন। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

এই হাদীসগুলো থেকে জানা গেলো :

১. খাবার সামনে এলে নামাযের ইকামত দিলেও খেয়ে নামাযে যাওয়া উচিত।

২. পায়খানা প্র¯্রাব চাপলে নামায শুরু হলেও এগুলো আগে সেরে নিতে হবে।

৩. জামায়াতের সময় নির্ধারিত থাকলে খাওয়া বা অন্য কারণে জামায়াত পিছানো ঠিক নয়।

৪. প্রচ- শীত বৃষ্টি ও ঝড় তুফানের রাত্রের ঘরে নামায পড়ার অবকাশ আছে।

৫. রোগ ও শত্রুর ভয় থাকলে ঘরে নামায পড়ার অবকাশ আছে।

নামাযে কাতার সোজা করা

জামায়াতের নামাযে কাতার সোজা করা এবং সোজা রাখা অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয় সকল রেওয়ায়েত সামনে আনলে দেখা যায়, নামাযে সবার পায়ের টাখনু, কাঁধ ও ঘাড় এক সমান্তরালে থাকা চাই। যারা কাতারের মধ্যে শূন্যস্থান রাখেনা তাদের জন্য মাগফেরাত ও গুনাহ মাফের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :

১.হযরত নুমান ইবনে বশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তীর সোজা করার মতোই আমাদের (নামাযের) সফ সোজা করে দিতেন। আমাদের সফ সোজা হলে তিনি তাকবীর (তাহরীমা) বলতেন। (সহীহ মুসলিম, আবু দাউদ)

২.হযরত নু’মান ইবনে বাশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন : আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: তোমাদের সারিগুলি সোজা করবে। অথ্যথায় আল্লাহ তোমাদের চেহারার মধ্যে অনৈক্য ও মতবিরোধ সৃষ্টি করে দেবেন।

৩.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত : একদিন নামাযের ইকামত হলে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে ফিরে দাঁড়িয়ে বললেন : তোমাদের সফ সোজা করো এবং পরষ্পরের সাথে মিলে দাঁড়াও। (সাহীহ আল বোখারী)

৪.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা সকলে নামাযের কাতারসমূহ সমান সমান করে লও। কেননা কাতার সোজা ও সমান করার ব্যাপারটি সঠিকভাবে নামায কায়েম করা একটি অংশ বিশেষ। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

৫.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন : নামায দাঁড়িয়ে গিয়েছিল (অর্থাৎ নামাযের ইকামত শেষ হয়ে গিয়েছিল) এমন সময় রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমদের দিকে মুখ ফিরিয়েবললেন : তোমাদের সারিগুলি সঠিক ও সোজাভাবে কায়েম কর এবং ঘেঁসে ঘেঁসে দাঁড়াও। কারণ আমি তোমাদেরকে আমার পেছন থেকে দেখি।

৬.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : প্রথম সারি পূর্ণ কর, তারপর তারপরের সারি। যদি কোন কমতি থাকে তাহলে সেটা থাকবে শেষ সারিতে।

৭.আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত : রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডান দিকে লক্ষ্য করে বলতেন ঃ সোজা হও,তোমাদের সফ বরাবর করো। আবার বাম দিকে লক্ষ্য করে বলতেন : সোজা হও, তোমাদের সফ বরাবর করো। (আবু দাউদ)

৮.আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : প্রথমে পয়লা সফ পূর্ণ করো, তারপর দ্বিতীয় সফ। এভাবে পূর্ণ করে যাও। যদি কোনো অপূর্ণতা থাকে, তবে তা যেনো সর্বশেষ সফে থাকে। (আবু দাউদ)

৯.আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পুরুষদের সফ সমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হলো প্রথম সফ, আর নারীদের সফ সমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সর্বশেষ সফ। (সহীহ মুসলিম)

১০.আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের মধ্যে যারা বয়স্ক ও বুঝ সমুঝের অধিকারী, তারা যেনো আমার (ইমামের) নিকটে দাঁড়ায়। অত:পর, যারা তাদের নিকটবর্তী। অতপর তারা, যারা তাদের নিকটবর্তী। সাবধান মসজিদে বাজারের ন্যায় হৈ চৈ করা থেকে বিরত থাকো। (সহীহ মুসলিম)

১১.হযরত আবু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে আমাদের কাঁধে হাত দিয়ে বলতেন : সমান হয়ে দাঁড়াও, আগে-পিছে হয়ে যেয়োনা, তাহলে তোমাদের মনের মধ্যে অনৈক্য দেখা দেবে। বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ লোকদের আমার নিকট থাকা উচিত। তারপর থাকবে তারা যারা বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার দিক দিয়ে তাদের কাছাকাছি। তারপর তারা যারা তাদের কাছাকাছি।

১২.বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন: আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ ঐ লোকদের প্রতি সালাম করেন (অর্থাৎ রহমত বর্ষণ ও দোয়া করেন), যারা প্রথম দিকের সফগুলোতে এগিয়ে আসে। আল্লাহর কাছে সেই পা বাড়ানোর চাইতে আর কোনো পা বাড়ানোই এতো অধিক প্রিয় নয়, যে পা সফ মিলানো ও পূর্ণ করার জন্য বাড়ে। (আবু দাউদ)

১৩. আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা সফ সোজা করবে, বাহু বরাবর করবে, ফাঁক পূর্ণ করবে, পরষ্পরের বাহু নরম রাখবে এবং মাঝখানে শয়তানের জন্য জায়গা রাখবেনা। যে ব্যক্তি সফ মিলিয়ে দাঁড়ায়, আল্লাহ তাকে মিলিয়ে দেন। আর যে সফ বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহ তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেন। (আবু দাউদ ও আন-নাসায়ী)

১৪.হযরত জাবির ইবনে সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন : রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এসে বললেন : তোমরা কি তেমনিভাবে সারিবদ্ধ হবেনা যেমন ফিরিশতারা তাদের রবের সামনে সারিবদ্ধ হয়? আমরা জিজ্ঞেস করলাম : হে আল্লাহর রাসূল! ফিরিশতারা আবার তাদের রবের সামনে কিভাবে সারিবদ্ধ হয়? তিনি জবাবে বললেন : তারা সামনের কাতারগুলো পুরো করে এবং দু’জনের মধ্যে কোন প্রকার ব্যবধান না রেখে লাইনে ঘেঁসে ঘেঁসে দাঁড়িয়ে যায়।

১৫.হযরত আবু সায়ীদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কোনো সাহাবীর মধ্যে উদাসীনতা ও পিছনে থাকার প্রবণতা লক্ষ্য করলেন। তখন তিনি সতর্ক করে বললেন, সামনে আসো এবং আমার পথ অনুসরণ কর, যাতে পরবর্তীরা তোমাদের অনুসরণ করতে পারে। কোনো জাতি যখন পশ্চাৎপদতা অবলম্বন করে তখন আল্লাহও তাদেরকে পশ্চাৎপদ করে দেন। (সহীহ মুসলিম)

প্রথম কাতারের ফযীলত

১.প্রথম কাতারের উপর আল্লাহ এবং ফেরেশতাগণ সালাম পাঠিয়ে থাকেন। এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলেন : দ্বিতীয় কাতারের সম্বন্ধে কী? হযরত নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : প্রথম কাতারে উপরই আল্লাহ এবং তার ফেরেশতাগণ রহমত ও সালাম প্রেরণ করে থাকেন। তৃতীয় বারও তিনি একইরূপ উত্তর দিলেন। চতুর্থবার তিনি বললেন : দ্বিতীয় কাতারের উপরও। (মুসনাদে আহমদ)

২.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এসে বললেন : লোকেরা যদি জানতো আযান ও প্রথম সারিতে দাঁড়ানোর মধ্যে কি আছে (অর্থাৎ কি পরিমাণ সওয়াব আছে) আর লটারীর মাধ্যমে ছাড়া তা অর্জন করার দ্বিতীয় কোন পথ না থাকলে তারা অবশ্যই লটারী করত।

৩.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এসে বললেন : পুরুষদের সারিগুলির মধ্যে প্রথম সারিটি হচ্ছে সবচেয়ে ভাল এবং শেষ সারিটি হচ্ছে সবচেয়ে খারাপ। আর মেয়েদের সারিগুলির মধ্যে শেষ সারিটি হচ্ছে সবচেয়ে ভাল এবং প্রথম সারিটি হচ্ছে সবচেয়ে খারাপ।

নামাজের সামনে দিয়ে আসাযাওয়া

১.হযরত আবু জুহাইম আবদুল্লাহ ইবনে হারেস ইবনে ছাম্মাহ আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : নামাযের সামনে দিয়ে যাতায়াতকারী যদি জানতো এতে তার কি পরিমাণ গুনাহ হয়, তবে চল্লিশ বছর পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকাকে কল্যাণকর মনে করত। বর্ণনাকারী বলেন: রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি চল্লিশ মাস না চল্লিশ দিন না চল্লিশ বৎসরের কথা বলেছেন, তা আমার মনে নেই। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

২.হযরত আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন কিছুই নামায নষ্ট করতে পারে না, তথাপি সম্মুখ দিয়ে গমনকারীকে সাধ্যানুযায়ী বাধা দিবে। নিশ্চয়ই উহা শয়তান। (আবু দাউদ)

৩.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : নামাযের সামনে গমন করা অপেক্ষা একশত বছর দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম। (ইবনে মাজাহ)

সুন্নাতে মুয়াক্কাদার পুরস্কার

১.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি (পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে) দিন ও রাতে ফরয ব্যতীত ১২ রাকায়াত সুন্নাত নামায পড়বে তার জন্য জান্নাতে একখানি গৃহ নির্মাণ করা হবে। (সহীহ মুসলিম)

২.উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি দিন ও রাতের মধ্যে মোট ১২ রাকাত নামায (সুন্নাত) পড়বে, তার জন্য জান্নাতে একখানি ঘর নির্মিত হবে। তা জোহুরের পূর্বে ৪ রাকা’আত, পরে ২ রাকা’আত, মাগরীবের পর ২ রাকা’আত, এশার পর ২ রাকা’আত আর ফজরের পূর্বে ভোরের ২ রাকা’আত। (জামে আত-তিরমিযী)

ক.ফজরের সুন্নাত : আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ফজরের দু’রাকাআ’ত সুন্নাত সমস্ত দুনিয়া ও উহার মধ্যবর্তী সকল নিয়ামত হতে উত্তম। (সহীহ মুসলিম)

খ.জোহরের সুন্নাত : উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জোহরের (ফরযের) পূর্বের চার রাকা’আত এবং পরে দু’রাকা’আত সুন্নাত যথারীতি আদায় করে আল্লাহতায়ালা তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিবেন। (জামে আত-তিরমিযী, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি যোহরের ২ রাকা’আত নামায সংরক্ষণ করবে, তার পাপরাজি মাপ করা হয়। যদিও উহা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়। (মুসনাদে আহমদ ও জামে আত-তিরমিযী)

গ.আসরের সুন্নাত : ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আসরের (ফরযের) পূর্বে চার রাকাআ’ত সুন্নাত পড়ে আল্লাহ তার প্রতি রহম করেন। (আবু দাউদ, জামে আত-তিরমিযী ও মুসনাদে আহমদ)

ঘ.মাগরিবের সুন্নাত :যে ব্যক্তি মাগরিবের (ফরযের) পর দু’রাকা’আত সুন্নাত পড়ে তার সে নামায উপরস্থ ইল্লিয়ীনে পৌছানো হয়। (আবু দাউদ)

ঙ.ইশার সুন্নাত : যে ব্যক্তি দিন-রাত ১২ রাকাত নামায (সুন্নাত) পড়বে। তার জন্য বেহশতে ঘর নির্মণ করা হবে। তা ৪ রাকা’আত জোহুরের পূর্বে, ২ রাকা’আত জোহুরের পরে, ২ রাকা’আত মাগরীবের পরে, ২ রাকা’আত এশার পরে, এবং ২ রাকা’আত ফজরের পূর্বে। (বায়হাকী)

সুন্নাত বা নফল : মসজিদে (ফরয) নামায পড়ার পর বাসগৃহেও কিছু (সুন্নাত বা নফল) নামায পড়ো। তাহলে আল্লাহতায়ালা সে নামাযের প্রতিদান বাসগৃহের মঙ্গল সাধন করবে। (সহীহ মুসলিম)

সুন্নাত বা নফল নামায ফরয নামাযের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করেব। তাই আমাদের উচিৎ বেশী বেশী করে সুন্নাত নামায পড়া।

নামাযের বয়স : ওমর ইবনে শোয়াইব তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদের সালাতের জন্য নির্দেশ দাও, যখন তারা সাত বছরে উপনীত হয়। আর দশ বছর হলে তাকে প্রহার কর, আর তাকে তাদের মাঝ থেকে পৃথক করে দাও। (আবু দাউদ)

ইমাম খাত্তাবী বলেন : এ হাদীস থেকে বুঝা যায়, প্রাপ্ত বয়স্কের নামায তরকের জন্য আরো কঠোর শাস্তি প্রযোজ্য। শাফেয়ী মাযহাবের কারো কারো মতে ইচ্ছাকৃতভাবে নামায তরককারী প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদন্ড দেয়া যাবে। ইমাম মালেক, শাফেয়ী ও ইমাম আহমাদের মতে সে হত্যাযোগ্য।

নামাযের সময়

১.আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী করৗম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : প্রত্যেক নামাযেরই একটা প্রথম সময় রয়েছে এবং একটা শেষ সময় রয়েছে। তার বিবরণ এই যে-

ক.জোহরের নামাযের প্রথম সময় শুরু হয় তখন, যখন সূর্য মধ্য আকাশ হতে পশ্চিমের দিকে ঢলে পড়ে। তার শেষে সময় আসরের নামাযের শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত থাকে।

খ.আসরের নামাযের সময় শুরু হয় তার সময় সূচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই। আর তার শেষ সময় তখন, যখন সূর্যরশ্মি হরিৎ বর্ণ ধারণ করে।

গ.মাগরিব নামাযের সময় শুরু হয় যখন সূর্যাস্ত ঘটে। আর তার শেষ সময় তখন পর্যন্ত থাকে, যখন সূর্যাস্তকালীন রক্তিম লালিমা নিঃশেষে মুছে যায়।

ঘ.এশার নামাযের প্রথম সময় থাকে, যখন সুর্যাস্ত কালীন রক্তিম আভা নিঃশেষ হয়ে যায় এবং তার শেষ সময় দীর্ঘায়িত হয় অর্ধেক রাত পর্যন্ত।

ঙ.আর ফযরের নামাযের প্রথম সময় শুরু হয় প্রথম উষার উদয় লগ্নে তার শেষ সময় সূর্যোদয় পর্যন্ত থাকে।(জামে আত-তিরমিযী)

২.হযরত বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,এক ব্যক্তি নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি দু’দিন আমাদের সঙ্গে নামায পড়বে। প্রথম দিন মধ্যাহ্নের সূর্য কিছুটা পশ্চিমে হেলে যাওয়ার পর হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশে যোহরের আযান দিলেন অতঃপর ইকামত দিলেন। এরপর সূর্য সাদা থাকা অবস্থায়ই হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশে আসরের আযান দিলেন এবং ইকামত দিলেন। এরপর সূর্যাস্তের পর হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশে মাগরিব এবং পশ্চিমাকাশের আলোক-আভা অস্তমিত হওয়ার পর এশার নামাযের আযান দিলেন এবং ইকামত দিয়ে নামায পড়ালেন।

দ্বিতীয় দিন হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশে যোহরের আযানে বিলম্ব করলেন। রৌদ্রের তাপ অনেকটা ঠান্ডা হওয়ার পর যোহরের নামায আদায় করা হল। এরপর আসরের নামাযও বিলম্বিত করা হল এবং সূর্য কিছুটা উচ্চতায় থাকা অবস্থায় নামায আদায় করা হল। এরপর মাগরিব পশ্চিমাকাশের আলোক-আভা অস্তমিত হওয়ার কিছু আগে আদায় করা হল এবং এশা রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্বিত করা হল। ফজরের নামায চারদিক ভালোভাবে ফর্সা হওয়ার পর আদায় করা হল। এরপর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই প্রশ্নকারীকে ডাকলেন। সাহাবী উপস্থিত হলে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,এই দুই সময়ের মধ্যেই তোমাদের নামাযের সময় নির্ধারিত। (সহীহ মুসলিম)

কিরাত পড়ার বিধান

হযরত নাফে (রহ.) থেকে বর্ণিত। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যদি জিজ্ঞেস করা হতো, মুকতাদী ইমামের পিছনে কিরআত পড়বে কি না, তাহলে তিনি বলতেন, ‘ইমামের কিরাআতই মুকতদীর জন্য যথেষ্ট। তবে মুকতাদী যখন একা নামায পড়বে তখন তাকে কুরআন পড়তে হবে। ‘কিরাআত’ শব্দে সূরা ফাতেহা ও অন্য সূরা দুইটিই শামিল রয়েছে।

জামায়াতের নামাযে কুরআন পড়া ইমামের দায়িত্ব। আর মুকতাদীর কর্তব্য হল চুপ থাকা। মনোযোগ সহকারে শুনা। মুকতাদী সূরা ফাতেহা ও পড়বে না এবং অন্য সূরাও মিলাবে না। মুকতাদীর জন্য সূরা ফাতিহা পড়ার বিধান নেই, শুধু জোরে কিরআতের নামাযে যখন ইমামের সূরা ফাতিহা সমাপ্ত হয় তখন মুকতাদী ‘আমীন বলবে’।

. আমীন বলা : হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, ‘রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-যখন তোমাদের কেউ আমীন বলে এবং আসমানের ফিরিশতাও আমীন বলেন আর পরস্পরের আমীন মিলে যায় তখন পিছনের গুনাহসমুহ মাফ করে দেয়া হয়’। (সহীহ আল বোখারী)

ইমাম সূরা ফাতিহা সমাপ্ত করার পর মুকতাদী অন্চ্চু স্বরে ‘আমীন’ বলবে। এটিই উত্তম।

.শুয়ে নামায পড়া : হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণিত। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : দাঁড়িয়ে নামায পড়। তবে যদি অক্ষম হও, বসে নামায পড়। আর তাও যদি সম্ভব না হয়, কাত হয়ে শুয়ে নামায পড়। (সহীহ আল বোখারী)

১৪২৪ বছর আগে কুরআন যে জাতির ওপর নাজিল হয় সে জাতির ভাষা ছিল আরবী। তারা সালাতে যা কিছু কোরআন থেকে পাঠ করতেন নিজেদের মাতৃভাষা আরবী হওয়ায় তা তারা সহজেই বুঝতে পারতেন। কিন্তু তারা যখন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাযে দাঁড়াতেন তখন নেশাচ্ছন্ন থাকায় নামায সুষ্ঠুভাবে আদায় এবং পঠিত বিষয় হৃদয়ঙ্গম করতে পারতেন না। আমরা যারা বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান তারা কি (নেশা ছাড়াই) নামাযে যা পড়ি তা কি সত্যি বুঝতে পারি? ওই আয়াতে পরিষ্কারভাবে আল্ল-াহতায়ালা আমাদের জন্য ফরয (বাধ্যতামূলক) করে দিয়েছেন যে, আমরা নামাযে যা পাঠ করবো তা অবশ্যই উপলব্ধি করবো। আমরা বাংলা ভাষায় কথাবার্তা বলি। সেহেতু নামাযের পঠিত বিষয়গুলো বাংলা ভাষায় উপস্থাপন করলে আমাদের সবার বুঝতে সহজ হবে। নামাজে আন্তরিকতা সৃষ্টি হবে এবং দৈনন্দিন জীবনে নামাযের বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হবে। শারীরিক, আত্মিক ও মানসিক পবিত্রতা এবং পরিশুদ্ধতার সঙ্গে সঙ্গে নামাযের পঠিত বিষয়গুলো মাতৃভাষায় বুঝতে পারলে নামাযের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য উভয় উদ্দেশ্য এবং আল্ল¬াহর দিদার লাভে সক্ষম হতে পারবো ইনশাআল্ল¬াহ।

.নামাযের নিষিদ্ধ সময় : হযরত উকাবা ইবন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তিন সময় নামাজ পড়তে অথবা জানাযা নামাজ আদায়ে নিষেধ করেছেন :

১.সূর্য যখন আলোকময় হয়ে উঠে, যতক্ষণ না তা কিছু উপরে উঠে যায়।

২.সূর্য যখন স্থির হয়ে দাঁড়ায় দ্বিপ্রহরে, যাবৎনা পশ্চিমে ঢলে পড়ে এবং

৩.সূর্য যখন অস্ত যেতে থাকে, যাবৎনা উহা সম্পূর্ণ অস্তমিত হয় । (সহীহ মুসলিম)

আসুন, এখন আমরা নামায কিভাবে পড়বো এবং নামাযে কি কি পড়ি বা কি কি ওয়াদা করিতা জানতে চেষ্টা করি।

নামাযের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাহ

এক নজরে ফরয, ওয়াযিব ও সুন্নাত সমূহ

.নামাযের বাইরে (সাত) ফরয (আহকাম) :

১.শরীর পাক

২. কাপড় পাক

৩.নামাযের জায়গা পাক

৪.সতর ঢাকা

৫.কেবলামুখী হওয়া

৬.ওয়াক্তমত (সময়মত) নামায পড়া

৭.নামাযের নিয়ত করা।

. নামাযের ভিতরে (ছয়) ফরয (আরকান) :

১.তাক্বীরে তাহ্রীমা বলা

২.দাঁড়িয়ে নামায পড়া

৩.ক্বিরাত পড়া

৪.রুকু করা

৫.দু‘সিজদা করা

৬.আখেরী বৈঠক।

. নামাযে ১৪ (চৌদ্দ) ওয়াজিব :

১.আলহামদু শরীফ পুরা পড়া

২.আলহামদুর সাথে সূরা মিলানো

৩. রুকু সেজদায় দেরী করা

৪.রুকু হতে সোজা হয়ে খাড়া হওয়া

৫.দুই সেজদার মাঝে সোজা হয়ে বসা

৬.দারমিয়ানি (প্রথম ও শেষ) বৈঠক

৭.উভয় বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়া

৮.ইমামের জন্য ক্বিরাত দিনের বেলায় আস্তে বা রাতের বেলায় জোরে পড়া

৯.বিতিরের নামাযে দোয়ায়ে কুনুত পড়া

১০. দুই ঈদের নামাযেই ছয় তাকবীর বলা

১১. প্রত্যেক ফরয নামাযের প্রথম দুই রাকা’আতে ক্বিরাত পড়া

১২. প্রত্যেক রাকা’আতের ফরযগুলির তারতীব ঠিক রাখা

১৩. প্রত্যেক রাকা’আতের ওয়াজিবগুলির তারতীব ঠিক রাখা

১৪. اَلسَّلَام ُعَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُاللهِ (আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্ল¬াহ) বলে নামায শেষ করা।

ঘ. নামাযে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ১২ (বার) টি :

১. দুই হাত উঠানো

২. দুই হাত বাঁধা

৩. সানা পড়া

৪. তা’উজ পড়া

৫. তাসমিয়া পড়া

৬. আলহামদুর শেষে আমীন বলা

৭. প্রত্যেক ওঠা বসায় আল্লাহু আকবার বলা

৮. রুকুর তাসবীহ বলা

৯. রুকু হতে ওঠার সময় সামিআল্ল¬াহু লিমান হামিদাহ (রাব্বানা লাকাল হামদ) বলা

১০. সিজদায় তাসবীহ পড়া

১১. দুরুদ শরীফ পড়া

১২. দোয়ায়ে মাসূরা পড়া তবে দোয়ায়ে মাসুরা সব সময় না পড়লেও নামাজ হয়ে যাবে।

ঙ. নামায ভঙ্গের কারণসমূহ :

১. নামায অশুদ্ধ পড়া, নামাজে কিরাত ও তাসবীহ অশুদ্ধ পড়া

২. নামাযের ভিতর কথা বলা

৩. কোনো লোককে সালাম দেয়া

৪. সালামের উত্তর দেয়া

৫. উহ-আহ শব্দ করা

৬. বিনা ওজরে কাশি দেয়া

৭. আমলে কাছীর করা

৮. বিপদে কি ব্যথায় শব্দ করে কাঁদা

৯. তিন তাসবীহ পরিমাণ সতর খুলে থাকা

১০. মোক্তাদী ব্যতীত অপর ব্যক্তির লোকমা দেয়া

১১. সুসংবাদ ও দুঃসংবাদের উত্তর দেয়া

১২. নাপাক যায়গায় সিজদা করা

১৩. সাংসারিক কোন বিষয়ে প্রার্থনা করা

১৪. খাওয়া ও পান করা

১৫. হাঁচির উত্তর দেয়া

১৬. কিবলার দিকে হতে সিনা ঘুরে যাওয়া

১৭. নামাযে কোরআন শরীফ দেখে পড়া

১৮. ইমামের আগে মোক্তাদীরা দাঁড়ানো

১৯. প্রতি রুকনে দুইবারের বেশি শরীর চুলকানো

২০. নামাযে শব্দ করে হাসা।

নামায পড়ার (ভেতরের) নিয়ম

প্রথমে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে জায়নামাযের দোয়া পড়তে হয়। এর পর নিয়ত করতে হবে।

জায়নামাযের দোয়া :           اِنِّئْ وَجَّهْتُ وَجْهِئَ لِلَّذِئْ فَطَرَالسَّمَوَاتِ وَالْاَرْضَ حَنِيْفًا وَّمَا اَنَا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ

উচ্চারণ : ইন্নি ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাত্বারাসসামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বা হানিফাও ওয়ামা আনা মিনালমুশরিকীন।

অর্থ : নিশ্চয়ই আমি তাঁর দিকে মুখ করলাম। যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, বস্তুত আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।

নিয়্যত : কোন নামায পড়া হচ্ছে তার ইচ্ছা করার নাম হলো নিয়্যত। আমরা যে নামায পড়বো সে সম্পর্কে মনে মনে স্থির করার পরে আল্লাহু আকবার বলে তাকবীরে তাহরিমা বলে নামায শুরু করতে হবে। যেমন-আমি ফযরের দুই রাকাত সুন্নাত নামায কেবলামুখী হয়ে পড়ছি। কেউ কেউ ইচ্ছা করলে আরবীতেও নিয়্যত করতে পারেন।

দুই রাকা’আত নামায হলে رَكْعَتَئ “রাকা’আতাই”, তিন রাকা’আত নামায হলে رَكْعَتَئ ‘রাকা’আতাই’-এর স্থলে ثلَاثَ رَكْعَاتِ‘‘ছালাছা রাক’আতি’’ এবং ৪ রাকাত হলে اَرْبَعْئَ رَكْعَاتِ “আরবা রাক‘আতি” বলতে হবে।

ফজর اَلْفَجْرِ – এর স্থলে যে ওয়াক্ত বা যে নামায পড়বে সে নাম বলতে হবে। যেমন-যোহর হলে যোহর, আছর হলে আছর, মাগরেব হলে মাগরেব, এশা হলে এশা বলতে হবে। আর নামায ফরয হলে সুন্নাতি রাসূলিল্লাহি (رَسُوْل ِاللهِ سُنَّةِ) এর স্থলে ফারদুল্লাহি (فَرْضُ اللهِ) ওয়াজিব হলে ওয়াজিবুল্লাহি (وَاجٍبُ اللهِ) বলতে হবে।

নামায পাঁচ প্রকার

.ফরয :

যা সরাসরি কোরআন থেকে পাওয়া এবং রাসূল ফরয, তথা অবশ্যই পালনীয় বলে নির্দেশ করেছেন।

যা আদায় করা জরুরী, পরিত্যাগ করা হারাম। ফরয নামাজের রাকা’আত সংখ্যা সুনির্দ্ধারিত। যেমন ফজর দুই রাকা’আত, যোহর চার রাকা’আত, আছর চার রাকা’আত, মাগরিব তিন রাকা’আত এবং এশা চার রাকা’আত মোট সতের রাকা’আত।

. ওয়াজিব :

যা আদায় করা জরুরী, পরিত্যাগ করা মাকরূহে তাহ্রীমী।

.সুন্নাতে মুয়াক্কাদা :

