Home ইসলাম ইলম/ জ্ঞান অর্জন

ইলম/ জ্ঞান অর্জন

by admin
০ comment

ইলম/ জ্ঞান অর্জন

মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী

জ্ঞান অর্জন ফরজ সকল ফরজের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ কারন জ্ঞান ব্যতীত মহান আল্লাহকে চেনা যায় না এবং আল্লাহ কোন ইবাদত করা যায় না।
১) কোরআন :
সূরা আলাকের ১নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন : “পড় তোমরা প্রতি পালকের নামে, যিনি সূষ্টি করেছেন ( সব কিছু)।”
২) কোআন :
সূরা আর-রাহমানের ১নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন : “অতি বড় মেহেরবান (আল্লাহ) এ কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন।”
৩) কোরআন :
সূরা ত্বা-হার ১১৪ নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন : “এবং বল, হে আমার প্রভু! আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দাও”।
৪) কোরআন :
সূরা আযযুমার ৯ নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন : “বল যারা জানে আর যারা জানেনা তারা কি সমান হয়”।
৫) কোরআন :
সূরা আল মুজাদিলার ১১ নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন : “তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান এনেছে এবং (ঈমানদারদের মধ্য থেকে) যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন”।
৬) কোরআন :
সূরা ফাতিরের ২৮ নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন : আল্লাহকে একমাত্র তারাই ভয় করে যারা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের জ্ঞান রাখে”।
৭) কোরআন :
সূরা জুময়ার ৫ নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন : “যাদেরকে তাওয়াত দেয়া হয়েছিল, অতঃপর তারা তার অনুসরণ করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত সে গাধার মত, যে পুস্তক বহন করে( অথচ গাধা জানেনা পুস্তকের মধ্যে কি লিখা আছে।”
৮) কোরআন :
সূরা জুমার ৯ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন : “বল,যারা জানে আর যারা জানেনা, তারা কি সমান হতে পারে?”
১) হাদীস :
হযরত আবু হুরায়রা রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেন : যে ব্যক্তি ইলম হাসিল করার জন্য কোন পথে চলে (এর বিনিময়ে) আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে যাবার পথ সজহ করে দেন।
২। হাদীস :
হযরত আবু হুরায়রা রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেন : যে ব্যক্তি হিদায়াতের দিকে আহবান করে সে ব্যক্তি (তার আহবানের ফলে) যারা হিদায়াতের পথে চলে তাদের সমান প্রতিদান পায়। এক্ষেত্রে হিদায়াতের পথ অবলম্বনকারীদের সওয়াবের কোন কমতি করা হয়না।
৩। হাদীস :
হযরত আবু হুরায়রা রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেন : মানুষ যখন মারা যায়, তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়। তিনটি আমলের সওয়াব জারী থাকে : সাদকায়ে জারীয়া, এমন ইলম যা থেকে লাভবান হওয়া যায় এবং সুসন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।
৪। হাদীস :
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেন : কল্যাণ (দ্বীনে ইলম) কখনো মুমিনকে পরিতৃপ্ত করতে পারেনা, অবশেষে জান্নাতে এর পরিসমাপ্তি ঘটবে।
৫) হাদীস :
হযরত আবু দারদা (রা:) হতে বর্ণিত। তিন বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন : যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করার উদ্দেশ্যে পথ চলবে, আল্লাহ তা‘য়ালা তার বেশেতের পথ সহজ ও সুগম করে দেবেন। আর পেরেশতাগণ ইলম অর্জনকারীর সন্তুষ্টির জন্য নিজের পাখা বিছিয়ে দেয়। আলিম ব্যক্তির জন্য আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে যা কিছু আছে সকলেই মাগফিরাতের দু’আ করে, এমনকি পানির ভিতরের মাছও। আর আবিদের উপর আলিম ব্যক্তির মর্যাদা হচ্ছে সমগ্র তারাকাজীর উপর পূর্ণিমা রাত্রের চাঁদের যে মর্যদা। অবশ্য আলিমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী । আর নবীগণ তাঁদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে দিরহাম ও দীনার রেখে যাননি; তবে তাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ইলম রেখে গেছেন। কাজেই যে ব্যক্তি তা আহরণ করল সে ব্যক্তি বিপুল অংশ লাভ করল । (তিরমিযি)
৬) হাদীস :
হযরত হাসান বসরী (রা:) হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন : যে ব্যক্তির মৃত্যু এসে পৌঁছবে এ অবস্থায় যে, যখন সে ইসলামকে যিন্দা করার উদ্দেশ্যে ইলম অন্বেষণে ব্যস্ত ছিল, তার মধ্যে এবং নবীগণের মধ্যে জান্নাতে মাত্র একটি স্তরের পার্থক্য থাকবে। ( দারেমী)
