Home ইসলাম কুরআন তিলাওয়াতের উপকারীতা

কুরআন তিলাওয়াতের উপকারীতা

by admin
০ comment

কুরআন শিক্ষা ও তিলাওয়াতের উপকারীতা
১.কুরআন শিক্ষা করা ফরয
প্রত্যেক মুসলিমকে কুরআন পড়া জানতে হবে। যে নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবী করবে তাকে অবশ্যই কুরআন শিক্ষা করতে হবে। এ বিষয়ে আল্লাহর ঘোষণা : ‘পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন’। (আলাক–৯৬ আয়াত : ১) কুরআন শিক্ষায় কোন প্রকার অবহেলা করা যাবে না। উম্মাতকে কুরআন শিক্ষার নির্দেশ দিয়ে হযরত ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘তোমরা কুরআন শিক্ষা কর এবং তিলাওয়াত কর’। (মুসান্নাফ)

২.সালাত আদায়ের জন্য কুরআন শিক্ষা করা
আল্লাহতায়ালা ঈমানদার বান্দাহদের উপর প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। কুরআন তেলাওয়াত ছাড়া সালাত আদায় হয় না। সালাত আদায় করার জন্যও কুরআন শিখতে হবে। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘অতএব তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ ততটুকু পড়’। (মুযযাম্মিল–৭৩ আয়াত : ২০) এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি সূরা ফাতেহা পড়ে না তার সালাতই হয় না’। (সহীহ আল বুখারী )

৩.কুরআন প্রচারের জন্য শিক্ষা করা
কুরআন মাজীদে কুরআন প্রচারের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সে নির্দেশের আলোকে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কিরাম কুরআন প্রচার–প্রসারে নিজেদের নিয়োজিত করেছেন। যে ব্যক্তি কুরআন পড়তে জানে না, সে কীভাবে তা প্রচার করবে? সুতরাং কুরআন প্রচার–প্রসার ভূমিকা পালন করার জন্য তা শিক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন। কুরআনে বলা হয়েছে, হে রাসূল, তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার নিকট যা নাযিল করা হয়েছে, তা পৌঁছে দাও। (মায়িদাহ–৫ আয়াত : ৬৭)

৪. কুরআন শিক্ষা করা অন্তরের প্রশান্তি
মানব জীবনে অর্থ বা অন্যান্য কারণে জাগতিক তৃপ্তি আসলেও প্রকৃত তৃপ্তি ও শান্তি কুরআন শিক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব। এ জন্য কুরআনে বলা হয়েছে, ‘যারা ঈমান আনে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে। জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়’ (আররাদ–১৩ আয়াত : ২৮)।

৫.হেদায়েত লাভের জন্য কুরআন শিক্ষা করা
আল–কুরআনুল কারীম মহারাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত সর্বশ্রেষ্ঠ ও চিরন্তন মু‘জিযা, বিশ্ব মানবতার মুক্তিসনদ। এতে রয়েছে মানব জীবনের সকল দিক ও বিভাগ সম্পর্কে সুস্পষ্ট হিদায়াত ও দিক–নির্দেশনা, রয়েছে আলোকবর্তিকা, উপদেশ, রহমত ও অন্তরের যাবতীয় ব্যাধির উপশম। আল্লাহ সুবহানাহু বলেন,‘‘হে মানুষ! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে উপদেশ এবং অন্তরসমূহে যা থাকে তার শিফা, আর মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমাত। বল, ‘আল্লাহর অনুগ্রহে ও রহমাতে’। সুতরাং এ নিয়েই যেন তারা খুশী হয়। এটি যা তারা জমা করে তার চেয়ে উত্তম।’’ কুরআনের মাধ্যমেই হেদায়াতের সন্ধান পাওয়া যাবে। সে জন্য কুরআন থেকে হেদয়াত পাওয়ার জন্য কুরআন শিক্ষা করতে হবে। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় এ কুরআন এমন পথ–প্রদর্শন করে, যা সর্বাধিক সরল ও সঠিক’। (বনি ইসরাঈল–১৭ আয়াত : ০৯) তিনি আরো বলেন,‘‘আর আমি তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি, শুধু এজন্য যে, যে বিষয়ে তারা বিতর্ক করছে, তাদের জন্য তা তুমি স্পষ্ট করে দেবে এবং এটি হিদায়াত ও রহমাত সে কওমের জন্য যারা ঈমান আনে।’’