যা নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম নিয়মিত আদায় করেছেন। এটা পরিত্যাগ করা গুনাহ।

. সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা :

যা নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম যে কাজ অধিকাংশ সময় করেছেন, তবে কখনো কখনো পরিত্যাগও করেছেন।

. নফল :

যা আদায়ে ছওয়াব রয়েছে, পরিত্যাগে গোনাহ নেই। নফল নামায সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। কেউ ইচ্ছা করলে পড়লো এবং কেউ ইচ্ছা করলে নাও পড়তে পারে। যে ব্যক্তি তা পড়ে সে প্রশংসাযোগ্য।

নামাযের রাকাআত সংখ্যা

ক. দুই রাকা’আত খ. তিন রাকা’আত ও গ. চার রাকা’আত নামায।

ক. দুই রাকা’আত নামায :

নামায দুই রাকা’আত হলে দ্বিতীয় রাকা’আতে সেজদা শেষে প্রথমে তাশাহুদ, তারপর দুরূদ, তারপর দোয়া মাছুরা পড়ার পর সালাম ফেরাতে হবে।

খ.তিন বা চার রাকা’আত নামায :

নামায তিন বা চার রাকা’আত হলে প্রথম দ্বিতীয় রাকা’আতে শুধুমাত্র তাশাহুদ পড়তে হবে। দুরূদ, দোয়া মাছুরা ইত্যাদি পড়তে হবে না। তাশাহুদ পড়া শেষ হলেই আল্লাহু আকবার বলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে প্রথম বা দ্বিতীয় রাকা’আতের মতই সূরা ফাতিহা অথবা তার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে রুকু, সিজদা ইত্যাদি করে অবশিষ্ট ৩য় বা ৩য় ও ৪র্থ রাকা’আত শেষ করে শেষ সিজদাহ দিয়ে বসতে হবে তারপর তাশাহুদ তারপর দুরূদ তারপর দোয়া মাছুরা পড়ার পর সালাম ফেরাতে হবে।

১. ফরয নামায হলে :

ফরয নামায হলে ১ম ও ২য় রাকা’আতে সূরা ফাতিহা পড়ে অন্য সূরা মিলাতে হবে কিন্তু ৩য় ও ৪র্থ রাকা’আতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়ে রুকুতে যেতে হবে, কোন সূরা মিলাতে হবে না। যদি কেউ সূরা মিলিয়ে পড়ে ফেলে তবে নামাজে সমস্যা হবে না।

২. ওয়াযিব, সুন্নাত ও নফল নামায হলে :

নামায ওয়াযিব, সুন্নাত ও নফল হলে হলে ৩য় ও ৪র্থ রাকা’আতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলাতে হবে।

৩.জামায়াতে নামায হলে :

ক.নামায জামায়াতে হলে ইমাম ফজর, মাগরিব ও এশা ফরয নামাযে ১ম ও ২য় রাকা’আতে সূরা ক্বেরাত উচ্চস্বরে পড়তে হবে। ৩য় ও ৪র্থ রাকা’আতে সূরা উচ্চস্বরে পড়তে হবে না।

খ.যোহর ও আছরের জামায়াতে ১ম ও ২য় রাকা’আতে সূরা ক্বেরাত আস্তে পড়তে হবে। সমস্ত তাকবীর, সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ ও আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ উচ্চস্বরে পড়তে হবে।

৪.একা নামায পড়লে :

ফরয নামায সমূহ একা পড়লে ইমামের মতো পড়তে হবে। অথবা সমস্ত নামায আগাগোড়া সুন্নাত নামাযের মতো নীরবেও পড়া যায়। একা নামায আদায়কারীকে প্রতি রাকা’আতে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে।

আস্তে আস্তে একা নামায পড়ার ক্ষেত্রে তাকবীর, তাহরীমা, সূরা ক্বেরাত পড়ার নিয়ম :

যে সব নামায আস্তে আস্তে পড়তে হয় সেসব নামাযে সূরা ক্বেরাত এমনভাবে পড়তে হবে যাতে নিজ কানে নিজের পড়ার আওয়াজ শুনা যায়, পড়ার সময় ঠোঁট, জিহ্বা, মুখ নড়া-চড়া করে, সূরা ক্বেরাত পড়ার সময় জিহ্বা ও ঠোঁট ব্যবহারের মাধ্যমে হরফের সহীহ উচ্চারণ হওয়া। শুধুমাত্র ধ্যান করে বা ঠোঁট মুখ-জিহ্বা না নেড়ে মনে মনে তাকবীর, তাহরীমা, আল্লাহু আকবার বললে এবং সূরা ক্বেরাত পড়লে তা আদায় হবে না এবং নামায হবে না।

৫. ইমামের পেছনে নামায পড়লে :

فَرْضُ اللهِ تَعَالٰي“ফারদুল্লাহি তা’আলা।” এরপর اِقْتَدَيْتُ بِهَذَ الْاِمَام“একতাদাইতু বিহাজাল ইমাম” বলতে হবে। মনে মনে ইমাম যেভাবে নামাজ পড়াবেন সেভাবে ইমামকে অনুসরণ করার ইচ্ছা করতে হবে।

৬. নিজে ইমামতি নামায পড়ালে :

اَنَا اِمَام ُلِمَنْ حَضَرَ وَمَنْ يَّحْضُرُ “আনা ইমামু লিমান হাজারা ওয়া মাই-ইয়াহ দূরু।” “যারা উপস্থিত আছে এবং যারা উপস্থিত হবে আমি তাদের ইমামতিতে নিযুক্ত বলে মনস্থির করতে হবে।”

নামায পড়ার সংক্ষিপ্ত নিয়ম

১. প্রথমে কেবলামুখী হয়ে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে জায়নামাযের দোয়া পড়তে হয় এবং যে নামায পড়ার ইচ্ছা করেছেন মনে মনে তার নিয়্যত করতে হবে। যেমন, আমি আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ফজরের দুই রাকা’আত সুন্নাত নামায পড়ছি।

২. এরপর উভয় হাত কান পর্যন্ত ওঠাবেন। হাতের তালু ও আঙুল কিবলামুখী থাকবে এবং আঙুলগুলো কানের লতি বরাবর নিচে থাকবে।

৩. এরপর আল্লাহু আকবার’বলে নাভির উপরে হাত বাঁধুন। ডান হাত বাম হাতের উপর থাকবে এবং দৃষ্টি সেজদার স্থানে নিবদ্ধ থাকবে।

৪. এরপর অনুচ্চস্বরে ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা’পড়–ন এবং ‘আউযুবিল্লাহ’ ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ে সূরা ফাতিহা পড়ুন।

৫. এরপর অনুচ্চস্বরে আমীন বলে অন্য একটি সূরা কিংবা একটি বড় আয়াত বা ছোট তিন আয়াত তেলাওয়াত করুন। ইমামের পিছনে নামায পড়লে ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা’র পর কিরাত পড়লে চলবে। কেউ যদি পড়ে ফেলে তবে সে সূরা ফাতেহার বেশী পড়বেনা।

৬. এরপর আল্লাহু আকবার’ বলতে বলতে রুকু করুন। রুকুতে পিঠ সোজা থাকবে এবং হাতের আঙুলগুলো ফাঁকা ফাঁকা করে শক্ত করে হাঁটু ধরতে হবে। রুকুতে তিন বার বা পাঁচ বার তাসবীহ পড়–ন।

৭. এরপর সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলতে বলতে সোজা হয়ে দাড়ান এবং ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলুন। ইমামের পিছনে থাকলে ইমাম সামিআল্লাহু লিমান হামিদা’ বলবে আর মুক্তাদী শুধু ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলুন।

৮. এরপর আল্লাহু ‘আকবার’বলতে বলতে সেজদায় যান। সেজদায় যথক্রমে দুই হাটু, দুই হাত, নাক এবং সবশেষে কপাল ভূমিতে রাখুন। হাতের আঙুলগুলো কিবলামুখী থাকবে। কনুই পাঁজর থেকে এবং পেট উরু থেকে আলাদা থাকবে। পুরুষের কনুই ভূমিতে বিছানো যাবে না। সেজদায় তিন বার বা পাঁচ বার তাসবীহ পড়ৃন।

৯. এরপর যথাক্রমে কপাল, নাক এবং সবশেষে হাত উঠিয়ে তাকবীর বলতে বলতে বসুন।

১০.এরপর পুনরায় তাকবীর বলতে বলতে দ্বিতীয় সেজদা করুন।

১১.এরপর তাকবীর বলতে বলতে উঠুন। ওঠার সময় যথাক্রমে কপাল, নাক, হাত সবশেষে হাটু ভূমি থেকে উঠিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে যান। দাঁড়িয়ে হাত বাঁধুন এবং ‘বিসমিল্লাহ’সহ সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পড়–ন। ইমামের পিছনে হলে কিরাত পড়বেন না।

১২.এরপর পূর্বের নিয়মে রুকু, কাওমা, সেজদা, জলসা এবং দ্বিতীয় সাজদা করুন। পুরুষের বেলায় সেজদা থেকে উঠে বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসুন এবং ডান পা খাড়া রাখুন ও দুই হাত উরুর উপর রাখুন। (হাতের আঙুলের অগ্রভাগ হাঁটু বরাবর থাকবে)।

১৩.এবার আত্তাহিয়্যাতু’ পড়–ন।“আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” পর্যন্ত পোঁছালে মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুলের মাথা পরষ্পরের সঙ্গে মিলিয়ে গোলক তৈরী করুন, কনিষ্ঠা ও অনামিকা মুড়ে তালুর সাথে লাগিয়ে রাখুন এবং তর্জনী উঠিয়ে ইশারা করুন। ‘লা-ইলাহা’ বলার সময় তর্জনী উঠবে, ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় নামবে।

১৪.এরপর বৈঠকের শেষ পর্যন্ত ডান হাত এ অবস্থাতেই থাকবে। দুই রাকা’আত বিশিষ্ট নামায হলে আত্তাহিয়্যাতু’শেষ হওয়ার পর দরূদ শরীফ পড়–ন। এরপর দোয়া মাসূরা পড়ে ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করুন।

১৫.যদি তিন বা চার রাকা’আত বিশিষ্ট নামায হয় তাহলে ‘আত্তাহিয়্যাতু’র পর কোনো দরূদ না পড়ে তাকবীর বলতে বলতে দাঁড়িয়ে যান। এরপর এক রাকা’আত কিংবা দুই রাকা’আত পড়ে নামায শেষ করুন।

১৬.ফরয নামাযের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকা’আতে সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরা পড়া জরুরী নয়।

উপরোক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা

নামায পড়ার নিয়ম :

চার রাকা’আত নামাযের নিয়ম কানুন জানলে দুই রাকা’আত ও তিন রাক’আতের নিয়ম কানুনও জানা হয়ে যাবে তাই চার রাকা’আত নামায কিভাবে পড়তে হবে তার বিস্তারিত নিয়ম কানুন নি¤েœ তুলে ধরা হলো :

প্রথম রাকা’আতে রুকুর আগের মাসআলাহ সমূহ :

১. হাত উঠানো (হাতের তালু ও আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী করে কাঁধ কিংবা কান পর্যন্ত উঠানো) (সুন্নাত)।

২. তাকবীরে তাহরীমা বলা (ফরজ)اَللهُ اَ كْبَرُ   “আল্ল¬াহই সর্বশ্রেষ্ঠ বলা”

৩.হাত বাঁধা (তাকবীরে তাহরীমা উচ্চারণের সময় হাত উঠাবার পর হাত নামিয়ে ডান হাত বাম হাতের পিঠের উপর স্থাপন করা)। ডান হাতের আঙ্গুলগুলি দিয়ে বাম হাতের কব্জীকে শক্ত করে ধরা (সুন্নাত)।

৪.দুই হাত নাভির উপরে বুকের উপরও বাঁধা যাবে (সুন্নাত)।

৫.মাথা সামান্য ঝুঁকিয়ে রাখা।

৬.দু’চোখের নজর (দৃষ্টি) সেজদার জায়গায় রাখা।

৭.সানা পড়া (সুন্নাত)                      سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَاَلَ جَدُّكَ وَلَا اِلٰهَ غَيْرُكَ

উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্ল¬াহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তা‘আলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা”।

অর্থ : হে আল্ল¬াহ! আপনার পবিত্রতা এবং প্রশংসা বর্ণনা করছি : আপনার নাম বড়ই মহান। আপনার মাহাত্ম্য ও সম্মান অতীব উচ্চ এবং আপনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, যার সামনে মাথা নত করা যায়।

৮.তা‘উজ (আউযুবিল্ল¬াহ) পড়া (সুন্নাত)।                                       اَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الْشَّيطَانِ الرَّجِيْمِ

উচ্চারণ : আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বা-নির রাজীম।

অর্থ : আমি বিতাড়িত শয়তানের (ওয়াসওয়াসা) কুমন্ত্রণা হতে একমাত্র আল্ল¬াহতায়ালার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

৯.তাসমিয়া (বিসমিল্ল¬াহ) পড়া (সুন্নাত)। بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

অর্থ : আমি পরম দাতা দয়াময় আল্লাহতাআলার নামে আরম্ভ করছি।

১০.আলহামদু সূরা সম্পূর্ণ অংশ পড়া (ওয়াজিব)।

ا َ لْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ ﴿٢﴾ ا َلرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ ﴿٣﴾ مَالِك يَوْم ِالدِّينِ ﴿٤﴾ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ﴿٥﴾                     اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ﴿٦﴾ صِرَاطَ الَّذِين أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِالْمَغْضُوب عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ ﴿٧﴾

উচ্চারণ : আল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। আর রাহমানির রাহীম। মালিকি ইয়াওমিদ্দীন। ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন। ইহদিনাস সিরাত্বাল মুসতাক্বীম। সিরাত্বাল লাযীনা আন‘আমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগদূবি আলাইহিম ওয়ালাদদ্বোয়াল্লিন। আমীন”।

অর্থ : সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্ল¬াহতায়ালার জন্য যিনি সকল সৃষ্টিজগতের পালনকর্তা। যিনি দাতা, দয়াময় মেহেরবান। যিনি বিচার দিনের মালিক (অধিপতি), আমরা সর্বাবস্থায় একমাত্র তোমারই ইবাদত (দাসত্ব) করি এবং তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদেরকে সরল-সঠিক পথ দেখাও, সেসব লোকের পথ যাদেরকে তুমি নিয়ামত দান করেছো। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গযব (অভিশম্পাৎ) নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

সারাদিন কমপক্ষে ৩২ বার (অর্থাৎ ফরয ১৭ রাকা’আতে, সুন্নাত ১২ রাকা’আতে এবং বিতর ৩ রাকা’আতে) আমরা নামাযে কি ওয়াদা করছি আর বাস্তবে কি করছি তা ভেবে দেখা দরকার।

১১.সূরা ফাতিহা পড়া শেষে اَمِيْن ‘আমিন’ বলা (সুন্নাত)।

১২.সূরার শুরুতে بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ ‘বিসমিল্ল¬াহ’ পড়া (সুন্নাত)।

১৩.ক্বিরাত পড়া (ফরজ)। قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ ﴿١﴾ اَللهُ الصَّمَدُ ﴿٢﴾ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ﴿٣﴾ وَلَم ْيَكُنْ لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ﴿٤﴾

উচ্চারণ : ক্বুল-হুওয়াল্ল¬াহু আহাদ। আল্ল¬াহুস সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ। ওয়ালাম ইয়াকুল্ল¬াহু কুফুওয়ান আহাদ”।

অর্থাৎ : বলুন, তিনি আল্ল¬াহ এক, অদ্বিতীয়। আল্ল¬াহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তার মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেন নাই এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয় নাই এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নই। (সূরা ১১২ ইখলাছ : আয়াত ১-৪)

১৪.সূরা মিলানো (ওয়াজিব)।

১৫.প্রথম রাকা’আতে সূরা/আয়াত বড় পড়া।

রুকূর মধ্যে : প্রথম রাকা’আতের রুকুর মাসআলাহ সমূহ

১.রুকুতে যাবার সময় اَللهُ اَكْبَرُ আল্ল¬াহু আকবার’ বলা (সুন্নাত)।

“আল্ল¬াহু আকবার”-আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ

২.রুকু করা (ফরজ)।

৩.রুকুতে দেরী করা (ওয়াজিব)।

৪.রুকুতে থেকে তাসবিহ পড়া কমপক্ষে ৩ বার (সুন্নাত)।

রুকুর তাসবীহ হলো- سُبحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْم “সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম”-আমি আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

এছাড়াও পড়া যায়-                                       سُبْحَنَاكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّناَ وَبِحَمْدِكَ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِي

উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়াবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগ-ফিরলী।

অর্থ : হে আল্লাহ তুমি পাক পবিত্র, হে আমাদের রব তোমার প্রশংসা সহকারে ফরিয়াদ করছি! তুমি আমাকে মাফ কর।

রুকুতে যাবার নিয়ম :

ক. রুকুতে গিয়ে জড়িয়ে ধরার মত দু’হাত হাঁটুতে স্থাপন করা। (হাঁটুতে হাতের তালু রেখে হাত দিয়ে হাঁটুকে মজবুতভাবে ধরতে হয়) তাতে শরীরের ভারটা হাতের উপর পড়ে এবং কনুই ও হাঁটু সোজা থাকে।

খ. পুরুষের ক্ষেত্রে দুই বাহু পাঁজর থেকে আলাদা করে ফাঁক করে রাখা।

গ. পিঠ সোজাসুজি লম্বা করে বিছিয়ে রাখা। কোমর, পিঠ ও মাথা এক রেখা বরাবর সমান থাকবে এবং মাটির সমান্তরাল থাকে। মাথা পিঠ থেকে নিচু হয় না এবং পিঠ বাঁকা অবস্থায় থাকে না। অর্থাৎ মাথা পিঠের বরাবর রাখা।

ঘ.রুকুতে কোমর ও মাথা একসমান থাকবে। মাথা কোমর থেকে উঁচুও হবেনা, নিচুও হবে না।

রুকু হতে উঠার নিয়ম :

ক. রুকু হতে উঠার সময়- ‘সামিআল্ল¬াহু লিমান হামিদাহ’ বলা সুন্নাত।                 سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

উচ্চরণ : “সামিআল্ল¬াহু লিমান হামিদা”

অর্থ : আল্ল¬াহতায়ালা প্রশংসাকারীর প্রশংসা শোনেন।

খ. রুকু হতে সোজা হয়ে খাড়া হওয়া (ওয়াজিব)।

গ. রুকু হতে সোজা হয়ে খাড়া হওয়ার পর দোয়া পড়া।

رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ – حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيْهِ –

উচ্চারণ : ‘রাব্বানা লাকাল হামদ, হামদান কাছিরান, ত্বাইয়্যেবান, মোবারাকান ফীহি’।

অর্থ : হে আল্ল¬াহ! সমস্ত প্রশংসা তোমার জন্য, এমন ব্যাপক প্রশংসা, যাতে রয়েছে খুবই উত্তম বরকত। এ প্রশংসায় মঙ্গল হোক বরকত হোক।

১. হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (নামাযে রুকু হতে মাথা উঠানোর সময়) ইমাম যখন সামিআল্লাহু-লিমান হামিদাহ বলবে, তোমরা তখন আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ বল। কেননা, যে ব্যক্তির এ কথা ফেরেশতাদের এ কথার সাথে (অর্থাৎ একই সময়ে) উচ্চারিত হবে, তার অতীতের সকল গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (সহীহ আল বোখারী -৭৫২)

২. হযরত রিফ’আ ইবনে রাফে’ যুরাকী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে নামায আদায় করছিলাম। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের জামায়াতে ইমামতি করছিলেন, যখন তিনি নামাযে রুকু থেকে সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলে দাঁড়ালেন, তখন এক সাহাবী পিছন থেকে রাব্বনা লাকাল হামদ বলার পর হামদান কাছীরান ত্ব্যায়্যিবান মুবারকান ফিহি এই শব্দগুলিও বললেন। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরিয়ে সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন যে, কওমের মধ্যে উক্ত কালেমাগুলি কে বলেছিলেন? এক সাহাবী বললেন হুযুর! এই কালিমাগুলি আমি আদায় করেছিলাম। হুযুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যখন তুমি এই কালেমাগুলি আদায় করতেছিলে-তখন আমি দেখলাম ৩০ জন ফেরেশতা ঐ কালেমাগুলি লুফে নেয়ার জন্য লাফিয়ে দ্রুত ধাবিত হচ্ছেন কার আগে কে ঐ কালেমাগুলি নিয়ে তার সওয়াব লিখবেন। (সহীহ আল বোখারী-৭৫৫)

ঘ.দুই হাত দু‘পাশে সোজা করে রাখা।

ঙ.রুকু হতে সোজা হয়ে খাড়া হওয়ার সময় রুকুর সমান হওয়া।

চ.রুকুতে দৃষ্টি পায়ের পাতার উপর রাখা।

সেজদায় : প্রথম রাকা’আতের প্রথম সেজদার মাসআলাহ সমূহ

১.সেজদাতে যাবার সময় اَللهُ اَكْبَرُ ‘আল্ল¬াহু আকবার’ বলা (সুন্নাত)।

২.সেজদা করা (ফরজ)।

৩.সেজদাতে দেরী করা (ওয়াজিব)।

৪.সেজদাতে থেকে তাসবিহ পড়া কমপক্ষে ৩ বার (সুন্নাত)।

سُبحَانَ رَبِّيَ الْاَعْلَي “সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা”-আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

এছাড়াও পড়া যায়-سُبحَانَكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّناَ وَبِحَمْدِكَ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِيْ ْ

উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা, রাব্বানা, ওয়াবিহামদিকা, আল্লাহুম্মাগ-ফিরলী।

অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি পাক পবিত্র, হে আমাদের রব! তোমার প্রশংসা সহকারে ফরিয়াদ করছি, তুমি আমাকে মাফ কর।

সেজদায় যাওয়ার নিয়ম :

ক. হাতের পূর্বে হাঁটু যমীনে রাখা।

খ. তারপর দুই হাত রাখা।

গ. অতঃপর নাক রাখা।

ঘ. সবশেষে কপাল রাখা।

ঙ. পুরুষের দুই কনুই উপরে উঠিয়ে রাখা।

চ. পিঠ সোজা করে রাখা।

ছ. দুই পায়ের পাতা খাড়া করে রাখা।

জ. দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো ভাঁজ করে কেবলামুখী করে রাখা।

ঝ. হাতের তালু ও আঙ্গুলগুলো বিছিয়ে রাখা।

ঞ.তালু থেকে কনুই পর্যন্ত দুইহাত মাটি থেকে উঁচু করে রাখা।

ট. একবারে মিলিয়ে না রাখা আবার বেশী ফাঁকও না রাখা।

ঠ. কেবলামুখী রাখার জন্য মিলিয়ে রাখা।

ড. সিজদায় দুই হাতের তালু ঘাড় অথবা কান বরাবর রাখা।

ঢ.এ সময় দৃষ্টি নাকের ডগার ওপর রাখা।

৫.সেজদা হতে উঠার সময়اَللهُ اَكْبَرُ   ‘আল্ল¬াহু আকবার’ বলা।

সেজদা হতে উঠার নিয়মসমূহ :

          ক. প্রথম মাথা ও কপাল উঠাতে হয়।

          খ. অতঃপর নাক উঠাতে হয়।

          গ. সবশেষে হাত উঠাতে হয়।

৬.       সেজদা হতে সোজা হয়ে বসা (ওয়াজিব)।

সেজদা হতে সোজা হয়ে বসার নিয়ম :

          ক. বাম পা মাটিতে বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসতে হয়।

          খ. ডান পায়ের আঙ্গুলের উপর পাতা দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়।

          গ. পায়ের আঙ্গুলগুলো ভাঁজ করে কিবলামুখী করে রাখতে হয়।

          ঘ. বসা অবস্থায় দৃষ্টি কোলের দিকে অথবা শাহাদাত অঙ্গুলির দিকে রাখা।

          ঙ. বসার সময় সেজদার মত লম্বা করা।

চ. বসা অবস্থায় দোয়া পড়া-

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِيْ وَاهْدِنِيْ وَاعْفِنِيْ وَارْزُقْنِيْ وَازْبِرْنِيْ وَارْفَعْنِيْ

উচ্চারণ : আল্ল¬াহুম্মাগ ফিরলী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়া’ফিনী, ওয়ার জুকনী, ওয়াজ বিরণী, ওয়ার ফানি।

অর্থ : হে আল্ল¬াহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর, আমাকে হেদায়েত দান কর (অর্থাৎ দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ) আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখ, আমার রুজির ব্যবস্থা করে দাও, আমাকে সুস্থতা দান কর, আমার মান মর্যাদা বাড়িয়ে দাও।

প্রথম রাকাতের দ্বিতীয় সেজদার মাসআলাহ সমূহ

১.সেজদাতে যাবার সময় اَللهُ اَكْبَرُ ‘আল্ল¬াহু আকবার’বলা।

২.সেজদা করা (ফরজ)।

৩.সেজদাতে দেরী করা (ওয়াজিব)।

৪.সেজদাতে থেকে তাসবিহ পড়া কমপক্ষে ৩ বার।                                   سُبحَانَ رَبِّيَ الْاَعْلَي

উচ্চারণ : “সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা”-

অর্থ : আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

এছাড়াও পড়া যায় –                                       سُبحَانَكَ اَللّٰهُمَّ ّرَبَّناَوَبِحَمْدِكَ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِيْ

উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়াবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগ-ফিরলী।

অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি পাক পবিত্র, হে আমাদের রব, তোমার প্রশংসা সহকারে ফরিয়াদ করছি! তুমি আমাকে মাফ কর।

সেজদাতে যাওয়ার নিয়ম :

ক.হাতের পূর্বে হাঁটু যমীনে রাখা।

খ.তারপর দুই হাত রাখা।

গ.অত:পর নাক রাখা।

ঘ.সবশেষে কপাল রাখা।

ঙ.দুই কনুই উপরে উঠিয়ে রাখা।

চ.পিঠ সোজা করে রাখা।

ছ.দুই পায়ের পাতা খাড়া করে রাখা।

জ.দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো ভাঁজ করে কেবলামুখী করে রাখা।

ঝ.হাতের তালু ও আঙ্গুলগুলো বিছিয়ে রাখা।

ঞ. তালু থেকে কনুই পর্যন্ত দুইহাত মাটি থেকে উঁচু করে রাখা।

ট.একবারে মিলিয়ে না রাখা আবার বেশী ফাঁকও না রাখা।

ঠ.কেবলামুখী রাখার জন্য মিলিয়ে রাখা।

ড.সিজদায় দুই হাতের তালু ঘাড় অথবা কান বরাবর রাখা।

ঢ.এ সময় দৃষ্টি নাকের ডগার ওপর রাখা।

৫.সেজদা হতে উঠার সময়اَللهُ اَكْبَرُ   ‘আল্লাহু আকবার’ বলা (সুন্নাত)।

সেজদা হতে উঠার নিয়ম :

ক.প্রথম মাথা ও কপাল উঠাতে হয়।

খ.অতঃপর নাক উঠাতে হয়।

গ.সবশেষ হাত উঠাতে হয়।

ঘ.তারপর হাঁটু উঠাতে হয়।

৬.সেজদা হতে সোজা হয়ে দাঁড়ানো (ওয়াজিব)।

সেজদা হতে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর নিয়ম :

সেজদা হতে দাঁড়াবার সময় দুইহাত পা ও হাঁটু ধরে উরুর উপর ভর করে দাঁড়াতে হয়।

দ্বিতীয় রাকায়াতের মাসআলাহ সমূহ :