৭) হাদীস :
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন : মহান আল্লাহর নিকট নামায, রোযা, হজ্ব ও আল্লাহর পথে জিহাদের চেয়ে জ্ঞানার্জন হচ্ছে অধিক উত্তম। (দায়েলামী)
৮) হাদীস :
হযরত আনাস (র্:া) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন : জ্ঞানর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ফরয। (ইবনে মাযা)
৯) হাদীস :
হযরত আনাস (রা:) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূল্ল্লুাহ (সা:) বলেছেন : যে ব্যক্তি দীনি ইলম অন্বেষণে (নিজ ঘর হতে) বের হয়েছে, সে পর্যন্ত না সে ( নিজ ঘর) প্রত্যার্বতন করবে সে পর্যন্ত আল্লাহ রাস্তায় থাকবে। (তিরমিযি, দারেমী)
১০) হাদীস :
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা:) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন : আল্লাহ তা‘য়ালা সে ব্যক্তির মুখ উজ্জ্বল করুন, যে আমার কোন হাদীস শুনেছে, সেভাবেই তা অপরের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। কেননা অনেক সময় যাকে পৌঁছানো হয়, সে ব্যক্তি শ্রোতা অপেক্ষা অধিক রক্ষণাবেণকারী বা জ্ঞানী হয়ে থাকে। (তিরমিযি, ইবনে মাজা)
১১) হাদীস :
হযর রাসূলে করীম (সা:) বলেছেন : আল্লাহ তা‘আলা ধন্য করবেন সেই ব্যক্তিকে, যে আমার নিকট হতে কোন কিছু শুনল এবং তা যেভাবে শুনল সেই ভাবেই অন্য লোকদের নিকট পৌঁছায়ে দিল। কেননা প্রথম শ্রোতার অপেক্ষা তা পরে যার নিকট পৌঁছায় সেই তার সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে। (তিরমিযী)
আপর হাদীসে উল্লেখ আছে, ‘যারা মানুষকে ভাল কথা শিক্ষা দেয় তাদের জন্য আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাকুল এবং আসমান ও যমীনের অধিকাসীরা এমনকি পিপিলিকাসমূহ তাদের গর্তে, মৎসসমূহ পানিতে দু‘আ করতে থাকে।”
আলোচ্য হাদীসে ইলম অন্বেষণকারীর মর্যাদা প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে তিনটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথমত : ইলম অন্বেষন করার উদ্দেশ্যে যে পথ চলবে, তাকে আল্লাহ জান্নাতে গমনের পথ সুগম করে দেবেন। কেননা জান্নাতে যেতে হলে নেক আমল করতে হবে। আর নেক আমল করার জন্য ইলম অর্জন করা জরুরী।
দ্বিতীয়ত : ইলম অন্বেষণকারীগণ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইলম শিক্ষার জন্য বের হয়, তাই তাদের মর্যাদায় ফেরেশতাগণ তাদের পাখা বিস্তার করে দেন। অর্থাৎ ইলম অন্বেষণকারীর সাহায্যে এগিয়ে আসেন।
তৃতীয়ত : ইলম অন্বেষণকারীর জন্য গর্তের পিপিলিকা ও পানির মাছ পর্যন্ত দু‘আ করতে থাকে এবং সকলেই তার মাগফিরাত কামনা করে।
১২) হাদীস :
হযরত আবু যর (রা:) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা:) বলেছেন : হে আবু যর, তুমি যদি আল্লাহর কিতাব থেকে একটা আয়াত শেখ, তবে সেটা তোমার জন্য একশো রাকাত (নফল) নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। আর যদি তুমি ইসলামী জ্ঞানের একটা অধ্যায়ও মানুষকে শেখাও, তবে তা তোমার জন্য এক হাজার রাকাত নামায পড়ার চয়েও উত্তম, চাই তদনুসারে আমল করা হোক বা না হোক। (ইবনে মাজাহ)
১৩) হাদীস :
হযরত আবদুল্লা ইবনে আমর আস (রা:) থেকে বর্ণিত। রসূলূল্লাহ (সা:) বলেছেন : আমরা নিকট থেকে একটি বাক্য পেলেও তা লোকদের কাছে পৌঁছে দাও।
১৪) হাসীস :
হযরত আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন : জ্ঞান মুমিনদের হাারানো সম্পদ। অতএব যে খানেই তা পওয়া যায় । মুমিনগণ তার সবচেয়ে হকদার (তিরমিযী ও ইবনে মাযা)।
১৫) হাদীস :
হযরত আলী (রা:) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা:) বলছেন : অচিরেই মানুষের নিকট এমন এক সময আসবে, যখন ইসলামের নাম ছাড়া আ কিছুই অবশিষ্ট থাকবেনা এবং কুরআনের শব্দগুলি ছাড়া আর কিছুই থাকবেনা। তাদের মসজিদগুলি লোকে পরিপূর্ণ থাকবে, অথচ ওর মুসল্লিরা সঠিক রাস্তা হতে বঞ্চিত থাকবে, আর তাদের আলিমগণ হবে আকাশের নীচে সর্বনিকৃষ্ট জীব। তাদের মধ্য হতেই ফিৎনা প্রকাশ পাবে এবং তাদের মধ্যেই প্রত্যাবর্তন করবে। (বায়হাকী)
১৬) হাদীস :
রসূলে করীম (সা:) বলেছেন : আল্লাহ তা‘আলা সেই লোকদের মুখমন্ডল উজ্জল-উদ্ভাসিত করবেন, চির সবুঝ, চির তাজা করে রাখবেন, যে আমার কথা শুনিয়া মুখস্থ করে রাখবে কিংবা স্মৃতিপটে সংরক্ষিত রাখবে এবং অপর লোকের নিকট তা পৌঁছায়ে দিবে। জ্ঞানের বহু ধারকই প্রকৃত জ্ঞানী নহে, তবে জ্ঞানের বহু ধারক তা এম ব্যক্তির নিকট পৌঁছায়ে দেয় যে তার অপেক্ষা অধিক সমঝদার। (আবু দাউদ)

You may also like