৬.জান্নাতে যাওয়ার জন্য কুরআন শিক্ষা করা
প্রত্যেক মু’মীনের সর্বোচ্চ কামনা হলো জান্নাতে যাওয়া। তাই জান্নাতে যাওয়ার জন্য কুরআন শিক্ষা করতে হবে। হাদীসে এসেছে, সিয়াম ও কুরআন কিয়ামাতের দিন মানুষের জন্য এভাবে সুপারিশ করবে যে, সিয়াম বলবে হে আমার রব, আমি দিনের বেলায় তাকে (এ সিয়াম পালনকারীকে) পানাহার ও যৌনতা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। অনুরূপভাবে কুরআন বলবে, হে আমার রব, আমাকে অধ্যয়নরত থাকায় রাতের ঘুম থেকে আমি তাকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। তিনি (রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে (মুসনাদ আহমাদ)

৭.কুরআন পাঠকারী প্রত্যেক হরফের জন্য সওয়াব লাভ করে
কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বিরাট সওয়াব অর্জন করার সুযোগ রয়েছে। এর সাথে অনেক উপকারিতাও রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,“যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করে, তাকে একটি নেকি প্রদান করা হয়। প্রতিটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে, আলিফ–লাম–মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মীম একটি হরফ।’’ (জামে আত তিরমিযি)

৮.কুরআনের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সর্বোত্তম ব্যক্তি
কুরআন শিক্ষার মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা যায়। হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,‘‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে ও অপরকে শিক্ষা দেয় ’’। (সহীহ আল বুখারী)

৯.কুরআন তিলাওয়াত আল্লাহর সাথে একটি লাভজনক ব্যবসা
কুরআন তিলাওয়াত আল্লাহর সাথে একটি লাভজনক ব্যবসা। বিভিন্ন ব্যবসায় লাভ এবং ক্ষতি দুটিরই সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এখানে লাভ ছাড়া কোন প্রকার ক্ষতির আশংকা নেই। এ বিষয়ে আল্লাহতায়ালা বলেন :‘‘যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, সালাত কায়েম করে, আমার দেয়া রিজিক থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারাই আশা করতে পারে এমন ব্যবসার যা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কারণ আল্লাহ তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরো অধিক দান করবেন। তিনি ক্ষমাশীল ও দলবান।’’ (ফাতির–৩৫ আয়াত : ২৯–৩০)

১০.কুরআন তিলাওয়াত কারীর পক্ষে সুপারিশ করবে
কিয়ামতেরয়াবহ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত কারীর পক্ষে সুপারিশ করবে। এটা বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। হযরত আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ‘তোমরা কুরআন তিলাওয়াত কর, কারণ, কুরআন কেয়ামতের দিন তিলাওয়াত কারীর জন্য সুপারিশ করবে’ (সহীহ মুসলিম)

১১.কুরআন পড়া উত্তম সম্পদ অর্জন
কুরআন পড়া বা শিক্ষা দেয়ার কাজে নিয়োজিত থাকা উত্তম সম্পদ অর্জন করার অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ কোন সকালে মসজিদে গিয়ে আল্লাহর কোরআন হতে দুটি আয়াত পড়ে বা শিক্ষা দেয়? তাহলে সেটি তার জন্য দুটি উট লাভ করার চেয়ে উত্তম হবে। তিনটি আয়াত তিনটি উট অপেক্ষা উত্তম। চারটি আয়ত চারটি উট অপেক্ষা উত্তম। অনুরূপ আয়াতের সংখ্যা অনুপাতে উটের সংখ্যা অপেক্ষা উত্তম। (সহীহ মুসলিম)

১২.কুরআন তিলাওয়াত ঈমান বৃদ্ধি করে

কুরআন তিলাওয়াত বানাদাহর জন্য এমন উপকারী যে, তা তিলাওয়াত করলে ঈমান বৃৃদ্ধি পায়। এ বিষয়ে আল্লাহতায়ালা বলেন : ‘মুমিন তো তারা, যাদের অন্তরসমূহ কেঁপে উঠে যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয়। আর যখন তাদের উপর তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং যারা তাদের রবের উপরই ভরসা করে’। (আনফাল–৫ আয়াত : ২)

১৩.কুরআনের ধারক–বাহক ঈর্ষণীয় ব্যক্তি
কোন ব্যক্তি কুরআনের জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে তার হক আদায় করে তেলাওয়াত করলে তার সাথে ঈর্ষা বা তার মত হয়ার আকাঙ্খা করা যাবে। ‘একমাত্র দুই ব্যক্তির উপর ঈর্ষা করা যায়। (ক) এক ব্যক্তি, যাকে আল্লাহতায়ালা কোরআনের ইলম দান করেছেন, সে দিবা–রাত্রি ঐ কোরআন তিলাওয়াতে ব্যস্ত থাকে। (খ) দ্বিতীয় সে ব্যক্তি, যাকে আল্লাহতায়ালা ধন–সম্পদ দান করেছেন। সে তা দিনরাত (বৈধ কাজে) খরচ করে’। (সহীহ আল বুখারী)

You may also like