Home ইসলাম নামাযের রাকা’আত সংখ্যা

নামাযের রাকা’আত সংখ্যা

by admin
০ comment

নামাযের রাকাআত সংখ্যা

মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

ক. দুই রাকা’আত খ. তিন রাকা’আত ও গ. চার রাকা’আত নামায।

ক. দুই রাকা’আত নামায :

নামায দুই রাকা’আত হলে দ্বিতীয় রাকা’আতে সেজদা শেষে প্রথমে তাশাহুদ, তারপর দুরূদ, তারপর দোয়া মাছুরা পড়ার পর সালাম ফেরাতে হবে।

খ.তিন বা চার রাকা’আত নামায :

নামায তিন বা চার রাকা’আত হলে প্রথম দ্বিতীয় রাকা’আতে শুধুমাত্র তাশাহুদ পড়তে হবে। দুরূদ, দোয়া মাছুরা ইত্যাদি পড়তে হবে না। তাশাহুদ পড়া শেষ হলেই আল্লাহু আকবার বলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে প্রথম বা দ্বিতীয় রাকা’আতের মতই সূরা ফাতিহা অথবা তার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে রুকু, সিজদা ইত্যাদি করে অবশিষ্ট ৩য় বা ৩য় ও ৪র্থ রাকা’আত শেষ করে শেষ সিজদাহ দিয়ে বসতে হবে তারপর তাশাহুদ তারপর দুরূদ তারপর দোয়া মাছুরা পড়ার পর সালাম ফেরাতে হবে।

১. ফরয নামায হলে :

ফরয নামায হলে ১ম ও ২য় রাকা’আতে সূরা ফাতিহা পড়ে অন্য সূরা মিলাতে হবে কিন্তু ৩য় ও ৪র্থ রাকা’আতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়ে রুকুতে যেতে হবে, কোন সূরা মিলাতে হবে না। যদি কেউ সূরা মিলিয়ে পড়ে ফেলে তবে নামাজে সমস্যা হবে না।

২. ওয়াযিব, সুন্নাত ও নফল নামায হলে :

নামায ওয়াযিব, সুন্নাত ও নফল হলে হলে ৩য় ও ৪র্থ রাকা’আতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলাতে হবে।

৩.জামায়াতে নামায হলে :

ক.নামায জামায়াতে হলে ইমাম ফজর, মাগরিব ও এশা ফরয নামাযে ১ম ও ২য় রাকা’আতে সূরা ক্বেরাত উচ্চস্বরে পড়তে হবে। ৩য় ও ৪র্থ রাকা’আতে সূরা উচ্চস্বরে পড়তে হবে না।

খ.যোহর ও আছরের জামায়াতে ১ম ও ২য় রাকা’আতে সূরা ক্বেরাত আস্তে পড়তে হবে। সমস্ত তাকবীর, সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ ও আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ উচ্চস্বরে পড়তে হবে।

৪.একা নামায পড়লে :

ফরয নামায সমূহ একা পড়লে ইমামের মতো পড়তে হবে। অথবা সমস্ত নামায আগাগোড়া সুন্নাত নামাযের মতো নীরবেও পড়া যায়। একা নামায আদায়কারীকে প্রতি রাকা’আতে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে।

আস্তে আস্তে একা নামায পড়ার ক্ষেত্রে তাকবীর, তাহরীমা, সূরা ক্বেরাত পড়ার নিয়ম :

যে সব নামায আস্তে আস্তে পড়তে হয় সেসব নামাযে সূরা ক্বেরাত এমনভাবে পড়তে হবে যাতে নিজ কানে নিজের পড়ার আওয়াজ শুনা যায়, পড়ার সময় ঠোঁট, জিহ্বা, মুখ নড়া-চড়া করে, সূরা ক্বেরাত পড়ার সময় জিহ্বা ও ঠোঁট ব্যবহারের মাধ্যমে হরফের সহীহ উচ্চারণ হওয়া। শুধুমাত্র ধ্যান করে বা ঠোঁট মুখ-জিহ্বা না নেড়ে মনে মনে তাকবীর, তাহরীমা, আল্লাহু আকবার বললে এবং সূরা ক্বেরাত পড়লে তা আদায় হবে না এবং নামায হবে না।

৫. ইমামের পেছনে নামায পড়লে :

فَرْضُ اللهِ تَعَالٰي“ফারদুল্লাহি তা’আলা।” এরপর اِقْتَدَيْتُ بِهَذَ الْاِمَام“একতাদাইতু বিহাজাল ইমাম” বলতে হবে। মনে মনে ইমাম যেভাবে নামাজ পড়াবেন সেভাবে ইমামকে অনুসরণ করার ইচ্ছা করতে হবে।

৬. নিজে ইমামতি নামায পড়ালে :

اَنَا اِمَام ُلِمَنْ حَضَرَ وَمَنْ يَّحْضُرُ “আনা ইমামু লিমান হাজারা ওয়া মাই-ইয়াহ দূরু।” “যারা উপস্থিত আছে এবং যারা উপস্থিত হবে আমি তাদের ইমামতিতে নিযুক্ত বলে মনস্থির করতে হবে।”

You may also like