১.হাত বাঁধা।

২.দুই হাত নাভির ওপরে বাঁধা, জায়েজ আছে বুকের উপর বাঁধা।

৩.মাথা সামান্য ঝুঁকিয়ে রাখা।

৪.দৃষ্টি সেজদার জায়গায় রাখা।

৫.তাসমিয়া بِسْمِ اللهِ (বিসমিল্ল¬াহ) পড়া।

৬.আলহামদু শরীফ পুরা পড়া (ওয়াজিব)।

৭.সূরা ফাতিহার পর اَمِيْنْ আমিন বলা।

৮.সূরার শুরুতে بِسْمِ اللهِ বিসমিল্লাহ পড়া।

৯.ক্বিরাত পড়া (ফরজ)।

১০.সূরা মিলানো (ওয়াজিব)।

১১.দ্বিতীয় রাকাতে সূরা/আয়াত ছোট পড়া।

রুকুর মধ্যে : দ্বিতীয় রাকাতের রুকুর মাসআলাহ সমূহ

১.রুকুতে যাবার সময় اَللهُ اَكْبَر ‘আল্ল¬াহু আকবার’বলা।

২.রুকু করা (ফরজ)।

৩.রুকুতে দেরী করা (ওয়াজিব)।

৪.রুকুতে থেকে তাসবিহ পড়া কমপক্ষে ৩ বার (সুন্নাত)।

سُبحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْم “সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম”-আমি আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তাসবীহ’র পর অতিরিক্ত দোয়া পড়া উত্তম। যেমনÑ

سُبحَانَكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّناَوَبِحَمْدِكَ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِيْ

“সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়াবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগ-ফিরলী।”

অর্থ : হে আল্লাহ তুমি পাক পবিত্র, হে আমাদের রব! তোমার প্রশংসা সহকারে ফরিয়াদ করছি, তুমি আমাকে মাফ কর।

রুকুতে যাবার নিয়ম :

ক. রুকুতে গিয়ে প্রথমে দুহাত হাঁটুতে স্থাপন করা। (হাঁটুতে হাতের তালু রেখে হাত দিয়ে হাঁটুকে মযবুতভাবে ধরতে হয়) তাতে শরীরের ভারটা হাতের উপর পড়ে এবং কনুই ও হাঁটু সোজা থাকে।

খ. দুই বাহু পাঁজর থেকে আলাদা করে ফাঁক করে রাখা।

গ. পিঠ সোজাসুজি লম্বা করে বিছিয়ে রাখা। কোমর, পিঠ ও মাথা এক রেখা বরাবর সমান থাকবে এবং মাটির সমান্তরাল থাকে। মাথা পিঠ থেকে নিচু হয় না এবং পিঠ বাঁকা অবস্থায় থাকে না। অর্থাৎ মাথা পিঠের বরাবর রাখা।

রুকূ হতে উঠার নিয়ম :

ক.রুকু হতে উঠার সময় – সামিআল্ল¬াহু লিমান হামিদা বলা (সুন্নাত)। سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ “সামিআল্ল-াহু লিমান হামিদা”- আল্ল¬াহতায়ালা প্রশংসাকারীর প্রশংসা শোনেন।

খ. রুকু হতে সোজা হয়ে খাড়া হওয়া (ওয়াজিব)।

গ.রুকু হতে সোজা হয়ে খাড়া হওয়ার পর দোয়া পড়া।

رَبَّنَالَكَ الْحَمْدُ – حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيْهِ

রাব্বানা লাকাল হামদ, হামদান কাছিরান, তাইয়্যেবান, মোবারাকান ফীহি’। অর্থ : হে আল্ল¬াহ! সমস্ত প্রশংসা তোমার জন্য, এমন ব্যাপক প্রশংসা, যাতে রয়েছে খুবই উত্তম বরকত। এ প্রশংসায় মঙ্গল হোক, বরকত হোক।

ঘ. দুই হাত দু‘পাশে সোজা করে রাখা।

ঙ.রুকু হতে সোজা হয়ে খাড়া হওয়ার সময় রুকুর সমান হওয়া।

চ.রুকুতে দৃষ্টি পায়ের পাতার উপর রাখা।

সেজদায় : দ্বিতীয় রাকা’আতের প্রথম সেজদার মাসআলাহ সমূহ

১.সেজদাতে যাবার সময় اَللهُ اَكْبَرُ ‘আল্ল¬াহু আকবার’ বলা।

২.সেজদা করা (ফরজ)।

৩.সেজদায় দেরী করা (ওয়াজিব)।

৪.সেজদাতে থেকে তাসবিহ পড়া কমপক্ষে ৩ বার (সুন্নাত)।

سُبحَانَ رَبِّيَ الْاَعْلَي “সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা”-আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

এছাড়া দুই সেজদার মাঝখানে বসে পড়লে খুবই উত্তম একটি দোয়া যা হাদীস থেকে প্রমাণিত।

سُبحَانَكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّناَ وَبِحَمْدِك َ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِيْ

উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়াবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগ-ফিরলী।

অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি পাক পবিত্র, হে আমাদের রব! তোমার প্রশংসা সহকারে ফরিয়াদ করছি। তুমি আমাকে মাফ কর।

সেজদাতে যাওয়ার নিয়ম :

ক.হাতের পূর্বে হাঁটু যমীনে রাখা।

খ.তারপর দুই হাত রাখা।

গ.অতঃপর নাক রাখা। ঘ. সবশেষে কপাল রাখা।

ঙ.দুই কনুই উপরে উঠিয়ে রাখা।

চ.পিঠ সোজা করে রাখা।

ছ.দুই পায়ের পাতা খাড়া করে রাখা।

জ.দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো ভাঁজ করে কেবলামুখী করে রাখা

ঝ.হাতের তালু ও আঙ্গুুলগুলো বিছিয়ে রাখা।

ঞ. তালু থেকে কনুই পর্যন্ত দুইহাত মাটি থেকে উঁচু করে রাখা।

ট.একবারে মিলিয়ে না রাখা আবার বেশী ফাঁকও না রাখা।

ঠ.কেবলামুখী রাখার জন্য মিলিয়ে রাখা।

ড.সিজদায় দুই হাতের তালু ঘাড় অথবা কান বরাবর রাখা।

ঢ.এ সময় দৃষ্টি নাকের ডগার ওপর রাখা।

৫.সেজদা হতে উঠার সময় اَللهُ اَكْبَرُ ‘আল্লাহু আকবার’ বলা।

সেজদা হতে উঠার নিয়মসমূহ :

ক.প্রথম মাথা ও কপাল উঠাতে হয়।

খ.অতঃপর নাক উঠাতে হয়।

গ.সবশেষে হাত উঠাতে হয়।

.সেজদা হতে সোজা হয়ে বসা (ওয়াজিব)

সেজদা হতে সোজা হয়ে বসার নিয়ম :

ক.বাম পা মাটিতে বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসতে হয়।

খ.ডান পায়ের আঙ্গুলের উপর পাতা দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়।

গ.পায়ের আঙ্গুলগুলো ভাঁজ করে কিবলামুখী করে রাখতে হয়।

ঘ.বসা অবস্থায় দৃষ্টি কোলের দিকে/শাহাদাত অঙ্গুলির দিকে রাখা।

ঙ.বসার সময় সেজদার মত লম্বা করা।

চ.বসা অবস্থায় দোয়া পড়া¬Ñ     اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِيْ وَاهْدِنِيْ وَاعْفِنِيْ وَارْزُقْنِيْ وَازْبِرْنِيْ وَارْفَعْنِيْ

উচ্চারণ : আল্ল¬াহুম্মাগ ফিরলী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়া’ফিনী, ওয়ার জুকনী, ওয়াজ বিরণী, ওয়ার ফাহনী।

অর্থ : হে আল্ল¬াহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর, আমাকে হেদায়েত দান কর (অর্থাৎ দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ) আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখ, আমার রুজির ব্যবস্থা করে দাও, আমাকে সুস্থতা দান কর, আমার মান মর্যাদা বাড়িয়ে দাও।

দ্বিতীয় রাকাআতের দ্বিতীয় সেজদার মাসআলাহ সমূহ

১.সেজদাতে যাবার সময় اَللهُ اَكْبَرُ ‘আল্ল¬াহু আকবার’ বলা।

২.সেজদা করা (ফরজ)।

৩.সেজদায় দেরী করা (ওয়াজিব)।

৪.সেজদা অবস্থায় তাসবিহ পড়া কমপক্ষে ৩ বার।                                      سُبحَانَ رَبِّيَ الْاَعْلَي

উচ্চারণ : সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা।

অর্থ : আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

এছাড়াও পড়া যায়-                                                 سُبحَانَكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّناَوَبِحَمْدِكَ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِيْ

“সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়াবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগ-ফিরলী।”

অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি পাক পবিত্র, হে আমাদের রব! তোমার প্রশংসা সহকারে ফরিয়াদ করছি। তুমি আমাকে মাফ কর।

সেজদাতে যাওয়ার নিয়ম :

ক.হাতের পূর্বে হাঁটু যমীনে স্থাপন করা।

খ.তারপর দুই হাত স্থাপন করা।

গ.অতঃপর নাক স্থাপন করা।

ঘ.সবশেষে কপাল স্থাপন করা।

ঙ.দুই কনুই উপরে উঠিয়ে রাখা।

চ.পিঠ সোজা করে রাখা।

ছ. দুই পায়ের পাতা খাড়া করে রাখা।

জ.দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো ভাঁজ করে কেবলামুখী করে রাখা।

ঝ.হাতের তালু ও আঙ্গুলগুলো বিছিয়ে রাখা।

ঞ. তালু থেকে কনুই পর্যন্ত দুই হাত মাটি থেকে উঁচু করে রাখা।

ট. একবারে মিলিয়ে না রাখা আবার বেশী ফাঁকও না রাখা।

ঠ.সিজদায় দুই হাতের তালু ঘাড় অথবা কান বরাবর রাখা।

ড.এ সময় দৃষ্টি নাকের ডগার দিকে রাখা।

৫.সেজদা হতে উঠার সময় اَللهُ اَكْبَرُ ‘আল্ল¬াহু আকবার’ বলা।

সেজদা হতে উঠার নিয়ম :

ক.প্রথম মাথা ও কপাল উঠাতে হয়।

খ. অতঃপর নাক উঠাতে হয়।

গ.সবশেষে হাত উঠাতে হয়।

৬.প্রথম তাশাহহুদের বৈঠকের মাসআলাহ সমূহ :

ক.দ্বিতীয় রাকা’আতে উভয় সেজদা শেষ করে তাশাহহুদের জন্য বসা (ওয়াজিব)।

খ.বাম উরুর উপর বাম হাত এবং ডান উরুর উপর ডান হাত রাখা।

গ.ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা কিবলার দিকে ইঙ্গিত করা।

ঘ.আঙ্গুল হাঁটুর নীচে ঝুঁকে না পড়া।

ঙ.বুড়ো আঙ্গুল মধ্যমার উপর রেখে একটা বৃত্তের মতো বানানো।

তাশাহহুদের বৈঠকে বসার নিয়ম :

ক.বাম পায়ের পাতা মাটিতে বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসতে হয়।

খ.ডান পায়ের পাতা দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়।

গ.পায়ের আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী করে রাখতে হয়।

৭.তাশাহহুদ পড়া (ওয়াজিব)।

اَلتَّحِيَّاتُ لِلّٰهِ وَالصَّلَوْاةُ والْطَيِّبَاتُ اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ اَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ – اَلسَّلَامُ عَلَيْنَا وَ عَلٰى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِيْنَ اَشْهَدُاَن ْلَّا اِلٰهَ اِلَّاالله ُوَاَشْهَدُ اَنّ َمُحَمَّدًا عَبْدُه وَرَسُوْلُهُ –

উচ্চারণ : আত্তাহিয়্যাতু লিল্ল¬াহি ওয়াস্সালাওয়াতু ওয়াত তাইয়্যিবাত। আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান্নাবীয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লা¬হি ওয়াবারাকাতুহু। আসসালামু আলাইনা ওয়া আ‘লা ইবাদিল্ল¬াহিস সালিহীন। আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্ল¬াল্লাহু ওয়া আশহাদুআন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।

অর্থ : সমস্ত সম্মান মর্যাদা আল্লাহতায়ালার জন্য এবং নামায (শারীরিক ইবাদাত) এবং আত্মিক (জীবাত্মার) মানসিক (বক্ষস্থিতঅদৃশ্য গোশত পিন্ড কলব) ও শারীরিক (দেহাভ্যন্তরস্থ রিপুর অনিষ্টমুক্ত) পবিত্রতা বা পরিশুদ্ধতা শুধুমাত্র আল¬াহতায়ালার জন্য নিবেদিত। হে নবী! আপনার প্রতি সালাম (শান্তি) রহমত (করুণা) এবং বরকত (অনুগ্রহ) অবারিত ধারায় বর্ষিত হোক। আমাদের প্রতি এবং সালিহীন (আত্মিক মানসিক শারীরিক পরিশুদ্ধসম্পন্ন) বান্দাদের প্রতিও সীমাহীন সালাম (শান্তি) বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্ল¬াহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দাহ ও রাসূল (প্রেরিত পুরুষ)।

তাশাহহুদের বৈঠক হতে উঠে দাঁড়াবার নিয়ম :

ক.তাশাহহুদের বৈঠক শেষে اَللهُ اَكْبَرُ ‘আল্ল¬াহু আকবার’ বলে উঠে দাঁড়াতে হয়।

খ. পায়ের পাতার অগ্রভাগে এবং হাঁটু যমীনে ঠেকিয়ে দুই উরুতে ভর দিয়ে দাঁড়াতে হয়।

তৃতীয় রাকাআতের মাসআলাহ সমূহ

১. হাত বাঁধা।

২.দুইহাত নাভির উপরে আহলি হাদিস হলে বুকের উপর বাঁধা।

৩.মাথা সামান্য ঝুঁকিয়ে রাখা।

৪.দৃষ্টি সেজদার জায়গায় রাখা।

৫.তাসমিয়া (বিসমিল্ল¬াহ) পড়া।

৬.সূরা ফাতিহা সম্পূর্ণ অংশ পড়া (ওয়াজিব)।

اَ لْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ ﴿٢﴾ ا َلرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ ﴿٣﴾ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ ﴿٤﴾ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ﴿٥﴾ اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ﴿٦﴾ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِالْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَاالضَّالِّينَ ﴿٧﴾

উচ্চারণ : আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। আর রাহমানির রাহীম। মালিকি ইয়াওমিদ্দীন। ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতা’ঈন। ইহদিনাস সিরাত্বাল মুসতাক্বীম। সিরাতাল লাযীনা আন‘আমতা আলাইহিম, গায়রিল মাগদূবি আলাইহিম ওয়ালাদদ্বোয়াল্লীন। আমীন”।

অর্থ : সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহতায়ালার জন্য যিনি সকল সৃষ্টিজগতের পালনকর্তা। যিনি দাতা, দয়াময় মেহের বান। যিনি বিচার দিনের মালিক (অধিপতি), আমরা সর্বাবস্থায় একমাত্র তোমারই ইবাদত (দাসত্ব) করি এবং তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদেরকে সরল-সঠিক পথ দেখাও, সেসব লোকের পথ যাদেরকে তুমি নিয়ামত দান করেছো। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গযব (অভিশম্পাৎ) নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

বি: দ্র: ফরয নামায হলে সূরা ফাতেহার পর রুকুতে যেতে হয়। আর সুন্নাত নামায হলে সূরা ফাতেহার পর ক্বেরাত পড়ে রুকুতে যেতে হয়।

রুকুর মধ্যে : তৃতীয় রাকা’আতের রুকুর মাসআলাহ সমূহ

১.রুকুতে যাবার সময় اَللهُ اَكْبَر ‘আল্ল¬াহু আকবার’ বলা।

২.রুকু করা (ফরজ)।

৩.রুকুতে দেরী করা (ওয়াজিব)।

৪.রুকুতে গিয়ে তাসবীহ পড়া কমপক্ষে ৩ বার (সুন্নাত)।                                 سُبحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْم

উচ্চারণ : সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম।

অর্থ : আমি আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

এছাড়ও পড়া যায় –                                                 سُبحَانَكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّناَ وَبِحَمْدِكَ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِيْ

          উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়াবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগ-ফিরলী।

          অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি পাক-পবিত্র, হে আমাদের রব! তোমার প্রশংসা সহকারে ফরিয়াদ করছি, তুমি আমাকে মাফ কর।

রুকুতে যাবার নিয়ম :

ক. রুকুতে প্রথমে দুহাত হাঁটুতে স্থাপন করা। (হাঁটুতে হাতের তালু রেখে হাত দিয়ে হাঁটুকে মযবুতভাবে ধরতে হয়, তাতে শরীরের ভারটা হাতের উপর পড়ে এবং কনুই ও হাঁটু সোজা থাকে)।

খ. দুই বাহু পাঁজর থেকে আলাদা করে ফাঁক করে রাখা।

গ. পিঠ সোজাসুজি লম্বা করে বিছিয়ে রাখা। (কোমর, পিঠ ও মাথা এক রেখা বরাবর সমান থাকবে এবং মাটির সমান্তরাল থাকে মাথা পিঠ থেকে নিচু হয় না এবং পিঠ বাঁকা অবস্থায় থাকে না।

ঘ.মাথা পিঠের বরাবর রাখা।

৫.রুকু হতে উঠার সময় সামিআল্ল¬াহু লিমান হামিদা বলা (সুন্নাত)।سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

উচ্চারণ : সামিআল্ল¬াহু লিমান হামিদা।

অর্থ : (আল্ল¬াহতায়ালা প্রশংসাকারীর প্রশংসা শোনেন)

৬.রুকু হতে সোজা হয়ে দাঁড়ানো (ওয়াজিব)।

৭.রুকু হতে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পর দোয়া পড়া।رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ – حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا- مُبَارَكًا فِيْهِ

উচ্চারণ : রাব্বানা লাকাল হামদ, হামদান কাসিরান, তাইয়্যেবান, মোবারাকান ফীহি’।

অর্থ : হে আল্ল¬াহ! সমস্ত প্রশংসা তোমার জন্য, এমন ব্যাপক প্রশংসা, যাতে রয়েছে খুবই উত্তম বরকত। এ প্রশংসায় মঙ্গল হোক, বরকত হোক।

৮.দুই হাত দু‘পাশে সোজা করে রাখা।

৯.রুকু হতে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সময় রুকুর সমান হওয়া।

১০.রুকুতে দৃষ্টি পায়ের পাতার উপর রাখা।

সেজদায় : তৃতীয় রাকা’আতের প্রথম সেজদার মাসআলাহ সমূহ

১.সেজদাতে যাবার সময় اَللهُ اَكْبَر ‘আল্ল¬াহু আকবার’ বলা।

২.সেজদা করা (ফরজ)।

৩.সেজদায় দেরী করা (ওয়াজিব)।

৪.সেজদাতে থেকে তাসবিহ পড়া কমপক্ষে ৩ বার বলা (সুন্নাত)।                       سُبحَانَ رَبِّيَ الْاَعْلَي

উচ্চারণ : সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা।

অর্থ : আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি ।

سُبحَانَكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّناَ وَبِحَمْدِكَ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِيْ

উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়াবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগ-ফিরলী।

অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি পাক পবিত্র, হে আমাদের রব! তোমার প্রশংসা সহকারে ফরিয়াদ করছি! তুমি আমাকে মাফ কর।

সেজদাতে যাওয়ার নিয়ম :

ক.হাতের পূর্বে হাঁটু যমীনে রাখা।

খ.তারপর দুই হাত রাখা।

গ.অতঃপর নাক রাখা।

ঘ.সবশেষে কপাল রাখা।

ঙ.দুই কনুই উপরে উঠিয়ে রাখা।

চ.পিঠ সোজা করে রাখা।

ছ.দুই পায়ের পাতা খাড়া করে রাখা।

জ.দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো ভাঁজ করে কেবলামুখী করে রাখা।

ঝ.হাতের তালু ও আঙ্গুলগুলো বিছিয়ে রাখা।

ঞ.তালু থেকে কনুই পর্যন্ত দুইহাত মাটি থেকে উঁচু করে রাখা

ট.একবারে মিলিয়ে না রাখা আবার বেশী ফাঁকও না রাখা।

ঠ.কেবলামুখী রাখার জন্য মিলিয়ে রাখা।

ড. সিজদায় দুই হাতের তালু ঘাড় অথবা কান বরাবর রাখা।

ঢ. এ সময় দৃষ্টি নাকের ডগার ওপর রাখা।

৫.সিজদায় থেকে উঠার সময় اَللهُ اَكْبَر ‘আল্ল¬াহু আকবার’ বলা।

সেজদা থেকে উঠার নিয়মসমূহ :

ক.প্রথম মাথা ও কপাল উঠাতে হয়।

খ. অতঃপর নাক উঠাতে হয়।

গ.সবশেষে হাত উঠাতে হয়।

.সেজদা হতে সোজা হয়ে বসা (ওয়াজিব)

সেজদা হতে সোজা হয়ে বসার নিয়ম :

ক.বাম পা মাটিতে বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসতে হয়।

খ. ডান পায়ের আঙ্গুলের উপর পাতা দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়এ

গ. পায়ের আঙ্গুলগুলো ভাঁজ করে কিবলামুখী করে রাখতে হয়।

ঘ. বসা অবস্থায় দৃষ্টি পাঁজরের দিকে অথবা শাহাদাত অঙ্গুলির দিকে রাখা।

ঙ. বসার সময় সেজদার মত লম্বা করা।

চ. বসা অবস্থায় দোয়া পড়া : اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِيْ وَاهْدِنِيْ وَاعْفِنِيْ وَارْزُقْنِيْ وَازْبِرْنِيْ وَارْفَعْنِيْ

উচ্চারণ : আল্ল¬াহুম্মাগ ফিরলী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়াহ’ফিনী, ওয়ার জুকনী, ওয়াজ বিরণী, ওয়ার ফাহনী।

অর্থ : হে আল্ল¬াহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর, আমাকে হেদায়েত দান কর (অর্থাৎ দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ) আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখ, আমার রুজির ব্যবস্থা করে দাও, আমাকে সুস্থতা দান কর, আমার মান মর্যাদা বাড়িয়ে দাও।

তৃতীয় রাকা’আতের দ্বিতীয় সেজদার মাসআলাহ সমূহ

১.সেজদাতে যাবার সময় اَللهُ اَكْبَرُ ‘আল্ল¬াহু আকবার’ বলা।

২.সেজদা করা (ফরজ)।

৩.সেজদায় দেরী করা (ওয়াজিব)।

৪.সেজদাতে থেকে তাসবিহ পড়া কমপক্ষে ৩ বার বলা (সুন্নাত)।                           سُبحَانَ رَبِّيَ الْاَعْلَي

উচ্চারণ : সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা।

অর্থ : আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

এছাড়াও পড়া যায় –

سُبحَانَكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّناَ وَبِحَمْدِكَ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِيْ

উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়াবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগ-ফিরলী।

অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি পাক পবিত্র, হে আমাদের রব! তোমার প্রশংসা সহকারে ফরিয়াদ করছি, তুমি আমাকে মাফ কর।

সেজদাতে যাওয়ার নিয়ম :

ক.হাতের পূর্বে হাঁটু যমীনে রাখা।

খ.তারপর দুই হাত রাখা। গ. অতঃপর নাক রাখা।

ঘ.সবশেষে কপাল রাখা।

ঙ.দুই কনুই উপরে উঠিয়ে রাখা।

চ.পিঠ সোজা করে রাখা।

ছ.দুই পায়ের পাতা খাড়া করে রাখা।

জ.দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো ভাঁজ করে কেবলামুখী করে রাখা।

ঝ.হাতের তালু ও আঙ্গুলগুলো বিছিয়ে রাখা।

ঞ.তালু থেকে কনুই পর্যন্ত দুইহাত মাটি থেকে উঁচু করে রাখা।

ট.একবারে মিলিয়ে না রাখা আবার বেশী ফাঁকও না রাখা।

ঠ.কেবলামুখী রাখার জন্য মিলিয়ে রাখা।

ড.সেজদায় দুই হাতের তালু ঘাড় অথবা কান বরাবর রাখা।

ঢ.এ সময় দৃষ্টি নাকের ডগার ওপর রাখা।

৫.সেজদা হতে উঠার সময় اَللهُ اَكْبَرُ আল্ল¬াহু আকবার’ বলা।

সেজদা হতে উঠার নিয়ম :

ক.প্রথম মাথা ও কপাল উঠাতে হয়।

খ.এরপর নাক উঠাতে হয়।

গ.সবশেষে হাত উঠাতে হয়।

৬.সেজদা হতে সোজা হয়ে দাঁড়ানো (ওয়াজিব)।

সেজদা হতে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর নিয়ম :

সেজদা হতে দাঁড়াবার সময় দুইহাত পা ও হাঁটু ধরে উরুর উপর ভর করে দাঁড়াতে হয়।

চতুর্থ রাকাআতের মাসআলাহ সমূহ

১.হাত বাঁধা।

২.দুইহাত নাভির ওপরে (আহলি হাদিস হলে বুকের উপর) বাঁধা।

৩.মাথা সামান্য ঝুঁকিয়ে রাখা।

৪.দৃষ্টি সেজদার জায়গায় রাখা।

৫.তাসমিয়া – بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْم (বিসমিল্ল¬াহ) পড়া।

৬.আলহামদু সূরা পড়া (ওয়াজিব)।

اَ لْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ ﴿٢﴾ ا َلرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ ﴿٣﴾ مَالِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ ﴿٤﴾ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِيْنُ ﴿٥﴾

اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيْمَ ﴿٦﴾ صِرَاطَ الَّذِيْنَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِالْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَاالضَّالِّيْنَ ﴿٧﴾

উচ্চারণ : আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। আর রাহমানির রাহীম। মালিকি ইয়াওমিদ্দীন। ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকানাসতা ঈন। ইহদিনাস সিরাত্বাল মুসতাক্বীম। সিরাতাল লাযীনা আন‘আমতা আলাইহিম, গায়রিল মাগদূবি আলাইহিমওয়ালাদদ্বোয়াল্লিন। আমীন”।

অর্থ : সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল¬াহতায়ালার জন্য যিনি সকল সৃষ্টিজগতের পালনকর্তা। যিনি দাতা, দয়াময় মেহেরবান। যিনি বিচার দিনের মালিক (অধিপতি), আমরা সর্বাবস্থায় একমাত্র তোমারই ইবাদত (দাসত্ব) করি এবং তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদেরকে সরল-সঠিক পথ দেখাও, সেসব লোকের পথ যাদেরকে তুমি নিয়ামত দান করেছো। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গযব (অভিশম্পাৎ) নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

বিঃ দ্রঃ ফরয নামায হলে সূরা ফাতেহা পড়ার পর রুকুতে যেতে হয়। আর সুন্নাত নামায হলে সূরা ফাতেহা পড়ার পর ক্বেরাত পড়ে রুকুতে যেতে হয়।

রুকুর মধ্যে : চতুর্থ রাকা’আতের রুকুর মাসআলাহ সমূহ

১.রুকুতে যাবার সময় اَللهُ اَكْبَرُ ‘আল্ল¬াহু আকবার’বলা।

২.রুকু করা (ফরজ)।

৩.রুকুতে দেরী করা (ওয়াজিব)।

৪.রুকুতে তাসবীহ পড়া কমপক্ষে ৩ বার (সুন্নাত)।سُبحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْم

উচ্চারণ : সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম।

অর্থ : অর্থ-আমি আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

এছাড়াও পড়া যায়-

উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়াবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগ-ফিরলী।

অথ : হে আল্লাহ! তুমি পাক পবিত্র, হে আমাদের রব! তোমার প্রশংসা সহকারে ফরিয়াদ করছি, তুমি আমাকে মাফ কর।

রুকুতে যাবার নিয়ম :

ক. রুকুতে গিয়ে দুহাত হাঁটুতে স্থাপন করা। (হাঁটুতে হাতের তালু রেখে হাত দিয়ে হাঁটুকে মযবুতভাবে ধরতে হয়) তাতে শরীরের ভারটা হাতের উপর পড়ে এবং কনুই ও হাঁটু সোজা থাকে।

খ. দুই বাহু পাঁজর থেকে আলাদা করে ফাঁক করে রাখা।

গ. পিঠ সোজাসুজি লম্বা করে বিছিয়ে রাখা। (কোমর, পিঠ ও মাথা এক রেখা বরাবর সমান থাকবে এবং মাটির সমান্তরাল থাকে। মাথা পিঠ থেকে যেন নিচু না হয় এবং পিঠ বাঁকা অবস্থায় না থাকে।

