Home ইসলাম নামাযে কাতার সোজা করা

নামাযে কাতার সোজা করা

by admin
০ comment

নামাযে কাতার সোজা করা

মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

 

জামায়াতের নামাযে কাতার সোজা করা এবং সোজা রাখা অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয় সকল রেওয়ায়েত সামনে আনলে দেখা যায়, নামাযে সবার পায়ের টাখনু, কাঁধ ও ঘাড় এক সমান্তরালে থাকা চাই। যারা কাতারের মধ্যে শূন্যস্থান রাখেনা তাদের জন্য মাগফেরাত ও গুনাহ মাফের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :

১.হযরত নুমান ইবনে বশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তীর সোজা করার মতোই আমাদের (নামাযের) সফ সোজা করে দিতেন। আমাদের সফ সোজা হলে তিনি তাকবীর (তাহরীমা) বলতেন। (সহীহ মুসলিম, আবু দাউদ)

২.হযরত নু’মান ইবনে বাশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন : আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: তোমাদের সারিগুলি সোজা করবে। অথ্যথায় আল্লাহ তোমাদের চেহারার মধ্যে অনৈক্য ও মতবিরোধ সৃষ্টি করে দেবেন।

৩.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত : একদিন নামাযের ইকামত হলে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে ফিরে দাঁড়িয়ে বললেন : তোমাদের সফ সোজা করো এবং পরষ্পরের সাথে মিলে দাঁড়াও। (সাহীহ আল বোখারী)

৪.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা সকলে নামাযের কাতারসমূহ সমান সমান করে লও। কেননা কাতার সোজা ও সমান করার ব্যাপারটি সঠিকভাবে নামায কায়েম করা একটি অংশ বিশেষ। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

৫.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন : নামায দাঁড়িয়ে গিয়েছিল (অর্থাৎ নামাযের ইকামত শেষ হয়ে গিয়েছিল) এমন সময় রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমদের দিকে মুখ ফিরিয়েবললেন : তোমাদের সারিগুলি সঠিক ও সোজাভাবে কায়েম কর এবং ঘেঁসে ঘেঁসে দাঁড়াও। কারণ আমি তোমাদেরকে আমার পেছন থেকে দেখি।

৬.হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : প্রথম সারি পূর্ণ কর, তারপর তারপরের সারি। যদি কোন কমতি থাকে তাহলে সেটা থাকবে শেষ সারিতে।

৭.আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত : রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডান দিকে লক্ষ্য করে বলতেন ঃ সোজা হও,তোমাদের সফ বরাবর করো। আবার বাম দিকে লক্ষ্য করে বলতেন : সোজা হও, তোমাদের সফ বরাবর করো। (আবু দাউদ)

৮.আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : প্রথমে পয়লা সফ পূর্ণ করো, তারপর দ্বিতীয় সফ। এভাবে পূর্ণ করে যাও। যদি কোনো অপূর্ণতা থাকে, তবে তা যেনো সর্বশেষ সফে থাকে। (আবু দাউদ)

৯.আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পুরুষদের সফ সমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হলো প্রথম সফ, আর নারীদের সফ সমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সর্বশেষ সফ। (সহীহ মুসলিম)

১০.আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের মধ্যে যারা বয়স্ক ও বুঝ সমুঝের অধিকারী, তারা যেনো আমার (ইমামের) নিকটে দাঁড়ায়। অত:পর, যারা তাদের নিকটবর্তী। অতপর তারা, যারা তাদের নিকটবর্তী। সাবধান মসজিদে বাজারের ন্যায় হৈ চৈ করা থেকে বিরত থাকো। (সহীহ মুসলিম)

১১.হযরত আবু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে আমাদের কাঁধে হাত দিয়ে বলতেন : সমান হয়ে দাঁড়াও, আগে-পিছে হয়ে যেয়োনা, তাহলে তোমাদের মনের মধ্যে অনৈক্য দেখা দেবে। বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ লোকদের আমার নিকট থাকা উচিত। তারপর থাকবে তারা যারা বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার দিক দিয়ে তাদের কাছাকাছি। তারপর তারা যারা তাদের কাছাকাছি।

১২.বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন: আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ ঐ লোকদের প্রতি সালাম করেন (অর্থাৎ রহমত বর্ষণ ও দোয়া করেন), যারা প্রথম দিকের সফগুলোতে এগিয়ে আসে। আল্লাহর কাছে সেই পা বাড়ানোর চাইতে আর কোনো পা বাড়ানোই এতো অধিক প্রিয় নয়, যে পা সফ মিলানো ও পূর্ণ করার জন্য বাড়ে। (আবু দাউদ)

১৩. আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা সফ সোজা করবে, বাহু বরাবর করবে, ফাঁক পূর্ণ করবে, পরষ্পরের বাহু নরম রাখবে এবং মাঝখানে শয়তানের জন্য জায়গা রাখবেনা। যে ব্যক্তি সফ মিলিয়ে দাঁড়ায়, আল্লাহ তাকে মিলিয়ে দেন। আর যে সফ বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহ তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেন। (আবু দাউদ ও আন-নাসায়ী)

১৪.হযরত জাবির ইবনে সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন : রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এসে বললেন : তোমরা কি তেমনিভাবে সারিবদ্ধ হবেনা যেমন ফিরিশতারা তাদের রবের সামনে সারিবদ্ধ হয়? আমরা জিজ্ঞেস করলাম : হে আল্লাহর রাসূল! ফিরিশতারা আবার তাদের রবের সামনে কিভাবে সারিবদ্ধ হয়? তিনি জবাবে বললেন : তারা সামনের কাতারগুলো পুরো করে এবং দু’জনের মধ্যে কোন প্রকার ব্যবধান না রেখে লাইনে ঘেঁসে ঘেঁসে দাঁড়িয়ে যায়।

১৫.হযরত আবু সায়ীদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কোনো সাহাবীর মধ্যে উদাসীনতা ও পিছনে থাকার প্রবণতা লক্ষ্য করলেন। তখন তিনি সতর্ক করে বললেন, সামনে আসো এবং আমার পথ অনুসরণ কর, যাতে পরবর্তীরা তোমাদের অনুসরণ করতে পারে। কোনো জাতি যখন পশ্চাৎপদতা অবলম্বন করে তখন আল্লাহও তাদেরকে পশ্চাৎপদ করে দেন। (সহীহ মুসলিম)

You may also like