Home ইতিহাস নামাযে অবহেলা/শৈথিল্য প্রদর্শনের শাস্তি

নামাযে অবহেলা/শৈথিল্য প্রদর্শনের শাস্তি

by admin
০ comment

নামাযে অবহেলা/শৈথিল্য প্রদর্শনের শাস্তি

মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

 

১. হযরত সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস বলেন : আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, (নামাযে) এই শিথিলতা কি? তিনি বলেন : নির্দিষ্ট সময় থেকে বিলম্বিত করা। তাদেরকে নামাযি বলা হয়েছে। কিন্তু উদাসীনতা ও বিলম্বের কারণে তাদেরকে ‘ওয়েল’ এর হুমকি দেয়া হয়েছে। ওয়েল অর্থ আযাবের কঠোরতা। কারো কারো মতে ওয়েল হচ্ছে জাহান্নামের এমন উত্তপ্ত একটি জায়গা যেখানে পৃথিবীর সমস্ত পাহাড়-পর্বত ফেলে দিলেও তা তীব্র দহনে গলে যাবে। তাওবা ও অনুতাপ সহকারে ক্ষমা না চাইলে নামায কাজাকারী ও নামাযে অলস্যকারীর জন্য এই জায়গা বাসস্থান হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে।

২.ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আল্লাহর সামনে দাঁড় করিয়ে জাহান্নামে যাওয়ার আদেশ দেয়া হবে। সে জিজ্ঞোস করবে : হে আমার প্রতিপালক! কি কারণে (আমাকে জাহান্নামে যাওয়ার আদেশ দেয়া হলো)? আল্লাহ বলবেন : নামায নির্ধারিত সময়ের পরে পড়া ও আমার নামে মিথ্যা কসম খাওয়ার কারণে।

৩.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায ঠিকমত আদায় করবে না অর্থাৎ নামাযে অবহেলা করবে, আল্লাহ তাকে ১৪টি শাস্তি দেবেন। ক. দুনিয়াতে পাঁচটি, খ. মৃত্যুর সময় তিনটি, গ. কবরে তিনটি, ঘ. কবর থেকে উঠানোর সময় তিনটি।

. দুনিয়াতে পাঁচটি :

১.তার হায়াত থেকে বরকত কমে যাবে।

২.চেহারা থেকে নেককারের নিদর্শন লোপ পাবে।

৩.তার কোনো নেক আমলের প্রতিদান দেয়া হবে না।

৪. তার কোনো দু‘আ কবুল হবে না।

৫.নেককারদের দু‘আ থেকে সে বঞ্চিত হবে।

. মূত্যুর সময় তিনটি :

১.সে অপমানিত হয়ে মারা যাবে।

২. অনাহারে মারা যাবে

৩. মৃতুর সময় সে এমন পিপাসার্ত হয়ে মারা যাবে যে, পৃথিবীর সব সমুদ্রের পানি তাকে পান করালেও তার পিপাসা মিটবে না।

. কবরে থাকাকালে তিনটি :

১. কবর সংকীর্ণ হয়ে এতো জোরে চাপ দেবে যে, তার পাঁজরের একদিকের হাড় অপরদিকে ঢুকে যাবে।

২. কবরে আগুন ভর্তি করে রাখা হবে, যে আগুনের জ্বলন্ত কয়লায় সে রাতদিন জ্বলতে থাকবে।

৩.তার কবরে ভয়ংকর বিষধর সাপ রাখা হবে, যেগুলো তাকে বিলম্বে নামায পড়ার কথা উল্লেখ করে কিয়ামত পর্যন্ত দংশন করতে থাকবে।

ঘ.কবর থেকে বেরুবার সময় তিনটি :

১.কঠোরভাবে হিসাব নেয়া হবে।

২.আল্লাহ তার উপর রাগান্বিত থাকবেন।

৩.জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

৪.অন্য রেওয়াতে আছে যে, কিয়ামতের দিন তার কপালে তিনটি কথা অংকিত থাকবে। একটি কথা হবে: হে আল্লাহর হক বিনষ্টকারী, দ্বিতীয় কথাটি হবে : হে আল্লাহর গযবের উপযুক্ত ব্যক্তি। তৃতীয়টি কথাটি হবে: তুমি পৃথিবীতে যেমন আল্লাহর অধিকার দাওনি, আজ তেমনি আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবে।

You may also like