ঘ. মাথা পিঠের বরাবর রাখা।

৫. রুকু হতে উঠার সময় সামিআল্ল¬াহু লিমান হামিদা বলা (সুন্নাত)। سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُُ

উচ্চারণ : সামিআল্ল¬াহু লিমান হামিদা

অর্থ : আল্ল¬াহতায়ালা প্রশংসাকারীর প্রশংসা শোনেন)

৬.রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো।

৭.রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পর দোয়া পড়া।رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ – حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا – مُبَارَكًا فِيْهِ

উচ্চারণ : রাব্বানা লাকাল হামদ, হামদান কাছিরান, তাইয়্যেবান, মোবারাকান ফীহি।

অর্থ : হে আল্ল¬াহ! সমস্ত প্রশংসা তোমার জন্য, এমন ব্যাপক প্রশংসা, যাতে রয়েছে খুবই উত্তম বরকত। এ প্রশংসায় মঙ্গল হোক,বরকত হোক।

৮.দুই হাত দু‘পাশে সোজা করে রাখা।

৯.রুকু হতে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সময় রুকুর সমান হওয়া।

১০.রুকুতে দৃষ্টি পায়ের পাতার উপর রাখা।

সেজদা : চতুর্থ রাকা’আতের প্রথম সেজদার মাসআলাহ সমূহ

১.সেজদাতে যাবার সময় اَللهُ اَكْبَر   ‘আাল্ল¬াহু আকবার’ বলা।

২.সেজদা করা (ফরজ)।

৩.সেজদা দেরী করা (ওয়াজিব)।

৪.সেজদাতে থেকে তাসবিহ পড়া কমপক্ষে ৩ বার বলা (সুন্নাত)।                         سُبحَانَ رَبِّيَ الْاَعْلَي

উচ্চারণ : সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা।

অর্থ : আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

এছাড়াও পড়া যায়Ñ                                               سُبحَانَكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّناَوَبِحَمْدِكَ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِيْ

উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়াবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগ-ফিরলী।

অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি পাক পবিত্র, হে আমাদের রব! তোমার প্রশংসা সহকারে ফরিয়াদ করছি, তুমি আমাকে মাফ করো।

সেজদাতে যাওয়ার নিয়ম :

ক.হাতের পূর্বে হাঁটু যমীনে রাখা।

খ.তারপর দুই হাত রাখা।

গ.অতঃপর নাক রাখা।

ঘ.সবশেষে কপাল রাখা।

ঙ.দুই কনুই উপরে উঠিয়ে রাখা।

চ.পিঠ সোজা করে রাখা।

ছ.দুই পায়ের পাতা খাড়া করে রাখা।

জ.দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো ভাঁজ করে কেবলামুখী করে রাখা।

ঝ.হাতের তালু ও আঙ্গুলগুলো বিছিয়ে রাখা।

ঞ. তালু থেকে কনুই পর্যন্ত দুইহাত মাটি থেকে উঁচু করে রাখা।

ট.একবারে মিলিয়ে না রাখা আবার বেশী ফাঁকও না রাখা।

ঠ.কেবলামুখী রাখার জন্য মিলিয়ে রাখা।

ড. সেজদায় দুই হাতের তালু ঘাড় অথবা কান বরাবর রাখা।

ঢ.এ সময় দৃষ্টি নাকের ডগার ওপর রাখা।

৫.সেজদা হতে উঠার সময় اَللهُ اَكْبَر ‘আল্ল¬াহু আকবার’ বলা।

সেজদা হতে উঠার নিয়মসমূহ :

ক. প্রথমে মাথা ও কপাল উঠাতে হয়।

খ. এরপর নাক উঠাতে হয়।

গ. সবশেষে হাত উঠাতে হয়।

৬.সেজদা হতে সোজা হয়ে বসা (ওয়াজিব)।

সেজদা হতে সোজা হয়ে বসার নিয়ম :

ক.বাম পা মাটিতে বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসতে হয়।

খ. ডান পায়ের আঙ্গুলের উপর পাতা দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়।

গ.পায়ের আঙ্গুলগুলো ভাঁজ করে কিবলামুখী করে রাখতে হয়।

ঘ.বসা অবস্থায় দৃষ্টি কোলের দিকে কিংবা শাহাদাত আঙ্গুলের দিকে রাখা।

ঙ.বসার সময় সেজদার মত লম্বা করা।

চ.বসা অবস্থায় দোয়া পড়া :     اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِيْ وَاهْدِنِيْ وَاعْفِنِيْ وَارْزُقْنِيْ وَازْبِرْنِيْ وَارْفَعْنِيْ

উচ্চারণ : আল্ল¬াহুম্মাগ ফিরলী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়াহফিনী, ওয়ার জুকনী, ওয়াজ বিরণী, ওয়ার ফাহনী।

অর্থ : হে আল্ল¬াহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর, আমাকে হেদায়েত দান কর (অর্থাৎ দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ) আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখ, আমার রুজির ব্যবস্থা করে দাও, আমাকে সুস্থতা দান কর, আমার মান মর্যাদা বাড়িয়ে দাও।

চতুর্থ রাকাতের দ্বিতীয় সেজদার মাসআলাহ সমূহ

১.সেজদাতে যাবার সময় اَللهُ اَكْبَر ‘আল্ল¬াহু আকবার’ বলা।

২.সেজদা করা (ফরজ)।

৩.সেজদাতে দেরী করা (ওয়াজিব)।

৪.সেজদাতে থেকে তাসবিহ পড়া কমপক্ষে ৩ বার (সুন্নাত)। سُبحَانَ رَبِّيَ الْاَعْلَي

উচ্চারণ : সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা।

অর্থ : আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

এছাড়াও পড়া যায়-                                                 سُبحَانَكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّناَ وَبِحَمْدِكَ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِيْ

উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়াবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগ-ফিরলী।

অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি পাক পবিত্র, হে আমাদের রব! তোমার প্রশংসা সহকারে ফরিয়াদ করছি! তুমি আমাকে মাফ করো ।

সেজদাতে যাওয়ার নিয়ম :

ক.প্রথমে হাঁটুতে হাত রেখে অত্যন্ত আরামের সাথে হাঁটু যমীনে রাখা।

খ.তারপর দুই হাত যমীনে রাখা।

গ.অতঃপর নাক রাখা।

ঘ.সবশেষে কপাল রাখা।

ঙ.দুই কনুই উপরে উঠিয়ে রাখা।

চ.পিঠ সোজা করে রাখা।

ছ.দুই পায়ের পাতা খাড়া করে রাখা।

জ.দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো ভাঁজ করে কেবলামুখী করে রাখা।

ঝ.হাতের তালু ও আঙ্গুলগুলো বিছিয়ে রাখা।

ঞ. তালু থেকে কনুই পর্যন্ত দুই হাত মাটি থেকে উঁচু করে রাখা।

ট.একবারে মিলিয়ে না রাখা আবার বেশী ফাঁকও না রাখা।

ঠ.সেজদায় দুই হাতের তালু ঘাড় অথবা কান বরাবর রাখা।

ড.এ সময় দৃষ্টি নাকের ডগার দিকে রাখা।

৫.সেজদা হতে উঠার সময় اَللهُ اَكْبَر ‘আল্ল¬াহু আকবার’ বলা।

সেজদা হতে উঠার নিয়ম :

ক.প্রথমে মাথা ও কপাল উঠাতে হয়।

খ.এরপর নাক উঠাতে হয়।

গ.সবশেষে হাত উঠাতে হয়।

৬.সেজদা হতে সোজা হয়ে বসা (ওয়াজিব)।

আখেরী বেঠকের মাসমালাসমূহ

১.আখেরী বৈঠক (ফরজ)।

২.আত্তাহিয়্যাতু পড়া (ওয়াজিব)।

اَلتَّحِيَّاتُ لِلّٰهِ وَالصَّلَوْاةُ وَالْطَيّبَاتُ – اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ ا َيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ ا َلسَّلَامُ عَلَيْنَا وَ عَلٰى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِيْنَ – اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّااللهُ وَاَشْهَدُاَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُ هْ وَرَسُوْلُهُ –

উচ্চারণ : আত্তাহিয়্যাতু লিল্ল¬াহি ওয়াছছালাওয়াতু ওয়াত তাইয়্যিবাত। আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান্নাবীয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লা¬হি ওয়াবারাকাতুহু। আসসালামু আলাইনা ওয়া আ‘লা ইবাদিল্ল¬াহিছ ছালিহীন। আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্ল¬াহু ওয়া আশহাদুআন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।

অর্থ : সমস্ত সম্মান মর্যাদা, নামায এবং আত্মিক, মানসিক, অদৃশ্য গোশত পিন্ড কলব ও শারীরিক পবিত্রতা বা পরিশুদ্ধতা শুধুমাত্র আল্লাহতায়ালার জন্য নিবেদিত। হে নবী! আপনার প্রতি সালাম (শান্তি) রহমত (করুণা) এবং বরকত (অনুগ্রহ) অবারিত ধারায় বর্ষিত হোক। আমাদের প্রতি এবং সালিহীন (আতিœক মানসিক শারীরিক দিক থেকে পরিশুদ্ধ) বান্দাদের প্রতিও সীমাহীন সালাম (শান্তি) বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্ল¬াহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দাহ ও রাসূল।

৩.দরূদ শরীফ পড়া (সুন্নাত)।

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَعَلٰى اَلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى اِبْرَهِيْمَ وَعَلٰى اَلِ اِبْرٰهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ                                                                  اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَعَلٰى اَلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى اِبْرَ هِيْمَ وَعَلٰى اَلِ اِبْرٰهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ –

উচ্চারণ : আল্ল¬াহুমা সালি¬ আ‘লা মুহাম্মদিওঁ ওয়া আ‘লা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্ল¬াইতা আ’লা ইবরাহীম ওয়া আ’লা আলি ইবরাহীমইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্ল¬াহুমা বারিক আ’লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ’লা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আ’লা ইবরাহীম ওয়া আ’লা আলি ইবরাহীম ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

অর্থ : হে আল্ল¬াহ! তুমি হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার বংশধরদের প্রতি রহমত বর্ষণ করো। যেমন রহমত বর্ষণ করেছো হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এবং তার বংশধরদের প্রতি। নিশ্চয়ই তুমি অত্যন্ত প্রশংসিত এবং মহান। হে আল্ল¬াহ হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবংতাঁর বংশধরদের প্রতি বরকত (অনুগ্রহ) বর্ষণ করো যেমন বরকত (অনুগ্রহ) বর্ষণ করেছো হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এবং তার বংশধরদের প্রতি। হে মহিমাময়! নিশ্চয়ই সকল প্রকার প্রশংসা তোমারই প্রাপ্য।

৪.দোয়ায়ে মাছুরা পড়া (সুন্নাত)।

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ ظَلَمتُ نَفْسِيْ ظُلْمًاكَثِيْرًا وَّ لاَيَغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلاَّ اَنْتَ فَاغْفِرْلِي ْمَغْفِرَةً مِّنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِىْ اِنَّكَ ا َنْتَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ

উচ্চারণ : আল্ল¬াহুম্মা ইন্নী জালামতু নাফসী জুলমান কাসীরাওঁ ওয়া লা-ইয়াগফিরুজ্জুনুবা ইল্ল¬া আনতা, ফাগফিরলী, মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা, ওয়ারহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম।

অর্থ : হে আল্ল¬াহ! আমি আমার আত্মার উপর বড়ই অত্যাচার করেছি এবং তুমি ভিন্ন কেউই পাপসমূহ ক্ষমা করতে পারে না। অতএব তুমি নিজ হাতে আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার উপর রহমত (করুণা) বর্ষণ করো। নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

৫.সালাম দিয়ে নামায শেষ করা (ওয়াজিব)।اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ

উচ্চারণ : আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্ল¬াহ

অর্থ : তোমার প্রতি আল্ল¬াহর সালাম (শান্তি) ও রহমত (করুণা) বর্ষিত হোক) বলে নামায শেষ করা।

৬.প্রথমে ডান দিকে ফেরা।

৭.তারপর বামদিকে ফেরা।

৮.ডানদিকে ও বাম দিকে ফেরার সময় দেহ কেবলামুখী থাকা।

৯.মাথা নিচু করতে হবে না।

১০.স্থির সোজা বসা অবস্থায় শুধু চেহারা ডানে-বামে ঘুরাতে হবে।

আখেরী বৈঠকে বসার নিয়ম :

ক. বাম পায়ের পাতা মাটিতে বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসতে হয়। খ. ডান পায়ের পাতা দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়।

গ. পায়ের আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী করে রাখতে হয়।

ঘ. বাম উরুর উপর বাম হাত এবং ডান উরুর উপর ডান হাত রাখা।

ঙ. ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা কিবলার দিকে ইঙ্গিত করা।

চ. আঙ্গুল হাঁটুর নীচে ঝুঁকে না পড়া।

ছ. বুড়ো আঙ্গুল মধ্যমার উপর রেখে একটা বৃত্তের মতো বানানো।

জ. দৃষ্টি শাহাদাত আঙ্গুলটির দিকে থাকা।

নামায শেষে তাসবীহ

হাদীসের আলোতে নামায শেষে তাসীহ পাঠের ফযীলত :

১.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-“দরিদ্র মুহাজিরগণ রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লামের নিকটে এসে আরয করলেন, সম্পদশালীরা জান্নাতের সমুচ্চ মর্যাদা ও চিরস্থায়ী নিয়ামত লাভের আমাদের চেয়ে অগ্রগামী হয়ে গেলেন!’ নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘কিভাবে তারা অগ্রগামী হয়ে গেল? সাহাবীরা বললেন, ‘নামায-রোযা ইত্যাদি আমল আমরাও করি, তারাও করেন, কিন্তু সম্পদশালী হওয়ার কারণে তারা দান-সদকা করে থাকেন, ক্রীতদাস মুক্ত করে থাকেন, যা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’ নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন বিষয় শিখিয়ে দিব যার দ্বারা তোমরা তোমাদের অগ্রগামী হয়ে যাবে আর ওই আমল করা ছাড়া কেউ তোমাদের চেয়ে অগ্রগামী হতে পারবে না? তারা বললেন, ‘অবশ্যই বলুন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম! নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম ‘বললেন তোমরা প্রতি নামাযের পর তেত্রিশ বার করে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার পড়বে’।”

বর্ণনাকারী বলেন, “কিছুদিন পর মুহাজির সাহাবীগণ পুনরায় নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হলেন এবং বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লুাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম! আমাদের সম্পদশালী ভাইরা এই আমল সর্ম্পকে জানতে পেরেছেন এবং তারাও তা করতে আরম্ভ করেছেন!’ নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম তখন বললেন,‘এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করে থাকেন’।” (সহীহ মুসলিম)

২.হযরত কা’ব ইবনে ইজরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম বলেন-নামায শেষে বাক্যগুলি যে পাঠ করে সে নিষ্কাম হয় না। বাক্যগুলো হল-তেত্রিশ বার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশ বার আলহামদুলিল্লাহ, চৌত্রিশ বার আল্লাহু আকবার।’ (সহীহ মুসলিম)

নামায শেষে দোয়া

১. সালাম ফিরানোর পর ৩ (তিন) বার আস্তাগফিরুল্লাহ (َسْتَغْفِرُ اللَّهَا) এবং

২. একবার আল্লাহু আকবার (اَللهُ اَ كْبَرُ)

৩.এরপর-পড়তে হয়                         اَللّٰهُمَّ اَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَاذَا الْجَلاَلِ وَالْاِكْرَامِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আনতাছ সালামু ওয়া মিনকাছ সালামু তাবারাকতা ইয়া জালজালালি ওয়াল ইকরাম।

অর্থ : হে আল্লাহ! শান্তির উৎস তুমি, তোমার থেকেই আসে শান্তি। হে প্রতাপশালী মহা মর্যাদার অধিকারী।

তুমি বড়ই বরকতময়-প্রাচুর্যশালী।

দোয়ার পদ্ধতি :

দু’আর শুরু ও শেষে আল্লাহতায়ালার হামদ-ছানা ও নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করা উচিত। বিনয় ও ন¤্রতার সঙ্গে কেঁদে কেঁদে দোয়া করা উচিত এই বিশ্বাস নিয়ে যে, আল্লাহতায়ালা আমাদের দোয়া শোনেন এবং কবুল করেন। তিনিই সকল সমস্যা থেকে মুক্তি দান করেন এবং সকল প্রয়োজন পূরণ করেন। আল্লাহ ছাড়া দোয়া কবুলকারী ও বিপদ থেকে পরিত্রাণকারী আর কেউ নেই।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-“আমি নামাজ পড়ছিলাম। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন। যখন আমি বসলাম তো প্রথমে আল্লাহতায়ালার হামদ-ছানা করলাম এবং নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পড়লাম। এরপর নিজের জন্য দোয়া করলাম। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘প্রার্থনা কর, তোমার প্রার্থনা মঞ্জুর হবে। প্রার্থনা কর, তোমাকে দান করা হবে’।” (জামে আত-তিরমিযী)

সাহু সাজদা :

যদি ভুলক্রমে নামাজের কোনো ফরয আগ-পিছ হয়ে যায় কিংবা কোনো ওয়াজিব বাদ পড়ে যায় অথবা নামাযি রাকা’আত-সংখ্যা ভুলে যায় তাহলে সাহু সেজদা করলে নামায শুদ্ধ হয়ে যাবে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে এ কাজগুলো করলে নামায ভেঙ্গে যাবে এবং পুনরায় নামায আদায় করতে হবে।

সাহু সাজদার নিয়ম :

সাহু সাজদার পদ্ধতি হল, নামাযের শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়ার পর একদিকে (ডান দিকে) সালাম ফিরিয়ে দু’টি সাহু সাজদা করবে। এরপর আত্তাহিয়্যাতু ও দরূদ শরীফ ও দোয়া পড়ে সালাম ফিরায়ে নামায শেষ করবে।

                                                                           ৭

এক নজরে নামায

. নামাযের ভেতরে পঠিত বিষয়সমূহ

নামাযের মধ্যে যে পঠিত কালামে পাকের কিছু আয়াত, দোয়া, দরূদ, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ ধারাবাহিকভাবে নিম্নে তুলে ধরা হলো :

জায়নামাযের দোয়া: اِنِّئْ وَجَّهْتُ وَجْهِئَ لِلَّذِئْ فَطَرَالسَّمَوَاتِ وَالْاَرْضَ حَنِيْفًا وَّمَا اَنَا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ

উচ্চারণ : ইন্নি ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্ল¬াযী ফাত্বারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বা হানীফাঁও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন ।

অর্থ : নিশ্চয়ই আমি একমুখী হয়ে স্বীয় আসমান এবং জমিনের স্রষ্টা আল্লাহতায়ালার প্রতি একনিষ্ঠভাবে মনোনিবেশ করলাম, আর আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই। (সূরা-৬ আনআম : আয়াত-৭৯)

নিয়ত : ফজরের দু’রাকা’আত ফরয : (যখন যে নামাজ পড়বে তার মনে মনে স্থির করাই নিয়্যাত)

نَوَيْتُ اَن ْاُصَلِّىَ   لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْفَجْرِ فَرْضُ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر –

অর্থ : নাওয়াইতু আন উসাল্লি¬য়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই সালাতিল ফাজরি ফারদুল্ল¬াহিতা’আলা মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি-আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আমি ফজরের দু’রাকা’আত ফরজ নামায আদায় করার জন্য নিয়ত করলাম Ñ আল্লাহু আকবার।

ইমামের পিছনে পড়লে বলতে হবে : ‘ইকতিদাইতুল বিহাজাল ইমাম’ এই ইমামের পেছনে নিয়ত করলাম।

একাকী নামায পড়ার সময় বলতে হবে আমি আল্ল¬াহর উদ্দেশ্যে কেবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে ফজরের দু‘রাকাত ফরয নামায পড়ছি-আল্ল¬াহু আকবার। দুই রাকা’আত নামায হলে رَكْعَتَى “রাকা’আতাই”, তিন রাকা’আত নামায হলে রাকা’আতাই-এর স্থলে ثلَاثَ رَكْعَاتِ ‘‘ছালাছা রাক‘আতি’’ এবং ৪ (চার) রাকাত হলে اَرْبَعْ رَكْعَاتِ “আরবায়া রাক‘আতি” বলতে হবে।

তাকবিরে তাহরিমা : اَللهُ اَكْبَر ُ   উচ্চারণ : আল্ল¬াহু আকবার। অর্থ : আল্ল¬াহই সর্বশ্রেষ্ঠ।

ছানার দোয়া: سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالٰى جَدُّكَ وَلَا اِلٰهَ غَيْرُكَ

উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্ল¬াহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তা‘আলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গায়রুকা।

অর্থ : হে আল্ল¬াহ! আপনার পবিত্রতা এবং প্রশংসা বর্ণনা করছি : আপনার নাম বড় মহান। আপনার মাহাত্ম্য ও সম্মান অতীব উচ্চ এবং আপনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, যার সামনে মাথা নত করা যায়।

তা’উয (আউযুবিল্লাহ) : اَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الْشَّيطَانِ الرَّجِيْمِ

উচ্চারণ : আ’উযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতোয়ানির রাজীম।

অর্থ : আমি বিতাড়িত শয়তানের (ওয়াসওয়াসা) কুমন্ত্রণা হতে একমাত্র আল্ল¬াহতায়ালার সাহায্য প্রার্থনা       করছি।

তাসমিয়াহ : بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْمِ

উচ্চারণ : বিসমিল্ল¬াহির রাহমানির রাহীম।

অর্থ : আমি পরম দাতা দয়াময় আল্ল¬াহ্তায়ালার নামে আরম্ভ করছি।

সূরা ফতিহা :

١ اَ لْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ ﴿٢﴾ ا َلرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ ﴿٣﴾ مَالِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ ﴿٤﴾ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِيْنُ ﴿٥﴾ اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيْمَ ﴿٦﴾ صِرَاطَ الَّذِيْنَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ ﴿٧﴾غَيْرِالْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَاالضَّالِّيْنَ ﴿٧﴾

উচ্চারণ : আলহামদু লিল্ল¬াহি রাব্বিল আলামীন। আর রাহমানির রাহীম। মালিকি ইয়াওমিদ্দীন। ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতা’ঈন। ইহদিনাস সিরাতোয়াল মুসতাক্বীম। সিরাত্বাল লাযীনা আন‘আমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগদূবি আলাইহিম ওয়ালাদ্বোয়াল্লিন। আমীন।

অর্থ: সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ্তা‘আলার জন্য যিনি সকল সৃষ্টিজগতের পালনকর্তা। যিনি দাতা, দয়াময় ও মেহেরবান যিনি বিচার দিনের মালিক (অধিপতি)। আমরা সর্বাবস্থায় একমাত্র তোমারই ইবাদত (দাসত্ব) করি এবং তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদেরকে সরল-সঠিক পথ দেখাও, সেসব লোকের পথ যাদেরকে তুমি নিয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গযব (অভিশম্পাৎ) নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। (সূরা-১ ফাতিহা : আয়াত ১-৭)

আল্ল¬াহতায়ালা নিয়ামত প্রাপ্তদের সম্পর্কে বলেছেন :

وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَالرَّسُولَ فَاُوْلٰئِكَ مَعَ الَّذِيْنَ اَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِّنَ الْنَّبِيِيْنَ وَالصِّدِّيْقِيْنَ وَالْشُهَدَاءِ وَاْلصّٰلِحِيْنَ وَحَسُنَ اُوْلٰئِكَ رَفِيْقْا

উচ্চারণ : ওয়া মাইইয়্যুতিইল্লাহা ওয়ার রাসূলা ফা উলাইকা মা’ আল্লাযিনা আন’আমাল্লাহু আলাইহিম মিনান নাবিয়্যিনা ওয়াসিদ্দিক্বিনা ওয়াশ শুহাদাই ওয়াস্সলিহিনা ওয়া হাসুনা উলাইকা রাফিক্ব।

অর্থ : যারা আল্ল¬াহ এবং তার রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্য করবে তারা নিয়ামত প্রাপ্তদের সঙ্গী হবে। নিয়ামত প্রাপ্তগণ হলেন নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সালেহীন (আত্মা এবং বক্ষস্থিত অদৃশ্য গোশত পিন্ড কলব ও দেহস্থ রিপুর অনিষ্ট থেকে পরিশুদ্ধ) ব্যক্তিগণ। আর তাদের সাহচর্যই হল সর্বোত্তম। (সূরা-৪ নিসা : আয়াত- ৬৯)।

যে কোনো একটি সূরা বা সুরাংশ : যেমন সূরা ইখলাস :

قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ ﴿١﴾ اَللهُ الصَّمَدُ ﴿٢﴾ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ﴿٣﴾ وَلَم ْيَكُنْ لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ﴿٤﴾

উচ্চারণ : ক্বুল হুয়াল্ল¬াহু আহাদ। আল্ল¬াহুস সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ। ওয়ালাম ইয়াকুল্ল¬াহু কুফুওয়ান আহাদ।

অর্থ : বলুন, তিনি আল্ল¬াহ এক, অদ্বিতীয় আল্ল¬াহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তার মুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেন নাই এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয় নাই। এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নাই। (সূরা-১১২ ইখলাছ : আয়াত ১-৪)

এরপর তাকবীর বলা হয় : اَللهُ اَكْبَر   উচ্চারণ : আল্ল¬াহু আকবর। অর্থ : আল্ল¬াহই সর্বশ্রেষ্ঠ।

রুকু অবস্থায় বলা হয় : سُبحَانَ رَبِّىَ الْعَظِيْم

উচ্চারণ : সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম।

অর্থ : আমি আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

এছাড়া আরো পড়া যায় : سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّناَ وَبِحَمْدِكَ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِىْ

উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়াবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগ-ফিরলী।

অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি পাক পবিত্র, হে আমাদের রব! তোমার প্রশংসা সহকারে ফরিয়াদ করছি! তুমি আমাকে মাফ কর।

রুকু থেকে দাঁড়ানোর সময় বলা হয় : سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

উচ্চারণ : সামিয়াল্ল¬াহু লিমান হামিদাহ।

অর্থ : আল্ল¬াহতায়ালা প্রশংসাকারীর প্রশংসা শোনেন।

দাঁড়িয়ে বলা হয় : رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ – حَمْدًا كَثِيْرًا   طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيْهِ

উচ্চারণ : রাব্বানা লাকাল হামদ, হামদান কাসিরান, ত্বায়্যিবান মুবারাকান ফীহি

অর্থ : হে আল্ল¬াহ, সমস্ত প্রশংসা তোমার জন্য, এমন ব্যাপক প্রশংসা যাতে রয়েছে খুবই উত্তম বরকত। এ প্রশংসায় মঙ্গল হোক, বরকত হোক।

তাকবীরে বলা হয় : اَللهُ اَكْبَر ُ

উচ্চারণ : আল্ল¬াহু আকবর।

অর্থ : আল্ল¬াহই সর্বশ্রেষ্ঠ

সিজদাতে বলা হয় : سُبحَانَ رَبِّيَ الْاَعْلَي

উচ্চারণ : সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা।

অর্থ : আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

এছাড়াও পড়তে হয়-سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّنَاَ وَبِحَمْدِكَ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِىْ

উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়াবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগ-ফিরলী।

অর্থ : হে আল্লাহ তুমি পাক পবিত্র হে আমাদের রব তোমার প্রশংসা সহকারে ফরিয়াদ করছি! তুমি আমাকে মাফ কর।

সেজদার মাঝে বসা অবস্থায় পড়ার দোয়া :

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِىْ وَارْحَمْنِىْ وَاهْدِنِى وَاعْفِنِىْ وَارْزُقْنِى وَازْبِرْنِى وَارْفَعْنِىْ

উচ্চারণ : আল্ল¬াহুম্মাগ ফিরলী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়াহফিনী, ওয়ার জুকনী, ওয়াজ বিরণী, ওয়ার ফা’নি।

অর্থ : হে আল্ল¬াহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর, আমাকে হেদায়েত দান কর (অর্থাৎ দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ) আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখ, আমার রুজির ব্যবস্থা করে দাও, আমাকে সুস্থতা দান কর, আমার মান মর্যাদা বাড়িয়ে দাও।

