Home ইতিহাস কিরাত পড়ার বিধান

কিরাত পড়ার বিধান

by admin
০ comment

কিরাত পড়ার বিধান

মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

 

হযরত নাফে (রহ.) থেকে বর্ণিত। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যদি জিজ্ঞেস করা হতো, মুকতাদী ইমামের পিছনে কিরআত পড়বে কি না, তাহলে তিনি বলতেন, ‘ইমামের কিরাআতই মুকতদীর জন্য যথেষ্ট। তবে মুকতাদী যখন একা নামায পড়বে তখন তাকে কুরআন পড়তে হবে। ‘কিরাআত’ শব্দে সূরা ফাতেহা ও অন্য সূরা দুইটিই শামিল রয়েছে।

জামায়াতের নামাযে কুরআন পড়া ইমামের দায়িত্ব। আর মুকতাদীর কর্তব্য হল চুপ থাকা। মনোযোগ সহকারে শুনা। মুকতাদী সূরা ফাতেহা ও পড়বে না এবং অন্য সূরাও মিলাবে না। মুকতাদীর জন্য সূরা ফাতিহা পড়ার বিধান নেই, শুধু জোরে কিরআতের নামাযে যখন ইমামের সূরা ফাতিহা সমাপ্ত হয় তখন মুকতাদী ‘আমীন বলবে’।

. আমীন বলা :

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, ‘রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-যখন তোমাদের কেউ আমীন বলে এবং আসমানের ফিরিশতাও আমীন বলেন আর পরস্পরের আমীন মিলে যায় তখন পিছনের গুনাহসমুহ মাফ করে দেয়া হয়’। (সহীহ আল বোখারী)

ইমাম সূরা ফাতিহা সমাপ্ত করার পর মুকতাদী অন্চ্চু স্বরে ‘আমীন’ বলবে। এটিই উত্তম।

.শুয়ে নামায পড়া :

হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণিত। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : দাঁড়িয়ে নামায পড়। তবে যদি অক্ষম হও, বসে নামায পড়। আর তাও যদি সম্ভব না হয়, কাত হয়ে শুয়ে নামায পড়। (সহীহ আল বোখারী)

১৪২৪ বছর আগে কুরআন যে জাতির ওপর নাজিল হয় সে জাতির ভাষা ছিল আরবী। তারা সালাতে যা কিছু কোরআন থেকে পাঠ করতেন নিজেদের মাতৃভাষা আরবী হওয়ায় তা তারা সহজেই বুঝতে পারতেন। কিন্তু তারা যখন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাযে দাঁড়াতেন তখন নেশাচ্ছন্ন থাকায় নামায সুষ্ঠুভাবে আদায় এবং পঠিত বিষয় হৃদয়ঙ্গম করতে পারতেন না। আমরা যারা বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান তারা কি (নেশা ছাড়াই) নামাযে যা পড়ি তা কি সত্যি বুঝতে পারি? ওই আয়াতে পরিষ্কারভাবে আল্ল-াহতায়ালা আমাদের জন্য ফরয (বাধ্যতামূলক) করে দিয়েছেন যে, আমরা নামাযে যা পাঠ করবো তা অবশ্যই উপলব্ধি করবো। আমরা বাংলা ভাষায় কথাবার্তা বলি। সেহেতু নামাযের পঠিত বিষয়গুলো বাংলা ভাষায় উপস্থাপন করলে আমাদের সবার বুঝতে সহজ হবে। নামাজে আন্তরিকতা সৃষ্টি হবে এবং দৈনন্দিন জীবনে নামাযের বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হবে। শারীরিক, আত্মিক ও মানসিক পবিত্রতা এবং পরিশুদ্ধতার সঙ্গে সঙ্গে নামাযের পঠিত বিষয়গুলো মাতৃভাষায় বুঝতে পারলে নামাযের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য উভয় উদ্দেশ্য এবং আল্ল¬াহর দিদার লাভে সক্ষম হতে পারবো ইনশাআল্ল¬াহ।

.নামাযের নিষিদ্ধ সময় :

হযরত উকাবা ইবন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তিন সময় নামাজ পড়তে অথবা জানাযা নামাজ আদায়ে নিষেধ করেছেন :

১.সূর্য যখন আলোকময় হয়ে উঠে, যতক্ষণ না তা কিছু উপরে উঠে যায়।

২.সূর্য যখন স্থির হয়ে দাঁড়ায় দ্বিপ্রহরে, যাবৎনা পশ্চিমে ঢলে পড়ে এবং

৩.সূর্য যখন অস্ত যেতে থাকে, যাবৎনা উহা সম্পূর্ণ অস্তমিত হয় । (সহীহ মুসলিম)

You may also like