Home ইসলাম নামাজের সামনে দিয়ে আসা-যাওয়া

নামাজের সামনে দিয়ে আসা-যাওয়া

by admin
০ comment

নামাজের সামনে দিয়ে আসা-যাওয়া

মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

১.হযরত আবু জুহাইম আবদুল্লাহ ইবনে হারেস ইবনে ছাম্মাহ আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : নামাযের সামনে দিয়ে যাতায়াতকারী যদি জানতো এতে তার কি পরিমাণ গুনাহ হয়, তবে চল্লিশ বছর পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকাকে কল্যাণকর মনে করত। বর্ণনাকারী বলেন: রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি চল্লিশ মাস না চল্লিশ দিন না চল্লিশ বৎসরের কথা বলেছেন, তা আমার মনে নেই। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম)
২.হযরত আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন কিছুই নামায নষ্ট করতে পারে না, তথাপি সম্মুখ দিয়ে গমনকারীকে সাধ্যানুযায়ী বাধা দিবে। নিশ্চয়ই উহা শয়তান। (আবু দাউদ)
৩.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : নামাযের সামনে গমন করা অপেক্ষা একশত বছর দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম। (ইবনে মাজাহ)
সুন্নাতে মুয়াক্কাদার পুরস্কার
১.রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি (পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে) দিন ও রাতে ফরয ব্যতীত ১২ রাকায়াত সুন্নাত নামায পড়বে তার জন্য জান্নাতে একখানি গৃহ নির্মাণ করা হবে। (সহীহ মুসলিম)
২.উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি দিন ও রাতের মধ্যে মোট ১২ রাকাত নামায (সুন্নাত) পড়বে, তার জন্য জান্নাতে একখানি ঘর নির্মিত হবে। তা জোহুরের পূর্বে ৪ রাকা’আত, পরে ২ রাকা’আত, মাগরীবের পর ২ রাকা’আত, এশার পর ২ রাকা’আত আর ফজরের পূর্বে ভোরের ২ রাকা’আত। (জামে আত-তিরমিযী)
ক.ফজরের সুন্নাত : আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ফজরের দু’রাকাআ’ত সুন্নাত সমস্ত দুনিয়া ও উহার মধ্যবর্তী সকল নিয়ামত হতে উত্তম। (সহীহ মুসলিম)
খ.জোহরের সুন্নাত : উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জোহরের (ফরযের) পূর্বের চার রাকা’আত এবং পরে দু’রাকা’আত সুন্নাত যথারীতি আদায় করে আল্লাহতায়ালা তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিবেন। (জামে আত-তিরমিযী, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি যোহরের ২ রাকা’আত নামায সংরক্ষণ করবে, তার পাপরাজি মাপ করা হয়। যদিও উহা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়। (মুসনাদে আহমদ ও জামে আত-তিরমিযী)
গ.আসরের সুন্নাত : ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আসরের (ফরযের) পূর্বে চার রাকাআ’ত সুন্নাত পড়ে আল্লাহ তার প্রতি রহম করেন। (আবু দাউদ, জামে আত-তিরমিযী ও মুসনাদে আহমদ)
ঘ.মাগরিবের সুন্নাত :যে ব্যক্তি মাগরিবের (ফরযের) পর দু’রাকা’আত সুন্নাত পড়ে তার সে নামায উপরস্থ ইল্লিয়ীনে পৌছানো হয়। (আবু দাউদ)
ঙ.ইশার সুন্নাত : যে ব্যক্তি দিন-রাত ১২ রাকাত নামায (সুন্নাত) পড়বে। তার জন্য বেহশতে ঘর নির্মণ করা হবে। তা ৪ রাকা’আত জোহুরের পূর্বে, ২ রাকা’আত জোহুরের পরে, ২ রাকা’আত মাগরীবের পরে, ২ রাকা’আত এশার পরে, এবং ২ রাকা’আত ফজরের পূর্বে। (বায়হাকী)
সুন্নাত বা নফল : মসজিদে (ফরয) নামায পড়ার পর বাসগৃহেও কিছু (সুন্নাত বা নফল) নামায পড়ো। তাহলে আল্লাহতায়ালা সে নামাযের প্রতিদান বাসগৃহের মঙ্গল সাধন করবে। (সহীহ মুসলিম)
সুন্নাত বা নফল নামায ফরয নামাযের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করেব। তাই আমাদের উচিৎ বেশী বেশী করে সুন্নাত নামায পড়া।
নামাযের বয়স : ওমর ইবনে শোয়াইব তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদের সালাতের জন্য নির্দেশ দাও, যখন তারা সাত বছরে উপনীত হয়। আর দশ বছর হলে তাকে প্রহার কর, আর তাকে তাদের মাঝ থেকে পৃথক করে দাও। (আবু দাউদ)
ইমাম খাত্তাবী বলেন : এ হাদীস থেকে বুঝা যায়, প্রাপ্ত বয়স্কের নামায তরকের জন্য আরো কঠোর শাস্তি প্রযোজ্য। শাফেয়ী মাযহাবের কারো কারো মতে ইচ্ছাকৃতভাবে নামায তরককারী প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদন্ড দেয়া যাবে। ইমাম মালেক, শাফেয়ী ও ইমাম আহমাদের মতে সে হত্যাযোগ্য।

You may also like