তাশাহুদ :

اَلتَّحِيَّاتُ لِلّٰهِ وَالصَّلَوٰاتُ وَالْطَيِّبَاتُ – اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ اَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ – اَلسَّلَام ُعَلَيْنَا وَعَلٰى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِيْنَ اَشْهَدُاَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ– –

উচ্চারণ : আত্তাহিয়্যাতু লিল্ল¬াহি ওয়াস্সালাওয়াতু ওয়াত তাইয়্যিবাতু। আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান্নাবীয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লা¬হি ওয়া বারাকাতুহু। আসসালামু আলাইনা ওয়া আ‘লা ইবাদিল্ল¬াহিস সালিহীন। আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্ল¬াল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।

অর্থ : সমস্ত সম্মান মর্যাদা নামায (শারীরিক ইবাদাত) এবং আত্মিক (জীবত্মার) মানসিক (বক্ষ : স্থিত) অদৃশ্য গোশত পিন্ড কলব) ও শারীরিক (দেহাভ্যন্তরস্থ রিপুর অনিষ্টমুক্ত) পবিত্রতা বা পরিশুদ্ধতা শুধুমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলার জন্য নিবেদিত। হে নবী! আপনার প্রতি সালাম (শান্তি) রহমত (করুণা) এবং বরকত (অনুগ্রহ) অবারিত ধারায় বর্ষিত হোক। আমাদের প্রতি এবং সালিহীন (আত্মিক মানসিক শারীরিক পরিশুদ্ধ সম্পন্ন) বান্দাদের প্রতিও সীমাহীন সালাম (শান্তি) বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্ল¬াহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দাহ ও রাসূল (প্রেরিত পুরুষ)।

দরূদ :

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى اَلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى اِبْرَهِيْمَ وَعَلٰى اَلِ اِبْرٰهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ                                                                 اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى اَلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى اِبْرَ هِيْمَ وَعَلٰى اَلِ اِبْرٰهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ –

উচ্চারণ : আল্ল¬াহুম্মা সাল্লি¬ আ‘লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ‘লা আলে মুহাম্মাদিন কামা সাল্ল¬াইতা আ’লা ইবরাহীমা ওয়া আ’লা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্ল¬াহুমা বারিক আ’লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ’লা আলে মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আ’লা ইবরাহীমা ওয়া আ’লা আলে ইবরাহীম ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

অর্থ : হে আল্ল¬াহ! তুমি হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার বংশধরদের প্রতি রহমতন বর্ষণ করো। যেমন রহমত বর্ষণ করেছো হযরত ইব্রাহিম (আ:) এবং তার বংশধরদের প্রতি। নিশ্চয়ই তুমি অত্যন্ত প্রশংসিত এবং মহান। হে আল্ল¬াহ! হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর বংশধরদের প্রতি বরকত (অনুগ্রহ) বর্ষণ করো যেমন বরকত (অনুগ্রহ) বর্ষণ করেছো হযরত ইব্রাহিম (আ:) এবং তার বংশধরদের প্রতি। হে মহিমাময়! নিশ্চয়ই সমস্ত প্রকার প্রশংসা তোমারই প্রাপ্য।

দুই, তিন ও চার রাকা’আত শেষে পড়তে হয় : তাশাহুদ ও দরূদ

اَلتَّحِيَّاتُ لِلّٰهِ وَالصَّلَوٰاتُ وَالْطَيِّبَاتُ – اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ اَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَ بَرَكَاتُهُ – اَلسَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلٰى عِبَاد ِاللهِ الصَّالِحِيْنَ اَشْهَدُاَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ– –

উচ্চারণ : আত্তাহিয়্যাতু লিল্ল¬াহি ওয়াস্সালাওয়াতু ওয়াত তাইয়্যিবাত। আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান্নাবীয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লা¬হি ওয়াবারাকাতুহু। আসসালামু আলাইনা ওয়া আ‘লা ইবাদিল্ল¬াহিছ ছালেহীন। আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্ল¬াহু ওয়া আশহাদুআন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।

অর্থ : সমস্ত সম্মান মর্যাদা, নামায এবং আত্মিক, মানসিক, অদৃশ্য গোশত পিন্ড কলব ও শারীরিক পবিত্রতা বা পরিশুদ্ধতা শুধুমাত্র আল্লাহতাআলার জন্য নিবেদিত। হে নবী! আপনার প্রতি সালাম (শান্তি) রহমত (করুণা) এবং বরকত (অনুগ্রহ) অবারিত ধারায় বর্ষিত হোক। আমাদের প্রতি এবং সালিহীন (আতিœক মানসিক শারীরিক দিক থেকে পরিশুদ্ধ) বান্দাদের প্রতিও সীমাহীন সালাম (শান্তি) বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্ল¬াহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দাহ ও রাসূল।

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍوَّعَلٰى اَلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى اِبْرٰهِيْمَ وَعَلٰى اَلِ اِبْرٰهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ

اّللهُمَّ بَارِكْ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى اَلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى اِبْرَ هِىْمَ وَعَلٰى اَلِ اِبْرٰهِيْمَ اِنَّكَ حَمِئْدٌ مَّجِيْدٌ –

উচ্চারণ : আল্ল¬াহুমা সাল্লে¬ আ‘লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ‘লা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্ল¬াইতা আ’লা ইবরাহীম ওয়া আ’লা আলি ইবরাহীমইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্ল¬াহুমা বারিক আ’লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ’লা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আ’লা ইবরাহীমওয়া আ’লা আলি ইবরাহীম ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

অর্থ : হে আল্ল¬াহ! তুমি হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার বংশধরদের প্রতি রহমত বর্ষণ করো। যেমন রহমত বর্ষণ করেছো হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এবং তার বংশধরদের প্রতি। নিশ্চয়ই তুমি অত্যন্ত প্রশংসিত এবং মহান। হে আল্ল¬াহ হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর বংশধরদের প্রতি বরকত (অনুগ্রহ) বর্ষণ করো যেমন বরকত (অনুগ্রহ) বর্ষণ করেছো হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এবং তার বংশধরদের প্রতি। হে মহিমাময়! নিশ্চয়ই সকল প্রকার প্রশংসা তোমারই প্রাপ্য।

দু’আয়ে মাছুরা :

اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ ظَلَمتُ نَفْسِىْ ظُلْمًا كَثِيْرًا وَّلاَيَغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلاَّ اَنْتَ فَاغْفِرْلِى ْمَغْفِرَةً     مِّنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِى ْاِنَّكَ اَنْتَ الْغَفُوْرُالرَّحِيْمُ –

উচ্চারণ : আল্ল¬াহুম্মা ইন্নী জালামতু নাফসী জুলমান কাসীরাওঁ ওয়ালা ইয়াগফিরুজ্জুনুবা ইল্ল¬া আনতা ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা ওয়ারহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম।

অর্থ :   হে আল্ল¬াহ! আমি আমার আত্মার উপর বড়ই অত্যাচার করেছি এবং তুমি ভিন্ন কেউই পাপসমূহ ক্ষমা করতে পারে না। অতএব তুমি নিজ হাতে আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার উপর রহমত (করুণা) বর্ষণ করো। নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

দোয়া কুনুতে (বিতরের নামাজে) বলা হয় :

ااَللّٰهُمَّ َ اِنَّا نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِى عَلَيْكَ الْخَيْرَ –وَنَشْكُرُكَ وَلاَنَكْفُرُ كَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يْفْجُرُكَ اَللّٰهُمَّ اِيْاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ و َالَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقْ– –

উচ্চারণ : আল্ল¬াহুমা ইন্না নাছতা’ঈনুকা ওয়া নাসতাগফিরুকা ওয়া নু’মিনু বিকা ওয়ানাত্ওায়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুসনী আলাইকাল খাইর। ওয়া নাশকুরুকা ওয়া লা-নাকফুরুকা, ওয়া নাখলা‘উ ওয়া নাতরুকু মাইঁইয়াফজুরুকা। আল্ল¬াহুম্মা ইয়্যাকা না’বুদু ওয়ালাকা নুসাল্লী ওয়া নাসজুদু ওয়া ইলাইকা নাস‘আ ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা ওয়া নাখশা আযাবাকা ইন্না আযাবাকা বিল কুফ্ফারী মুলহিক্ব।

অর্থ : হে আল্ল¬াহ! নিশ্চয়ই আমরা তোমার কাছে সাহায্য প্রার্থী, ক্ষমাপ্রার্থী, তোমার প্রতি নিশ্চিত বিশ্বাসী এবং তোমার উপর আস্থাশীল। আমরা তোমার প্রশংসা করি এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আমরা তোমার অমান্যকারীদের দলভুক্ত নই। যারা তোমার অবাধ্য আমরা তাদেরকে পরিত্যাগ করি এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করি। হে আল্ল¬াহ! আমরা কেবল তোমারই ইবাদত (দাসত্ব) করি। কেবল তোমারই জন্য সালাত আদায় করি, তোমারই উদ্দেশ্যেই সিজদাবনত হই। তোমার নৈকট্য লাভের জন্য সাধনায় লিপ্ত হই। তোমারই সামনে হাজির হই। তোমার রহমত প্রাপ্তির আশায় থাকি। আর তোমার আযাবের ভয়ে ভীত হই। যদিও জানি তোমার আযাব কাফিরদের জন্য নির্দিষ্ট।

নামায শেষে বলা হয় : اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ   উচ্চারণ : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্ল¬াহ।

অর্থ : তোমার প্রতি আল্ল¬াহর সালাম (শান্তি) ও রহমত (করুণা) বর্ষিত হোক।

তোমার মুমিন বান্দাহ প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে উপরোল্লি¬খিত বিস্ময়কর ও আবেগাপ্লুতত উপস্থাপনা, প্রশংসা, প্রার্থনা, অনুনয় বিনয়ের মাধ্যমে কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা দ্বারা নামায সম্পাদন করে। এই নামাযই একমাত্র দাসত্ব যা বান্দাহ ও আল্লাহর মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র স্থাপন করে। আমরা যদি অর্থের দিকে গভীর মনোনিবেশ করে সালাত আদায় করি তবেই সালাতের যথার্থ মর্ম ও আবেদন হৃদয়ঙ্গম করে সমাজে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ।

. নামায শেষে দোয়া

সালাম ফিরানোর পর ৩ (তিন) বার আস্তাগফিরুল্লাহ (اَسْتَغْفِرُ اللهَ) এবং একবার আল্লাহু আকবার (اَللهُ اَكْبَرْ) এরপর-পড়তে হয়-

اَللّٰهُمَّ اَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَاذَا الْجَلاَلِ وَ الْاِكْرَامِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আনতাছ সালামু ওয়া মিনকাছ সালামু তাবারাকতা ইয়া জালজালালি ওয়াল ইকরাম।

অর্থ : হে আল্লাহ! শান্তির উৎস তুমি, তোমা থেকেই আসে শান্তি। হে প্রতাপশালী মহা মর্যাদার অধিকারী। তুমি বড়ই বরকতময়-প্রাচুর্যশালী।

বিভিন্ন নামায

পাঁচ ওয়াক্ত ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাত এবং নফল নামাযের রাকা’আত সংখ্যা এবং ধারাবাহিকভাবে পড়ার বিস্তারিত নিয়ম-কানুন :

. ফজরের নামায

রাকা’আত সংখ্যা : ফযরের নামায ৪ (চার) রাকা’আত। যথা : দুই রাকা’আত সুন্নাত ও দুই রাকা’আত ফরয।

পড়ার নিয়ম : প্রথমে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে জায়নামাযের দোয়া পড়বে। এরপর নিয়ত করে দুই রাকা’আত ফযরের সুন্নাত নামায পড়বে। এরপর দুই রাকা’আত সুন্নাত নামায পড়ার পর দাঁড়িয়ে একামত দিয়ে দুই রাকা’আত ফরজ নামায পড়বে।

ফজরের দু’রাকা’আত সুন্নাতের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْفَجْرِ سُنَّةُ رَسُوْل ِاللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ –

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লি¬য়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতি সালাতিল ফাজরি সুন্নাতু রাসূলুল্লাহি তা’য়ালা মোতাওয়াজ জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি-আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আমি ফজরের দু’রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করার জন্য নিয়ত করলাম – আল্লাহু আকবার।

ফযরের দু’রাকা’আত ফরযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ ا لْفَجْرِ فَرْضُ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ –

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লি¬য়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতি সালাতিল ফাজরি ফারদুল্ল¬াহি তা’আলা মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি-আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আমি আল্ল¬াহর উদ্দেশ্যে কেবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে ফজরের দু‘রাকা’আত ফরয নামায পড়ছি। আল্ল¬াহু আকবার।

বি. দ্র : ইমামের পেছনে জামায়াতের সাথে নামায পড়তে হলে বলতে হবে “ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমাম” অর্থাৎ এই ইমামের পিছনে ইক্তেদা করলাম।

. যোহরের নামায

রাকা’আত সংখ্যা : যোহরের নামায ১২ (বার) রাকা’আত। ৪ (চার) রাকা’আত সুন্নাত, ৪ (চার) রাকা’আত ফরয, ২ (দুই) রাকা’আত সুন্নাত ও ২ (দুই) রাকা’আত নফল ।

পড়ার নিয়ম : প্রথমে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে জায়নামাযের দোয়া পড়বে। এরপর নিয়ত করে ৪ (চার) রাকা’আত সুন্নাত পড়বে। সুন্নাত নামায পড়ার পর দাঁড়িয়ে একামত দিয়ে ৪ (চার) রাকা’আত ফরয পড়বে। এরপর ২ (দুই) রাকা’আত সুন্নাত পড়বে। তারপর ২ (দুই) রাকা’আত নফল পড়বে।

যোহরের ৪ (চার) রাকা’আত সুন্নাতের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَع َرَكْعَاتِ صَلَوةِ الظُّهْرِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবা’য়া রাকাআ’তি সালাতিজ্জোহরে সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জি হান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে জোহরের চার রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করছি – আল্লাহু আকবার।

যোহরের ৪ (চার) রাকা’আত ফরযের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ رَكْعَاتِ صَلَوةِ الظُّهْر ِفَرْضُ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবা’য়া রাকা’আতি সালাতিজ্জোহরে ফারদুল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জি হান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে জোহরের চার রাকা’আত ফরয নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

যোহরের ২ (দুই) রাকা’আত সুন্নাতের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الظُّهْرِ سُنَّةُ رَسُوْل ِاللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লি¬য়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই সালাতিজ যোহরি সুন্নাতু রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা’য়ালা মুতাওয়াজ্জি হান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি-আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে জোহরের দু’রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

যোহরের ২ (দুই) রাকা’আত নফল নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ النَّفْلِ مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ –

উচ্চারণ :         নাওয়াইতু আন উসাল্লি¬য়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই সালাতিল নফলি মুতাওয়াজ্জি হান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি-আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে কেবলামুখী হয়ে দু’রাকা’আত নফল নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

. আছরের নামায

রাকা’আত সংখ্যা : আছরের নামায ৮ (আট) রাকা’আত। ৪ (চার) রাকা’আত সুন্নাত (ইচ্ছে হলে পড়তে পারে আবার না পড়লে গুনাহ নেই) ও ৪ (চার) রাকা’আত ফরয।

পড়ার নিয়ম : প্রথমে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে জায়নামাযের দোয়া পড়বে। এরপর নিয়ত করে ৪ (চার) রাকা’আত সুন্নাত পড়বে। সুন্নাত নামায পড়ার পর দাঁড়িয়ে একামত দিয়ে ৪(চার) রাকা’আত ফরয পড়বে।

আছরের চার রাকা’আত সুন্নাতের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ رَكْعَاتِ صَلَوةِ الْعَصْر ِسُنَّةُ رَسُوْل ِاللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِالشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবা’য়া রাকা’আতিসালাতিল আসরে সুন্নাতু রাসূলিল্লাহিতা’লা মুতাওয়াজ্জি হান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে আছরের চার রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

আছরের চার রাকা’আত ফরযের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ رَكْعَاتِ صَلَوةِ الْعَصْرِ فَرْضُ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اكْبَرُ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবা’য়া রাকা’আতিসালালিআসরে ফারদুল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে আছরের চার রাকা’আত ফরয নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

. মাগরিবের নামায

রাকা’আত সংখ্যা : মাগরিবের নামায ৫ (পাঁচ) রাকা’আত। তিন রাকা’আত ফরয ও দুই রাকা’আত সুন্নাত।

পড়ার নিয়ম : প্রথমে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে জায়নামাযের দোয়া পড়বে। এরপর একামত দিয়ে নিয়ত করে ৩ (তিন) রাকা’আত ফরয পড়বে। ফরয নামায পড়ার পর ২ (দুই) রাকা’আত সুন্নাত পড়বে।

মাগরিবের তিন রাকা’আত ফরয নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى ثَلاَثَ رَكْعَات ِصَلَوةِ الْمَغْرِبِ فَرْضُ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اكْبَرُ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা ছালাছা রাকা’আতি সালাতিল মাগরিবে ফারদুল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে মাগরিবের তিন রাকা’আত ফরয নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

মাগরিবের দুই রাকা’আত সুন্নাত নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْمَغْرِبِ سُنَّةُ رَسُوْل ِاللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اكْبَرُ –

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লি¬য়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই সালাতিল মাগরিবে সুন্নাতু রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা’লা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি-আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে মাগরিবের দু’রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

. এশার নামায

রাকা’আত সংখ্যা : এশার নামায ১০ (দশ) রাকা’আত। ৪ (চার) রাকা’আত সুন্নাত (ইচ্ছে করলে পড়তে পারে, না পড়লে গুনাহ নেই), ৪ (চার) রাকা’আত ফরয ও ২ (দুই) রাকা’আত সুন্নাত।

পড়ার নিয়ম : প্রথমে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে জায়নামাযের দোয়া পড়বে। এরপর নিয়ত করে ৪ (চার) রাকা’আত সুন্নাত পড়বে। সুন্নাত নামায পড়ার পর দাঁড়িয়ে একামত দিয়ে ৪(চার) রাকা’আত ফরয পড়বে। এরপর ২ (দুই) রাকা’আত সুন্নাত পড়বে।

এশার চার রাকা’আত সুন্নাতের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ رَكْعَاتِ صَلَوةِ ا لْعِشَاءِ سُنَّةُ رَسُوْل ِاللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اكْبَر

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা‘আলা আরবা’য়া রাকা’আতি সালাতিল এশায়ি সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তা‘আলা মুতাওয়াজ্জি হান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে এশার ৪ (চার) রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

এশার চার রাকা’আত ফরযের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ رَكْعَاتِ صَلَوةِ الْعِشَاء ِفَرْضُ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ –

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবা’য়া রাকা’আতি সালাতিল আসরে ফারদুল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে আছরের চার রাকা’আত ফরয নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

এশার দুই রাকা’আত সুন্নাতের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْعِشَاءِ سُنَّةُ رَسُوْل ِاللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اكْبَرُ

অর্থ : নাওয়াইতু আন উসাল্লি¬য়া লিল্লাহি তা‘আলা রাকা’আতাই সালাতিল এশায়ি সুন্নাতু রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়ালা মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি-আল্ল¬াহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে এশারের দু’রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

. বিতর নামায

বিতর নামায সংক্রান্ত কতিপয় হাদীস :

১.হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : বিতর ঠিক ফরয নামাযের ন্যায় অপরিহার্য নয় তবে রাসূলুল্লাহু সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর পড়েছেন এবং তিনি বলতেন : আল্লাহ বিতর (অর্থাৎ বেজোড়) এবং তিনি বিতরকে পছন্দ করেন। কাজেই হে কুরআন ওয়ালারা বিতর পড়তে থাকো।

২.হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহু সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি আশংকা করে যে, সে শেষ রাতে উঠতে পারবেনা, সে যেন রাতের প্রথমাংশে বিতর পড়ে নেয়। আর যারা শেষ রাতে ওঠার ইচ্ছা আছে, সে যেন শেষ রাতেই বিতর পড়ে নেয়। কারণ শেষ রাতের নামাযে ফিরিশতারা হাযির থাকে এবং এটি হচ্ছে শ্রেষ্ঠতম মর্যাদার কথা।

৩.হযরত বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি বিতরের নামায সত্য, যে ব্যক্তি বিতরের নামায পড়বেনা, সে আমার উম্মতের মধ্যে সামিল নয়। (আবু দাউদ)

৪.নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা তোমাদেরকে এমন এক নামায দ্বারা শক্তিশালী করেছেন, যা তোমাদের জন্য বহু মূল্যবান লাল বর্ণের উষ্ট্র অপেক্ষাও উত্তম। আর হা হচ্ছে বিতরের নামায। (জামে আত তিরিমিযী, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)

৫.হযরত আবদুল্লাহ মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন : নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের নামায রুকু দেয়ার পূর্বে দোয়া কুনুত পড়তেন। (ইবনে আবু শায়রাহ কুতনী)

৬.রাসূলে করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের নামাযের শেষ রাকা’আতে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে দোয়া কুনুত পাঠ করেছেন। (দারকুতনী নায়লুল আত্ততার)

রাকা’আত সংখ্যা : বিতের নামায তিন রাকা’আত।

পড়ার নিয়ম : প্রথমে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে জায়নামাযের দোয়া পড়বে। এরপর নিয়ত করে ৩ (তিন) রাকা’আত বিতরের ওয়াজিব পড়বে। দু’রাকা’আত শেষ করে তৃতীয় রাকা’আতে সূরা ফাতিহা পড়ে অন্য সূরা মিলিয়ে তাকবির বলে দু’হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠায়ে হাত বাধঁতে হবে এরপর দোয়া কুনুত পড়ে রুকু ও সেজদা করে বসে প্রথম তাশাহুদ এরপর দুরূদ এরপর দু’আয়ে মাসূরা পড়ে সালাম ফিরাতে হবে।

বিতর নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ ا َنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى ثَلاَثَ رَكْعَاتِ صَلَوةِ الْبِتْرِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ –

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা ছালাছা রাকা’আতি সালাতিল বিতরি ওয়াজিবুল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে বেতেরের তিন রাকা’আত ওয়াজিব নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

দোয়া কুনুতে (বিতরের নামাজে) বলা হয় :

ا َللّٰهُمَّ اِنَّا نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِى عَلَيْكَ الْخَيْرَ –وَنَشْكُرُكَ وَلاَنَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَفْجُرُكَ – اَللّٰهُمَّ اِيْاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَالَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ   بِالْكُفَّارِمُلْحِقْ– –

উচ্চারণ : আল্ল¬াহুম্মা ইন্না নাসতা’ঈনুকা ওয়া নাসতগফিরুকা ওয়া নু’মিনু বিকা ওয়ানাতওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুসনী আলাইকাল খাইর। ওয়া নাশকুরুকা ওয়ালা নাকফুরুকা ওয়া নাখলাউ ওয়া নাতরুকু মাইঁইয়াফজুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না’বুদু ওয়লাকা নুসাল্লী ওয়া নাসজুদু ওয়া ইলাইকা নাস’আ ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা ওয়া নাখশা আযাবাকা, ইন্না আযাবাকা বিল কুফফারি মুলহিক।

অর্থ : হে আল্ল¬াহ! আমি আমার আত্মার উপর বড়ই অত্যাচার করেছি এবং তুমি ভিন্ন কেউই পাপসমূহ ক্ষমা করতে পারে না। অতএব তুমি নিজ হাতে আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার উপর রহমত (করুণা) বর্ষণ করো। নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

. জুমআর নামায

জুম’আর নামায ও জুম’আর দিনের ফযীলত সম্পর্কে সূরা আল জুম’আর ৯-১০নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন :

إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْم ِالْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إ ِلَىٰ ذِكْرِ اللَّه ِوَذَرُو االْبَيْعَ ۚ ذَ‌ٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

উচ্চারণ : ইযা নুদিইয়ালিস সালাতি মিন ইয়াওমিল জুম’আতে ফাসয়াও ইলা যিকরিল্লাহি ওয়া-জারুল বাইয়া যালিকুম খাইরুল্ লাকুম ইন-কুনতুম তা’লামুন।

অর্থ : জুময়ার দিনে যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহ্র স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর, ইহাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা উপলব্ধি কর।

فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِيْ الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْل ِ اللهِ وَاذْكُرُو اللهَ كَثِيْرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

উচ্চারণ : ফা-ইযা কুদ্বিইয়াতিস সালাতু ফানতাশিরু ফিল আরদ্বি ওয়াব্তাগু মিন ফাদ্ব-লিল্লাহি ওয়াজকুরুল্লাহা কাছিরাল লাআল্লাকুম তুফলিহুন।

অর্থ : তারপর যখন (জুম’আর) নামায শেষ হয়ে যাবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর যিকর কর, তোমরা সফল হবে।

জুম’আর নামাযের গুরুত্ব ও ফযীলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :

১.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: উদিত সূর্যের প্রভাদীপ্ত দিনগুলোর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট দিনটি হচ্ছে জু’মআর দিন। এ দিনে সৃষ্টি করা হয়েছিল আদমকে এবং এ দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল আর এ দিনেই তাকে বের করা হয়েছিল সে খান থেকে। আর জুম’আর দিনই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে।

২.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুম’আর কথা প্রসংগে বললেন : যে ব্যক্তি ওযু করে, ভাল করে ওযু করে তারপর জুম’আর নামাযে আসে, খুতবা শুনে ও নীরবে বসে থাকে, তার সেই জুম’আ থেকে পরবর্তী জুম’আ পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত আরো তিন দিনের (সগীরা) গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি কাঁকরে হাত লাগালো সে অনর্থক সময় নষ্ট করলো।

৩.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। একবার জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি রাসূল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুময়া থেকে আর এক জুময়া এক রমযান থেকে আর এক রমযান, এই সমস্ত অন্তর্বতীকালে যে সব সগীরা গুনাহ হয় তার জন্য কাফফারাহ স্বরূপ যখন (সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি) কবীরা গুণাহ থেকে দূরে থাকে।

৪.হযরত সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ্ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি জুম’আর দিন গোসল করে নিজের সামর্থ্য মোতাবিক পবিত্রতা অর্জন করে ও তেল লাগায় অথবা ঘরে রাখা খুশবু মাখে, তার পর (ঘর থেকে) বের হয় এবং (মসজিদে গিয়ে) দুজন লোককে ফাঁক করে তাদের মাঝখানে বসে না, তারপর তার জন্য যে পরিমান (নফল ও সুন্নাত) নামায নির্ধারিত আছে তা পড়ে, এরপর ইমাম যখন খুতবা দেন তখন সে চুপটি করে বসে শোনে, তার সম্স্ত গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেবেন, যা সে সেই জুম’আ থেকে পরবর্তী জুম’আ পর্যন্ত করে। (ইমাম বোখারী এ হাদিসটি উদ্বৃত করেছেন)

৫.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি জুম’আর দিন নাপাক থেকে পাক হবার জন্য যেমন গোসল করা হয় তেমনি ভালভাবে গোসল করে তারপর প্রথম সময়ে জুম’আর নামাযের জন্য মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কুরবাণী করলো। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় সময়ে মসজিদে যায় সে যেন একটি গরু কুরবাণী করলো। যে ব্যক্তি তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন একটি শিংওয়ালা মেষ কুরবানী করলো। যে ব্যক্তি চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন একটি মুরগী আল্লাহর পথে দান করলো। আর যে ব্যক্তি পঞ্চম সময়ে যায় সে যেন আল্লাহর পথে একটি ডিম দান করলো। যখন ইমাম বের হন (তার হুজরা থেকে) তখন ফিরিশতারা খুতবা শুনার জন্য (মসজিদের দরজা থেকে) হাযির হয়ে যান এবং রেজিষ্টারে নাম উঠানো বন্ধ হয়ে যায়। (ইমাম বোখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদিসটি উদ্বৃত করেছেন)

৬.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। একবার জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুম’আর কথা প্রসংগে বললেন : এর মধ্যে এমন একটি সময় আছে, যদি মুসলিম বান্দা সেটি পেয়ে যায় এবং সে নামায পড়তে থাকে, আল্লাহর কাছে সে কিছু চায়, তাহলে আল্লাহ অবশ্যি তাকে তা দেন। তিনি হাতের ইশারায় তার স্বল্পতা ব্যক্ত করেছেন।

