Home ইসলাম কুলূখ ব্যবহার, ইস্তেঞ্জা ও শৌচকার্য

কুলূখ ব্যবহার, ইস্তেঞ্জা ও শৌচকার্য

by admin
০ comment

কুলূখ ব্যবহার, ইস্তেঞ্জা শৌচকার্য

মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

 

মল-মূত্র ত্যাগ করলে পাক শুকনা মাটির ঢিলা, পাথর খ-, ছেঁড়া কাপড়, তুলা ও শুকনা কাঠের টুকরা প্রভৃতি দিয়ে কুলূখ নেয়া জায়েয আছে। হাড়, ইট, কয়লা, গোবর, কাগজ, বাসন-কোসন, ভাঙ্গা চাড়া, কাঁচা ঘাস, খাবার বস্তু প্রভৃতি দ্বারা কুলূখ নেয়া নিষেধ। কুলূখের সংখ্যা ও কুলূখ ব্যবহারের কোনো বিধিবদ্ধ নিয়ম নেই। একটি দ্বারা হোক বা একাধিক দ্বারা হোক এবং যেদিক দিয়েই প্রথমে আরম্ভ করা হোক না কেন, গুহ্যদ্বার মুছে পবিত্রতা লাভ করাই কুলূখ নেয়ার একমাত্র উদ্দেশ্যে। তবে মেয়েদের জন্য প্রস্রাবের পর ঢিলা-কুলূখ ব্যবহার করার আবশ্যক হয় না। শহুরে এলাকায় বিশেষ করে যেসব জায়গায় উপরোক্ত কুলূখের উপকরণ সহজলভ্য নয় এরকম স্থানে ঢিলা-কুলূখের বিকল্প টয়লেট পেপার ব্যবহার করা যেতে পারে।

কুলূখ ব্যবহার করার পর প্রচুর পরিমাণ পানি দ্বারা শৌচকার্য সম্পাদন করতে হবে। বাম হাতের দুই বা তিন আঙ্গুলে পেট দ্বারা শৌচকার্য করতে হয়। এ কাজকে ইস্তেঞ্জা বলা হয়। ইস্তেঞ্জা সুন্নতে মুআক্কাদাহ্। তারপর উত্তমরূপে হাত ধুয়ে ডান পা আগে বাড়িয়ে পায়খানা/প্র¯্রাবখানা থেকে বের হয়ে নিম্নলিখিত দু‘আ পাঠ করিতে হবে।

পায়খানা থেকে বের হওয়ার দোয়া : উচ্চারণ : গুফরানাকা আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আয্হাবা আন্নিল্ আযা ওয়া আ’ফানী।

অর্থ : হে আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি। শোকর সেই আল্লাহর যিনি আমার ভিতর থেকে অপবিত্র কষ্টদায়ক সববস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে শান্তি প্রদান করেছেন।

পানির বিবরণ

গোটা পৃথিবীর তিন ভাগের দু’ভাগ পনি আর এক ভাগ হলো স্থল। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পানির উপরই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। পানি সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন :

উচ্চারণ : ওয়া আনযালনা মিনাস সামাই মাআন ত্বহূরা।

অর্থ : এবং আমি আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেছি যার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা হয়। (সূরা ২৫ ফুরকান : আয়াত ৪৮)

উচ্চারণ : ওয়াইয়ুনায্যিলু আলাইকুম মিনাস সামাই মাআল্লিইয়ূত্বহহিরাকুম বিহি।

অর্থ : এবং আল্লাহতায়ালা তোমাদের জন্য আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেছেন যাতে এর মাধ্যমে তোমাদেরকে পবিত্র করেন। (সূরা ৮ আনফাল : আয়াত ১১)

হাদীস : রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সমুদ্রের পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যায়।

বিশুদ্ধ পানির কোনো বর্ণ, গন্ধ ও স্বাদ নেই। সমুদ্র, নদী খাল-বিল, ঝর্ণা, পুকুর, কূপ, মেঘ, বৃষ্টি ও বরফ ইত্যাদির পানি পাক। তা দিয়ে নাপাকী দূর করা এবং অযু ও গোসলে ব্যবহার করা জায়েয। যে কোনো বদ্ধ পানি বা গর্তের পানি যার পরিধি (দৈর্ঘ্য-প্রস্থ) মিলিয়ে যদি ৪০ (চল্লিশ) হাতের কম হয় তবে অল্প হোক বা অধিক হোক নাপাকী পড়া মাত্র তা নাপাক হয়ে যাবে। ধুলা-বালি বা কাদা মিশ্রিত ঘোলাটে পানি, সাবান বা জাফরান মিশ্রিত ঘোলাটে পানি দ্বারা অযু ও গোসল জায়েয হবে। কিন্তু যদি সাবান ও জাফরানের রঙ স্পষ্টভাবে দৃষ্টিগোচর হয় তবে তা দিয়ে গোসল করা জায়েয হবে না।

মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়াসহ যেসব কীট-পতঙ্গ পানিতে জন্মে অথবা মশা-মাছি প্রভৃতি যাদের দেহে রক্ত হয় না তা পানিতে মরে পঁচে গেলেও পানি নাপাক হবে না। শূকর ও কুকুর ছাড়া মৃত জন্তুর পশম, শিং, হাড়, দাঁত, রগ, ক্ষুর, নখ ও চক্ষু প্রভৃতি যদি চর্বিহীন হয় তবে পাক। এগুলো পানিতে পড়লে কোন ক্ষতি নেই। কিন্তু যদি এগুলোর উপরে বা মধ্যে চর্বি থাকে তবে পানি নাপাক হয়ে যাবে।

You may also like