৭. যে ব্যক্তি জুম’আর নামাযের উদ্দেশ্যে বের হয়, সে প্রতি পদক্ষেপে এক বছরের নফল রোজা এবং এক বছরের নফল নামাযের সওয়াব লাভ করে। (ইমাম আহমদ তার মুসনাদে এ সম্পর্কে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস উল্লেখ করেছেন)।

৮.হযরত আওস ইবনে আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিনটি হচ্ছে জুম’আর দিন। কাজেই সেদিন আমার ওপর বেশী করে দরূদ পড়। কারণ তোমাদের দরূদ আমার ওপর পেশ করা হয়।

৯.তোমাদের সব দিনের মধ্যে জুম’আর দিনই হলো শ্রেষ্ঠ দিন। এ জুম’আর দিনেই হযরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দিনেই তাঁর ওফাত হয়েছে। এ দিনেই দুনিয়া ধ্বংসের জন্য শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে এবং এ দিনেই পুন : জীবিত করার লক্ষ্যে দ্বিতীয়বার শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে। সুতরাং জুম’আর দিনেই আমার প্রতি বেশী বেশী করে দরূদ পাঠ করবে। (আবু দাউদ ও আন-নাসায়ী)

১০.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনাহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয় জুম’আর দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোন মুসলমান বান্দাহ ঐ মুহূর্ত বা সময়ে আল্লাহ তায়ার নিকট কোন কল্যাণ প্রার্থনা করে, আল্লাহ নিশ্চয় তাকে ওটা দান করেন। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

১১.যে কোন মুসলমান জুম’আর দিন কিংবা জুম’আর রাতে মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহতায়ালা তাকে কবরের ফেৎনা হতে নিরাপদে রাখেন। (মুসনাদে আহমাদ, জামে আত-তিরমিযী)

১২.জুম’আর রাতটি হলো সবচেয়ে উজ্জ্বল রাত্রি, আর জুম’আর দিনটি হলো সবচেয়ে জ্যোতির্ময় দিন। (সুনানে বায়হাকী)

রাকা’আত সংখ্যা : জুম’আর নামায ১২ রাকা’আত।

পড়ার নিয়ম : প্রথমে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে জায়নামাযের দোয়া পড়বে। এরপর নিয়ত করে ৪ (চার) রাকা’আত কাবলাল জুম’আ নামায পড়বে এরপর আযান, খুৎবার ও এক্বামত দিয়ে জুম’আর দুই রাকা’আত ফরয নামায পড়বে এরপর বা’দাল জুম’আ অর্থাৎ জুম’আর পরবর্তী ৪ রাকা’আত সুন্নাত পড়বে এবং এরপর ২ (দুই) রাকা’আত সুন্নাত নামায পড়বে।

কাবলাল জুম’আ ৪ রাকা’আত সুন্নাত নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ ا ُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ رَكْعَاتِ صَلَوةِ قَبْلَ الْجُمُعَةِ سُنَّةُ رَسُوْلِ لِلّٰهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ -উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবায়া রাকা’আতি সালাতি ক্বাবলাল জুম’আতি সুন্নাতু রাসূলুলিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে কাবলাল জুম’আর চার রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

জুম’আর ২ রাকা’আত ফরয নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ ا ُسْقِطً عَنْ ذِمَّتِىْ فَرْضُ الظُّهْرِ بِاَدَاءِ رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْجُمُعَةِ فَرضُ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ -উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসকিতা য়ান যিম্মাতি ফারদোজ্জোহরি বিআদায়ি রাকা’আতাই সালাতি জুম’আতি ফারদিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে আমার উপর থেকে জোহরের ফরয উত্তীর্ণ করার জন্য দুই রাকা’আত জুম’আর ফরয নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

বা’দাল জুম’আর ৪ রাকা’আত সুন্নাত নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ ا ُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ رَكْعَاتِ صَلَوةِ بَعْدَ الْجُمُعَةِ سُنَّةُ رَسُوْلِ لِلّٰهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ –

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলাআরবায়ারাকা’আতি সালাতি বাদাল জুম’আতি সুন্নাতু রাসূলুলিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে বা’দাল জুম’আ চার রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

সুন্নাতুল ওয়াক্ত ২ রাকা’আত নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ سُنَّةِالْوَقْتِ سُنَّةُ رَسُوْلِ لِلّٰهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ –

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই সালাতি সুন্নাতুল! ওয়াকতি সুন্নাতু রাসূলুলিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

৮. তাহাজ্জুদের নামায

মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন রাতের শেষ প্রহরে নি¤œাকাশে অবতরণ করে বান্দাকে ডেকে বলেন : ‘আমার নিকট তোমাদের কার কি চাওয়া-পাওয়ার আছে তা চেয়ে নাও। কুরআনের অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে : ‘اُدْعُوْنِى اَسْتَجِبْ لَكُمْ’ অর্থাৎ আমার কাছে চাও, আমি তোমাদের দেয়ার জন্য প্রস্তুত। এ ব্যাপারে ফার্সি কবি বলেছেন : ‘হারগরি তু দেনেকো তইয়ার হ্যায়, জু না মাঙ্গে উছছে তু বেজার হায়।’ অর্থাৎ সকলকে তিনি দেয়ার জন্য প্রস্তুত। যে আল্লাহর কাছে চায় না বা দোয়া করে না তার প্রতি তিনি অসন্তুষ্ট। দুনিয়ার মন্ত্রি-মিনিস্টার, বস, মনিব অথবা যে কোনো উচ্চপদস্থ ব্যক্তির নিকট আমরা চাকরি, সুপারিশ, পদোন্নতি অথবা জাগতিক যে কোনো চাওয়া পাওয়ার ব্যাপারে একাধিকবার গমন করলে বা ধর্ণা দিলে তারা বিরক্ত হন। দুনিয়ার দাতা আর আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মধ্যে কতো আকাশ-পাতাল পার্থক্য! দুনিয়ার ক্ষমতাসীনদের থেকে কিছু পাওয়ার মধ্যে কোনো না কোনো বিনিময় বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকে। কিন্তু আল্লাহ্র রহমাত বান্দার জন্য একেবারেই শর্তহীন এবং নির্ভেজাল।

তবে হ্যাঁ, সে চাওয়ার উপযুক্ত সময়টি হলো ভোর রাতে সালাতুল ফযরের আযানের পূর্বে সালাতুত তাহাজ্জুদের নামাযান্তে। আমরা অনেকেই আছি সালাতুত তাহাজ্জুদ নামায আদায় না করার মাধ্যমে আসল মালিককে বাদ দিয়ে নকল মালিকদের নিকট ধর্ণা দিতে অভ্যস্ত। তাই আসুন না, আজ থেকেই শুরু করি! এছাড়া রাত্রি জাগরণ প্রবৃত্তিকে বশে আনার অত্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা এবং কুরআনকে হৃদয়ঙ্গমের উপযুক্ত সময়।

তাহাজ্জুদের নামায সম্পর্কে কালামেপাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :

وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ عَسَىٰ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا

১. আর হে নবী তুমি রাতের বেলায় তাহাজ্জুদ আদায় কর। এ দায়িত্ব তোমার জন্য অতিরিক্ত। তোমার পরওয়ারদিগার অবশ্যই তোমাকে মাকামে মাহমুদে (এক প্রশংসিত স্থানে) প্রেরণ করবেন। (সূরা ১৭ বনি ইসরাইল : আয়াত ৭৯)

يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ ﴿١﴾ قُمِ اللَّيْل َإِلَّا قَلِيلًا ﴿٢﴾ نِّصْفَه ُأَوِ انقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا ﴿٣﴾ أَوْزِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّل ِالْقُرْآنَ تَرْتِيلًا ﴿٤﴾

২.(হে চাদর আচ্ছাদিত নবী!) রাত্রিবেলা কিছু সময় নামাযে দাঁড়িয়ে থেকো। এটি অধিক রাত অর্থাৎ তারও কিছু কম সময় অথবা এর চাইতেও কিছু সময় বাড়িয়ে নাও। আর কুরআনকে থেমে থেমে স্পষ্ট করে পড়। আমি তোমাদের প্রতি একটি গুরুত্বভার বাণী নাযিল করতে যাচ্ছি। প্রকৃতপক্ষে রাত্রি জাগরণ প্রবৃত্তিকে বশে আনার জন্য অত্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা এবং কুরআনকে সঠিকভাবে পড়ে উপলব্ধি করার উপযুক্ত সময়। (সূরা ৭৩ মুযযাম্মিল : আতায়ত ১ থেকে ৪)

إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَىٰ مِن ثُلُثَيِ اللَّيْلِ وَنِصْفَهُ وَثُلُثَهُ وَطَائِفَةٌ مِّنَ الَّذِينَ مَعَكَ ۚ وَاَللهُ يُقَدِّرُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ ۚ

৩.নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক, জানেন যে, তুমি কখনো রাতের প্রায় দু-তৃতীয়াংশে, কখনো, মধ্যাংশে এবং কখনো এক-তৃতীয়াংশ জাগরণ করো, তোমার সাথে যারা আছে তাদের একটি দলও এবং আল্লাহই নির্ধারণ করেন দিন ও রাতের পরিমাণ। (সূরা ৭৩ মুযাম্মিল : আয়াত ২০)

كَانُوا قَلِيلًا مِّنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ ﴿١٧﴾ وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ ﴿١٨﴾

৪.তারা রাতের সামান্য অংশই ঘুমিয়ে কাটাত্ রাতের শেষ ভাগে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতো। (সূরা ৫১ আয যারিয়াত : আয়াত ১৭-১৮)

তাহাজ্জুদের নামায সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহ্ ুআলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় বাণী :

১.(তাহাজ্জুদ নামাযে) রাত্র জাগরণ তোমাদের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য কিনা তা তোমাদের পূর্ববর্তী নেককার বান্দাদের অনুসৃত তরীকা। তোমাদের পরোয়ারদেগারের নৈকট্য লাভের মাধ্যম। গোনাহ মাফের উপায় এবং গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার পথ। (জামে আত-তিরমিযী)

২.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, ফরজের পর সর্বাপেক্ষা উত্তম নামায হল রাত্রির নামায। অর্থাৎ তাহাজ্জুদের নামায। (মুসনাদে আহমেদ)

৩.হযরত মাসরুক বলেন : আমি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাতের নামায সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন : ফযরের দু’রাকা’আত ব্যতীত তা সাত, নয় ও এগার রাকা’আত ছিল। (বিতরে পড়তে তাই বেজোড় হত)। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

৪.হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে এমন এক ব্যক্তির প্রসংগ উঙ্খাপিত হলো যে এক রাতে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়েছিলো। তিনি বললেন : সে এমন এক ব্যক্তি যার দুই কানে – অথবা বলেছিল এক কানে শয়তান পেশাব করে দিয়েছে।

৫.হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও ফাতিমার কাছে রাতে আসেন এবং বলেন : তোমরা কি রাতের নামায (অর্থাৎ তাহাজ্জুদ) পড়না?

৬.হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ লোক তারা যারা কুরআনের বাহক এবং রাত্রি জাগরণকারী। (সুনানে বায়হাকী)

৭.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : হে লোক সকল? বেশি করে সালাম দাও, ক্ষুধার্তকে খেতে দাও, আত্মীয়তা রক্ষা কর, রাতে নামায পড় লোক যখন ঘুমায়, এবং নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ কর।

৮.আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ ঘুমিয়ে পড়লে শয়তান তার ঘাড়ে তিনটি গিরা দেয় এবং প্রতিটি গিরা দেয়ার সময় একটি ফু’দিয়ে বলে এখনো দীর্ঘ রাত অবশিষ্ট। সুতরাং ঘুমাতে থাক। সে যদি সেই সময় নিদ্রা ত্যাগ করে উঠে পড়ে এবং আল্লাহকে স্মরণ করে, তাহলে একটি (শেষ) গিরা খুলে যায়। তখন অযু করলে আরেকটি গিরা খুলে যায় এবং নামায পড়লে আরো একটি গিরা খুলে যায়। তখন প্রফুল্ল ও চটফটে মন নিয়ে তার ভোর হয় হয় অন্যথায় অলস ও অপবিত্র মন নিয়ে তার ভোর হয়। (সহীহ আল বোখারী -১০৭১)

৯.আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান ও কল্যাণময় আমাদের রব প্রতি রাত্রের তৃতীয়াংশে দুনিয়ার (নিকটবর্তী) আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেন, কে এমন আছে যে আমাকে ডাকতে চাও? (ডাকো) আমি তার ডাকে সাড়া দিব, কে এমন আছে যে আমাকে নিজের অভাব জানিয়ে তা দূর করার জন্য প্রার্থনা করতে চাও? (প্রার্থনা কর) আমি তাকে প্রদান করবো এবং কে এমন আছ যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে চাও? (ক্ষমা প্রার্থনা কর) আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। (সহীহ আল বোখারী -১০৭৪)

১০.যিয়াদ (ইবনে এলাকাতুস সালাবী) রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলে, আমি মুগীরাকে বলতে শুনেছি। রাতের বেলা নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতক্ষণ নামাযে দাঁড়িয়ে থাকতেন যে, তার দুটি পা অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) পায়ের দুটি নলা ফুলে যেত। এ ব্যাপারে বলা হত (আপনি এত কষ্ট করেন কেন, আল্লাহ তো আপনার অতীতের ও ভবিষ্যতের সকল গোনাহ মাফ করে দিয়েছেন। জবাবে তিনি বলতেন আমি কি (আল্লাহর) শোকর গোজার (কৃতজ্ঞ) বান্দাদের একজন হবো না? (সহীহ আল বোখারী -১০৫৯)

১১.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন, আল্লাহর নিকট সব চাইতে পছন্দনীয় ও প্রিয় নামায হলো দাউদের নামায। (অর্থাৎ আল্লাহর নবী হযরত দাউদ আলাহিস সালাম এর নামায আর আল্লাহর নিকট সব চাইতে পছন্দনীয় রোযা হল দাউদের রোযা। তিনি অধিক রাতে ঘুমাতেন, রাতের এক-তৃতীয়াংশ নামায পড়েন এবং পুনরায় একটা অংশ ঘুমাতেন। আর একদিন পর পর রোযা রাখতেন। (সহীহ আল বোখারী -১০৬০)

১২.হযরত উবাদা ইবনে সামেত নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে উঠে বলেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর, আল হামদুলিল্লাহি ওয়া সুবহানাল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

একক ও লা-শারীক আল্লাহ। মালিকানা ও রাজত্ব একমাত্র তারই, সকল প্রশংসা ও তারই। তিনি সবকিছুর ওপরই শক্তিমান। আল্লাহরই জন্য সকল প্রশংসা, তিনি মহান ও পবিত্র্ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে অপর কারুর শক্তি বা এখতিয়ার নেই। অত:পর সে যদি বলে, হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দাও। অথবা সে যদি কোনো দোয়া করে তবে তা গৃহীত হয়। আর যদি সে অযু করে নামায আদায় করে তাহলে তার নামায কবুল করা হয়। (সহীহ আল বোখারী -১০৮২)

১৩.রাসূলুল্লাহু সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম আবাসে কিংবা প্রবাসে কখনো তাহাজ্জুদ ত্যাগ করতেন না। যদি কখনো নিদ্রা অথবা অসুস্থতার কারণে রাতে বাদ পড়তো, দিনের বেলা পড়ে নিতেন। আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, হয়েছে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম বলেছেন, তোমাদের উচিত রাতে উঠে নামায পড়া। কারন এটা – (১) তোমাদের পূর্ববর্তী সালেহ লোকদের রাত্রি। (২) তোমাদের প্রভুর সান্নিধ্য লাভের উপায়। (৩) গুনাহসমূহ মুছে ফেলার হাতিয়ার এবং (৪) পাপের প্রতিবন্ধক। (জামে আত-তিরমিযী)

১৪.আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হলো রাতের নামায। (মুসনাদে আহমদ)

১৫.আবু হরায়রা রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির প্রতি রহম করেন, যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে উঠলো, নামায পড়ল, স্ত্রীকেও উঠালো এবং সেও নামায পড়লো, আর স্ত্রী উঠতে না চাইলে তার চোখে পানি ছিটিয়ে দিলো। আল্লাহ পাক ঐ নারীর প্রতিও রহম করেন, যে রাতে জেগে উঠলো, নামায পড়লো ও উঠালো এবং সেও নামায পড়লো, আর স্বামী উঠতে না চাইরে তার মুখমন্ডলে পানি ছিটিয়ে দিলো।

১৬.জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, গোটা রাত্রের মধ্যে এমন একটি সময় আছে, কোনো মুসলিম যদি তা লাভ করে এবং সে সময়টিতে আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের যে কোনো বিষয়ে প্রার্থনা করে, তবে অবশ্যি আল্লাহ তাকে তা দান করেন। আর সেই বিশেষ সময়টির প্রতি রাত্রেই আসে। (সহীহ মুসলিম)

১৭.আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মাতের শ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম লোক হলো কুরআনের বাহক ও রাত জাগরণকারী লোকেরা। (সুনানে বায়হাকি)

রাকা’আত সংখ্যা ও পড়ার নিয়ম : তাহাজ্জুদ নামায ৪ থেকে ১২ রাকা’আত পর্যন্ত পড়া যায়। দুই রাকা’আত করে পড়া উত্তম। হযরত নবীয়ে করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লা ইহা কখনো ৪, কখনো ৮ এবং কখনো ১২ রাকা’আত পড়ছেন।

পড়ার সময় : তাহাজ্জুদ নামায রাতের শেষ প্রহরে পড়তে হয়।

তাহাজ্জুদ নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ التَّهَجُّدِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ –

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই সালাতিত তাহাজ্জুদি সুন্নাতু রাসূলুলিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকা’আত তাহাজ্জুদের সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

. সালাতুল ইশরাক

সূর্য উদয় হতে সূর্য স্থির হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে জোহা বলে। সকালে বেলা উঠার পর নামায পড়লে এশরাক বলে। আর বেলা স্থির হওয়ার পূর্বে পড়লে চাশত বলে।

সালাতুল ইশরাক সম্পর্কে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহ্ ুআলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী :

১.একদিন রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের সাথে বসে কথাবার্তা বলছিলেন। কথাবার্তা বলার সময় তিনি বললেন : সূর্য কিছুটা উপরে উঠলে কেউ তখন ওযু করে দুই রাকা’আত নামায পড়বে তার সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে এবং সে এমন নিষ্পাপ হয়ে যাবে যেনো সবেমাত্র মায়ের পেট থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছে।

২.ফজরের নামায আদায় করে ধ্যানে বসে থেকে সূর্য উদয়ের পর ৪ (চার) রাকা’আত ইশরাকের নামায পড়লে একটি হজ্জ ও একটি ওমরার সওয়াব পাওয়া যাবে। আল্লাহ পাক তার ঐ দিনের যাবতীয় নেক মকসুদ পূর্ণ করে দেন এবং তার জন্য জান্নাতে ৭০ টি বালাখানা নির্মাণ করার আদেশ দিয়ে থাকেন।

৩.যে ব্যক্তি ইশরাকের ১২ রাকা’আত নামায পড়বে আল্লাহপাক তার জন্য জান্নাতে সোনার মহল তৈরী করে দিবেন। (জামে আত-তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ)

৪.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি জোহারের দু’রাকা’আত নামায সংরক্ষণ করবে, তার পাপরাশী মাফ করে দেয়া হয় যদিও উহা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়। (মুসনাদে আহমদ ও জামে আত-তিরমিযী)

৫.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন : তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির জোড়াগুলোর ওপর সাদকা ওয়াজিব। কাজেই প্রত্যেক বার ‘সুবহানাল্লাহ’বলা সাদকা হিসেবে বিবেচিত, প্রত্যেক বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা সাদকা হিসেবে বিবেচিত, প্রত্যেক বার ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’বলা সাদকা হিসেবে বিবেচিত এবং প্রত্যেকবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলা সাদকা হিসেবে বিবেচিত। আর ‘সৎকাজের আদেশ করা” সদকা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ‘অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখা’ সাদকা হিসেবে বিবেচিত হবে। আর এসবের মুকাবিলায় চাশতের যে দু’রাকা’আত নামায পড়া হবে তা যথেষ্ট বিবেচিত হবে।

রাকা’আত সংখ্যা ও পড়ার নিয়ম : সালাতুল ইশরাকের নামায নি¤েœ ২ রাকা’আত এবং ঊর্ধ্বে ৬ রাকা’আত পড়া যায়। আবার ইচ্ছা করলে অধিকও পড়া যায়।

পড়ারসময় : সূর্য উদয়ের পর থেকে দু’ঘন্টা পর্যন্ত এই নামাযের সময়।

ইশরাকের নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْاِشْرَاَقِ سُنَّةُرَسُوْل ِالله ِتَعَالٰى مُتَوَجِّهًااِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ –

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই সালাতিল ইশরাকি সুন্নাতি রাসূলুলিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকা’আত ইশরাকের নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

১০. চাশতের নামায

সূর্য উদয় হতে সূর্য স্থির হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে জোহা বলে। সকালে বেলা উঠার পর নামায পড়লে এশরাক বলে। আর বেলা স্থির হওয়ার পূর্বে পড়লে চাশত বলে।

চাশতের নামায সম্পর্কে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহ্ ুআলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় বাণী :

১.হাদীস শরীফে আছে, “যারা চাশতের নামায পড়বে তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ হতে থাকবে।” কোন কোন অলীয়ে কামেল বলেছেন : “দু’টি জিনিস কখনো একত্র হতে পারে না; একটি চাশতের নামায এবং অন্যটি দরিদ্রতা।” অর্থাৎ যথারীতি চাশতের নামায আদায় করলে দরিদ্রতা থেকে মুক্তি পাবে। আল্লাহ তার অবস্থা দিন দিনই সচ্ছল করতে থাকবেন।

২. বিশ্বনবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন : “আল্লাহ পাক বলেন : হে আদম সন্তান! তোমারা দিনের প্রথম ভাগে চার রাকা’আত নামায কেবল আমার উদ্দেশ্যেই পড়। আমি তোমাদের জন্য ঐ দিনের সন্ধ্যা পর্যন্ত সার্বিক কল্যাণের ব্যবস্থা করব।” (জামে আত-তিরমিযী)

রাকা’আত সংখ্যা ও পড়ার নিয়ম : চাশতের নামায ৪ রাকা’আত। দু’রাকা’আত করে পড়তে হয়।

চাশতের নামায পড়ার সময় : দিনের প্রথম ভাগে বেলা স্থির হওয়ার পূর্বে অর্থাৎ সূর্য মাথার উপর আসা পর্যন্ত। অর্থাৎ ইশরাকের নামাযের পর থেকে দ্বিপ্রহরের পূর্ব পর্যন্ত এই নামাযের সময়।

চাশতের নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْصَشْتِ مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اكْبَرُ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাক্’আতাই সালাতিল সাশতি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকা’আত চাশতের নামায আদায় করছি-আল্লাহু আকবার।

১১. আউয়াবীনের নামায

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি মাগরিবের নামায পড়ার পর ৬ রাকা’আত নফল নামায পড়ে সে ব্যক্তি ১২ (বার) বছর ইবাদত করার সওয়াব পায়। অবশ্যই যদি সে উক্ত নামাযের মাঝে কোন বাজে করা না বলে থাকে। (ইবনে মাজাহ)

রাকা’আত সংখ্যা ও পড়ার নিয়ম :

আউয়াবীনের নামায নফল। তা মোট ৬ রাকা’আত। দু’দু’ রাকা’আত করে আদায় করতে হয়। মাগরিবের সুন্নাতের পর এশার পূর্ব পর্যন্ত এই নামাযের সময়। তা উর্ধ্বে ২০ রাকা’আত পর্যন্ত পড়া যায়।

আউয়াবীন নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْاَوَّبِيْنِ مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ –

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাক্’আতাই সালাতিল আউয়াবীন মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জেহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

উচ্চারণ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকা’আত আউয়াবীনের নামায আদায় করছি-আল্লাহু আকবার।

আউয়াবীন নামায শেষে দোয়া :اَللّٰهُمَّ يَامُقَلِّبَ الْقُلْوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِىْ عَلٰى دِيْنِكَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্কুলুবি ছাব্বিত ক্কালবী আলা দ্বীনিকা।

অর্থ : হে আল্লাহ, হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! তুমি আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর কায়েম রাখ।

১২. তাহিয়্যাতুল অযুর নামায

অযুর পর দুই রাকা’আত নফল নামাযকে তাহিয়্যাতুল অযু বলে। তাহিয়্যাতুল সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী :

১. হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ফযরের নামাযের সময় বিলালকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে বিলাল! ইসলাম গ্রহণের পর তোমার সবচাইতে আশাব্যঞ্জক কাজের কথা আমাকে বল। কেননা বেহেশতে আমি তোমার আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। বিলাল বললেন, দিন বা রাতের মধ্যে যখনই আমি পরিচ্ছন্নতা গ্রহণ করেছি (অযু করেছি) তখনই সেই (অযু) দ্বারা আমার সামর্থ্য অনুসারে নামায় আদায় করেছি। এছাড়া আর কিছুতো করিনি।(সহীহ আল বোখারী -১০৭৮)

১.হযরত উকবা ইবনে আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে উত্তমরূপে অযু করে তারপর পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে দু’রাকা’আত নামায আদায় করে তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে’। (সহীহ মুসলিম)

রাকা’আত সংখ্যা ও পড়ার নিয়ম : তাহিয়্যাতুল অযুর নামায ২ দুই রাকা’আত।

পড়ার নিয়ম : অযু করে মসজিদে প্রবেশ করার পর না বসেই এই নামায পড়তে হয়।

তাহিয়্যাতুল অযু নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَى ْصَلَوةِ التَّحِيَةُ الْوَضُوْء ِمُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اكْبَرُ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই সালাতিত তাহিয়্যাতুল ওয়াযুই মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকা’আত তাহিয়্যাতুল অযু নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

১৩. দুখুলিল মসজিদের নামায

আবু কাতাদা ইবনে রাবয়ীল আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে, প্রথমে দু’রাকাআত নামায পড়ে নিবে তারপর বসবে। (সহীহ আল বোখারী -১০৮৯)

রাকা’আত সংখ্যা ও পড়ার নিয়ম : ২ দু’রাকা’আত নামায পড়া উত্তম। মসজিদে প্রবেশ মাত্র এ নামায পড়তে হয়।

দুখুলিল মসজিদের নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ دُخُوْل ِالْمَسْجِدِ مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اكْبَرُ

উচ্চারণ :         নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই ছালাতি দুখুলিল মাসজিদি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকা’আত দুখুলিল মাসজিদ নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

১৪. সালাতুত তাসবীহর নামায

আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, সুনানে বায়হাকী ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং জামে আত-তিরমিযী আবু রাফে থেকে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর চাচা আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে শিখানো চার রাকা’আত আলাদা ধরনের নামাযের কথা উল্লেখ করেছেন। এই নামায ‘সালাতুত তাসবীহ’ হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। এই নামায সংক্রান্ত হাদীসটি নিম্মরূপ :

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে লক্ষ করে বললেন, ‘চাচা! আমি কি আপনাকে একটি উপহার দিব না? আমি কি আপনাকে দান করবো না? আমি কি আপনাকে শুভ সংবাদ দিব না? আমি কি আপনাকে এমন দশটি কাজ করাব না? যখন আপনি তা করবেন, আল্লাহ আপনার পাপ ক্ষমা করে দিবেন। প্রথম অপরাধ, শেষ অপরাধ, পুরাতন অপরাধ, নতুন অপরাধ, অনিচ্ছাকৃত অপরাধ, ইচ্ছাকৃত অপরাধ, ছোট অপরাধ, বড় অপরাধ এবং গোপনীয় অপরাধ ও প্রকাশ্য অপরাধ। আপনি চার রাকা’আত নামায পড়বেন। আর প্রত্যেক রাকা’আতে সূরা ফাতেহা এবং যে কোন একটি সূরা পড়বেন এবং সুবাহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহি ওয়ালাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহ আকবার নিম্মে বর্ণিত নিয়মানুসারে ৭৫ বার করে ৪ রাকা’আতে মোট ৩০০ বার পড়বেন।

রাকা’আত সংখ্যা পড়ার নিয়ম : সালাতুত তাসবীহ নামায ৪ (চার) রাকা’আত। যে কোন সময় পড়া যায়।

সালাতুত তাসবীহ নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْتَسْبِيْهِ مُتَوَجِّهًاْ اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ –

উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবায়া রাকা’আতাই ছালাতিত তাছবিহি মুতাওয়াজ্জিহান ইলাজিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে ৪ (চার) রাকা’আত ছালাতুত তাসবীহ সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

সালাতুত তাসবীহ নামাযের দোয়া :سُبْحَانَ الله ِ – وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ – وَلَا اِلٰهَ اِلاَّ اَللهُ وَاللهُ اَكْبَرْ

উচ্চারণ : সুবাহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহ আকবার।

অর্থ : আমি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। সমস্ত প্রশংসাই আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।

পড়ার নিয়ম : ১ম রাকা’আতে ছানা এবং ‘আউযুবিল্লাহি মিনাস শাইতানির রাজিম’ ও বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ ও সূরা ফাতিহা ও যে কোন সূরা মিলাবার পর দাঁড়ানো অবস্থায় উপরোক্ত তাসবীহ ১৫ বার পড়বে। এরপরে রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবীহ শেষ করে ঐ অবস্থাতে ঐ তাসবীহ ১০ দশ বার পড়বে ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। তারপর সেজদায় না গিয়ে ঐ দাঁড়ানো অবস্থায়ই উহা ১০ বার পড়বে। অত:পর আল্লাহু আকবার বলে সেজদায় যাবে। ১ম সেজদার তাসবীহ (সুবহানা রাব্বিয়াল আলা) শেষ করে মাথা না তুলে ঐ তাসবীহ ১০ বার এবং দুই সেজদার মাঝে বসা অবস্থায় ১০ বার এবং দ্বিতীয় সেজদার তাসবীহ শেষ করেও ঐ অবস্থায় ঐ তাসবীহ ১০ বার পড়বে। এভাবে ১ম রাকা’আতের মধ্যেই উক্ত তাসবীহ মোট ৭৫ বার পড়া হবে। এরপর আল্লাহু আকবার বলে দ্বিতীয় রাকা’আাতের জন্য দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহার পর কেরাত শেষে ১৫ বার, রুকু শেষে ১০ বার রুকু থেকে উঠে ১০ বার, ১ম সেজদা শেষে ১০ বার দুই সেজদার মাঝে ১০ বার এবং দ্বিতীয় সেজদা শেষ ১০ বার এভাবে মোট ৭৫ বার পড়া হবে। আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করে তৃতীয় রাকা’আতেও এইভাবে ৭৫ বার এবং ৪র্থ রাকায়াতেও ৭৫ বার উক্ত তাসবীহ পড়া হবে। এতে করে ৪ রাকা’আতে মোট ৭৫৪=৩০০ (তিনশ) বার তাসবীহ পাঠ করা হবে। বস্তুত এত অধিক সংখ্যক তাসবীহ’র জন্য এই এই নামাযকে তাসবীহ’র নামায বলা হয়।

এই নামাযের ১ম রাকায়াতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ‘ইযা যুলযিলাতিল আরদ’ দ্বিতীয় রাকা’আতে সূরা ‘আলহাকু মুত্তাকাছুর’, তৃতীয় রাকা’আতে সূরা ‘ইয়া আইউহাল কাফিরুন’ এবং ৪র্থ রাকা’আতে সূরা ‘কুল হুয়াল্লাহ আহাদ’ পাঠ করা মুস্তাহাব।

এই চার রাকা’আত নামায যদি প্রতিদিন পড়তে পারেন তাহলে খুব ভালো। সম্ভব না হলে প্রতি জুময়ায় একবার পড়ুন। তাও সম্ভব না হলে প্রতি মাসে একবার, তাও সম্ভব না হলে বছরে একবার, তাও সম্ভব না হলে জীবনে একবার হলেও পড়–ন।

১৫. শবে বারাতের নামায

রাকা’আত সংখ্যা : শবে বারাতের নামায সংখ্যা নির্দিষ্ট নেই তবে দুই রাকা’আত করে যত রাকা’আত ইচছা পড়া যায়।

পড়ার নিয়ম : نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ لٰيْلَةِ بَرَعْةِ مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ –

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবায়া রাকা’আতাই ছালাতি লাইলাতুল বারআতি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হবে ২ (দুই) রাকা’আত শবে বরাতের নফল নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

১৬.শবে ক্বদরের নামায

রাকা’আত সংখ্যা : শবে ক্বদরের নামায সংখ্যা নির্দিষ্ট নেই তবে যত রাকা’আত ইচছা পড়া যায়।

পড়ার নিয়ম : দুই রাকা’আত করে পড়তে হয়।

শবে ক্বদরের নামাযের নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ لٰيْلَةِ الْقَدْرِ مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই ছালাতি লাইলাতুল ক্বাদরি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকা’আত শবে কদরের নফল নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

১৭.সালাতুত তারাবীহ নামায

রাকা’আত সংখ্যা : তারাবীহ নামায ২০ রাকা’আত।

পড়ার নিয়ম : এশার পরে ও বেতর নামাযের পূর্বে এই নামায দুই রাকা’আত করে আদায় করতে হয়।

সালাতুত তারাবীহ নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوة ِا لتَّرَابِيْحِ سُنَّةِ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَر ُ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই ছালাতিত তারাবাহি সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে ২ দুই রাকা’আত তারাবীহর সুন্নাত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

তারাবীহ’র দোয়া :

سُبْحَانَ ذِىْ الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوْتِ سُبْحَانَ ذِىْ الْعِزَّةِ و َالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ و َالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيْاءِ وَالْجَبَارُوْتِ سُبْحَانَ ذِى الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِىْ لَايَنَامُ وَلاَيْمُوْتُ اَبَدًا اَبَدًا سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنَا و َرَبُّ الْمَلَئِكَةِ وَالْرُّوْحِ

উচ্চারণ : সুবহানা যিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা যিল ইজ্জাতে ওয়াল আযমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল ক্বুদরাতি ওয়াল কিবরিয়াই ওয়াল জাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল লাযী লা ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুতু আবাদান আবাদন সুব্বুহুন ক্বুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়াররূহ।

অর্থ : আমি তাঁরই পবিত্রতা ঘোষণা করছি যিনি সমস্ত সাম্রাজ্য ও ফেরেশতাকুলের অধিপতি। তাঁরই পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি যিনি মান, সম্ভ্রম, ভীতি, ক্ষমতা, অহংকার ও প্রতাপের মলিক। আমি আরো পবিত্রতা প্রচার করছি তাঁরই যিনি চিরঞ্জীব শাহানশহ, অনাদি অনন্তকাল ধরে যার কোন নিদ্রাও নেই, মৃত্যুও নেই, যিনি মহাপবিত্র ও চির নিষ্কলংক, যিনি আমাদের প্রতিপালক প্রভু এবং যিনি ফেরেশতামন্ডলী ও বিশেষ করে হযরত জিবরাইলেরও প্রভু।

তারাবীহ্র’ মোনাজাত :

اَللّٰهُمَّ اِنَّانَسئَلُكَ الْجَنَّةَ وَنَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّار يَا خَالِقَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ بِرَحْمَتِكَ يْا عَزِيْزُ يْاغَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَاسَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَا بَارُّ اَللّٰهُمَّ اجِرْنَا مِنَ ا لنَّارِيَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ بِرَحْمَتِكَ يَا ا َرْحَمَ الرَّاحِمِيْن

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউযুবিকা মিনান্নারি। ইয়া খালিক্বাাল জান্নাতি ওয়াননার। বিরাহমাতিকা, ইয়া আজীজু ইয়া গাফফারু ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার। ইয়া রাহীমু ইয়া জাব্বার। ইয়া খালিকু ইয়া বারিয়্যূ। আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান্নার। ইয়া মুজিরু ইয়া মুজিরু ইয়া মুজিরু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমরা তোমারই নিকট জান্নাত প্রার্থনা করি এবং তোমারই নিকট জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই। ওগো জান্নাত ও জাহান্নাম সৃজনকারী। তোমারই রহমতের আমরা ভিখারী- ওগো মহাশক্তিধর ও মহা ক্ষমাশীল, ওগো দয়াময় ও দোষ গোপনকারী, ওগো করুণাময় ও প্রতাপশালী, ওগো সৃষ্টিকর্তা, হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর- ওগো রক্ষাকারী, ওগো রক্ষাকারী, ওগো রক্ষাকারী। আমরা তোমার রহমত প্রার্থনা করি-ওগো সকল দয়ালুর দয়ালু।

১৮.সফরের নামায

কেউ যদি নিজ এলাকা থেকে আটচল্লিশ মাইল দূরে যাওয়ার এবং সেখানে পৌঁছে পনেরো দিনের কম থাকার নিয়ত করে তাহলে সে কসর পড়বে। নিজ এলাকা থেকে বের হওয়ার পর থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত। কসর অর্থ হচ্ছে চার রাকা’আত বিশিষ্ট নামায দুই রাকা’আত পড়া। যথা জোহর আসর ও ইশা। দুই বা তিন রাকা’আত বিশিষ্ট নামাযে কসর নেই। যেমন ফজর ও মাগরিবের নামায এবং বিতর নামায।

সফরের নামায সম্পর্কে কতিপয় হাদীসে রাসূল :

১.ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। আল্লাহতায়ালা তোমাদের নবীর মাধ্যমে আবাসে চার রাকা’আত এবং প্রবাসে (সফরে) দুই রাকাত নামায ফরয করেছেন। (সহীহ মুসলিম)

২.আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহু সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মক্কা রওয়ানা করি। আমরা মক্কা থেকে মদিনা ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি চার রাক’আতের নামায দুই রাকা’আত পড়েছেন। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

রাসূলুল্লাহু সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সকল সফরের নামায দুই রাকাত করে পড়েছেন। সুতরাং আমাদেরও শুধু উচিৎ নয় বরং আবশ্যিকভাবে সফরে চার রাকা’আত নামায দুই রাকা’আত করে পড়া।

১৯. জমা বাইনাস সালাতাইন

জমা বাইনাস সালাতাইন শব্দের অর্থ হল, দুই নামায একত্রে আদায় করা। যেমন, জোহর ও আছর, কিংবা মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করা। এটা দু’ভাবে হতে পারে :

১.জমউত তাকদীম’ ও ‘জমউত তাখীর’। ‘জমউত তাকদীম’ অর্থ হল-দ্বিতীয় নামাযকে এগিয়ে এনে প্রথম নামযের সময়ে আদায় করা। যেমন যোহর ও আসরের নামায যোহরের সময় একত্রে আদায় করা আর ‘জমউত তাখীর’অর্থ হল-প্রথম নামাযকে বিলম্বিত করে দ্বিতীয় নামাযের সময় আদায় করা। যথা মাগরিব ও এশার নামায এশার সময় একত্রে আদায় করা।

২.দ্বিতীয় পদ্ধতিকে বলা হয় ‘জময়ে জাহিরী’। এর অর্থ হচ্ছে প্রথম নামায তার ওয়াক্তের শেষ অংশে আর দ্বিতীয় নামায পরের ওয়াক্তের প্রথম অংশে আদায় করা। এভাবে বাহ্যত দুই নামায একত্রে পড়া হলেও কোনো নামাযকেই তার ওয়াক্ত থেকে সরানো হয়নি এবং যথা যোহরের নামাযের সময় যদি বেলা ১.০০ টা থেকে বিকাল ৪.০০ টা পর্যন্ত হয় এবং আসরের সময় ৪.০০ টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হয় তাহলে ‘জময়ে জাহিরী’ এভাবে হতে পারে যে, যোহরের মানায পৌনে ৪.০০ টায় আদায় করা হল আর আসরের নামায ৪.০০টায় আদায় করা হল।

২০.সালাতুত তাওবা

আল্লাহতায়ালা মানুষের মধ্যে মন্দ দুই প্রবণতাই সুপ্ত রেখেছেন। অত:পর মানুষের জন্য ভালো ও মন্দ দুই পথ চিহ্নিত করে দিয়েছেন, যাতে করে মানুষ তার কর্মের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে-কে আল্লাহ সন্তুষ্টিকামী, আর কে প্রবৃত্তির অনুসারী। নবীগণ ছাড়া অন্য সকল মানুষেরই কিছু না কিছু গুনাহ হয়ে যায়। তবে মুমিন এ কারণে হতাশ হয় না; বরং আপন কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করে এবং গুনাহর সিয়হী থেকে পরিষ্কার হওয়ার চেষ্টা করে। তাওবা অর্থ হল কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং আগামীতে না করার জন্য সংকল্প করা।

বিপদ-মুছিবতে আল্লাহর রহমতের প্রতি নিরাশ না হওয়ার ব্যাপারে কালামে পাকের ঘোষণা :

قُلْ يَاعِبَادِيَ الَّذِيْنَ أ َسْرَفُوا عَلٰى أَنفُسِهِمْ لَاتَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللهِ إِنَّ اللهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيْعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيْمُ

উচ্চারণ : ক্বুল ইয়া ইবাদিইয়াল্লাযীনা আসরাফূ আলা আনফূসিহিম লা-তাক্বনাতু মির রাহমাতিল্লাহ। ইন্নাল্লাহা ইয়াগফিরুয যুনুবা জ্বামী‘আ; ইন্নাহূ হুওয়াল গাফুরুর রাহীম।

অর্থ : আপনি আমার ওই বান্দাদের বলে দিন, যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছে, তোমাদের আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল গোনাহ ক্ষমা করবেন। নি:সন্দেহে তিনিই হলেন পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু। (সূরা ৩৯ যুমার : আয়াত ৫৩)

وَإِنِّي ْلَغَفَّارٌ لِّمَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَىٰ

উচ্চারণ :ওয়াইন্নী লাগাফ্ফারুল লিমান তাবা ওয়াআমানা ওয়াআমিলা ছালিহান ছুম্মাহ তাদা।

অর্থ : আমি অতি ক্ষমাশীল তার প্রতি, যে তাওবা করে, ঈমান আনে সৎকর্ম করে এবং সৎপথে অবিচলিত থাকে। (সূরা ২০ তোয়াহা : ৮২)

তাওবার পদ্ধতি :ইসলামে তাওবার পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ। তাওবার জন্য কোনো মাধ্যম গ্রহণের প্রয়োজন হয় না। খৃষ্টধর্মে যেমন-পাদ্রীর সম্মুখে পাপ স্বীকার করে ক্ষমাপত্রে দস্তখত করার আগ পর্যন্ত পাপের কালিমা থেকে মুক্ত হওয়া যায় না- এমন কোনো ধারণা ও নিয়ম ইসলামে নেই। তাওবার উদ্দেশ্যে যদি দুই রাকা’আত নামায পড়া যায় তবে অতি উত্তম।

গুনাহ মাফে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী :হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদি আল্লাহু আনহু নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন- ‘যার কোন গুনাহ হয়ে যায়, এরপর সে উত্তমরূপে অযু করে দুই রাকা’আত নামায পড়ে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রর্থনা করে, আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন’। এরপর রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত পাঠ করেন- ‘আর যারা কোনো মন্দ কাজ করে ফেললে কিংবা নিজেদের উপর জুলুম করে বসলো আল্লাহকে স্মরণ করে কৃতকর্মের উপর জেনে শুনে অবিচল থাকে না’। (সুনানে আবু দাউদ)

২১. জানাযার নামায

পৃথিবীতে সকল মানুষের আয়ু সুনির্ধারিত। এ নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে সকল মানুষকে চলে যেতে হবে। যখন অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় যে, মৃত্যুর সময় সন্নিকটে তখন পরিবারের দায়িত্বশীলদের কর্তব্য হল, প্রিয়জনের কাছে বসে আস্তে আস্তে কালেমা পড়া, যাকে কালেমার তালক্বীন দেয়া বলে, যাতে তারাও কালেমা পড়ার কথা স্মরণ হয় এবং স্বেচ্ছায় কালেমা পড়ে।

মৃত্যুর সময় কালেমার তালকীন করার ব্যাপারে রাসূলের বাণী :

১.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা মুমুর্ষ ব্যক্তিদের কালেমার তালকীন কর’। (সহীহ মুসলিম)

২.হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-যার শেষ কথা হবে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

মৃত্যুর পরের মাসনুন কাজ : মৃতের চোখ খোলা থাকলে তা বন্ধ করে দিবে। কাপড় দিয়ে চোয়াল বেঁধে দিবে। শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সোজা করে দিবে। এ সময় যেহেতু ফেরেশতারা উপস্থিত থাকেন এবং দু’আকারীদের দু’আয় আমীন বলেন তাই মৃতের বা অন্য কারোর প্রতি বদদোআ করা উচিত নয়। এ সময় বিলাপ থেকে উচ্চ আওয়াজে ক্রন্দন করা থেকেও বিরত থাকবে। কেননা, এতে মৃতের কষ্ট হয়ে থাকে।

এ ব্যাপারে দুটি সহিহ হাদীস :

১.হযরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-‘আবু সালমার মৃত্যু হলে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং তার চোখ বন্ধ করলেন। এরপর বললেন, ‘যখন রূহ কবজ করা হয় তখন দৃষ্টি তার অনুসরণ করে’। একথা শুনে পরিবারের লোকেরা চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম বললেন, ‘তোমরা এখন শুধু কল্যাণের দোয়া করবে। কেননা, ফেরেশতারা তোমাদের কথায় আমীন বলবেন।’ এরপর নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়া করলেন-ইয়া আল্লাহ! আবু সালামাকে ক্ষমা করুন। হেদায়েত প্রাপ্তদের মাঝে তার দরজা বুলন্দ করুন। তার পরিবারবর্গকে উত্তম নায়েব দান করুন। ইয়া রাব্বাল আলামীন! তাকে ও আমাদেরকে ক্ষমা করুন। তার কবরে আলো ও প্রশস্ততা দান করুন। (সহীহ মুসলিম)

২.হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম বলেন-‘বিলাপের কারণে মৃত ব্যক্তির আযাব হয়ে থাকে।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘পরিবারের লোকদের ক্রন্দন-মাতমের কারণে মৃত ব্যক্তির আযাব হয়ে থাকে। (সহীহ মুসলিম)

জানাযা নামাযের সময় : জানাযার নামাযের কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। নির্দিষ্ট ওয়াক্তে (অর্থাৎ সুর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়) ওয়াক্তিয়া বা অন্যান্য নামায নিষিদ্ধ হলেও জানাযার নামায নিষিদ্ধ নয়। মসজিদে যদি জানাযা নিয়ে আসা হয় তাহলে ওয়াক্তিয়া নামাযের জন্য নির্ধারিত সময়ের আগে আনা হলে উক্ত সময় অতিক্রম হওয়ার পরে জানাযার নামায পড়তে হবে। নিষিদ্ধ সময়ের ভিতরে জানাযা আনা হলে ঐ সময়ে পড়তে কোন বাধা নেই। কারো করো মতে ঐ সময জায়নাযার নামাজ না পড়া ভাল।

জানাযার ফযীলতের ব্যাপারে হাদীসে রাসূল :

১.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের জানাযায় শরীক হয়ে নামায পড়ে এবং তাকে কবরও দেয় সে দু’কীরাত নেকী পায়। প্রত্যেক কীরাত উহুদ পাহাড় সমান নেকী । আর যে ব্যক্তি শুধু জানাযার নামায পড়ে এবং মাটি দেয় না সে এক কীরাত নেকী পাবে।(সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

২.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন মুসলমানের জানাযায় এমন চল্লিশজন লোক যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেননি যদি শরীক হয়ে ঐ লাশের জন্য দোয়া করে তাহলে আল্লাহতা’য়ালা তাদের সুপারিশ নিশ্চয়ই কবুল করবেন। (সহীহ মুসলিম ও মিশকাত)

৩.উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-যখন কোনো মুসলমানের ইন্তেকাল হয় এবং একশ জনের কাছাকছি সংখ্যক মুসলমান তাঁর জানাযার নামায পড়ে ও তাঁর জন্য সুপারিশ করে তো এই সুপারিশ কবুল করা হয়’। (জামে আত-তিরমীযি)

জানাযার খাট বহন করার নিয়ম :

১.বয়স্ক নারী-পুরুষের লাশ খাটে করে বহন করতে হয়। খাটের চার কোণায় ৪ জনে বহন করবে। লোক অদল বদল করেও বহন করা চলে। লাশের মাথার দিকে সামনে রেখে চলতে হবে।

২.দুগ্ধপোষ্য বা তার চেয়ে কিছু বড় শিশুর লাশ দুই হাতে নিয়ে যেতে হবে। এ রকম লাশ একাই বহন করা যায়। পালাক্রমে অন্যেরাও ইহা বহন করতে পারে।

৩.জানাযা অর্থাৎ লাশ নিয়ে দ্রুত হাঁটা সুন্নাত। আবার লাশে ধাক্কা খায় বা দোলে এমন জোরে হাটাও ঠিক নয়।

৪.জানাযার সঙ্গে যারা যাবে তাদের পেছনে থাকা ভালো। তবে সামনে হাঁটা নাজায়েয নয়; কিন্তু ডানে বা বামে হাঁটা উচিত নয়।

যখন কোন মুসলমান মারা যায় তখন তার জন্য বিশেষভাবে কিছু দোয়া করা হয়। ঐ বিশেষ প্রক্রিয়ার দোয়া করার নাম জানাযার নামায। যত দ্রুত সম্ভব মাইয়্যেতকে গোসল দিয়ে কাফন পরাবে। এরপর জানাযার নামায পড়াবে।

হযরত আবু হুরায়রা রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বণিত-নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাহাবীদেরকে) নাজ্জাশীর মৃত্যু সংবাদ দিলেন। এরপর (জানাযার নামাযের জন্য) সামনে অগ্রসর হলেন। সাহাবীরা তাঁর পিছনে কাতার করলেন। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম (নামাযে) চার তাকবীর দিলেন’। (সহীহ আল বোখারী)

১. প্রথম তাকবীরের পর হামদ-ছানা পড়া

২. দ্বিতীয় তাকবীরের পর দরূদ পড়া

৩. তৃতীয় তাকবীরের পর দোয়া পড়া

৪. চতুর্থ তাকবীরের পর সালাম ফিরানো।

হাত উঠানো : জায়নামাজে শুধু প্রথম তাকবীরে হাত উঠাবে এ ছাড়া অন্য কোথাও হাত ওঠানোর নিয়ম নেই।

জানাযা নামাযের নিয়ম : জামায়াতের সামনে কাফন ঢাকা লাশ রাখতে হবে। তার পেছনে লাশের সিনা বরাবর ইমাম দাঁড়াবেন। তার পেছনে মুক্তাদীরা কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবেন। সবাই মনে মনে ধারনা করবেন : এই মৃত ব্যক্তির দোয়ার জন্য জানাযার নামায পড়ছি। এই হল নিয়ত।

জানাযা নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُوَدِّيْ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ تَكْبِرَاتٍ صَلْوَةِ الْجَنَازَةِ فِرْضِ الْكِفَايْةِا َلثَّنَاءُ لِلّٰهِ تَعَالٰى وَالصَّلَوةُ عَلٰى النَّبِي ْوَالدُّعَاءُ لِهَذَا الْمَيْتِ اِقْتَدَيْتُ بِهَذَاالاِمَامِ مُتَوَجِّهًا ا ِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفِةِ اَللهُ اَكْبَر ُ.

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উওয়াদ্দিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবা’আ তাকবীরাতিন সালাতিল জানাযাতি ফারদিল কেফাইয়তি আছ্ছানাউ লিল্লাহি ওয়াস সালাতু আলান্নাবীয়্যি ওয়াদ্দু’আউ লিহাযাল মাইয়্যিতি ইক্বতাদাইতু বিহাজাল ইমামে মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে চার তাকবীরের সাথে জানাযার ফারদিল কেফায়া নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

নিয়ত করে ইমাম জোরে আল্লাহু আকবার বলে কানের লতি বরাবর দুই হাত তুলে নাভির উপরে বাম হাত রেখো ডান হাতের বুড়ো ও কনিষ্ঠা আংগুল দিয়ে বাম হাতের কব্জি বেঁধে বাকী ৩ আংগুল বাম হাতের উপরে বিছিয়ে অন্য নামাযের ছানার ন্যায় ছানা পড়বে। তবে এই ছানার ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা এর পরে ওয়া জাল্লা ছানাউকা অতিরিক্ত বলতে হবে।

মুক্তাদীগণ ইমামের অনুসরণ করে ঐভাবে তাকবীর দিয়ে ছানা পড়বে। পরে ইমাম জোরে আল্লাহু আকবার বলে বাঁধা হাত ছেড়ে না দিয়েই আস্তে আস্তে অন্য নামাযের দরূদের ন্যায় দরূদ পড়বে। মুক্তাদীরাও ঐরূপ করবে। দরূদ শেষ করে ইমাম পুনরায় জোরে তাকবীর উচ্চারণ করে ঐ হাত বাঁধা অবস্থাতেই বয়স্ক ব্যক্তির লাশ হলে চুপে চুপে এই দোয়া পড়বে।

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِ نَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا وَذَكَرِنَا وَاُنْثَنَا اَللّٰهُمَّ مَنْ اَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَاَحْيِهِ عَلٰى الْاِسْلاَمِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلٰى الْاِيْمَانِ -.

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগ ফিরলি হায়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়িবিনা ও ওয়া কাবীরিনা ওয়া যাকারিনা ওয়া উনছানা। আল্লাহুম্মা মান আহইয়াহতাহু মিন্না ফাআহয়িহী আলাল ইসলামি ওয়া মান তাওয়াফ ফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহ আলাল ইমান। বিরাহমাতিকা ইয়া আর হামার রাহিমীন।

আর ঐ লাশ অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলে উক্ত দোয়ার পরিবর্তে নি¤œ দোয়া পড়বে :

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًا وَّاجْعَلْهُ لَنَا اَجْرً ا وَّذُخْرًا وَّاجْعَلْهُ لَنَا شَافِعًا وَّمُشَفِّعًا

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাজ আলহু লানা ফারাতাও ওয়াজ আলহু লানা আজরাও ওয়া যুখরাও ওয়াজ আলহু লানা শাফিআও ওয়া মুশাফফিআ।

অপ্রাপ্ত বয়স্ক লাশ মেয়ের হলে ‘হু’ (هُ) স্থানে ‘হা’ (هَا) বলতে হবে। এই দোয়ার পরে পুনরায় ইমাম জোরে তাকবীর বলে প্রথমে ডানে ও পরে বামে ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি’ বলে সালাম ফিরাবে। মুক্তাদীরাও তার অনুকরণ করবে।

জানাযার নামায সংক্রান্ত কতিপয় জরুরী মাসায়েল :

১.ছানা, দরূদ ও দোয়ার পরে যে আরো তিনবার তাকবীর বলতে হয় তখন ইমাম ও মোক্তাদীর হাত বাঁধা থাকবে।

২.ইমাম তাকবীর ব্যতীত সবকিছুই চুপে চুপে বলবে, শুধু তাকবীর উচ্চস্বরে বলবে। মোক্তাদীরা তাকবীরসহ সবকিছুই আস্তে আস্তে বলবে।

৩.ডান দিকে সালাম ফিরানোর সাথে সাথে ডান হাত এবং বাম দিকে সালাম ফিরানোর সাথে সাথে বাম হাত নামিয়ে ফেলবে।

৪.জানাযার নামাযের পরে আর কোন দোয়া বা মোনাজাত এক সাথে করার বিধান নেই।

৫.জানাযার নামায ছুটে যাওয়ার আশংকা হলে (পানি নিকটে থাকা সত্ত্বেও) তায়্যাম্মুম করে জানাযায় শরীক হওয়া যায়।

৬.জুতা পায়ে রেখেও জানাযার নামায পড়া যায়। তবে শর্ত এই যে জুতার তলা এবং জুতার জমিন পাক থাকতে হবে। আর যদি জুতা খুলে জুতার উপরে পা রেখে দাঁড়ায় তাহলে পায়ের সাথে লাগা জুতার উপরের অংশ পাক থাকলেই চলবে। জুতার তলা বা জুতার নীচে কার জমিন নাপাক থাকলেও জানাযার নামায হয়ে যাবে।

৭.জানাযার নামাযের জন্য জামাত শর্ত নয়। একজনে পড়লেও ফরয আদায় হয়ে যাবে।

৮.জানাযার নামাজ ৩ (তিন) কাতার করা মোস্তাহাব। ইমাম ছাড়া ৫ (পাঁচ) জন থাকলে ১ম কাতারে ২ জন, ২য় কাতারে ২ জন এবং তৃতীয় কাতারে ১ জন এইরূপ দাঁড়াতে হবে। লোক বেশী হলে ৩ এর অধিক যে কোন বিজোড় সংখ্যক কাতার করে দাঁড়ানো ভালো।

৯.জন্ম মাত্রই যে শিশুর মৃত্যু হয়েছে তার নাম রাখতে হবে এবং নিয়মানুযায়ী গোছল, জানাযা, কাফন দাফন করবে। আর যে মৃত অবস্থায় জন্মেছে তার নামও রাখবে, গোছল দেবে, কিন্তু নিয়মানুযায়ী কাফন ও জানাযা পড়তে হবে না। শুধু এক খ- কাপড় দিয়ে লাশ ঢেকে দিয়ে কবরে মাটি চাপা দিয়ে রেখে দেবে।

দাফন সংক্রান্ত মাসায়েল :

১.লাশ কবরে নামানোর জন্য ৩/৪ জন কবরে নেমে কেবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে খাট থেকে লাশ নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে উত্তর দিকে মাথা ও দক্ষিণ দিকে পা রেখে কবরে শোয়াবে। কিছু মাটি, বালু বা পাথরের টুকরার সাহায্যে মুখম-ল কেবলামুখী করে দিতে হবে। মহিলাদের লাশ যাদের সঙ্গে তাদের বিবাহ হারাম ছিল এমন আপন পুরুষেরা নামবেন। এমন কাউকে না পেলে দ্বীনদার মোত্তাকী লোকেরা নামবেন।

২.লাশ কবরে রাখার সময়ে এই দোয়া পড়বে : بِسْمِ اللهِ وَعَلٰى مِلَّةِ رَسُوْ ل ِاللهِ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি ও ওয়া আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ।

৩.মহিলাদের কবরে নামানোর সময়ে পর্দা করবে।

৪.কবরে রাখার পর কাফনের বাঁধনগুলো খুলে ফেলবে। তারপর বাঁশ বা কাঁচা ইট কবরের উপর বিছিয়ে দিয়ে কবর ঢেকে দিবে। উপর থেকে যাতে এর মাটি ইত্যাদি মৃতের গায়ে না পড়ে সে জন্য মাটি দেয়ার আগে কলা পাতা বা এ ধরনের পাতলা কিছু বিছিয়ে দেয়া ভালো। কবর মাছের পিঠের মত করবে। চৌকোণা করে করবে না।

প্রথম মুষ্টি মাটি দেয়ার সময়ে বলবে :مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ

উচ্চারণ : মিনহা খালাকনাকুম

অর্থ : এই মাটি থেকেই তোমাদের সৃষ্টি করেছি।

দ্বিতীয় মুষ্টি মাটি দেয়ার সময়ে বলবে : وَفِيْهَا نُعِيْدُ كُمْ

উচ্চারণ : ওয়া ফিহা নু’ঈদুকুম।

অর্থ : পুনরায় তোমাদেরকে মাটিতেই ফিরিয়ে আনব।

এবং তৃতীয় মুষ্টি মাটি দেয়ার সময়ে বলবে : وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً اُخْرَئ

উচ্চারণ : ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম তারাতান উখরা।

অর্থ : এবং আর একবার তোমাদেরকে মাটি থেকে বের করবে।

এরপর মাটি দেয়া শেষ করে, প্রয়োজন মত কবরের উপরিভাগ মজবুত করার জন্য পানি দিয়ে ও পিটিয়ে মাছের পিঠের আকার বিশিষ্ট করবে। পরিশেষে একবার পানি ছিটিয়ে দেয়া মোস্তাহাব। এই পানি দেয়া মাথার দিক থেকে শুরু করবে।

জানাযা কবর সংক্রান্ত আরো মাসায়েল :

১.জানাযার নামায মসজিদের ভেতর অথবা কবর সামনে রেখে পড়া মাকরূহ

২.জানাযার পরে লাশ বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় কালেমা ইত্যাদি আস্তে আস্তে পড়তে হবে। উচ্চস্বরে পড়া উচিত নয়।

৩. লোকের সংখ্যা বেশী হওয়ার আশায় জানাযার নামায বিলম্বিত করা মাকরূহ্

৪. জানাযার সামনে সাওয়ারির উপর আরোহন করা মাকরূহ।

৫. একত্রে কয়েকজনের জানাযা উপস্থিত হলে সকলের জানাযা এক সাথে পড়বে।

৬.ইমাম বা মুক্তাদী তাকবীর বলার (২য়, ৩য় ও ৪র্থ) সময়ে ভুলে হাত উঠায় তাহলে নামায হয়ে যাবে। ঐ নামায দ্বিতীয়বার পড়তে হবে না।

৭.কাফন-দাফনের পর পুনরায় কবর খনন করে লাশ উত্তোলন করা জায়েয নয়।

৮.মৃত স্থানে দাফন করা উত্তম। তবে এক দুই মাইলের মধ্যে দাফন করতে দোষ নেই। অধিক দূরে নেয়া উচিত নয়।

৯.জীবিত অবস্থায় নিজের কাফনের ব্যবস্থা করা জায়েয কিন্তু কবর তৈরী করা মাকরূহ।

১০.মৃত ব্যক্তিকে খারাপ ভাষায় স্মরণ করা বৈধ নয়। তার অসৎকর্মের প্রশংসাও করবে না এবং মন্দ কাজের প্রচারণাও করবে না।

১১.দাফনান্তে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে মৃত ব্যক্তির ক্ষমার জন্য দোয়া করা সুন্নাত। হযরত নবী করীম (সা) বলেছেন- মৃত দেহ দাফন করার পর তার শিয়রে সূরা বাকারার প্রথম আয়াতসমূহ অত : পর ডানে দাঁড়িয়ে ঐ সূরার শেষ আয়াতসমূহ পাঠ করবে। দাফন সম্পন্ন হয়ে গেলে সকলে মিলে একত্রে দোয়া করবে।

১২.কবরস্থানে গিয়ে গল্প গুজব করা বা বাজে কথা বলা উচিত নয়। বরং নিজের মৃত্যুর কথা স্মরণ করে মনে মনে বলবে : আমি আজ একজনকে দাফন করলাম, একদিন লোকেরা আমাকে দাফন করবে।

১৩.অধিক উঁচু করে কবর তৈরী করা জায়েয নয়। উটের পীঠের ন্যায় বড় জোর একহাত উঁচু করা যেতে পারে। কবরকে পাকা করা এবং তার উপর মিনার স্থাপন করা জায়েয নয়।

১৪.কদাচার থেকে কবরকে হেফাজত করার জন্য বেড়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এবং কার কবর তা বোঝার জন্য পাকা করে চিহ্নও স্থাপন করা যেতে পারে।

সমবেদনা জ্ঞাপন :

১.মৃত ব্যক্তির শোকার্ত আত্মীয়স্বজনকে সান্তনা দেয়া এবং ধৈর্য্য ধারণের উপদেশ দেয়া সুন্নাত। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং মৃত ব্যক্তির আত্মীয়গণের ঘরে ঘরে গিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করতেন এবং ছবরের উপদেশ দিতেন।

২. মৃত ব্যক্তির বাড়িতে খাবার পাঠানোও সমবেদনার অন্তর্ভুক্ত। তবে তিন বেলার অধিক পাঠানো উচিত নয়।

৩. দূরের কেউ না হলে তার জন্য তিন দিন পরে সমবেদনা জ্ঞাপন করতে যাওয়া মাকরূহ।

৪.মৃত ব্যক্তির ঘরে তিন দিন পর্যন্ত চুলা জ্বালানো খারাপ মনে করা নিষিদ্ধ। এটা চরম অজ্ঞতা। এইরূপ ধারণা করে চুলা না জ্বালানো অর্থাৎ রান্না বান্না না করা পরিষ্কার পাপ।

২২. ঈদুল ফিতরের নামায

পবিত্র মাহে রমযানের এক মাস রোযা রাখার পর শাওয়াল মাসের পহেলা তারিখ মুসলিম মিল্লাতের নিকট হাজির হয় তাদের প্রথম জাতীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এই দিনে এক মাস ধরে পানাহার, আর যৌন পিপাসা নিয়ন্ত্রণের কঠিন সাধনায় সফল হওয়ার পর তারা শপথ নেয় অবশিষ্ট জীবনে আল্লাহর কঠিন হতে কঠিনতর নির্দেশ মেনে চলার, আর আল্লাহর নিকট থেকে তারা লাভ করে নিষ্পাপ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার শুভ সংবাদ। ঈদ তাই পরম সাফল্যের, চরম আনন্দের। এই উপলক্ষেই আল্লাহ দু’রাকাত নামায ওয়াজিব করে দিয়েছেন।

ঈদের মাসায়েল :

১.ঈদের (পূর্ব) রাতে ইবাদাতে অতিবাহিত করা মোস্তাহাব। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন : যারা দুই ঈদের রাতে ছওয়াবের আশায় ইবাদাতে অতিবাহিত করবে তাদের আত্মা সেই দিন মরবে না যেদিন অন্য সবের আত্মা মরে যাবে (অর্থাৎ কেয়ামতের দিন)।

২. নি¤œরূপ কাজগুলো করা সুন্নাত :

ক. খুব ভোরে বিছানা থেকে ওঠা

খ. মেছওয়াক করা

গ.গোসল করা

ঘ.সামর্থ অনুযায়ী উত্তম পোশাক পরিধান করা

ঙ.শরীয়াতের সীমার ভেতর থেকে যথাসম্ভব সুসজ্জিত হওয়া

চ. খোশবু ব্যবহার করা

ছ.ঈদগাহে যাওয়ার আগে ফিতরা আদায় করা (ঈদের দিন মালিকে নেছাব হলেই যাদের ভরণ পোষণের দায়িত্ব রয়েছে তাদের সকলের জন্য মাথা প্রতি এক সের সাড়ে বার ছটাক গমের মূল্য হিসেবে দরিদ্রকে দান করা)

জ.ঈদগাহে যাওয়ার আগে খোরমা বা অন্য কোন মিষ্টি দ্রব্য আহার করা।

ঝ.বেশী দেরী না করে ঈদগাহে যাওয়া

ঞ.ঈদের নামায মসজিদে না পড়ে ঈদগাহে পড়া

ট.এক রাস্তায় ঈদগাহে যাওয়া এবং অন্য রাস্তায় বাড়ি ফেরা

ঠ.পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া এবং

ঢ.আস্তে আস্তে নি¤œলিখিত তাকবীর বলতে বলতে যাওয়া :

اَللهُ اَكْبَرْ – اَللهُ اَكْبَرْلَااِلٰه َاِلاَّ اللهُ – وَاللهُ اَكْبَرْ اَللهُ اَكْبَرْ وَ لِلّٰهِ الْحَمْدُ

উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

অর্থ : আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই। আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ এবং একমাত্র আল্লাহর জন্যই যাবতীয় প্রশংসা।

৩.এই নামাযে কোন আযান-একামাত নেই।

৪.আমি ঈদুল ফিতরের দুই রাকা’আত ওয়াজিব নামায আদায় করছি-এতটুকু খেয়াল করলেই নিয়ত হয়ে যাবে। মোক্তাদীগণের মনে এতটুকু কথা থাকলেই যথেষ্ট যে, তারা ইমামের পেছনে নামায পড়ছে। এতেই তাদের নিয়ত পূর্ণ হয়ে যাবে।

৫.দুই রাকা’আত নামাযে ৬টি অতিরিক্ত তাকবীর বলতে হয়।

৬.সালাম ফিরানোর পরে ইমাম নামাযীদের প্রতি মুখ করে খুৎবা দেবেন। এই খুৎবা দেয়া সুন্নাত এবং শোনা ওয়াজিব। খুৎবার সময়ে কথাবার্তা, চলাফেরা করা, নামায পড়া, তাসবহি তাহলীল বা দোয়া করা সবই হারাম। ময়দান ছেড়ে অন্যত্র বসাও অন্যায়।

৭.ইমাম দুই খুৎবা দেবেন। মাঝে কিছুক্ষণ বসবেন।

৮.ঈদের (যে তাকবীর আস্তে আস্তে বলতে বাড়ি থেকে ঈদগাহের দিকে আসা হয়েছে সেই) তাকবীর ইমাম প্রতি খুৎবার প্রথমে একবার অবশ্যই জোরে পড়বেন এবং ঐ একবার সহ প্রথম খুৎবায় ৯ বার এবং দ্বিতীয় খুৎবায় ৭ বা জোরে পড়বেন।

৯.খুৎবার পরে ইমাম খুৎবার বিষয়বস্তু বাংলায় বুঝাতে পারেন এবং পরিশেষে সবাইকে নিয়ে দোয়াও করতে পারেন। তবে এরূপ না করলে কোন ক্ষতি নেই। এই খুৎবার নিয়ম জুমুআর নিয়মের অনুরূপ।

ঈদুল ফিতরের নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوْةِ عِيْدِ الْفِطْر ِمَعَ سِتَّةِ تَكْبِيْرَاتٍ زَاءِدَا تٍ وَاجِبِ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ – اَللهُ اَكْبَر ُ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই ছালাতি ঈদিল ফিতরি মা’আ ছিত্তাতি তাকরীবাতিন যায়িদানি ওয়াজিবিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিন কা’বাতিশ শারীফাতি-আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সাথে ঈদুল ফিতরের দুই রাকা’আত ওয়াজিব নামায আদায় করছি। আল্লাহ আকবার।

প্রথমে ইমামের সাথে নিয়ত করে ‘আল্লাহ আকবার’ বলে নাভির নীচে হাত বাঁধতে হবে। তারপর ছানা পড়বে। ছানা শেষ করে তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলার সময় দুইহাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে হাত ছেড়ে দিতে হবে। তৃতীয় বার কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে নাভির নীচে বাঁধবে। এই তিনটি অতিরিক্ত তাকবীর। অতপর ‘আউযুবিল্লাহ’ বিসমিল্লাহ’ পড়ে সূরা ফাতিহা পড়বে। তারপর কুরআন পাকের কিছু আয়াত বা সূরা মিলাবে। এরপর ‘আল্লাহ আকবার’ বলে রুকু করবে। এরপর সেজদা ইত্যাদি করে প্রথম রাকা’আত শেষ করে দ্বিতীয় রাকা’আত পড়ার জন্য দাঁড়াবে। দ্বিতীয় রাকা’আতে সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে আরেকটি সূরা মিলাবার পরে, তিনি বার ‘আল্লাহু আকবার’ উচ্চারণ করে প্রতিবারই দুই হাত কান বরাবর তুলে হাত ছেড়ে দিবে। এই তিনটি তাকবীরও অতিরিক্ত। ৪র্থবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলে যথারীতি রুকু, সেজদা, তাশাহহুদ, দরূদ ও দোয়া মাছুরা পড়ে সালাম ফিরায়ে নামায শেষ করবে। এরপর ইমাম খুৎবা দেবেন।

২৩. ঈদুল আযহার নামায

‘আযহা’ শব্দের অর্থ কুরবানী। ‘ঈদুল আযহা’ মানে কুরবানীর আনন্দ-উৎসব অর্থাৎ আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিলিয়ে দেয়ার পরম আনন্দ প্রকাশের জন্যই এই উৎসব। আল্লাহর বান্দারা যত ধন দৌলত বা সম্পদের অধিকারী তার সবকিছুর মালিকই আল্লাহ পাক। বান্দারা শুধু এর তত্ত্বাবধায়ক বা প্রহরী মাত্র। আল্লাহ্র জমিনে আল্লাহর আইন কায়েম করার জন্য হোক, ইসলামের জন্য কোন মহান কাজে হোক কিংবা মুসলিম জাতির কোন সেবার জন্য হোক আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই সম্পদ বিলিয়ে দেয়াই হল প্রকৃত কুরবানী।

হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে যুগে যুগে এই কুরবানী মুসলমানগণ দিয়ে এসেছেন। এই কুরবানীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভাস্বর ও সবচাইতে উজ্জল হয়ে আছে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর কুরবানী। তিনি শুধু একটুখানি স্বপ্নের ইঙ্গিতেই আল্লাহকে রাজি খুশী করার মহান উদ্দেশ্যে চোখ বাঁধা অবস্থায় কুরবানী দিয়েছিলেন তার কলিজার টুকরা আপন পুত্র ইসমাইলকে। কিন্তু আল্লাহর প্রয়োজন ছিল না ইসমাঈলের প্রয়োজন ছিল হযরত ইব্রাহিমের মন পরীক্ষা করার – যে আমার খলীল আমাকে খুশি করার জন্য তার প্রিয়তম বস্তু ও দান করতে পারে কিনা। হযরত ইব্রাহিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। আল্লাহ ইসমাইলকে সরিয়ে সেখানে রেখে দিলেন একটি দুম্বা। আর তাই কুরবানী হয়ে গেল। কিন্তু হযরত ইব্রাহিম তার ধারণা মত পুত্রকেই কুরবানী দিলেন, ভেসে উঠলো সেখানে এক জান্নাতী ছবি। হযরত ইব্রাহিমের মুখ থেকে ছুরি চালনার সাথে সাথেই নি:সৃত হচ্ছিল “আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ। দুম্বার গলায় ছুরি চালিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্তও হযরত ইসমাঈলের মুখেও ছিল ঐ একই ধ্বনি আল্লাহ আকবার আর ঐ সময়ে আগত লাখো ফেরেশতাদের মুখেও ধ্বনিত হচ্ছিল ঐ একই দোয়া “আল্লাহু আকবার …..।”

হযরত ইব্রাহীমের এই কুরবানীর কোন তুলনা দুনিয়ার ইতিহাসে নেই্ ইসলাম তথা মুসলিম মিল্লাতের উভয় জাহানের মুক্তি ও শান্তির জন্য এরূপ কুরবানীর প্রেরণা একান্ত অপরিহার্য। এই কুরবানীর কথা স্মরণ করে যাতে করে মুসলিম দুনিয়া কেয়ামত পর্যন্ত তাদের প্রিয় সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিতে পারে তারই উদ্দেশ্যে আল্লাহ পাক বিত্তবান সকল মুসলমানের জন্য পুত্রসন্তান নয় বরং সামান্য একটি জন্তু বা উহার অংশবিশেষ কুরবানী করার হুকুম দিয়েছেন। তাঁর উদ্দেশ্য যেন এমনি করেই তাঁর বান্দারা ইব্রাহিমের আদর্শকে সামনে রেখে তাদের সহায় সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিয়ে ধন্য হতে পারে। হযরত বিশ্বনবী (সা) কে যখন সাহাবীগণ প্রশ্ন করেছিলেন : হে আল্লাহর রাসূল! এই কুরবানী কী? তখন তিনি এরশাদ করলেন : ইহা তোমাদের পিতা হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম এর আদর্শ।

বস্তুত আল্লাহর রাস্তায় সম্পদ বিলিয়ে দেয়ার অপার আনন্দকে সামনে রেখে এবং বিত্তবান হলে ঐ দিনে জন্তু কুরবানীর খুশী নিয়ে ঈদের ময়দানে এসে দুই রাকা’আত নামায আদায় করতে হয়। যিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখে এই নামায জামা’তের সাথে পড়তে হয়। ইহা ওয়াজিব।

ঈদুল আযহার নামায পড়ার নিয়ম :

ঈদুল ফিতরের নামায যে নিয়মে পড়তে হয় সেই নিয়মেই ঈদুল আযহার নামায পড়তে হয়। এবং এই নামাযেও ৬টি তাকবীর অতিরিক্ত দিতে হয়। নিয়তের সময়ে শুধু ঈদুল ফিতরের স্থলে ঈদুল আযহার কথা মনে মনে খেয়াল করতে হয়।

ঈদুল আযহার নামাযের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىْ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلَوْةِ عِيْدِ الْاَضْحَىْ مَعَ سِتَّةِ تَكْبِيْرَاتٍ زَاءِدَا تٍ وَاجِبِ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ – اَللهُ اَكْبَر ُ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই ছালাতি ঈদিল আদ্বহা মা’আ ছিত্তাতি তাকবিরাতিন যায়েদাতিন ওয়াজিবিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আল্লাহর ওয়াস্তে আমি কেবলামুখী হয়ে অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সাথে ঈদুল আযহার দুই রাকা’আত ওয়াজিব নামায আদায় করছি-আল্লাহু আকবার।

ঈদুল আযহার মাসায়েল :

১. ঈদুল ফিতরে যে তাকবীর পড়া হয় সেই তাকবীরই ঈদুল আযহার সময়ে ‘তাকবীরে তাশরীক’ হিসেবে পড়তে হয়। উহা হল : “আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ”।

২. হজ্জের দিন অর্থাৎ ৯ই যিলহজ্জ ফজর থেকে ১৩ই যিলহজ্জ আছর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরয নামায শেষ করার পর জামা’আতে নামায পাঠকারীদের জন্য কমপক্ষে ১ বার উচ্চস্বরে ‘তাকবীরে তাশরীক’ পড়া ওয়াজিব।

৩. ঈদের ময়দানে যাওয়ার পথে, আসার পথে, নামাযের পরে উচ্চস্বরে তাকবীরে তাশরীক পড়া সুন্নাত।

৪. যদি কেউ ঈদের নামায (ইদুল ফিতার ও ঈদুল আযহা) না পায় তবে একা একা ঈদের নামায পড়তে পারবে না। উহার কাযা পড়াও ওয়াজিব নয়। তবে কমপক্ষে তিনজন লোকে জামায়াত না পেলে তারা জামা’আতা করে নামায পড়তে পারবে। তবে কোন অবস্থাতেই পূর্ববর্তী জামা’আতের ইমাম ও মোক্তাদীর জামা’আতে শরীক হতে পারবে না।

৫. যদি কেউ অতিরিক্ত তাকবীরগুলোতে ইমামের সাথে শরীক হতে না পারে তাহলে সে তাকবীরগুলো একা একা করে নিবে। যদি সে রুকু অবস্থায় শামিল হয় তাহলে নিয়ত বেঁধে রুকুতে যাবে এবং রুকু অবস্থাতেই বাদ পড়া তাকবীরগুলো শুধু মুখে বলবে, কান পর্যন্ত হাত উঠাবে না। তাকবীর বলার পরে রুকুর তাসবীহ সময় পেলে পড়বে, নতুবা পড়বে না। আর যদি রুকুতে তাকবীর পড়ার পূর্বেই ইমাম রুকু শেষ করে ফেলেন তাহলে ঐ বাদ পড়ার তাকবীর তাকে আর পড়তে হবে না। যদি দ্বিতীয় রাকা’আতে কেউ জামা’আতে শামিল হয় তাহলে ছুটে যাওয়া রাকা’আতে সূরা মিলাবার পরে ও রুকুতে যাওয়ার পূর্বে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলে নিয়ে রুকুতে যাবে।

৬. ঈদুল আযহার দিনে নি¤œরূপ কাজগুলো করা সুন্নাত :

ক.আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী সজ্জিত হওয়া ও পোশাক পরা।

খ.মেসওয়াক করা।

গ.গোসল করা।

ঘ.সুগন্ধি ব্যবহার করা।

ঙ.খুব ভোরে বিছানা থেকে ওঠা।

চ.সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়া।

ছ.নামাযের আগে কোন কিছু না খাওয়া।

জ.মসজিদে না পড়ে ঈদগাহে নামায পড়া।

ঝ.এক রাস্তায় যাওয়া এবং অন্য রাস্তায় বাড়ি ফিরে আসা

ঞ.ঈদুল ফিতরের চেয়ে সকালে নামায পড়া।

ট.নামাযের পরে কুরবানী করা, আগে করলে কুরবানী হবে না, পুনরায় করতে হবে।

ঠ.তাকবীরে তাশরীক ঈদগাহে যাওয়া ও আসার পথে উচ্চস্বরে পড়তে হবে।

নামাযে বহুল পঠিত কুরআনের শেষ ১০টি সূরা

. সূরা আল ফীল

১০৫ সূরা ফীল                 আয়াত ৫             মক্কায় অবতীর্ণ

بِسْمِ الله ِالرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ۝

পরম দয়ালু দাতা আল্লাহর নামে শুরু করছি।

اَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيْلِ ﴿١﴾ أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِيْ تَضْلِيْلٍ ﴿٢﴾ وَاَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أ َبَابِيْلَ ﴿٣﴾ تَرْمِيْهِم بِحِجَارَةٍ مِّن سِجِّيْلٍ ﴿٤﴾ فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَّأْكُولٍ ﴿٥﴾

উচ্চারণ : আলাম তারা কাইফা ফা’লা রাব্বুকা বিআসহাবিল ফীল। আলাম ইয়াজ’আল কাইদাহুম ফী তাদ্বলীলি ওয়া আরসালা ‘আলাইহিম ত্বাইরান আবাবীল। তারমীহিম বিহিজারামিতম মিন সিজ্জীলিন। ফাজ’আলাহুম কা’আসফিম মা’কুল।

অর্থ : আপনি কি দেখেননি আপনার রব হাতিওয়ালাদের সাথে কি ব্যবহার করেছেন? তিনি কি তাদের চেষ্টা-কৌশল সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দেননি? আর তিনি তাদের উপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়ে দিলেন যা তাদের উপর পাকা মাটির পাথর নিক্ষেপ করেছিল। ফলে তাদের অবস্থা এমন করে দিল, যেমন (প্রাণীদের) ভক্ষণ করা ভূষি।

. সূরা আল কুরাইশ

                           ১০৬ সূরা কুরাইশ             আয়াত ৪         মক্কায় অবতীর্ণ

بِسْمِ الله ِالرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ۝

পরম দয়ালু দাতা আল্লাহর নামে শুরু করছি।

لِإِيْلَافِ قُرَيْشٍ ﴿١﴾ إِيْلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَآءِ وَالصَّيْفِ ﴿٢﴾ فَلْيَعْبُدُوْا رَبَّ هَـٰذَا الْبَيْتِ ﴿٣﴾ الَّذِيْ أَطْعَمَهُم مِّنْ جُوْعٍ وَآمَنَهُمْ مِّنْ خَوْفٍ ﴿٤﴾

উচ্চারণ : লি’ঈলাফি কুরাইশিন। ’ঈলাফিহিম রিহলাতাশ শিতা’ই ওয়াছছাইফ। ফালইয়া’বুদু রাব্বা হাযাল বাইতিল লাযী আত আমাহুম মিন জুঈও ওয়া আমানাহুম মিন খাওফ।

অর্থ : যেহেতু কুরাইশরা অভ্যস্ত হয়েছে-শীত ও গ্রীষ্মকালের বিদেশ গমনে। কাজেই তাদের কর্তব্য হল এই ঘরের রবের ইবাদাত করা। যিনি তাদের ক্ষুধা থেকে রক্ষা করে খেতে দিয়েছেন এবং ভয়-ভীতি থেকে মুক্ত করে নিরাপত্তা দিয়েছেন।

. সূরা আল মাঊন

                           ১০৭ সূরা মাউন             আয়াত ৭           মক্কায় অবতীর্ণ

بِسْمِ الله ِالرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ۝

পরম দয়ালু দাতা আল্লাহর নামে শুরু করছি।

أَرَأَيْتَ الَّذِيْ يْكَذِّبُ بِالدِّيْنِ ﴿١﴾ فَذَ‌ٰلِكَ الَّذِيْ يَدُعُّ الْيْتِيْمَ ﴿٢﴾ وَلَايَحُضُّ عَلٰىٰ طَعَامِ الْمِسْكِيْنِ ﴿٣﴾ فَوَي